জরুরি বৈঠকে কঠোর বার্তা প্রধান উপদেষ্টার

Views: 37

রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় শুক্রবার অনুষ্ঠিত হলো এক গুরুত্বপূর্ণ জরুরি বৈঠক, যেখানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তা হুমকি এবং সদ্য সংঘটিত হামলার প্রেক্ষাপটে বৈঠকটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানসহ প্রধান উপদেষ্টার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-বিষয়ক বিশেষ সহকারী এবং সেনাবাহিনী, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস সাম্প্রতিক সময়ে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকে অত্যন্ত গুরুতর ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই হামলা দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে ভিন্নখাতে নেওয়ার সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা, যা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর সরাসরি আঘাত।

তিনি আরও বলেন, দেশের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না। যে শক্তিই নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করুক না কেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকার তা প্রতিহত করবে। শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনই এখন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলেও জানান তিনি।

বৈঠকে জানানো হয়, বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওসমান হাদীর অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন। পরিবারের অনুরোধে তাকে ইতোমধ্যে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে হামলাকারীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যেই আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তিনি দেশবাসীর কাছে হাদীর সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে যাতে হামলাকারীরা পালিয়ে যেতে না পারে। জুলাই অভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য টার্গেটদের নিরাপত্তাও বাড়ানোর নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা।

বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়, নির্বাচনকালীন সংকট মোকাবেলায় দ্রুত একটি বিশেষ হটলাইন চালু করা হবে, যাতে যেকোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কাছে পৌঁছে যায়। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান এবং সন্দেহজনক স্থানে বিশেষ তল্লাশি জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভা শেষে প্রধান উপদেষ্টা জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং রাজনৈতিক সহমত গড়ে তুলতে তিনি শিগগিরই দেশের প্রধান রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

image_pdfimage_print

Posted on: December 13, 2025 | Author: Chandradip News24