তাপপ্রবাহ কমলেও ২৫ জেলা এখনো দাবদাহে, বৃষ্টির আভাস আবহাওয়া অধিদপ্তরের

সারা দেশের অনেক স্থানে বৃষ্টি শুরু হলেও আজও দেশের ২৫টিরও বেশি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তবে আগামী পাঁচদিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে এবং তাপমাত্রাও কিছুটা কমতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার (১২ জুন) সকালে আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার (১৩ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে এবং রংপুর, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। তবে সারাদেশে দিনের ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

বর্তমানে টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজার, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বাগেরহাট, যশোর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তবে কিছু এলাকায় এই তাপপ্রবাহ ধীরে ধীরে প্রশমিত হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

শনিবার (১৪ জুন) সকাল ৯টা থেকে একই ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রোববার (১৫ জুন) ও সোমবার (১৬ জুন) দেশজুড়ে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়বে। বিশেষ করে রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু স্থানেও দমকা হাওয়াসহ বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, আগামী পাঁচদিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে এবং এর ফলে দেশের সার্বিক তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।




তাপদাহ নিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের জরুরি বার্তা!

রাজশাহী, রংপুর, খুলনা বিভাগসহ ফেনী ও ময়মনসিংহ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টা এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। পাশাপাশি সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে, যার ফলে গরমের অনুভূতিও আরও তীব্র হবে।

সোমবার (৯ জুন) সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

৯ জুন: চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের দু-একটি স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। অন্যান্য এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

১০ জুন: রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দিনব্যাপী তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

১১ জুন: চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু স্থানে বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। ওই দিন সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে।

১২ জুন: ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু স্থানে দমকা হাওয়াসহ বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। এই সময় তাপমাত্রা দিনে ও রাতে সামান্য কমতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বর্তমানে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। এই পরিস্থিতি বজায় থাকলে তাপদাহ কিছুটা স্থায়ী হতে পারে, তবে কয়েক দিনের মধ্যে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

দেশবাসীকে বৃষ্টির সময় নিরাপদে থাকার পাশাপাশি তাপদাহের সময়ে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।




চট্টগ্রাম ও পার্বত্য জেলায় ভূমিধসের ঝুঁকি, আবহাওয়া অফিসের সতর্কবার্তা

দেশের সাতটি বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ সময় পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ভূমিধস এবং প্রধান শহরগুলোতে জলাবদ্ধতার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় আবহাওয়া অফিসের জারি করা সতর্কবার্তায় জানানো হয়, সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, খুলনা, বরিশাল, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় ৪৪ থেকে ১৮৮ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে।

এ ধরনের অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণে চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কক্সবাজারের পাহাড়ি এলাকায় কোথাও কোথাও ভূমিধসের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর কিছু অংশে অস্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস আরও জানায়, সাতক্ষীরা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত স্থল গভীর নিম্নচাপটি উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়েছে। এটি প্রথমে স্থল নিম্নচাপে এবং পরে আরও দুর্বল হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপ হিসেবে শেরপুর ও তৎসংলগ্ন ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে অবস্থান করছে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিম্নচাপের এই প্রভাব আগামী এক-দুই দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রাখতে পারে। জনসাধারণকে পাহাড়ি এলাকায় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।




রাঙ্গাবালীতে পানি বন্দি দুই লাখ মানুষ

বৈরী আবহাওয়ায় টানা দুই দিন ধরে পটুয়াখালীর উপকূলীয় দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালী মূল ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) থেকে সব ধরনের লঞ্চ, স্পিডবোট ও ট্রলার চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় অন্তত দুই লাখ মানুষ দ্বীপের ভেতরেই আটকে পড়েছেন। বুধবার (২৮ মে) থেকে শুরু হওয়া এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি শুক্রবার (৩০ মে) পর্যন্তও অব্যাহত থাকায় মানুষের মধ্যে চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। যাতায়াত ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় সাধারণ জীবনযাত্রা যেমন থমকে গেছে, তেমনি বন্ধ হয়ে গেছে চিকিৎসাসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জরুরি যোগাযোগ। এদিকে গত তিনদিন ধরে পুরো উপজেলাজুড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে, যা মানুষকে আরও বড় দুর্দশায় ফেলে দিয়েছে।

রাঙ্গাবালী মূলত সমুদ্র ও নদীবেষ্টিত একটি দুর্গম দ্বীপ। এখানকার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা জলপথ। কলাপাড়া বা গলাচিপা হয়ে এই অঞ্চলে প্রবেশ করতে হয় নৌপথে। কিন্তু বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে এই দ্বীপের মানুষ এখন ‘বন্দি’ অবস্থায় রয়েছে। বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থ মানুষের জন্য এই অবস্থা যেন এক ভয়াবহ যন্ত্রণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষ করে রাঙ্গাবালীতে একটি পূর্ণাঙ্গ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স না থাকায় মানুষকে গুরুতর অসুস্থতা বা জটিল সমস্যায় পড়লে জেলা শহর পটুয়াখালী বা নিকটবর্তী গলাচিপায় নিতে হয়। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো ধরনের যানবাহনই চালু না থাকায় জরুরি রোগীদের চিকিৎসা পাওয়া এখন একপ্রকার অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. কাশেম মিয়া জানান, ‘গতকাল আমার ছোট ভাই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। বরিশাল নিয়ে যেতে চাইলেও কোনো ট্রলার বা স্পিডবোট পাওয়া যায়নি। অসহায় হয়ে তাকিয়ে আছি।’

স্থানীয়রা জানান, যোগাযোগ বন্ধ থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। কারণ বাইরের কোনো পণ্য দ্বীপে প্রবেশ করতে পারছে না। যদিও এখনো সম্পূর্ণ সংকট দেখা না দিলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে, যদি আবহাওয়া আরও দুই-একদিন এমন থাকে, তাহলে খাদ্যদ্রব্য, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় পণ্যে ঘাটতি দেখা দেবে। ব্যবসায়ী ও দোকানদাররা বলছেন, পণ্যের চাহিদা থাকলেও যোগান না থাকায় তারা বিপাকে পড়েছেন।

দ্বীপজুড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় উপজেলার প্রতিটি বাজার কার্যত অচল হয়ে গেছে। ফ্রিজে সংরক্ষিত মাছ, মাংস, দুধসহ নানা খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন। কম্পিউটার ও অনলাইনভিত্তিক সেবাদানকারী দোকানগুলোও বন্ধ। বাহেরচর বাজারের ব্যবসায়ী প্রিন্স মাহমুদ বলেন, ‘প্রতিদিন নানা ধরনের কাজ করি, কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় সব বন্ধ। ল্যাপটপে সীমিত সময় কাজ করা গেলেও প্রিন্টার চালাতে পারছি না। দোকান খোলা থাকলেও লাভ হচ্ছে না।’

বাড়িঘরে রাখা খাদ্যদ্রব্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন অনেক গৃহিণীও। পূর্ব বাহেরচর গ্রামের রোজিনা বেগম বলেন, ‘এক সপ্তাহের বাজার একসঙ্গে করি। ফ্রিজে রাখলেও বিদ্যুৎ না থাকায় সব নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আবার কিনতে হবে, অথচ বাজারে জিনিসপত্রের দামও বেশি।’

বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল চার্জ দিতে না পারায় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা বন্ধ, কর্মজীবীরা কর্মস্থলে যেতে পারছেন না। এক কথায়, পুরো রাঙ্গাবালী যেন অচল হয়ে পড়েছে।

রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইকবাল হাসান জানিয়েছেন, মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থেই নৌযান চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পুনরায় চলাচল চালু হবে। জরুরি প্রয়োজনে নৌপুলিশ বা কোস্টগার্ডের সহায়তায় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ এখনো সক্রিয়। ঝোড়ো হাওয়া ও দমকা বাতাস অব্যাহত রয়েছে। ফলে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। নদীপথে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেতও জারি রয়েছে।

উপজেলার এই বিচ্ছিন্নতা একবারেই তাৎক্ষণিক নয়, বরং এটি অবকাঠামোগত দুর্বলতার দীর্ঘমেয়াদি ফল। স্থলপথ না থাকায় একটি সাধারণ দুর্যোগও এখানকার মানুষের জীবনযাত্রাকে স্তব্ধ করে দিতে পারে। জরুরি মুহূর্তে চিকিৎসা, শিক্ষা ও যোগাযোগের মতো মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে না পারায় রাঙ্গাবালীর জনগণ নিয়মিত দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এখন প্রয়োজন দ্বীপাঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের।

 

####
মো: আল-আমিন



নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় ৯ সাবেক আওয়ামী লীগ নেতাকে

জুলাই মাসে ধানমন্ডিতে মো. রিয়াজ (২৩) নামের এক যুবক হত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও আওয়ামী লীগ নেতা নুরু মিয়ার রিমান্ড মঞ্জুরের পর এবার নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে আরও ৯ জন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাকে।

বুধবার (২৮ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেরা মাহবুব পৃথক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

যাত্রাবাড়ী থানার বিভিন্ন হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননসহ নয়জনকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত।

বাকি গ্রেফতার দেখানো নেতারা হলেন:

  • সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম
  • তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক
  • সাবেক ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম
  • সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম মনু
  • সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম
  • আওয়ামী লীগ নেত্রী রজনী আক্তার টুসী

তদন্ত কর্মকর্তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এই নেতাদের বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন।

এছাড়া, একই থানা দায়ের করা আরও দুটি মামলায় সালমান এফ রহমানকে একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় এবং আনিসুল হককে একটি হত্যা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, আমির হোসেন আমুকে একটি হত্যাচেষ্টা মামলায়, ইনু ও মেননকে একটি হত্যাচেষ্টা এবং দুটি করে হত্যা মামলায়, পলককে একটি হত্যা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলায়, মনিরুল ইসলাম মনুকে দুটি হত্যা মামলায়, কামরুল ইসলাম ও আতিকুল ইসলামকে একটি করে হত্যাচেষ্টা মামলায় এবং জাহাঙ্গীর আলম ও রজনী আক্তার টুসীকে একটি করে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।এবং সব মামলাগুলো যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা হয়েছে।

এই বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।




পটুয়াখালী উপকূলে লঘুচাপের প্রভাব: ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত, বাড়ছে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্টি হওয়া লঘুচাপের প্রভাবে পটুয়াখালীসহ উপকূলীয় জেলায় বিরূপ আবহাওয়ার সৃষ্টি হয়েছে। গত দুই দিন ধরে থেমে থেমে মাঝারি বৃষ্টিপাতের পর বুধবার (২৮ মে) ভোর থেকে শুরু হয়েছে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। আকাশজুড়ে ঘন মেঘ আর বাতাসের চাপ না বাড়লেও অমাবস্যার জোয়ারে নদ-নদীর পানি বেড়ে গেছে।

বঙ্গোপসাগরের কুয়াকাটা উপকূল উত্তাল হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের চারটি সমুদ্র বন্দর—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রাকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় সাবধানে চলাচলের নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

কুয়াকাটা পৌর মৎস্য আড়ৎদার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম খান বলেন, “আমরা আগে থেকেই সতর্কবার্তা পেয়েছি। তবে এখন সমুদ্রে মাছ ধরার ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলায় আমাদের কোনো জেলে সাগরে নেই। তাই এই পরিস্থিতিতে আমরা আতঙ্কিত নই।”

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) লতাচাপলী ইউনিটের টিম লিডার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা সবসময় সতর্ক থাকি। আবহাওয়া অফিস থেকে সর্বশেষ তথ্য পেয়েছি। ঘূর্ণিঝড় শক্তি নিয়ে উপকূলের দিকে আসতে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে। তাই আমাদের সিপিপি’র সব টিম প্রস্তুত রয়েছে।”

পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী জানান, “উত্তর-পশ্চিম ও পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে পারে। এজন্য ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে।”

বৃষ্টির কারণে পটুয়াখালী শহরের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে গেছে, সৃষ্টি হয়েছে জনদুর্ভোগ। তবে এখনো বড় কোনো দুর্যোগ না হলেও সকলকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।

মোঃ আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, পায়রাসহ সকল বন্দরে ৩ নম্বর সংকেত

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে দেশের চারটি সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (২৭ মে) সকালে আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত এক সতর্ক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

সতর্ক বার্তায় জানানো হয়, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরসমূহের ওপর দিয়ে দমকা হাওয়া অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরের জন্য ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে এবং পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে না যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সৃষ্টি করতে পারে। ফলে জনসাধারণ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



উত্তর বঙ্গোপসাগরে সঞ্চালন, পায়রাসহ সব বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি হওয়ায় উপকূলীয় অঞ্চলে বিরাজ করছে অস্থির আবহাওয়া। এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টিপাত হয়েছে। যদিও শুক্রবার সকাল থেকে বৃষ্টির তেমন দেখা মেলেনি, তবুও আকাশজুড়ে ছিলো ঘন কালো মেঘের আনাগোনা।

স্থানীয়রা জানান, দিনের বেশিরভাগ সময় মেঘে ঢাকা ছিলো পটুয়াখালীর আকাশ। এরইমধ্যে জেলার নদ-নদীর পানি কিছুটা বেড়েছে এবং সাগরেও দেখা দিয়েছে উত্তাল পরিস্থিতি।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সৃষ্ট গভীর সঞ্চালনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চল ও সমুদ্র বন্দরগুলোর উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে দেশের সব সমুদ্র বন্দরে ০৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

বিশেষ করে পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরের জন্য সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। সেখানে জেলেদের গভীর সমুদ্রে না গিয়ে উপকূলের কাছাকাছি নিরাপদ এলাকায় চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ এ বিষয়ে মাইকিংসহ সচেতনতামূলক প্রচার চালাচ্ছে।

এদিকে, মৎস্যজীবীদের সংগঠনগুলো জানিয়েছে, অনেক ট্রলার এরইমধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে এসেছে। তবে যারা এখনো গভীর সমুদ্রে রয়েছে, তাদের দ্রুত উপকূলের কাছাকাছি আসার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই ধরণের সঞ্চালনশীল মেঘমালা আরও কিছুদিন উপকূলীয় অঞ্চলে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত, ঝড়ো হাওয়া ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকছে।

স্থানীয়দের প্রতি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার এবং নদী বা সাগরপথে ভ্রমণ না করার।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



৬ বিভাগে বৃষ্টির আভাস




ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, ১০ অঞ্চলে ১ নম্বর সংকেত

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়ার পাশাপাশি বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটির পক্ষ থেকে অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার (৬ মে) দুপুর ১টা পর্যন্ত বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের কয়েকটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার গতির দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পশ্চিম কিংবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হওয়া এই দমকা হাওয়ার প্রভাবে রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, কুষ্টিয়া, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা এবং সিলেট অঞ্চলে ঝড়ো বাতাসের পাশাপাশি বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে, আবহাওয়ার সর্বশেষ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে শুরু করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ হয়ে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বিস্তৃত রয়েছে। এই অবস্থার প্রভাবে আগামীকাল (৬ মে) সকাল ৯টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি এবং বিদ্যুৎ চমকানো বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। তবে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, মৌসুমি প্রভাব এবং বায়ুচাপের পার্থক্যের কারণে আবহাওয়া পরিবর্তনশীল থাকছে। সাধারণ জনগণকে সাবধানতা অবলম্বন ও প্রয়োজনে নৌযান চলাচলে সতর্কতা অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম