মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর লেখনীতে গেয়েছেন সাম্য, প্রেম, বিদ্রোহ ও মানবতার জয়গান। সেই চেতনা লালন করে ভোলাবাসী গড়ে তুলেছে “নজরুল স্মৃতি সংঘ”। চার দশকের বেশি সময় ধরে এ প্রতিষ্ঠানটি জেলার শিল্প-সাহিত্য চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করছে।
ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বিপরীতে অবস্থিত “নজরুল স্মৃতি সংঘ” প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৮ সালে। সমাজসেবা অধিদপ্তরে নিবন্ধিত এ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন (রেজি. নং-২৩৬/৭৮) মূলত তরুণ প্রজন্মকে কবি নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও জীবনদর্শনে উদ্বুদ্ধ করার কাজ করছে।
সংগঠনের তত্ত্বাবধায়ক আলহাজ্ব মো. রাইসুল আলম জানান—
“জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের নীতি-আদর্শকে শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে আমরা কাজ করছি। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে তরুণদের উদ্যোগেই এই সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়।”
এ সংঘ নিয়মিত সাহিত্য পাঠচক্র, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বৃক্ষরোপণ ও সামাজিক কর্মকাণ্ড আয়োজন করে থাকে। প্রতিবছর শীতকালে আয়োজন করা হয় “নজরুল স্মৃতি সংঘ ডে-নাইট ক্রিকেট টুর্নামেন্ট”। এ আয়োজনে ভোলার তরুণরা ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে অংশ নেয়।
কবি নজরুল ইসলামের সাহিত্যযাত্রায় ভোলার কৃতিসন্তান কবি মোজাম্মেল হকের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা মোসলেম ভারত ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকায় নজরুলের প্রথম কবিতা ‘মুক্তি’ ও গল্প ‘হেনা’ প্রকাশিত হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক সম্পর্ক এখনো ভোলাবাসীর গর্বের বিষয়।
ভোলার শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মো. জসিমউদ্দিন বলেন—
“ছাত্রজীবনে আমরা নজরুল স্মৃতি সংঘে কবির লেখা পড়ে বড় হয়েছি। নতুন প্রজন্মও এখানে এসে তাঁর চিন্তাধারায় সমৃদ্ধ হচ্ছে।”
সাংবাদিক মো. উমর ফারুক জানান—
“সরকারি সহায়তা পেলে নজরুল স্মৃতি সংঘকে পূর্ণাঙ্গ গবেষণাগারে রূপান্তর করা সম্ভব।”
ভোলা জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান বলেন—
“নজরুল স্মৃতি সংঘকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তরুণ প্রজন্মের কাছে কবির আদর্শ তুলে ধরা আমাদের দায়িত্ব।”
ভোলার এই নজরুল স্মৃতি সংঘ প্রমাণ করছে—জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কেবল রাজধানী বা জাতীয় পরিসরেই নয়, বরং গ্রামীণ সমাজেও আজও সাম্য, মানবতা ও স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে বেঁচে আছেন।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





