ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষ: উপকূল জুড়ে কর্মচাঞ্চল্য

Views: 104

বরিশাল অফিস: ইলিশের প্রজনন মৌসুমে নিরাপদ প্রাকৃতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২২ দিনের জন্য ইলিশ ধরার উপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা গত মধ্যরাতে শেষ হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার সময় ইলিশ আহরণ, পরিবহন ও বিপণন বন্ধ রাখা হয়েছিল।

ফলে, বরিশাল উপকূল এলাকার জেলে পল্লী ও মৎস্য আড়তগুলোতে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। মধ্যরাত থেকেই জেলেরা মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার নিয়ে নদী ও সাগরে যেতে শুরু করেছেন। আড়ৎদার ও মহাজনরা জেলেদের অগ্রিম টাকা দিয়ে সাগরে মাছ ধরতে পাঠানোর কাজ সম্পন্ন করেছেন।

বরিশালের পোর্ট রোড মৎস্য আড়তে আজ থেকে ইলিশ আসা শুরু করবে। বরিশালের অন্যান্য মৎস্য আড়ত, যেমন আলীপুর-মহীপুর, হরিনঘাটা, পাড়েরহাট, চর মোন্তাজ, ঢালচর এবং চর কুকরী-মুকরী, ইতোমধ্যেই ইলিশ সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত। মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, দেশে আহরিত প্রায় ৫.৮০ লাখ টন ইলিশের ৭০% বরিশাল অঞ্চলে আহরণ ও উৎপাদিত হয়। তবে নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে ভারতীয় কিছু জেলে নৌকা ও ট্রলার বাংলাদেশের উপকূল ও সমুদ্র সীমায় অবৈধভাবে প্রবেশ করে মাছ লুট করে নিয়ে গেছে। এবছর বাংলাদেশ নৌবাহিনী অন্তত ১০টি ভারতীয় ট্রলার আটক করেছে।

ইলিশের প্রজনন সুরক্ষায় দেশের উপকূলের ৭ হাজার ৩৩৪ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ১৩ অক্টোবর থেকে ২২ দিনের জন্য ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ, পরিবহন ও বিপণনে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়।

নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে দেশের দক্ষিণ উপকূলের ৩৭টি জেলার ১৫৫টি উপজেলার প্রায় ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৫৬৫ জন জেলেকে মানবিক সহায়তা হিসেবে ১৪ হাজার ১৬৫ টন চাল বিতরণ করা হয়।

এ বছর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মৎস্য আহরণ প্রবণতা আগের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় মৎস্য অধিদপ্তর বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করেছে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল-জরিমানাসহ নানা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এ সময়ে বরিশালসহ উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ১০ হাজার অভিযান চালানো হয় এবং ২ হাজার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ২ হাজার জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৭০ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয় এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত প্রায় ৬ কোটি মিটার জাল বাজেয়াপ্ত করে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে, সারা বিশ্বের ৬০% এরও বেশি ইলিশ এখন বাংলাদেশেই উৎপাদিত হয়, যা দেশের অর্থনীতিতে এককভাবে ১% এবং মৎস্য খাতে ১২.৫০% অবদান রাখছে। ইলিশের প্রজননক্ষেত্র সুরক্ষায় নিঝুম দ্বীপ সংলগ্ন ৩ হাজার ১৮৮ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে দেশের প্রথম ‘মেরিন রিজার্ভ এরিয়া’ ঘোষণা করা হয়েছে। ১ নভেম্বর থেকে ৮ মাসের জন্য জাটকা আহরণ, পরিবহন ও বিপণনে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে।

মৎস্য গবেষকদের মতে, ইলিশের জীবনচক্রে প্রজনন, বড় হওয়ার এবং প্রজননক্ষেত্রে ফিরে আসার নির্দিষ্ট ধারা রয়েছে। তারা জানান, নজরদারি বৃদ্ধির ফলে ২০১৭ সালে ইলিশ পোনা বা জাটকার উৎপাদন ৪২,২৭৪ কোটিতে উন্নীত হয়। ২০২২ সালের প্রজনন মৌসুমে দক্ষিণ উপকূলের অভ্যন্তরীণ নদীতে প্রায় ৮৪% মা ইলিশ ডিম ছাড়ার সুযোগ পায়, যা ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের মতে, পরিকল্পিত পদক্ষেপ ও নজরদারি বৃদ্ধির কারণে ইলিশের প্রজনন সাফল্য এবং উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছে।

image_pdfimage_print

Posted on: November 4, 2024 | Author: Chandradip News24