বরিশাল নগরীর ঐতিহ্যবাহী বেলপার্ক আবারও ফিরে পাচ্ছে তার হারানো সৌন্দর্য ও প্রাণচাঞ্চল্য। দীর্ঘদিন পর অবৈধ দখল ও দোকানপাট উচ্ছেদের উদ্যোগে নগরবাসীর অন্যতম বিনোদন কেন্দ্রটি এখন নতুন রূপে সেজে উঠছে। নগর ভবনের ধারাবাহিক তৎপরতায় পার্কজুড়ে ফিরছে পরিচ্ছন্ন ও মনোরম পরিবেশ, যা সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ও আশাবাদ তৈরি করেছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক দায়িত্ব গ্রহণের পর নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে বেলপার্ক থেকে শতাধিক অবৈধ দোকান ও স্থাপনা অপসারণ করা হয়। এরপর থেকেই প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সী মানুষ পার্কটিতে হাঁটতে ও সময় কাটাতে আসছেন। বিশেষ করে নারী, শিশু ও কর্মজীবী মানুষের উপস্থিতি দিন দিন বাড়ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পার্কের ওয়াকওয়ে এখন হাঁটাচলার জন্য অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হয়ে উঠেছে। রাত ১১টা পর্যন্তও অনেকে স্বাস্থ্যচর্চা ও অবসরের সময় কাটাতে সেখানে ভিড় করছেন। এতে করে নগরবাসীর কাছে বেলপার্ক আবারও প্রাণের জায়গায় পরিণত হচ্ছে।
নগর প্রশাসন পার্কটির সৌন্দর্য আরও বাড়াতে বিভিন্ন ধরনের শোভাবর্ধনকারী গাছের পরিচর্যা শুরু করেছে। গাছের ডালপালা ছাঁটাই, পরিচ্ছন্নতা রক্ষা এবং সবুজ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে নগর ভবনের কর্মীরা নিয়মিত কাজ করছেন। পুরো পার্ক এলাকাকে আরও দৃষ্টিনন্দন করতে আলোকসজ্জা ও পরিবেশ উন্নয়ন কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।
তবে সৌন্দর্য বৃদ্ধির এই উদ্যোগের মাঝেও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে সন্ধ্যার পর পার্কের ভেতরে ফেরিওয়ালাদের উপস্থিতি। প্রতিদিন রাত পর্যন্ত বিভিন্ন পসরা সাজিয়ে বসছেন ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারা। এতে করে পার্কে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা ধীরে ধীরে বিড়ম্বনার মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ উঠছে।
অনেকের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে আবারও পার্কে অবৈধ দখল ও বিশৃঙ্খলার পরিবেশ তৈরি হতে পারে। যদিও পার্কের শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় সিটি করপোরেশনের একাধিক কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন, তারপরও ফেরিওয়ালাদের নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী জানান, পার্কে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অব্যবস্থা বরদাস্ত করা হবে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহনকারী বেলপার্ক ব্রিটিশ আমলে তৎকালীন জেলা প্রশাসক বেলের উদ্যোগে প্রায় পৌনে ৯ একর সরকারি জমির ওপর গড়ে ওঠে। তার নাম অনুসারেই পার্কটির নামকরণ করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে এটি বরিশালের অন্যতম প্রধান উন্মুক্ত বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
এ পার্কে অতীতে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা বক্তব্য দিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনমূলক কাজের মাধ্যমে পার্কটি নগরবাসীর কাছে আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে নতুন উদ্যোগে সেই ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য আবারও ফিরে আসছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





