জ্বালানি তেল বিক্রির কমিশন বৃদ্ধিসহ ৭ দফা দাবিতে সারাদেশে শুরু হওয়া পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংকলরী মালিকদের প্রতীকী ধর্মঘটের বিষয়ে সমাধান খুঁজছে সরকার। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ধর্মঘট আহ্বানকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর চেয়ারম্যান আমিন উল আহসান।
তিনি জানান, ধর্মঘট পরিস্থিতি নিরসনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি মালিকদের উত্থাপিত দাবিগুলো যাচাই-বাছাই করবে এবং তার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আলোচনার মাধ্যমেই চলমান সংকট কেটে যাবে এবং সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ লাঘব হবে।
ধর্মঘটে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংকলরী মালিক ঐক্য পরিষদ। তারা সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত পেট্রোল পাম্প বন্ধ রাখার পাশাপাশি ডিপো থেকে জ্বালানি উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাম্পগুলো বন্ধ থাকার খবর পাওয়া গেছে।
তাদের ৭ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে: জ্বালানি তেল বিক্রির কমিশন ৭ শতাংশে উন্নীত করা, সওজের ইজারা মাশুল পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনা, পাম্প সংযোগ সড়কের ইজারা নবায়নের সময় পে-অর্ডারকে নবায়ন হিসেবে গণ্য করা, বিএসটিআই কর্তৃক আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যাংকের ক্যালিব্রেশন এবং ডিপ রড পরীক্ষণ ফি ও নিবন্ধন বাতিল করা, বিভিন্ন লাইসেন্স প্রথা বাতিলসহ বিপণন কোম্পানির বাইরে তেল বিক্রি বন্ধের ব্যবস্থা, ট্যাংকলরি চালকদের লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নে জটিলতা দূরীকরণ এবং সকল ট্যাংকলরির জন্য আন্তঃজেলা রুট পারমিট দেওয়া।
এছাড়াও দাবি রয়েছে, বিভিন্ন স্থানে অনুমোদনহীনভাবে বসতঘর কিংবা খোলা জায়গায় যত্রতত্র তেল বিক্রি ঠেকানোর। মালিকরা বলছেন, এভাবে অনিয়ন্ত্রিত বিক্রি বাজারকে অস্থির করে তুলছে এবং বৈধ ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
পেট্রোল পাম্প মালিকদের এ আন্দোলনে নৈতিক সমর্থন জানিয়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির মহাসচিব ফারহান নূর বলেন, “আমরাও চরম সংকটে আছি, ব্যবসা চালানো কষ্টকর হয়ে উঠেছে। তবে আমরা এখনই ধর্মঘটে যাচ্ছি না। প্রথমে আল্টিমেটাম দেওয়া হবে, পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, ২০১৭ সালে সরকার কমিশন বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও দীর্ঘদিনেও তা পূরণ হয়নি। শুধু এক টাকা কমিশন বাড়ানো হয়েছে, কিন্তু বারবার বিদ্যুৎ বিল ও অন্যান্য খরচ বাড়ার পরেও কমিশন আর সমন্বয় করা হয়নি। এতে অনেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছেন।
এদিকে, ধর্মঘটের কারণে জ্বালানি তেলের সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে পারেন সাধারণ জনগণ ও পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টরা। ফলে সংশ্লিষ্ট মহল দ্রুত এই সংকট সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছে।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম





