পটুয়াখালীর ইমরান হত্যা: পাঁচ মাস পর কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন

Views: 57

পটুয়াখালী সদর উপজেলার ভুরিয়া ইউনিয়নের শৌলা গ্রামে নিহত যুবক ইমরানকে ঘিরে দীর্ঘ পাঁচ মাসের অপেক্ষার পর অবশেষে আদালতের নির্দেশে তার মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেলের এ ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। মরদেহ উত্তোলনের সময় কবরস্থানে উপস্থিত ছিলেন ইমরানের পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা এবং প্রশাসনের প্রতিনিধি। সেই মুহূর্তে বুকভাঙা কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহত ইমরানের মা মোসা. সাফিয়া বেগম। হাতে তসবি, ভেজা চোখ আর কাঁপা কণ্ঠে তিনি সন্তানের হত্যার বিচার চাইতে সাংবাদিক ও সরকারের প্রতি আকুল আবেদন জানান।

মা সাফিয়া বেগম বলেন, তার ছেলে ঠিকাদারির ব্যবসায় লোকসানে পড়ায় আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই দিন কাটছিল। মোটরসাইকেল বিক্রির কথা বলে প্রতিবেশী কয়েকজন ইমরানকে সেদিন রাতে বাড়ি থেকে ডেকে নেয়। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। শোকে কাতর মা জানান, টাকার অভাব ও শক্তির অভাব সত্ত্বেও তিনি আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় আছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ জুলাই রাতে শৌলা গ্রামের পাশে ইমরানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। নিহত ইমরান বুতলবুনিয়া গ্রামের মো. সহিদ সিকদারের ছেলে। হত্যার কয়েক সপ্তাহ পর পরিবার ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে আদালতে নালিশি মামলা দায়ের করে। আদালতের নির্দেশে সোমবার বিকেলে জেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ানা চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে কবরস্থান থেকে মরদেহ উত্তোলন করা হয় এবং পরে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় পটুয়াখালী মর্গে।

পরিবারের অভিযোগ, একই গ্রামের হিরণ আকন, জাকির মৃধা ও শামীম হোসেন মোটরসাইকেল বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে ইমরানকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যায়। জমি-সংক্রান্ত বিরোধ এবং আগের একটি মামলার কারণে তারা ক্ষুব্ধ ছিল। সে আক্রোশ থেকেই ইমরানকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি তাদের পরিবারের। নিহতের বাবা সহিদ সিকদার বলেন, পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তিনি হিরণ, নাজমুল, মোনাসেফসহ সাতজনের বিচার দাবি করেন।

ইমরানের বোন জান্নাতুল ফেরদৌস অভিযোগ করেন, মামলার পরও আসামিরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে। বরং উল্টো তাদের বাড়িতে এসে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এমনকি প্রলোভন দেখানো হচ্ছে খরচসহ তার বিয়ের ব্যয়ভার বহনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে। তিনি মনে করেন, তারা নির্দোষ হলে তদন্তের প্রতি আস্থা রেখে অপেক্ষা করতেন; বরং বারবার চাপ সৃষ্টি করে নিজেদের দোষ ঢাকার চেষ্টা করছে।

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ানা চৌধুরী বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মরদেহ উত্তোলনের পুরো প্রক্রিয়া তিনি তদারকি করেন। সুরতহাল পর্যন্ত সবকিছু নিয়মানুযায়ী সম্পন্ন করা হয়েছে। এটি প্রশাসনের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই সম্পন্ন করা হয়েছে।

পাঁচ মাস ধরে চলে আসা হত্যার রহস্য উদঘাটনে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। পরিবার এখন দ্রুত বিচার ও আসামিদের গ্রেপ্তার দাবি করছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 

image_pdfimage_print

Posted on: December 9, 2025 | Author: Chandradip News24