বরিশালের জেলা প্রশাসনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় অবশেষে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেন নির্যাতিতা সালমা আক্তার। দীর্ঘ দুই দশকের সংগ্রাম ও অনিশ্চয়তার পর বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ দেলোয়ার হোসেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে নির্মিত ঘরটি সালমার হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন।
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বিমানবন্দর সংলগ্ন রহমতপুর এলাকায় ঘরটি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা।
২০০২ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে নিজের চাচাতো ভাইয়ের হাতে নির্যাতনের শিকার হন সালমা আক্তার। এ ঘটনার পর পরিবারসহ সমাজচ্যুত হন তিনি। মামলার পর ২০১১ সালে বরিশালের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্ত চাচাতো ভাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সালমার গর্ভজাত সন্তানকে ২১ বছর পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় ভরণপোষণের নির্দেশ দেন।
কিন্তু সেই অর্থের বেশিরভাগই পরিবারের অন্য সদস্যদের পেছনে ব্যয় হয়ে যায়। বর্তমানে সালমার সন্তান স্থানীয় একটি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে অধ্যয়ন করছে।
জেলা প্রশাসক বিষয়টি জানতে পেরে সালমার জন্য প্রথমে জমি কিনে দেন এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে একটি আধা-পাকা ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন। বৃহস্পতিবার ঘরটি সালমার হাতে তুলে দেওয়ার সময় আবেগে কেঁদে ফেলেন তিনি।
ঘর পেয়ে সালমা বলেন,এখন আমার ও আমার সন্তানের মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছে। আমি শান্তিতে বাঁচতে পারব। এজন্য আমি জেলা প্রশাসকসহ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ।”
তিনি আরও অনুরোধ জানান, সমাজ যেন তার মতো আর কোনো নারীর জীবনে এমন দুর্ভাগ্যের পুনরাবৃত্তি না ঘটতে দেয়।





