উপকূলে তিন নম্বর সংকেত, জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে দ্বীপ ও চর

উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আবহাওয়ার চরম অবনতি ঘটেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকায় দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

আবহাওয়ার বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের উপর অবস্থানরত নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ২৫ জুলাই মধ্যরাতে পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের ওপর অবস্থান করছিল। নিম্নচাপটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগরের বাতাসে চাপের তারতম্য বেড়ে গেছে, ফলে সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠেছে। এতে সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় জেলাগুলোতে বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

নিম্নচাপ ও অমাবস্যার প্রভাবে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় এলাকা এবং নিকটবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১ থেকে ৩ ফুট উচ্চতার বায়ু-চালিত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

আবহাওয়া অফিস থেকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকবে। এরই মধ্যে মৎস্যজীবীদের অনেকে ঘাটে নৌকা বেঁধে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন। তবে কিছু এলাকায় এখনো ঝুঁকি নিয়ে অনেকে মাছ ধরছেন, যা বড় ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়িয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে উদ্ধারকারী দল ও আশ্রয়কেন্দ্রসমূহ। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনগুলো বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে অনুরোধ করেছে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে।

এদিকে উপকূলের সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের মানুষ যারা আগে থেকেই জোয়ারের পানিতে ভোগান্তিতে রয়েছে, তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। অনেক কৃষকের ধানক্ষেত ইতোমধ্যে পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, নিম্নচাপটি স্থলভাগে উঠে এলেও এর প্রভাব কিছুদিন পর্যন্ত থেকে যেতে পারে। তাই সতর্ক সংকেত অব্যাহত থাকবে। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষজনকে সব ধরনের সাবধানতা অবলম্বন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বান্দরবানে টানা বৃষ্টি, অনিয়ন্ত্রিত পাহাড় কাটায় ধসের শঙ্কা চরমে

বান্দরবানে টানা বর্ষণে সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি বেড়েছে পাহাড় ধসের আশঙ্কা। লাঙ্গিপাড়া, বালাঘাটা, কালাঘাটা, ক্যাচিংঘাটা ও সাইঙ্গা–এসব পাহাড়-ঘেঁষা জনবসতিতে স্থানীয়রা রয়েছেন চরম আতঙ্কে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন স্থানে ১০৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে এবং তা আরও দু-একদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

এর মধ্যেই রুমা উপজেলার আশ্রমপাড়ায় গভীর রাতে ধসে পড়ে একটি পাহাড়। যদিও কোনো হতাহতের খবর নেই, তবে পাহাড় ধসের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অনিয়ন্ত্রিতভাবে পাহাড় কাটার কারণে এখন লামা, থানচি, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়িসহ পাহাড় অধ্যুষিত প্রতিটি উপজেলাই হুমকির মুখে।

বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ি মাটি রাস্তার ওপর এসে পড়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই চলছে সীমিত আকারে যানবাহন চলাচল।

জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি জানিয়েছেন, সাতটি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি সার্বক্ষণিক যোগাযোগে রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো দ্রুত সংস্কারে কাজ চলছে।

সাধারণ মানুষকে পাহাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।

এস এম/ঢাকা পোস্ট
বান্দরবানে টানা বৃষ্টি, অনিয়ন্ত্রিত পাহাড় কাটায় ধসের শঙ্কা চরমে




রাতের মধ্যেই ৮ অঞ্চলে ঝড়ের আশঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কতা

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বুধবার রাত ১টার মধ্যে দেশের আটটি অঞ্চলে বজ্রসহ ঝড় বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় উপকূলীয় এবং সমুদ্রসন্নিহিত অঞ্চলে এই ঝড়ো আবহাওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোকে সতর্ক করে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে, ভারী বর্ষণের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কোথাও কোথাও ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত এবং কোনো কোনো অঞ্চলে ১৮৮ মিলিমিটার পর্যন্ত অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধ্বসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রামের নগর এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

সকাল ৯টা পর্যন্ত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর বিভাগের অনেক স্থানে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

তাপমাত্রা বিষয়ে জানানো হয়, সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়ার এমন পূর্বাভাসের প্রেক্ষিতে নদী এবং উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি নৌযান ও নদীবন্দর কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




বন্যা আতঙ্কেও স্থগিত নয় এইচএসসি, কুমিল্লা বোর্ড পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে

টানা বর্ষণ আর উজান থেকে আসা ঢলে কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী ও পরশুরামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। ফলে এসব অঞ্চলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন বা স্থগিত করার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড।

বুধবার (৯ জুলাই) দুপুরে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক রুনা নাছরীন জানান, জলাবদ্ধতা ও নদ-নদীর পানি বাড়লেও পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে এখনো বড় কোনো সমস্যা তৈরি হয়নি। বোর্ড সার্বক্ষণিক সংশ্লিষ্ট জেলার শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

তিনি বলেন, “বিকেলের পর থেকে যদি বৃষ্টি না বাড়ে, তাহলে অনেক এলাকায় পানি দ্রুত নেমে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োজন না-ও হতে পারে। তবে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমরা আজ সন্ধ্যার মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারি।”

বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থীদের যেন কোনো দুর্ভোগে পড়তে না হয়, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। নিরাপদে কেন্দ্রে পৌঁছানো এবং নির্বিঘ্নে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই প্রধান অগ্রাধিকার।

উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহে কুমিল্লা অঞ্চলের কিছু শহর ও গ্রামীণ এলাকায় নদীর পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি শহরাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। যার প্রভাব পড়তে পারে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষায়।

২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সারাদেশে শুরু হয়েছে ২৬ জুন সকাল ১০টা থেকে। এবার ২ হাজার ৭৯৭টি কেন্দ্রে অংশ নিচ্ছেন প্রায় ১২ লাখ ৫১ হাজার শিক্ষার্থী। লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ১০ আগস্ট এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা চলবে ১১ থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




বৈরী আবহাওয়ায় ভোলা থেকে ১০টি রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ, দুর্ভোগে যাত্রীরা

দক্ষিণাঞ্চলে টানা বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ভোলা জেলার অভ্যন্তরীণ ১০টি রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বিআইডব্লিউটিএ। এর মধ্যে ইলিশা-মজুচৌধুরীর হাট রুটটি চার দিন ধরে বন্ধ রয়েছে, যা স্থানীয়দের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায় ভোলা নদী বন্দর কর্মকর্তা রিয়াদ হোসেন জানান, আবহাওয়ার অবনতির কারণে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সমুদ্রে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত এবং নদী বন্দরে ১ নম্বর সংকেত দেখানো হলেও, ভোলার বেশ কয়েকটি রুটে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা তৈরি হয়েছে।

বন্ধ থাকা রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে—দেওলতখান-আলেকজান্ডার-মির্জাকালু, বেতুয়া-ঢাকা, হাতিয়া-মনপুরা, চরফ্যাশন-মনপুরা, চরফ্যাশন, হাতিয়া, মনপুরা এবং তজুমদ্দিন থেকে ঢাকাগামী রুটগুলো। তবে ভোলা-ঢাকা সরাসরি রুটে নৌযান চলাচল এখনো স্বাভাবিক রয়েছে।

অসহায় যাত্রীরা জানান, চার দিন ধরে এই অবরোধে তারা আটকে পড়েছেন। ভেলুমিয়া এলাকার কামরুল ইসলাম বলেন, “ইলিশা-মজুচৌধুরীর হাট রুট বন্ধ থাকায় মেয়ের বাড়ি যেতে পারছি না। জরুরি কাজ থাকলেও আবহাওয়া ঠিক না হলে যাওয়া সম্ভব না।” ঢালচরের মুসলিম মিজি জানান, “আমাদের রুটের ট্রলার বন্ধ। প্রয়োজনেও কোথাও যেতে পারছি না, খুব অসহায় লাগছে।”

বরিশাল আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক মাসুদ রানা রুবেল জানিয়েছেন, দক্ষিণাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকায় মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় টানা বর্ষণ হচ্ছে। এই বৃষ্টি আগামী দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

তবে বরিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা শেখ সেলিম রেজা জানিয়েছেন, বরিশাল-ঢাকা বা বরিশাল-ভোলা রুটে এখনো লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়নি। নদী বন্দরে শুধুমাত্র ১ নম্বর সংকেত থাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকা রুটগুলোয় নৌযান চলাচল শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




৮ বিভাগে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস, ভারী বর্ষণে দক্ষিণাঞ্চলে সতর্কতা

ঢাকাসহ দেশের আটটি বিভাগে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। বিশেষ করে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে এসব অঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও দুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সোমবার (৭ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়া পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানায় বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঢাকাসহ খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের অনেক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি এবং বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান জানান, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলে এবং মোটামুটি সক্রিয় অন্যত্র। সেই সাথে উত্তর বঙ্গোপসাগরেও প্রবল অবস্থানে রয়েছে মৌসুমি বায়ু। এর ফলে বেশ কয়েক দিন ধরে চলতে থাকা বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।

আগামীকাল মঙ্গলবারও (৮ জুলাই) একই রকম আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। এ দিনও অধিকাংশ এলাকায় দমকা হাওয়ার সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্তও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগের বেশ কিছু জায়গায় দমকা হাওয়ার সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি এবং কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। তবে সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। সপ্তাহ শেষে সামান্য তাপমাত্রা বৃদ্ধির সম্ভাবনাও রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, বর্ধিত পাঁচদিনেও বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। তাই জনসাধারণকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




১২ ঘণ্টার মধ্যে লঘুচাপের আশঙ্কা, বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবন

আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। আজ রোববার (৬ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়ার বুলেটিনে বলা হয়, মৌসুমি বায়ুর অক্ষ বর্তমানে রাজস্থান, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল ও আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি অংশ বিস্তৃত রয়েছে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত। ফলে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আজ খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেটের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

বৃষ্টির প্রভাব থাকলেও সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।

সপ্তাহব্যাপী পূর্বাভাস অনুযায়ী:

  • সোমবার (৭ জুলাই): ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক স্থানে বৃষ্টি হতে পারে। বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেটে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
  • মঙ্গলবার (৮ জুলাই): চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায়; ঢাকা, খুলনা ও বরিশালের অনেক স্থানে বৃষ্টি হতে পারে। চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেটে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।
  • বুধবার (৯ জুলাই): রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও বরিশালের কিছু জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা। দেশের কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণ হতে পারে। তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।
  • বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই): রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশালের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিন তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

সামগ্রিকভাবে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে সপ্তাহজুড়েই দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে, যা কৃষি ও জনজীবনে প্রভাব ফেলতে পারে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




আসছে শক্তিশালী বৃষ্টিবলয় ‘নির্ঝর’, উপকূলজুড়ে ভারি বৃষ্টির শঙ্কা

দেশের উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে চলতি বছরের অন্যতম শক্তিশালী মৌসুমি বৃষ্টিবলয় ‘নির্ঝর’। বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) জানিয়েছে, এটি একটি আংশিক ও মৌসুমি বৃষ্টিবলয়, যার প্রভাবে দেশের অনেক অঞ্চলে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে, তবে কিছু অঞ্চল বৃষ্টিবঞ্চিতও থাকতে পারে।

বিডব্লিউওটির তথ্য অনুযায়ী, বৃষ্টিবলয় ‘নির্ঝর’ আগামী ২৮ জুন উপকূলীয় অঞ্চল থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে এবং ৫ জুলাই নাগাদ রাজশাহী বিভাগের হয়ে দেশ ত্যাগ করতে পারে।

এই বৃষ্টিবলয় চলতি বছরের সপ্তম ও তৃতীয় মৌসুমি বৃষ্টিবলয়। এটি সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকবে বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগে। সিলেট বিভাগে এর প্রভাব মাঝারি হবে, আর ঢাকা, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগে হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টি হতে পারে।

প্রাকৃতিক ঝুঁকি ও সতর্কতা:

  • উপকূলীয় এলাকায় দমকা হাওয়ালঘুচাপের প্রভাবে কিছুটা উত্তাল সাগর পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে।
  • চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে।
  • কালবৈশাখীর সম্ভাবনা নেই, তবে বজ্রপাত হতে পারে অনেক এলাকায়।
  • সাগরে মৌসুমি বায়ুর চাপের তারতম্যের কারণে মাছ ধরতে যাওয়া নৌযানদের সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘নির্ঝর’ যদি পূর্ণ শক্তি নিয়ে সক্রিয় হয়, তবে জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যার মতো পরিস্থিতিও সৃষ্টি হতে পারে বিশেষ করে উপকূলীয় জেলা শহরগুলোতে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে বিডব্লিউওটি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫

 




ছয় অঞ্চলে ৬০ কিমি গতির ঝড়ের আশঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা

দেশের ছয়টি উপকূলীয় অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) দেওয়া পূর্বাভাসে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক জানান, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার গতির অস্থায়ী ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৭ জুন) সন্ধ্যা পর্যন্ত এবং তার পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়া পূর্বাভাসে জানানো হয়—খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়, আর রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও হতে পারে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

শনিবার (২৮ জুন) সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসেও একই ধরনের পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে নাগরিকদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে, বিশেষ করে নদীপথে যাতায়াতকারী নৌযান ও জেলেদের প্রতি। তারা যেন প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




তিন বিভাগে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা

দেশের তিনটি বিভাগে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এসব অঞ্চলে বৃষ্টির প্রভাবে পাহাড়ি ঢল, জলাবদ্ধতা এবং নদীভাঙনের আশঙ্কাও রয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট বিভাগে মাঝারি থেকে ভারী, কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলগুলোতেও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। তবে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের উপকূলবর্তী এলাকায় বজ্রসহ ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে পাহাড়ি ঢল নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে—বিশেষ করে সিলেট ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায়। এতে নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।

বৃষ্টির কারণে নৌ-চলাচল এবং সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটতে পারে বলেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।