ছাত্রদল নেত্রীর মৃত্যুতে উত্তাল ভোলা, তদন্ত দাবিতে ছাত্রদের লাগাতার বিক্ষোভ

Views: 45

ভোলায় লঞ্চ থেকে নদীতে পড়ে মৃত্যু হওয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও ছাত্রদল কর্মী সুকন্যা আক্তার ইপ্সিতার (২২) মৃত্যুর ঘটনায় ধোঁয়াশা ও রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবিতে সহপাঠী ও ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে উত্তাল হয়ে উঠেছে।

গত ১৭ জুন এমভি কর্ণফুলি-৪ লঞ্চের তৃতীয় তলা থেকে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন ইপ্সিতা। নিখোঁজের চার দিন পর, ২১ জুন লক্ষ্মীপুর সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। পরিচয় শনাক্তে দেরি হওয়ায় ২২ জুন আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে মরদেহ দাফন করা হয়। ছবি ও পোশাক দেখে ইপ্সিতার বাবা মাসুদ রানা মরদেহটি শনাক্ত করেন।

মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবিতে ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ২৪ জুন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোলা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতীকী শোক ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে সকাল ১০টায় কলেজ ছাত্রদল, বিকেল ৫টায় পৌর ছাত্রদল এবং সন্ধ্যা ৭টায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়।

তাদের প্রশ্ন, ইপ্সিতা কী স্বেচ্ছায় নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন, নাকি তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলা হয়েছে? যদি আত্মহত্যা করে থাকেন, তাহলে কি কেউ তাকে প্ররোচিত করেছে? ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে কি না, কিংবা প্রেমঘটিত বা রাজনৈতিক কারণে হত্যা করা হয়েছে কি না—এই সব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ইতিমধ্যে ভিকটিমের বাবা মাসুদ রানা অজ্ঞাতনামা আসামি করে লক্ষ্মীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করছে লক্ষ্মীপুর থানা-পুলিশ, নৌ পুলিশ এবং ভোলা থানা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

লঞ্চ কেবিন ইনচার্জ রাসেল হৃদয়ের ভাষ্যমতে, ইপ্সিতা তৃতীয় তলার একটি কেবিন ভাড়া নিতে চেয়েছিলেন। ভাড়া বেশি হওয়ায় তিনি জানান তার কাছে মাত্র ৩০০ টাকা রয়েছে, বাকি দেবে ‘জসিম’ নামে কেউ। কিন্তু লঞ্চের অন্য কর্মকর্তা ‘জসিম’ নামে কাউকে চিনতে পারেননি। ইপ্সিতার পরিবারের দাবি, তাদের পরিচিত কারও নাম জসিম নয়—এতে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।

এদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল, ভোলা জেলা ও কলেজ ছাত্রদল পৃথক বিবৃতি দিয়ে ইপ্সিতার মৃত্যুতে শোক ও নিন্দা প্রকাশ করেছে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।

এদিন ছাত্রদলের প্রতিনিধি দল ভোলা সদর মডেল থানার ওসি আবু শাহাদাত মোহাম্মদ হাসনাইন পারভেজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সঠিক তদন্ত ও বিচার দাবিতে স্মারকলিপি পেশ করে।

ওসি হাসনাইন পারভেজ জানান, লঞ্চটি চাঁদপুর অতিক্রম করার সময় মেয়েটি নদীতে পড়ে যান বলে জানা গেছে। বর্তমানে মামলার তদন্ত করছে লক্ষ্মীপুর থানা ও নৌ পুলিশ। ভোলা থানাসহ ডিবি পুলিশও তাদের সহায়তা করছে।

ভোলা জেলা ডিবি পুলিশের ওসি মো. ইকবাল হোসেন বলেন, “ছাত্রী ইপ্সিতার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আমরা গুরুত্বসহকারে তদন্ত শুরু করেছি। শিগগিরই তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

image_pdfimage_print

Posted on: June 25, 2025 | Author: Chandradip News24