ভোলা জেলার বিসিক শিল্পনগরীতে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গ্যাস সংযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও, হঠাৎ করেই তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় বেকার হয়ে পড়েছেন প্রায় দেড়শতাধিক শ্রমিক।
১৯৯৩ সালে ভোলায় বিসিক শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠিত হলেও, গ্যাস সংকটের কারণে শিল্প উদ্যোক্তারা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। ২০১৩ সালে আবাসিক ও শিল্প খাতে গ্যাস সংযোগ চালু হলে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছিল। তবে বিসিক শিল্পনগরীতে গ্যাস সংযোগ হয়নি।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী বিসিকে গ্যাস লাইনের উদ্বোধন করলেও, পরবর্তীতে শিল্প-কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়নি। ১ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ উপদেষ্টা ফাউজুল কবির খান ভোলার গ্যাস কূপ পরিদর্শন করে গ্যাস সংযোগের আশ্বাস দেন। এর পর, ভোলা বিসিকের ক্ষুদ্র শিল্প মালিকরা গ্যাস সংযোগের জন্য আবেদন করেন।
মেসার্স জে কে ট্রেডার্স নামক একটি প্রতিষ্ঠান প্রথম গ্যাস সংযোগের অনুমোদন পেলেও, কাজ শুরুর পর গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. জামাল উদ্দিন খান অভিযোগ করেন, “পাঁচ কোটি টাকা খরচ করে কারখানা প্রস্তুত করার পর, কেন গ্যাস সংযোগ বন্ধ রাখা হলো, তা আমি বুঝতে পারছি না।”
এদিকে, ভোলার বিসিক শিল্পনগরীর উপব্যবস্থাপক এস এম সোহাগ হোসেন জানান, “সরকারি অর্থায়নে গ্যাস লাইন টানার কাজ শেষ হয়েছে, তবে সুন্দরবন গ্যাস কম্পানির সিস্টেমের সমস্যা কারণে সরবরাহ বিলম্বিত হচ্ছে।”
সুন্দরবন গ্যাস কম্পানির ব্যবস্থাপক মো. অলিউর রহমান জানান, “ভোলা জাতীয় গ্রিডের সাথে সংযুক্ত না হওয়ায় গ্যাস সরবরাহে কোনো বাধা নেই, তবে বিইআরসি শিল্প খাতে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে। এ কারণে নতুন সরবরাহ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “পেট্রোবাংলাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে, এর জবাব পাওয়ার পর অতি দ্রুত গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে।”
মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম





