ইলিশ প্রজননে বাধা, পলিবর্জ্য ও ডুবোচরের প্রভাব

Views: 43

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বাংলাদেশের নদ-নদীতে ইলিশ মাছের প্রজনন বর্তমানে ডুবোচর ও পলিবর্জ্যের কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গভীর সমুদ্র থেকে প্রজননের জন্য উপকূলীয় নদীতে আসা মা ইলিশ এখন বিপাকে রয়েছে, কারণ নদীর জলে জমে থাকা পলিথিন এবং ডুবোচরগুলো তাদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, যদি নদী দূষণ রোধ করা এবং ডুবোচর অপসারণের কার্যক্রম দ্রুত শুরু না হয়, তাহলে ইলিশের সংখ্যা হ্রাস পাবে এবং এই মূল্যবান মাছ বাংলাদেশ ছেড়ে প্রতিবেশী দেশে চলে যেতে পারে।

মা-ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের অংশ হিসেবে পটুয়াখালীর আলীপুর ও মহিপুর মৎস্য বন্দরে গিয়ে দেখা গেছে, শিববাড়িয়া নদীর দুই তীরে অনেক ট্রলার নোঙর করছে। তবে নদীর পাড়ে পলিবর্জ্যের স্তূপ ছড়িয়ে আছে। মাছ শিকারি শহিদ জানান, “নদীতে জাল ফেললে মাছের তুলনায় পলিথিন বেশি উঠে আসে, যা আমাদের জালের ক্ষতি করে।”

মৎস্য ব্যবসায়ী ফজলু গাজী বলেন, “ডুবোচরগুলোই ইলিশের প্রধান শত্রু। আন্ধারমানিক, তেঁতুলিয়া, শিববাড়িয়া ও সোনাতলা নদীর প্রবেশমুখে ডুবোচর থাকার কারণে ইলিশ নদীতে প্রবেশ করতে পারছে না।”

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকোয়াকালচার বিভাগের চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ আলী মন্তব্য করেন, “অক্টোবর মাসের পূর্ণিমা ও অমাবস্যা হলো ইলিশের প্রজনন মৌসুম। ডুবোচরের কারণে তাদের চলাফেরা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।”

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্য বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. লোকমান আলী বলেন, “নদীতে অবাধে পলিবর্জ্য ফেলা হচ্ছে, যার ফলে পানির দূষণ বেড়ে গেছে। ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে পরিচিত আন্ধারমানিক ও তেঁতুলিয়া নদীর প্রবেশ পথ আগের তুলনায় অনেকটাই ভরাট হয়ে গেছে, ফলে মা ইলিশ তাদের অভয়াশ্রমে প্রবেশে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।”

কলাপাড়া মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানিয়েছেন, “নদীর দূষণ এবং নিষিদ্ধ ছোট জাল ব্যবহারের কারণে ইলিশের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এজন্য ১৩ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত সব ধরনের মাছ শিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং পলিবর্জ্য নদীতে ফেলা বন্ধ করতে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

image_pdfimage_print

Posted on: October 27, 2024 | Author: Chandradip News24