দেশজুড়ে নাম-খ্যাতি ছড়িয়েছে বাবুগঞ্জের দুর্গাসাগর দীঘি

Views: 269

বরিশাল অফিস::  ইতিহাস ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধশালী প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা নদীবেষ্টিত উপজেলা বাবুগঞ্জ। এ উপলোয় জন্মেছেন বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের মত দেশের বহুগুণিজন। রয়েছে অপার সম্ভাবনাময় একাধিক পর্যটন কেন্দ্র। যার মধ্যে রয়েছে গোটা বাংলাদেশ যার নাম-খ্যাতি ছড়িয়েছে সেই দুর্গা সাগর। ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে বরিশাল জেলার অন্যতম ভ্রমণস্থান দুর্গাসাগর দীঘি। প্রতিদিন এ দীঘির সৌন্দর্য উপভোগ করতে বাবুগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত মানুষ ছুটে আসেন।

বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের বানারীপাড়া-বরিশাল সড়কের পাশেই এ দীঘির অবস্থান। বরিশাল জেলা শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার। কথিত রয়েছে স্থানীয় জনগণের পানি সঙ্কট নিরসনে ১৭৮০ খ্রিস্টাব্দে এ দীঘিটি খনন করেন চন্দ্রদ্বীপের পরগনার তৎকালীন রাজা শিব নারায়ন। স্ত্রী রানী দুর্গাবতী একবারে যতদূর পর্যন্ত হেঁটে গিয়েছিলেন ততদূর পর্যন্ত এ দীঘি খনন করা হয় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে। আর রানী দুর্গাবতীর নামেই এর নামকরণ করা হয় দুর্গা সাগর। এটি খননে এক রাতে রানী প্রায় ৬১ কানি জমি হেটেছিলেন।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী দীঘিটি ৪৫ একর ৪২ শতাংশ জমিতে অবস্থিত। এর ২৭ একর ৩৮ শতাংশ জলাশয় এবং ১৮ একর চার শতাংশ পাড়। এছাড়া দীঘির চারপাশ দিয়ে ১.৬ কিলোমিটার হাঁটার রাস্তা রয়েছে। পাড়টি উত্তর-দক্ষিণে লম্বা ১৪৯০ ফুট এবং প্রশস্ত পূর্ব-পশ্চিমে ১৩৬০ ফুট। দীঘিটির মাঝখানেই রয়েছে ছোট একটি দ্বীপ। যা এ দীঘির সৌন্দর্য আরও কয়েকগুন বাড়িয়ে তুলেছে।

একসময় এই শীত মৌসুমে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকতো পুরো দুর্গাসাগর এলাকা। তবে সাগরের ভেতরের টিলার গাছ কেটে ফেলা, পরিবেশ বিপর্যয় ও পাখি শিকারিদের উৎপাতে অতিথি পাখির তেমন একটা দেখা মেলে না। দর্শনার্থী টানতে নানা পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে বরিশাল জেলা প্রশাসন। ভ্রমণ পিপাসুদের আকৃষ্ট করতে দীঘির মধ্যে শিশুদের জন্য ছোট্ট একটি শিশু পার্ক ও চিড়িয়াখানা স্থাপন করা হয়েছে। চিড়িয়াখানায় রয়েছে বেশ কয়েকটি হরিণ,বানর, ময়ূর। আগত পর্যটকদের বিনোদনের জন্য দীঘিতে নৌকার ব্যবস্থাও করেছে কর্তৃপক্ষ। টাকার বিনিময়ে নৌকা নিয়ে পুরো দীঘি ঘুরে বেড়াতে পারেন ভ্রমণ পিপাসুরা। দীঘিতে ঘুরতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তায় রয়েছে সিসি ক্যামেরাও।

দীঘির চারপাশে নারিকেল, সুপারি, শিশু, মেহগনি প্রভৃতি বৃক্ষ রোপন করে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়। যা বর্তমানে দীঘিটির শোভা বর্ধন করেছে। দীঘির চারপাশে হাটত হাটতে বিনোদনের নতুন মাত্রা খুঁজে পায় প্রকৃতিপ্রেমীরা। রানী দুর্গাবতী বুদ্ধিমতি ও প্রজাবৎসল ছিলেন। আঠার শতকের শেষভাগে নাটোরের রানী ভবানী ও চন্দ্র দ্বীপের রানী দুর্গাবতী জমিদারী পরিচালনা করে বাংলার ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

image_pdfimage_print

Posted on: December 11, 2023 | Author: Chandradip News24