চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:
বাংলাদেশকে এক বিলিয়ন ইয়ান অর্থনৈতিক সহযোগিতা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে চীন। গতকাল বুধবার সকালে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে এ সহযোগিতা দেওয়ার ঘোষণা দেন চীনের প্রধানমন্ত্রী। এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে উন্নয়নের দিকে বাংলাদেশের অভিযাত্রায় তাঁর অব্যাহত সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
বৈঠক শেষে বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, চীনের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে এক বিলিয়ন ইয়ান অর্থনৈতিক সহযোগিতা দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। চীনের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে তারা মূল্য দেন। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। এ সময়ে চীনের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে আরও পণ্য আমদানির কথা বলেছেন।
গতকালের বিনিময় মূল্য অনুযায়ী, এক বিলিয়ন ইয়ানে প্রায় ১৪ কোটি ডলার। এর আগে ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্টে শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরের সময় দুই দেশের ২৭টি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এতে সরকারের সঙ্গে প্রায় ২৫-২৭ বিলিয়ন বা ২৫০০-২৭০০ কোটি ডলারের মতো অনুদান, ঋণ এবং বেসরকারি খাতে আরও কিছু সমঝোতার আওতায় সব মিলিয়ে ৪০ বিলিয়ন বা চার হাজার কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি এসেছিল। তা থেকে এখন পর্যন্ত আট বিলিয়ন ডলার ঋণ পেয়েছে বাংলাদেশ। শি জিনপিংয়ের সেই সফরে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারিত্ব পর্যায়ে উন্নীত হয়।
বাসস জানায়, গতকাল বাংলাদেশ ও চীন উভয় দেশ বিদ্যমান ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ থেকে ‘বিস্তৃত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বে’ উন্নীত হয়েছে। এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে ২২ সমঝোতা স্মারক ও দলিল সই হয়েছে। সাত ঘোষণাপত্রও সই হয়। সই হওয়া দলিলের মধ্যে দুটি নবায়ন। বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের উপস্থিতিতে ২১ দলিল সই হয়। পরে বেইজিংয়ের সেন্ট রেজিস হোটেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের উপস্থিতিতে ২২তম সমঝোতা স্মারক সই হয়।
এর আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সকালে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের জন্য গ্রেট হল অব দ্য পিপলে পৌঁছলে তাঁকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় চীনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানান। পরে প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
স্বাগত অনুষ্ঠানের পর গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সম্মানে গ্রেট হলে আয়োজিত চীনের রাষ্ট্রীয় মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেন। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যু, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে আলোচনা হয়।





