এআই উন্নয়নে ২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ বিক্রি করছে মেটা

Views: 51

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দৌড়ে নিজেকে শীর্ষে রাখতে ২.০৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেটা। বিশাল এআই অবকাঠামো নির্মাণের খরচ কমাতে তৃতীয় পক্ষের বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে নতুন কৌশলে এগোচ্ছে প্রযুক্তি জায়ান্টটি।

সম্প্রতি এক কোয়ার্টারলি ফাইলিং-এ মেটা জানায়, জুন মাসেই তারা এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে। এর আওতায় ডেটা সেন্টার নির্মাণ সংশ্লিষ্ট জমি ও নির্মাণাধীন প্রকল্পগুলো “হেল্ড-ফর-সেল” হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এদের মূল্য প্রায় ২.০৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগামী ১২ মাসের মধ্যে সম্ভাব্য অংশীদারদের কাছে বিক্রি করা হবে।

যৌথভাবে ডেটা সেন্টার গড়বে মেটা

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেটা তাদের ভবিষ্যতের এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণে আর্থিক অংশীদারদের যুক্ত করতে চায়। প্রতিষ্ঠানটির চিফ ফিনান্স অফিসার সুসান লি বলেন, “আমরা বেশিরভাগ ব্যয় নিজেরা বহন করলেও, কিছু প্রকল্পে বাহ্যিক অর্থায়ন যুক্ত হতে পারে। এতে করে ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত চাহিদা অনুযায়ী উন্নয়ন করা সহজ হবে।”

৩০ জুন পর্যন্ত মেটার ‘হেল্ড-ফর-সেল’ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩.২৬ বিলিয়ন ডলার। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বিক্রির জন্য নির্ধারিত সম্পদগুলো তাদের ‘বুক ভ্যালু’ অথবা বাজারমূল্যের যেটি কম—সে অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হয়েছে। এতে করে আর্থিক দৃষ্টিকোণ থেকে ক্ষতির আশঙ্কা নেই বলেই দাবি করা হয়।

ম্যানহাটনের সমান সুপারক্লাস্টার

মেটা সিইও মার্ক জুকারবার্গ আগেই ঘোষণা দিয়েছেন, সুপারইন্টেলিজেন্স ও এআই প্রশিক্ষণের জন্য তারা “সুপারক্লাস্টার” নামে বিশাল ডেটা সেন্টার তৈরি করছে। তার ভাষায়, “এই সুপারক্লাস্টারগুলো একেকটি যেন পুরো ম্যানহাটনের বড় একটি অংশের সমান বিশাল।”

এই প্রকল্পের পেছনে বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ থাকলেও, মেটা তাদের বিজ্ঞাপন আয়ে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। এআই নির্ভর কনটেন্ট ডেলিভারি ও টার্গেটিং ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে কোম্পানির আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই ফলশ্রুতিতে প্রতিষ্ঠানটি তাদের বার্ষিক মূলধন ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ২ বিলিয়ন ডলার বাড়িয়ে ৬৬ থেকে ৭২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছে।

নতুন বাস্তবতায় প্রযুক্তি জায়ান্টরা

এক সময় গুগল, অ্যামাজনের মতো প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো নিজেদের অর্থায়নেই বিশাল ডেটা সেন্টার নির্মাণ করত। তবে এখনকার বাস্তবতা বদলেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অবকাঠামোর ব্যয় এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, যৌথ বিনিয়োগ ছাড়া তা টেকসই রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

এআই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে মেটার এই পদক্ষেপ প্রযুক্তি জগতে নতুন একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 

image_pdfimage_print

Posted on: August 7, 2025 | Author: Chandradip News24