ওবামার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের দাবি ট্রাম্পের Views: 56 যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনেছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০১৬ সালের নির্বাচন নিয়ে জনগণকে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য’ দেওয়ার অভিযোগে ওবামার গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) হোয়াইট হাউসে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ “বংবং” মার্কোস জুনিয়রের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “এই ষড়যন্ত্রচক্রের প্রধান ছিলেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। তিনি অপরাধ করেছেন। এটি রাষ্ট্রদ্রোহ। তারা নির্বাচন চুরি করতে চেয়েছিল, আমেরিকান জনগণকে ধোঁকা দিতে চেয়েছিল।” এর আগে ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ট্রাম্প নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব উত্থাপন করেছিলেন। এবার তিনি ২০১৬ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গে ফিরে গিয়ে অভিযোগ তুলেছেন, সে সময় ওবামা প্রশাসন ‘ভুল তথ্য’ ছড়িয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হামলা পরিচালনা করেছিল। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ ওঠে, যার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একাধিক প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়। সে সময় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ওবামা কয়েকজন রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করে এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তবে ২০১৯ সালে বিশেষ কৌঁসুলি রবার্ট মুলারের তদন্তে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচার শিবিরের সঙ্গে রাশিয়ার সরাসরি যোগসাজশের পর্যাপ্ত প্রমাণ মেলেনি। যদিও প্রতিবেদনটি রাশিয়ার “ব্যাপক ও সংগঠিত উপায়ে” মার্কিন নির্বাচন প্রভাবিত করার চেষ্টার সত্যতা নিশ্চিত করে। ট্রাম্প বলেন, “ওরা (ওবামা প্রশাসন) ধরা পড়ে গেছে। এজন্য তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।” এই অভিযোগের সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড। গত ১৮ জুলাই দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, “ওবামা এবং তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বহু বছরব্যাপী এক ধরনের ক্যু পরিকল্পনার ভিত্তি গড়ে তুলেছিলেন।” তুলসি আরও বলেন, ওবামা প্রশাসন গোয়েন্দা তথ্য বিকৃত করে জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিল এবং সেই ষড়যন্ত্রে জড়িতদের তদন্ত করে আইনের আওতায় আনা উচিত। ইতোমধ্যে তিনি সংশ্লিষ্ট কিছু নথি বিচার বিভাগের কাছে জমা দিয়েছেন বলেও জানান। তবে বিশ্লেষকরা তুলসির দাবির যথার্থতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই বলছেন, তিনি বিভিন্ন প্রতিবেদন ও তথ্যের ব্যাখ্যা গুলিয়ে ফেলেছেন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে একতরফাভাবে তা উপস্থাপন করছেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্য এবং অভিযোগ মার্কিন রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে, যা আগামী নির্বাচনী পরিবেশেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।