বরিশালের নদীবেষ্টিত অঞ্চলে যুগের পর যুগ নৌকায় ভেসে থেকে নদীতে জাল ফেলেই জীবিকা নির্বাহ করছেন মানতা সম্প্রদায়ের নারীরা। কিন্তু দীর্ঘ সময় মাছ ধরে জীবনের প্রতিটি দিন নদীর সঙ্গে কাটালেও এখনো সরকারি কাগজে কলমে তারা “জেলে” হিসেবে স্বীকৃতি পাননি। ফলে সরকারি সহায়তা, ত্রাণ, ভিজিএফ চাল কিংবা স্বাস্থ্যসেবার কোনো সুবিধাই তাদের কপালে জোটে না।
বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের তালতলী ভাঙার পার এলাকায় বাস করা শাহিদা বেগমের (৫৫) গল্প এর উদাহরণ। ছোটবেলা থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে নদীতে জাল ফেলে মাছ ধরলেও আজ অবধি তিনি জেলে হিসেবে নিবন্ধিত নন। ক্ষোভের সুরে তিনি বলেন, “৫৫ বছর ধইর্যা নদীতে মাছ ধরতেছি। কিন্তু মহিলা হইয়া মনে হয় জেলে হওয়া যায় না।”
একই অভিজ্ঞতার কথা জানান ছকিনা, ঝর্না, হালিমা সহ মানতা সম্প্রদায়ের শতাধিক নারী। তারা বলেন, জন্ম থেকে জীবনের প্রতিটি দিন নদীতে কাটলেও সরকার তাদের জেলে হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। ফলে ত্রাণ, ভিজিএফ কিংবা প্রণোদনা কিছুই পান না।
মানতা নারীদের নিয়ে কাজ করা সমাজকর্মী সাইদুর রহমান পান্থ জানান, বর্তমানে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অর্থায়নে “এনহ্যান্সিং ইনফরমেশন অ্যান্ড ইনক্লুশন অব ফিশারফোক উইমেন, স্পেশালি দ্যা মানতা কমিউনিটি” প্রকল্পের আওতায় কিছু সীমিত আর্থিক সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল। তার মতে, নারী জেলেদের স্বীকৃতি এখন সময়ের দাবি।
চন্দ্রদ্বীপ ডেভলপমেন্ট সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক জাহানারা বেগম স্বপ্না বলেন, “নারীরা পুরুষদের তুলনায় বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে ৯৩ শতাংশ নারী জেলে নানা স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। অথচ তাদের কথা প্রায় শোনা হয় না।” তিনি নারীদের সরকারি প্রণোদনা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি ঘোষ জানান, মাঠপর্যায়ে নারী মৎস্যজীবীদের তালিকাভুক্ত করার কাজ চলছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের নিবন্ধন দেওয়া হবে এবং পর্যায়ক্রমে সব নারীকে সরকারি সহায়তার আওতায় আনা হবে।
দশকের পর দশক নদীতে নৌকায় ভেসে থাকা মানতা নারীদের দাবি—সরকারি স্বীকৃতি ও সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের জীবনমান উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করা হোক।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





