ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ২২ দিনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বরিশাল ও পটুয়াখালীর জেলেরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জেলেদের খাদ্য সহায়তার জন্য প্রতিজনকে ২৫ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও নিষেধাজ্ঞার এক সপ্তাহ পার হতে চললেও অনেকের হাতে বরাদ্দ পৌঁছায়নি। ফলে পরিবারগুলো অনাহারে বা অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে।
হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার মেঘনা নদীর পাড়ে দেখা যায়, চাচাতো দুই ভাই জয়নাল ও রাজ্জাক ঘরে বসে ছেঁড়া জাল ঠিক করছেন। তাদের অভিযোগ, “মা ইলিশ রক্ষার জন্য সরকার ২২ দিন নদীতে নামায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, কিন্তু খাদ্য সহায়তা পাইনি। বরাদ্দ থাকলেও এখনো কোনো সহায়তা আসেনি।”
স্থানীয় সূত্র বলছে, বরাদ্দকৃত খাদ্য সহায়তা ঠিকমতো না পৌঁছানোর কারণে অনেক জেলে বাধ্য হয়ে নদীতে নামছেন মাছ শিকারে। নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে কোনো উপার্জন না থাকা পরিবারগুলোতে দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। এছাড়া ভারতীয় জেলেরা দেশের জলসীমায় ঢুকে মাছ ধরছে, কিন্তু বাংলাদেশের জেলেরা মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।
বরিশাল বিভাগ মৎস্য অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক জহিরুল ইসলাম আকন্দ জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় চাল-ডালসহ অন্যান্য সহায়তা বিতরণের পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থানমূলক প্রকল্পেও জেলেদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি আশ্বাস দেন, দ্রুত নিবন্ধিত প্রত্যেক জেলের হাতে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় নিবন্ধিত জেলেদের সংখ্যা ৪ লাখ ১৯ হাজারের বেশি। এর মধ্যে ৩ লাখ ৪০ হাজার জেলেকে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার কথা থাকলেও মজুত কম থাকায় অন্তত ১ লাখ জেলে বরাদ্দ পাচ্ছে না। এ ছাড়া অনিবন্ধিত আরও লাখো জেলে পুরোপুরি খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫





