টি-টোয়েন্টি সিরিজে দাপুটে হোয়াইটওয়াশের পর ওয়ানডে ফরম্যাটে যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বাংলাদেশ। ফরম্যাট বদলেই বদলে গেছে পারফরম্যান্স—প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতার পর দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও একই চিত্র। ১৯১ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২৮.৩ ওভারে মাত্র ১০৯ রানে গুটিয়ে গেছে টাইগাররা। ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ৮১ রানের জয় তুলে নিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে আফগানিস্তান।
আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে আফগানিস্তান করে ১৯০ রান। বাংলাদেশের বোলাররা ম্যাচের শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখেন। তানজিম হাসান সাকিবের দারুণ ওপেনিং স্পেল, মেহেদি হাসান মিরাজ ও রিশাদ হোসেনের ঘূর্ণি—সব মিলিয়ে দারুণ বোলিং পারফরম্যান্স উপহার দেয় টাইগাররা। আফগান ব্যাটারদের মধ্যে একমাত্র ইব্রাহিম জাদরান লড়াই চালিয়ে যান, করেন ৯৫ রান। কিন্তু তার সঙ্গী ব্যাটাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় ৪৪.৫ ওভারে অলআউট হয় আফগানিস্তান।
কিন্তু ১৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম ওভারেই তানজিদ হাসান তামিম শূন্য রানে বিদায় নেন। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত রান আউট হয়ে ফিরলে দল পড়ে আরও চাপে। সাইফ হাসান ২২ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও বেশি দূর এগোতে পারেননি।
তাওহীদ হৃদয়ও ফিরে যান ২৪ রানে, এরপরের ব্যাটাররাও একে একে সাজঘরে ফেরেন। জাকের আলি অনিক, নুরুল হাসান সোহান, রিশাদ হোসেন—কেউই বড় ইনিংস গড়তে পারেননি। রশিদ খানের ঘূর্ণির জালে একে একে ধরা পড়েন সব ব্যাটার। ৫ উইকেট তুলে নিয়ে আফগান স্পিনার আবারও হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের জন্য দুঃস্বপ্ন।
শেষ পর্যন্ত ১০৯ রানে থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। এতে ৮১ রানের বড় ব্যবধানে হেরে সিরিজ হার নিশ্চিত হয়।
এই পরাজয়ের ফলে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের সরাসরি যোগ্যতা অর্জনের পথও কঠিন হয়ে পড়ল বাংলাদেশের জন্য। একসময় সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলা ব্যাটারদের অনিয়ন্ত্রিত শট বাছাই ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতা যেন আবারও মুখ থুবড়ে ফেলল পুরো দলকে।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম





