মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে রোমাঞ্চকর ৮ রানের জয়ে প্রথমবারের মতো একাধিক ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে পাকিস্তানকে হারিয়েছে টাইগাররা।
শেষ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল মাত্র ১৩ রান, হাতে ছিল একটি উইকেট। মুস্তাফিজুর রহমানের করা প্রথম বলেই চার হাঁকিয়ে আশার আলো জাগান আহমেদ দানিয়েল। তবে পরের বলেই বড় শট খেলতে গিয়ে মিডউইকেটে দাঁড়িয়ে থাকা শামীম হোসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৩৩ রানে অলআউট হয়। ইনিংসে বড় অবদান রাখেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার জাকের আলি। ৪৮ বলে ৫৫ রানের কার্যকর ইনিংস খেলে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন তিনি। এছাড়া শেখ মেহেদি হাসান করেন ২৫ বলে ৩৩ রান।
জবাবে খেলতে নেমে দুর্দান্ত বোলিংয়ে শুরুতেই ধস নামান বাংলাদেশের বোলাররা। পাকিস্তান তাদের প্রথম পাঁচ উইকেট হারায় মাত্র ১৫ রানে। শরিফুল ইসলাম ও তানজিম সাকিবের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সঙ্গে শেখ মেহেদির স্পিন আক্রমণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে সফরকারীরা।
পরে ফাহিম আশরাফ (৩২ বলে ৫১) ও আব্বাস আফ্রিদির (১৩ বলে ১৯) লড়াকু ব্যাটিংয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও মুস্তাফিজের শেষ ওভারে সব শেষ হয়ে যায় পাকিস্তানের।
এর আগে বাংলাদেশ ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ের শুরু হয় ওপেনার নাঈম শেখের আউটের মাধ্যমে। মাত্র ৩ রান করে ফেরেন তিনি। অধিনায়ক লিটন দাস, তাওহিদ হৃদয়, পারভেজ ইমনও হতাশ করেন। তবে জাকের-মেহেদি জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় টাইগাররা। পঞ্চম উইকেটে আসে ৫৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি।
বোলিংয়ে বাংলাদেশের পক্ষে তানজিম সাকিব, শরিফুল ইসলাম, শেখ মেহেদি ও মুস্তাফিজুর রহমান সবাই কার্যকর ছিলেন। বিশেষ করে নতুন বলে লাইন-লেংথে ধারাবাহিকতায় পাকিস্তান ব্যাটিংকে চাপে রাখেন লিটনের ব্যবস্থাপনায়।
এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টিতে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে একাধিক ম্যাচের সিরিজে জয় পেল। ম্যাচ শেষে আনন্দে মাতেন খেলোয়াড়, কোচ ও দর্শকরা। সিরিজের এই ঐতিহাসিক জয় টাইগারদের আত্মবিশ্বাসে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।





