পটুয়াখালী জেলার ৪৪টি জলমহাল জনস্বার্থে ইজারা অযোগ্য বলে ঘোষণা করেছেন ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। তিনি বলেছেন, গ্রামীণ অর্থনীতি, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা টিকিয়ে রাখতে জলমহাল বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের সুপারিশ অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভূমি উপদেষ্টা বলেন, নদী, হাওর, বাঁওড়, বিল ও খাল—এই জলমহালগুলো শুধু মাছ উৎপাদনের ক্ষেত্র নয়; বরং কৃষিকাজ, খাদ্য নিরাপত্তা, স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান এবং পরিবেশগত ভারসাম্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। এসব জলাভূমি সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা হলে একদিকে যেমন পরিবেশের ক্ষতি হবে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হবে প্রান্তিক মানুষের জীবিকা।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারি জলমহাল ইজারা প্রদান সংক্রান্ত কমিটির ৮৮তম সভা’য় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ. এস. এম. সালেহ আহমেদ।
উপদেষ্টা আরও বলেন, পটুয়াখালীর যেসব জলমহালকে ইজারা অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলো পানি প্রবাহমান জলাভূমি। অনেক জায়গায় স্লুইজ গেট ও বাঁধ রয়েছে। এসব বাঁধ ও পানি ব্যবস্থাপনা যেন সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়, সে দায়িত্ব জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নিতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এসব জলমহাল থেকে যে কেউ মাছ ধরতে পারবেন এবং কৃষিকাজের জন্য পানি নিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পেশিশক্তি বা প্রভাব বিস্তার বরদাশত করা হবে না।
আলী ইমাম মজুমদার বলেন, জলমহাল কোনো ব্যক্তির সম্পত্তি নয়, এটি জনগণের সম্পদ। জনস্বার্থ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দরিদ্র মানুষের জীবনমান রক্ষার স্বার্থে জলমহাল ইজারা ব্যবস্থা থেকে সরে এসে একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই ব্যবস্থাপনার দিকে রাষ্ট্রকে এগোতে হবে। আগামী তিন বছর এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও এর প্রভাব নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। উদ্দেশ্য ব্যাহত হলে ভবিষ্যতে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সভায় জানানো হয়, পটুয়াখালী জেলায় মোট ১৪৮টি জলমহাল রয়েছে। এর মধ্যে জনস্বার্থে ৪৪টি জলমহাল ইজারা অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করে মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়া ৯৪টি জলমহালের ইজারা প্রক্রিয়া চলমান এবং বর্তমানে ৯টি জলমহালের ইজারা কার্যকর রয়েছে।
সভায় অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. রায়হান কাওছার, অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. এমদাদুল হক চৌধুরী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনাররা অনলাইনে সভায় যুক্ত ছিলেন।
পরবর্তীতে ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন’ বিষয়ে পৃথক একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার ছাড়াও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার উপস্থিত ছিলেন।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম





