রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের স্মৃতি বিজড়িত ‘ধানসিঁড়ি’ বাড়িটি বর্তমানে শুধু নামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সাহিত্য সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, বাড়িটি পুনরুদ্ধার করে সরকারি উদ্যোগে জীবনানন্দ গবেষণা কেন্দ্র ও জীবনানন্দ চর্চার ব্যবস্থা করা উচিত।
বরিশাল কবিতা পরিষদের সভাপতি ছড়াকার তপংকর চক্রবর্তী বলেন, জীবনানন্দ দাশ বাংলা সাহিত্যের পরিচয় ও বিশ্ব সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ কবি। তার বাড়ির প্রায় ১০ শতাংশ জমিতে মিলনায়তন নির্মিত হলেও বাকি জমি বেহাত হয়ে গেছে। সরকারের উদ্যোগে তা পুনরুদ্ধার করে গবেষণা কেন্দ্র করা সম্ভব, যা নতুন প্রজন্মকে জীবনানন্দ চর্চার সুযোগ দেবে।
প্রাবন্ধিক দেবাশীষ হালদার বলেন, শিল্প-সংস্কৃতি রক্ষা করাই জাতীয় দায়িত্ব। জীবনানন্দ দাশের বাড়ি পুনরুদ্ধার করা সরকারের দায়িত্ব।
বিএম কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সঙ্গীতা সরকার জানান, ‘জীবনানন্দকে আমরা এখন শুধু বইয়ের পাতায় দেখি, চর্চার সুযোগ নেই। নতুন প্রজন্মকে তার সাহিত্য ও দেশপ্রেমের চেতনা জানানো জরুরি।’
সরকারি বিএম কলেজের প্রভাষক নূরুল আমীন মোল্লা বলেন, আধুনিক বাংলা সাহিত্যে জীবনানন্দ একজন শক্তিমান কবি। তাকে চর্চা করলে শিক্ষার্থীরা বোদ্ধা ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে।
বরিশাল অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয় সংস্কৃত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মনন অধিকারী বলেন, ‘ধানসিঁড়ি নামেই আছে, কিন্তু বাড়িটির বাস্তব চিত্র আমরা পাই না। নতুন প্রজন্মের কাছে জীবনানন্দকে তুলে ধরতে সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।’
বাড়ির বর্তমান বাসিন্দা জলিল ফারুক জানিয়েছেন, পরিবার ১৯৫৫-৫৬ সালে ৬ হাজার টাকায় সম্পত্তি কিনে নিয়েছিলেন। মোট ৯৭ শতাংশ জমির মধ্যে ৪৫ শতাংশ তারা অধিকার করেছেন, বাকি ৫২ শতাংশ এখনো সরকারের দখলে রয়েছে।
বরিশাল জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী বিপ্লব কুমার বিশ্বাস জানান, মিলনায়তনের পাঠাগারের সংস্কারের জন্য ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই নতুন ফার্নিচার ও সংস্কার কাজ শুরু হবে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫





