পটুয়াখালীতে ফেসবুক লাইভে এসে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল ও বর্তমান সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।
শনিবার (৩০ নভেম্বর) ভোরবেলায় পটুয়াখালী সদর রোডস্থ জোনাকি হোটেলের সামনে থেকে শুরু হওয়া এই মিছিলটি সদর রোড হয়ে লঞ্চঘাট চত্বর প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পটুয়াখালী প্রেসক্লাব চত্বরে এসে অবস্থান নেয়। মিছিল শেষে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুসের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন।
নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ফেসবুকে ‘দেশে চলমান নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে পটুয়াখালীতে প্রতিবাদ মিছিল’ শিরোনামে ভিডিও প্রচার করে। ভিডিওটি পটুয়াখালীতে দ্রুত আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
ভিডিও বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মিছিলকারীরা ‘জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘ষড়যন্ত্রে দেশটা শেষ-কোথায় আমার বাংলাদেশ’, ‘শেখ হাসিনা আসবে-বাংলাদেশ হাসবে’, ‘পটুয়াখালীর মাটি-শেখ হাসিনার ঘাটি’, ‘৭১ এর হাতিয়ার-গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘তুমি কে আমি কে-বাঙালি বাঙালি’, ‘অবৈধ সরকার-মানি না মানবো না’, ‘ইউনুস শুড রিজাইন’ ইত্যাদি স্লোগান দিচ্ছিলেন।
বিক্ষোভ মিছিলটি নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা আদনান হাবিব খান ও পটুয়াখালী পৌর ছাত্রলীগ নেতা মো. আমিনুর রহমান সিফাত খান। এ মিছিলটি ছিল পটুয়াখালীতে ছাত্রলীগের প্রথম মিছিল, যা ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এর আগে, ফেসবুক লাইভে এসে শেখ রাসেলের জন্মদিনে দুস্থ ও গরিবদের মাঝে খাবার বিতরণ করার পর পৌর ছাত্রলীগ নেতা আমিনুর রহমান সিফাত খান ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শামীম চৌধুরী বলেন, “ছাত্রলীগ নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তারা সন্ত্রাসী এবং সিফাত খান বেশ কয়েকটি মামলার আসামি। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে থাকা উচিত। কুশপুত্তলিকা দাহের ঘটনায় আমি আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে এবং আমরা তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।”
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম





