বরিশাল নগরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রধান অবলম্বন হিসেবে স্থাপিত শত শত সিসিটিভি ক্যামেরা বর্তমানে অচল হয়ে পড়েছে। ফলে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ কার্যক্রমে সৃষ্টি হয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ।
গত ১০ বছরে বরিশাল সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে শহরের ৫৮টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৪১৬টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রায় সব ক্যামেরাই বিকল হয়ে গেছে। এর মধ্যে ৭০টিরও বেশি ক্যামেরা চুরি হয়েছে—ক্যাবলসহ সম্পূর্ণ ইউনিট উধাও। অথচ কেন এগুলো সংস্কার বা প্রতিস্থাপন করা হয়নি, তা স্পষ্টভাবে জানাতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।
চাঁদমারি এলাকার বাসিন্দা মমতাজ বেগম বলেন, “রাস্তায় চলাচল করতে এখন ভয় লাগে। সিসিটিভি ক্যামেরা সচল না থাকায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। সকালে বা সন্ধ্যায় রাস্তায় বের হতে ভয় লাগে।”
সচেতন নাগরিক রফিকুল ইসলাম বলেন, “নগরীর নিরাপত্তা এখন বড় প্রশ্নের মুখে। ক্যামেরা না থাকায় অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায় না, অপরাধীরাও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।”
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী জানান, “বেশিরভাগ ক্যামেরা দীর্ঘদিন ধরে অকেজো। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে নতুন ক্যামেরা স্থাপন বা পুরনোগুলো সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। আমরা চেষ্টা করছি পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নিতে।”
সিটি করপোরেশনের অচল ক্যামেরার ঘাটতি পূরণে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ গত পাঁচ বছরে ২০০টির বেশি স্থানে ২৬০টি নতুন সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছে। তবে নগরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে এখনও পর্যাপ্ত নজরদারি সম্ভব হয়নি।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখতে। তবে নগরজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল না হলে অপরাধ দমন কার্যক্রম কার্যকরভাবে চালানো কঠিন হয়ে যাবে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা শুধু অপরাধ দমন নয়, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও নগর ব্যবস্থাপনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই দ্রুত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ না করলে নগরীর নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকবে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





