ভারতে মুসলিম নির্যাতন, আতঙ্কে বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানেরা

Views: 57

ভারত থেকে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের বিনা বিচারে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর দাবি—এই বিতাড়ন প্রক্রিয়া আইনবহির্ভূত ও ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত। ইতোমধ্যে দুই দেশের কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকার দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসন ইস্যুতে, বিশেষ করে বাংলাদেশি মুসলমানদের ব্যাপারে কঠোর নীতি অনুসরণ করছে। বিভিন্ন সময় সরকারি ভাষ্যে অভিবাসীদের ‘উইপোকা’ ও ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এমন অবস্থার প্রেক্ষাপটে ভারতজুড়ে প্রায় ২০ কোটির মতো মুসলমান, বিশেষ করে বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মুসলমানরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে

ভারতের বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী হর্ষ মন্দার বলেন, “দেশের পূর্বাঞ্চলে বসবাসরত মুসলমানদের মধ্যে ভীষণ ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাদের অনেকেই মনে করছেন, তারা যেন এখন নিজের দেশেই অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে গেছেন।”

তিনি বলেন, “এই বিতাড়ন প্রক্রিয়া শুধু বেআইনিই নয়, এটি একটি সুপরিকল্পিত জাতিগত টার্গেটিং, যেখানে ধর্মীয় পরিচয়কে প্রধান বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।”

কাশ্মির হামলার পর দমন-পীড়ন জোরদার

গত ২২ এপ্রিল ভারতশাসিত কাশ্মিরে এক হামলায় ২৬ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই হিন্দু তীর্থযাত্রী। ভারত এই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করলেও ইসলামাবাদ তা সরাসরি অস্বীকার করে। এরপর থেকেই ভারতজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা অভিযান শুরু হয়।

এই অভিযানে হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুসলিমকে সীমান্তে নিয়ে গিয়ে বন্দুকের মুখে জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ভারত সরকারের দাবি: ‘অবৈধ অভিবাসী’

ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, যাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে তারা ‘অবৈধ অভিবাসী’। তবে মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীদের মতে, কোনো প্রকার বিচার বা আইনানুগ প্রক্রিয়া ছাড়াই মানুষদের এভাবে বিতাড়ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামিল।

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে টানাপোড়েন

২০২৪ সালে বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। অতীতে ভারত ঘনিষ্ঠ মিত্র থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও অস্বস্তির সুর দেখা দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও জাতিগত উত্তেজনার প্রভাবে ভারতের এই ধরণের পদক্ষেপ দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

image_pdfimage_print

Posted on: June 27, 2025 | Author: Chandradip News