গলাচিপায় পরীক্ষায় বিশৃঙ্খলা—সহকারী শিক্ষকদের কর্মবিরতিতে স্থবির শিক্ষা কার্যক্রম

Views: 29

পটুয়াখালীর গলাচিপায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বার্ষিক পরীক্ষা শুরুর প্রথম দিনেই দেখা দিয়েছে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা। দেশের সহকারী শিক্ষকদের তিন দফা দাবিতে চলমান কর্মবিরতির প্রভাব সরাসরি পড়েছে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে। সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকাল থেকে পরীক্ষা শুরুর কথা থাকলেও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায়—সহকারী শিক্ষকরা দায়িত্ব পালনে অংশ নিচ্ছেন না।

সকাল ১০টার পরও গলাচিপা শহরের পল্লী উন্নয়ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গলাচিপা বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ একাধিক স্কুলে পরীক্ষা শুরু হয়নি। নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলে প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের কর্মচারীরা খাতা–প্রশ্ন নিয়ে পরীক্ষাকক্ষে ঢুকে পরীক্ষার কাজ শুরু করেন। তবে পরীক্ষাকক্ষজুড়ে ছিল শিক্ষার্থীদের হৈচৈ, ছোটাছুটি—কেউ প্রশ্ন না বুঝে চুপ করে বসে আছে, আর কেউ দিশেহারা হয়ে সহায়তা খুঁজছে। কারণ—পরীক্ষায় শৃঙ্খলা রক্ষা ও সহায়তার জন্য কোনো সহকারী শিক্ষকই উপস্থিত ছিলেন না; তারা অফিসকক্ষে বসে কর্মবিরতি পালন করছিলেন।

পল্লী উন্নয়ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. শাহারুল ইসলাম জানান, ১১তম গ্রেড বাস্তবায়ন, বেতনভাতা সমন্বয় ও পদোন্নতিসহ তিন দফা দাবি দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত। ঢাকায় আন্দোলনে পুলিশের হামলার পর দেশব্যাপী সহকারী শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। মন্ত্রণালয় থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবায়নের কোনো প্রজ্ঞাপন না আসায় ধারণা করা হচ্ছে কর্মবিরতি চলবে অনির্দিষ্টকাল।

এদিকে, অভিভাবকদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষোভ ও উদ্বেগ। গলাচিপার অভিভাবক রুমা আক্তার বলেন, “শিক্ষকদের দাবি ন্যায্য হতে পারে, কিন্তু পরীক্ষার সময় কর্মবিরতি মানে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের সঙ্গে খেলা করা। তারা প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে—পরীক্ষা না হলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে।”

গলাচিপা বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসা. মরিয়ম আক্তার জানান, সহকারী শিক্ষক না থাকায় একা পরীক্ষা পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। কর্মচারীদের দিয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলেও তা যথেষ্ট হচ্ছে না।

তবে পুরো পরিস্থিতি অস্বীকার করেছেন গলাচিপা উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. গোলাম সগীর। তার দাবি—উপজেলার ১৯৬টি বিদ্যালয়ের সবগুলোতেই যথাসময়ে পরীক্ষা শুরু হয়েছে, মাঠপর্যায়ে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। তিনি নিজে পরিদর্শন করেছেন এবং সহকারী শিক্ষা অফিসাররাও দায়িত্বে আছেন বলে দাবি করেন।

কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা—পরীক্ষার প্রথম দিনেই অসংখ্য বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকরা কক্ষে উপস্থিত ছিলেন না। এতে পরীক্ষার পরিবেশ ভেঙে পড়ে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি হয় অস্বাভাবিক পরিস্থিতি।

জানা যায়, গলাচিপা উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১৯৬টি, সহকারী শিক্ষক ৯১৫ জন, শিক্ষার্থী প্রায় ২৮ হাজার। ফলে কর্মবিরতি চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ও পরীক্ষার সময়সূচি বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে।

সহকারী শিক্ষকদের দাবি—১৩তম গ্রেড বাতিল করে ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণ, ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার জটিলতা দূরীকরণ এবং সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি। মন্ত্রণালয় কী সিদ্ধান্ত নেয়—তা নির্ধারণ করবে গলাচিপাসহ সারাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 

image_pdfimage_print

Posted on: December 2, 2025 | Author: Chandradip News24