বৈরী আবহাওয়ায় হতাশ জেলেরা, ধরতে পারছেন না কাংখিত ইলিশ

মোঃ আল-আমিন (পটুয়াখালী): প্রতিকূল আবহাওয়ায় গভীর সমুদ্রে আশানুরূপ ইলিশের দেখা না মেলায় হতাশা দেখা দিয়েছে পটুয়াখালীর জেলে পল্লী ও মৎস্য সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।

৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে সমুদ্রে মাছ শিকারে যাওয়ার ঠিক দুই দিনের মাথায় বৈরী আবহাওয়া পরিস্থিতিতে লোকসানের মুখে সামুদ্রিক মাছ আহরণের সঙ্গে জড়িতরা।

পায়রা সমুদ্র বন্দরের ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার বন্দরে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিস। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হলো।

মৎস্য বিভাগ বলছে, গত মৌসুমের তুলনায় এবার বেশি ইলিশ আহরণ সম্ভব হবে। তাই আবহাওয়া অনুকূলে এলেই আবারও শিকারে গভীর সমুদ্রে যাবেন জেলেরা।

এদিকে সমুদ্র উত্তাল থাকায় গত মঙ্গলবার বিকেল থেকেই নিরাপদ আশ্রয়ে আছেন পটুয়াখালীর জেলেরা। দফায় দফায় আবহাওয়াজনিত কারণে সমুদ্র উত্তাল হওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ে তীরে ফিরছে মাছ ধরার শত শত ট্রলার।

আলীপুর-মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে স্থানীয় জেলে ট্রলার ছাড়াও কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ভোলা, মোংলা, বাশঁখালীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের জেলেরা আশ্রয় নিয়েছে। এসব মৎস্য বন্দরে জেলেদের পদচারণায় মুখর থাকলেও নেই ইলিশের দেখা।

জেলেরা জানান, বছরের বেশিরভাগ সময়ে এভাবে অবরোধ আর আবহাওয়া খারাপ হলে তাদের দুরবস্থার শেষ থাকেনা। আমরা অবরোধ শেষে যেতে পারলাম না, এর মধ্যে ফিরে আসলাম। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে একযোগে অবরোধ এবং জেলেদের সরকারি সুবিধা এবং বিকল্প কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দাবি জানান তারা।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়া ভালো হলে গভীর বঙ্গোপসাগরসহ স্থানীয় নদীতেও মাছের দেখা মিলবে। আবারও হাজার হাজার জেলেরা সাগরে যাবেন এবং মাছ আহরণ করতে পারবেন। জেলেদের নিরাপত্তায় নানান ধরনের ডিভাইস প্রদানসহ অন্যান্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।




বৃষ্টিতে জমে উঠেনি বরিশালের বৃক্ষমেলায় বেচা-বিক্রি

এস এল টি তুহিন (বরিশাল) : উত্তর ব‌ঙ্গোপসাগরে মৌসুমি বায়ু প্রবলভা‌বে সক্রিয় থাকায় ব‌রিশালসহ দেশের দ‌ক্ষিণাঞ্চলজু‌ড়ে অতিভারী বৃষ্টিপাত হ‌চ্ছে। বৃষ্টির কারনে তেমন জমে উঠছে না বরিশাল নগরীর বৃক্ষমেলা।

বিক্রেতাদের দাবী বৃষ্টি কম হলে তাদের বেচা-বিক্রি কমপক্ষে দ্বিগুন হতো। তবুও তারা হাল ছাড়ছেন না। সামনের দিন গুলোতে বেচা-বিক্রি আরো জমে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্টল মালিক মো. রেজাউল আহমেদ।

বরিশাল কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. ইউসুফ আলী জানান, শুধু গাছ কেনাবেচাই নয়, এ মেলায় আসা দর্শনার্র্থীরা বিভিন্ন তথ্য পাচ্ছে। বিভিন্ন ভেষজ গাছের সম্পর্কে জানতে পারছে। মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণসহ প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

তিনি আরও জানান,জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ টেকসই পরিবেশ সংরক্ষণ, কার্বন আধার সৃষ্টি, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবিলা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে বৃক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এ বছর জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার প্রতিপাদ্য‘গাছ লাগিয়ে যত্ন করি, সুস্থ প্রজন্মের দেশ গড়ি’ খুবই যৌক্তিক এবং সময়োপযোগী হয়েছে। প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে গত ৩১ জুলাই নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে উদ্বোধন করা হয় বিভাগীয় বৃক্ষ মেলা।

তবে মেলা শুরু হয়েছে ২৬ জুলাই। আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত পক্ষকাল ব্যাপী এই মেলা চলবে বলেও জানান তারা। গতবছর ও এ বছর এই মনোরম আয়োজন বরিশালে হলেও এর আগের দু বছর ছিল বন্ধ। এই মেলায় ৫০টি স্টল স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বন বিভাগ, হর্টিকালচার সেন্টারসহ বিভিন্ন বেসরকারি মালিকানাধীন নার্সারি রয়েছে।

মেলা শুরুতেই দর্শনার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দিপনার সৃষ্টি হয়। প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত মেলা কার্যক্রম পরিচালনার সময় হলেও বৃক্ষপ্রেমী নগরীর দর্শনার্থীদের ভিড় থাকে রাত দশটা অব্দি। চোখ ও মনের পরম শান্তি নিতে মেলাটির প্রতিটি স্টল ঘুরলেই যথেষ্ট বলে জানিয়েছে দর্শনার্থীরা।

এছাড়াও এখানে প্রয়োজন ও শখের প্রতিটি বৃক্ষই মিলছে তাই এর থেকে আর ভালো জায়গা দর্শনের জন্য হতে পারে না বলেও জানান তারা।

প্রতিদিন সন্ধ্যায় কৃষি তথ্য সার্ভিসের সৌজন্যে কৃষি বিষয়ক চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থা রয়েছে। মেলা শেষে গাছের চারা বিক্রির ওপর নার্সারি মালিকদের পুরস্কৃত করা হবে।

বিভাগীয় এই বৃক্ষ মেলায় ফলজ ও ভেষজ বনজসহ প্রায় ৪০০ প্রজাতির বিভিন্ন ধরনের গাছ মিলছে বলে জানা গেছে।

৫০ থেকে চার লক্ষ টাকা পর্যন্ত রয়েছে বৃক্ষের মূল্য ।মেলায় উন্নত মানের আম, আতা, কুল, বরই, ডালিম, বেল, জাম্বুরা, কাঁঠাল, ডুমুর, করমচা, কাজুবাদাম, লাল কাঁঠাল, কিউই ফল, চেরি ফল, ড্রাগন ফল, আদা জামির, স্ট্রবেরি, পেয়ারা এবং নাশপাতি সহ বিভিন্ন ধরনের ফল গাছ পাওয়া যাচ্ছে । এ সকল গাছ কিভাবে রোপন ও পরিচর্যা করা হবে তার যাবতীয় পরামর্শ মিলছে ।




পটুয়াখালীতে ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড বৃষ্টি

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীতে বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪০ মিলিমিটার। উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পায়রা ও সমুদ্র বন্দর গুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

গতকাল শনিবার সকাল ৬টা থেকে রোববার (৬ আগস্ট) সকাল ৬টা পর্যন্ত পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলায় ১৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে  বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।  বৃষ্টির কারণে চরম ভোগান্তিতে আছে নিম্ন আয়ের খেটে  খাওয়া মানুষ । বিভিন্ন নিচু স্থানে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তলিয়ে গেছে অসংখ্য মাছের ঘের ও পুকুর।

এদিকে, সক্রিয় মৌসমুী বায়ুর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি হচ্ছে। এর প্রভাবে নদ-নদীর পানির উচ্চতা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাতাসের চাপও অনেকটা বেড়েছে। বেশ উত্তাল হয়ে উঠেছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর। এ কারণে মাছধরা ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

কুয়াকাটা পৌর শহরের ভ্যানচালক আফাজ মিয়া জানান, শুক্রবার থেকেই বৃষ্টি পড়ছে। তাই মানুষের আনাগোনা অনেক কম। এ কারণে আয়ও কম ইচ্ছে।

পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী জানান, এ বৃষ্টি আরও ৭২ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। সেই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকায় মেঘের গর্জন বাড়তে পারে এবং ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।