পটুয়াখালীর গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী উপজেলার পানপট্টি এবং কোড়ালিয়া লঞ্চঘাট এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
অতিরিক্ত স্রোতের কারণে আগুনমুখা নদী বছরের অধিকাংশ সময়ই ভাঙন দেখা দেয়, আর এর ফলে প্রতিনিয়ত বিলীন হচ্ছে বসতঘর, দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনা। গত কয়েক বছরে এই ভাঙনে পানপট্টি ও কোড়ালিয়া লঞ্চঘাট এলাকার ২ হাজার ৫০০ ফুট নদীগর্ভে চলে গেছে। ফলে, লঞ্চঘাট দুটির কয়েকবার স্থানান্তর করতে হয়েছে এবং স্থানীয়রা নদীভাঙন ঠেকাতে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, পানপট্টি ও কোড়ালিয়া লঞ্চঘাট দুটি স্থানীয় মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এ দুটি ঘাট দিয়েই হাজার হাজার যাত্রী নদী পারাপার করেন। তবে, ভাঙন কারণে প্রায়ই যাত্রীদের দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে এবং বিশেষত নারীদের ও শিশুর জন্য চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।
পানপট্টি লঞ্চঘাটের ব্যবসায়ী বাবু হাওলাদার বলেন, প্রতিদিন এক হাজারেরও বেশি যাত্রী লঞ্চ, ট্রলার এবং স্পিডবোটে পারাপার করেন, কিন্তু এই ভাঙনের কারণে তাদের চলাচল অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ রানা জানান, গত পাঁচ বছরে পানপট্টি লঞ্চঘাট এলাকার পাঁচশ থেকে ছয়শ ফুট নদীভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে এবং শতাধিক দোকান, বসতঘরসহ অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাঙ্গাবালীর ছোটবাইশদা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. কামাল পাশা বলেন, কোড়ালিয়া লঞ্চঘাট এলাকার প্রায় ১ হাজার ৯৬৮ ফুট নদীভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে, এবং এখানকার বসতঘর, মসজিদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও নদী গর্ভে চলে গেছে।
পটুয়াখালী নৌবন্দরের উপপরিচালক মো. শাহাদাত হোসেন জানান, পানপট্টি লঞ্চঘাটের সংযোগ সড়কও ভেঙে গেছে, যার ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ছে। তবে, পানি উন্নয়ন বোর্ড ইতিমধ্যে এই ভাঙনরোধের জন্য একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে এবং মার্চ মাসে কাজ শুরু হবে।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম





