গলাচিপায় অচল মা ও শিশু হাসপাতাল চালুর দাবিতে মানববন্ধন

Views: 84

দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকা পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌর শহরের ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু হাসপাতালটি চালুর দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। সোমবার (১২ মে) সকাল ৯টায় হাসপাতালের সামনের সড়কে সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণে আয়োজিত হয় এই মানববন্ধন।

এই কর্মসূচিতে অংশ নেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, নারী, বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষ। বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও যুব সমাজের প্রতিনিধি শাহ জুবায়ের আব্দুল্লাহ, পটুয়াখালী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান রুবেল, স্থানীয় বাসিন্দা মো. নজরুল ইসলাম, মোসা. রেখা বেগম ও মো. নবীন হোসেন।

বক্তারা বলেন, গলাচিপা নদীবেষ্টিত ও জনবহুল একটি পৌরসভা হলেও মা ও শিশুদের জন্য স্থাপন করা এই হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের জন্য এটি একটি অপরিহার্য স্বাস্থ্যকেন্দ্র হলেও সেখানে চিকিৎসক নেই, ওষুধ নেই, নেই সেবাও। ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে বরিশাল বা পটুয়াখালী শহরে ছুটতে হয় চিকিৎসার জন্য। মাঝপথেই ঘটছে সন্তান প্রসব ও মৃত্যুর মতো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, সেবা নিতে এসে চিকিৎসক না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয়। নার্সদের অসদাচরণ ও রোগীদের প্রাইভেট ক্লিনিকে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয় ৫২ শতক জমির ওপর, যার ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। রয়েছে আধুনিক সব সুবিধা—দ্বিতল ভবন, অপারেশন থিয়েটার, ডক্টর ডরমেটরি, গভীর নলকূপ, সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কিন্তু অভ্যন্তরে নেই প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও জনবল।

২০২১ সালে নির্মাণকাজ শেষ হলেও আজও আনুষ্ঠানিকভাবে এটি চালু হয়নি। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মহিউদ্দিন হাসান রুম্মান বলেন, জনবল সংকটের কারণে পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু করা যাচ্ছে না। বর্তমানে ছয়জন ইউনিয়ন স্টাফ দিয়ে সীমিত সেবা দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, একজন এমবিবিএস চিকিৎসক ছিলেন, তিনিও গত নভেম্বরে বদলি হয়ে গেছেন।

বর্তমানে মাত্র দুইজন এফডব্লিউভি সপ্তাহের পাঁচদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সেবা দিয়ে থাকেন। প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জামের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে পটুয়াখালী জেলা পরিবার পরিকল্পনা উপপরিচালক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, জনবল সংকটের কথা মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে এবং বিষয়টি সমাধানে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত হাসপাতালটি চালুর ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে এলাকার মা ও শিশুরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম।
image_pdfimage_print

Posted on: May 13, 2025 | Author: Chandradip News24