কলাপাড়ায় অবৈধ করাতকলের দাপট

Views: 99

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় বৈধতার চেয়ে অবৈধ করাতকলের সংখ্যাই বেশি। সংরক্ষিত বনাঞ্চল, নদীর তীর, এমনকি জনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকাগুলোতেও গড়ে তোলা হয়েছে এসব করাতকল। দিনের বেলায় প্রকাশ্যে আর রাতের অন্ধকারে গোপনে চলছে ম্যানগ্রোভ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক গাছের নির্বিচার চেরাই। বন বিভাগের নিয়ম, পরিবেশ আইনের ধারা, সবই যেন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ।

উপজেলা জুড়ে থাকা ৬৯টি করাতকলের মধ্যে ৩৫টি অবৈধ। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি মহিপুর রেঞ্জে—সেখানে ৩২টি করাতকলের ২৪টি চলছে কোনোরকম বৈধ কাগজপত্র ছাড়া। অথচ এই করাতকলগুলো খাজুরা, কুয়াকাটা, গঙ্গামতি ও ধুলাসারের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পাশেই স্থাপন করা হয়েছে। নদীর তীর এবং বেড়িবাঁধের বাইরেও গড়ে তোলা হয়েছে করাতকল। জনসাধারণের চলাচলের প্রধান কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশে, এমনকি কুয়াকাটা পৌর এলাকার মসজিদের পাশেও বসানো হয়েছে করাতকল।

স্থানীয়রা বলছেন, এক শ্রেণির প্রভাবশালীরা পরিবেশ বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র করাতকল বসিয়ে রেখেছেন। কাঠ চেরাইয়ের জন্য গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। ফলে বন ধ্বংসের গতি দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। পরিবেশ কর্মী কামাল হাসান রনি জানান, এসব করাতকলের কারণে পুরো অঞ্চলের বনাঞ্চল চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। খাপড়াভাঙ্গা নদীতীর, যেখানে রয়েছে ম্যানগ্রোভ গাছের বিস্তৃত বন, সেখানে দখল করে করাতকল বসানো হয়েছে।

২০১২ সালের ২৭ মে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রক্ষিত, অর্পিত বা সংরক্ষিত বনভূমি থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপন নিষিদ্ধ (পৌর এলাকা ছাড়া)। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, মসজিদ, সরকারি অফিস এবং জনস্বাস্থ্য বা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর স্থানের ২০০ মিটারের মধ্যে করাতকল বসানো যাবে না। এমনকি দিনে নির্ধারিত সময়ের (সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা) বাইরে করাতকল চালানোও নিষিদ্ধ।

এইসব নিয়ম-কানুন কোথাও মানা হচ্ছে না। কলাপাড়া ক্যাম্পের আওতায় থাকা ৩৭টি করাতকলের ১১টিই অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে। লালুয়ার বানাতি বাজারে অবৈধ করাতকল বন্ধে স্থানীয়রা লিখিত অভিযোগ করলেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

পরিবেশবাদী সংগঠন ‘আমরা কলাপাড়াবাসী’-এর সংগঠক নজরুল ইসলাম জানান, উপকূলীয় কলাপাড়ার পরিবেশ এমনিতেই দুর্যোগপ্রবণ। এই অঞ্চলের বনভূমিই মানুষকে প্রাথমিকভাবে সুরক্ষা দিয়ে আসছে। অথচ সেই বনই আজ অবৈধ করাতকলের কারণে ধ্বংসের পথে। তিনি বনবিভাগের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেন।

এ ব্যাপারে মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, তিনি সদ্য যোগ দিয়েছেন এবং শিগগিরই সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। কলাপাড়া বন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, করাতকলগুলোর লাইসেন্স নবায়ন এবং বৈধ করণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে তিনটি করাতকলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

স্থানীয়দের মতে, দ্রুত অভিযান চালিয়ে অবৈধ করাতকল বন্ধ করা না গেলে কলাপাড়ার বনভূমি ও পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম
image_pdfimage_print

Posted on: June 10, 2025 | Author: Chandradip News24