৩৬ জুলাই (পর্ব ৭) ৭ জুলাই

Views: 76

শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ের সপ্তম দিনে নতুন এক কর্মসূচি দেখলো বাংলাদেশ।

‘বাংলা ব্লকেড’ নামে এই অবরোধ কর্মসূচিতে অচল হয়ে পরে রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ এলাকা। মূলত. এদিন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ সড়কে নেমে আসে।

এদিন অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের চার দফা দাবি ছিল। এখন থেকে আমাদের দাবি একটাই—সকল গ্রেডে বৈষম্যমূলক ও অন্যায্য কোটা বাতিল করে যৌক্তিকভাবে সংস্কার করে জাতীয় সংসদে আইন পাস করে কোটার যৌক্তিক সমন্বয়।’

এদিন দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে কোটাপদ্ধতির যৌক্তিক সংস্কারের দাবি জানায় বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর জোট গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট।

জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন -একাংশ সভাপতি রাগীব নাঈম বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থে দীর্ঘকাল অস্বাভাবিক মাত্রায় মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখা যেমন বৈষম্য তৈরি করেছে, তেমনি অনগ্রসর জাতিগোষ্ঠীর প্রাপ্য কোটা বাতিলের মধ্যে দিয়েও সামাজিক বৈষম্য প্রকট হবে।

৭ জুলাই বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়ক অবরোধের ফলে বিকেলের পর কার্যত অচল হয়ে পড়ে রাজধানী। ঢাকার বাইরেও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে।

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বেলা আড়াইটার পর থেকে আন্দোলনকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হতে থাকেন। বিকেল সাড়ে ৩টায় সেখান থেকে মিছিল বের হয়। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের সামনে দিয়ে ঘুরে ভিসি চত্বর, টিএসসি হয়ে বিকেল ৪টায় শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয়। শাহবাগ অবরোধের কিছুক্ষণ পর শিক্ষার্থীদের একটি অংশ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে গিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। বাংলামোটর এবং কারওয়ান বাজার মোড়েও যান চলাচল আটকে দেন তাঁরা।
এ ছাড়া রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব, নীলক্ষেত, চানখাঁরপুল মোড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বোরহান উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ, বদরুন্নেসা সরকারি কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেন।

আগারগাঁওয়ে বিকেল ৪টায় সড়ক অবরোধ করেন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ ৪ ঘণ্টা অবরোধের পর রাত ৮টায় অবরোধের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে জানিয়ে সড়ক থেকে সরে যান শিক্ষার্থীরা।

সড়ক থেকে সরে যাওয়ার আগে কর্মসূচি ঘোষণা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ছাত্রধর্মঘট চলবে। পাশাপাশি বাংলা ব্লকেড কর্মসূচিও চলবে।

এদিন, রাজধানীর বাইরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

বেলা ১১টায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক দুই ঘন্টা অবরোধ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বিকেল ৪টার দিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা নগরের ২ নম্বর গেট মোড় অবরোধ করেন। ষোলশহর রেলস্টেশন থেকে শিক্ষার্থীরা মুরাদপুর হয়ে বহদ্দারহাটের উড়ালসড়কের দিকে যেতে চাইলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। কিছুক্ষণ পুলিশের সঙ্গে তর্কাতর্কির পর শিক্ষার্থীরা ২ নম্বর গেট অবরোধ করেন।

বিকেল সাড়ে ৩টায় ক্যাম্পাসে মিছিল করে দ্বিতীয় দিনের মতো সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা।

বেলা সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক অবরোধ করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও।

দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করেন দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ঢাকা-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে দেওয়ানগঞ্জ-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিকেল চারটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
টানা চতুর্থ দিনের মতো খুলনা মহানগরীর শিববাড়ি মোড়ে সড়ক অবরোধ করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে পুরো মহানগরীতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বেলা ১১টায় ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
#####

image_pdfimage_print

Posted on: July 6, 2025 | Author: Chandradip News24