বরগুনায় সংসদীয় আসন পুনর্বহালের দাবি জোরালো

Views: 25

বরগুনা জেলায় আগের তিনটি সংসদীয় আসন পুনর্বহালের দাবিতে স্থানীয়দের ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। নির্বাচন কমিশনের খসড়া তফসিলে এ বিষয়ে কোনো পরিবর্তন না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন জেলার প্রায় ১২ লাখ মানুষ।

স্বাধীনতার পর বরগুনা-১ (সদর ও বেতাগী), বরগুনা-২ (পাথরঘাটা ও বামনা), বরগুনা-৩ (আমতলী ও তালতলী) এই তিনটি সংসদীয় আসনে বিভক্ত ছিল উপকূলীয় এই জেলা। কিন্তু ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বরগুনার আসন সংখ্যা তিন থেকে কমিয়ে দুটি করা হয়—বরগুনা-১ (সদর, আমতলী, তালতলী) ও বরগুনা-২ (পাথরঘাটা, বেতাগী, বামনা)।

এতে করে প্রশাসনিক জটিলতা ও নির্বাচনী সময় পরিবহন সমস্যা বাড়ে। বিশেষ করে পায়রা (বুড়িশ্বর) ও বিষখালী নদীর বিভাজন বরগুনার পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে যোগাযোগব্যবস্থাকে করেছে জটিল। ফলে উন্নয়ন ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে আমতলী ও তালতলীর অন্তত চার লাখ মানুষ।

বর্তমানে বরগুনা-১ আসনে ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৮৭৪ জন এবং বরগুনা-২ আসনে ৩ লাখ ৭০ হাজার ৫৩০ জন। শুধুমাত্র আমতলী ও তালতলীতেই ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯২ হাজার ১৩৩ জন, যা একটি পূর্ণ সংসদীয় আসনের জন্য যথেষ্ট।

এ অবস্থায় জেলার সচেতন নাগরিক ও রাজনৈতিক নেতারা নির্বাচন কমিশনের কাছে একাধিকবার আবেদন করলেও খসড়া তফসিলে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এ নিয়ে জনগণের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।

তালতলী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আমিনুল ইসলাম লিটন বলেন, “২০০৮ সালে রাজনৈতিক সুবিধা দিতেই বরগুনা-৩ আসন বিলুপ্ত করা হয়। এবার নির্বাচন কমিশন সংশোধনের সুযোগ পেলেও সেটি গ্রহণ করেনি।”

আমতলী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন সিকদার বলেন, “জনগণের কথা বিবেচনায় নির্বাচন কমিশনের উচিত ছিল তিনটি আসন ফিরিয়ে দেওয়া। কিন্তু তারা তা করেনি।”

বরগুনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের বলেন, “উন্নয়নের জন্য দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে উপেক্ষা করা ঠিক নয়। তিনটি সংসদীয় আসন ছিল বরগুনার জন্য প্রয়োজনীয়।”

বিএনপি ও আইনজীবী নেতারাও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, প্রশাসনিক কাঠামো ও ভৌগোলিক অবস্থানের দিক বিবেচনায় আসন পুনর্বিন্যাস অত্যন্ত জরুরি ছিল।

বরগুনাবাসী এখন নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত তফসিলে তিনটি আসন পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

image_pdfimage_print

Posted on: August 1, 2025 | Author: Chandradip News24