ভোলায় দিন দিন বাড়ছে কৃষি আবাদ, আর কমে আসছে পতিত জমির সংখ্যা। চলতি রবি মৌসুমে জেলার সাত উপজেলায় পতিত জমির পরিমাণ শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। কৃষকরা বলছেন, সরকারি সহায়তা ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির কারণে এখন প্রতিটি মৌসুমেই তারা জমিতে ফসল ফলাচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চলতি মৌসুমে কৃষকরা আমন ধানের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করছেন। কেউ কেউ ইতোমধ্যে সবজি বিক্রিও শুরু করেছেন। জলাবদ্ধতার কারণে অনেক কৃষক জমি উঁচু করে পিরামিড ও মাচা পদ্ধতিতে সবজি আবাদ করছেন। এতে তারা ভালো ফলন পাচ্ছেন।
ভোলা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার মোট কৃষিজমি রয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৮২ হেক্টর। এর মধ্যে ২০২৪-২৫ রবি মৌসুমে সবজিসহ গম, সরিষা, সয়াবিনের চাষ হয়েছে পুরো জমিতে। খরিপ-১ মৌসুমে চাষ হয়েছে ৭৫ হাজার ২ হেক্টর জমিতে, যা আগের মৌসুম থেকে ৩ হাজার হেক্টর বেশি। খরিপ-২ মৌসুমে চাষ হয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৮৮২ হেক্টর জমিতে, যা আগের তুলনায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টর বেশি।
কৃষকরা জানাচ্ছেন, কৃষি অফিস থেকে বীজ, সার ও প্রণোদনা পেয়ে তারা এখন রবি মৌসুমেও চাষাবাদে আগ্রহী হয়েছেন। ভোলা সদর, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, চরফ্যাশন, মনপুরা, লালমোহন ও তজুমদ্দিন—সব উপজেলাতেই একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
ভেদুরিয়ার কৃষক বজলুল হক জানান, আগে রবি মৌসুমে জমি খালি থাকলেও এখন তিনি বিভিন্ন ফসল আবাদ করছেন। চরফ্যাশনের কৃষক সাহাবুদ্দিন বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে আগে জমিতে ফসল ফলানো যেত না, কিন্তু এবার মাচা পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন।
ভোলা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. খাইরুল ইসলাম মল্লিক বলেন, “এই মৌসুমে কোনো জমি খালি থাকবে না। পাশাপাশি খরিপ-১ ও খরিপ-২ মৌসুমেও চাষের পরিমাণ বাড়ানো হবে। এজন্য কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হবে।”
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষকদের আগ্রহ ও সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকলে ভোলা আগামীতে দেশের অন্যতম কৃষি উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





