উপকূলে তিন নম্বর সংকেত, জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে দ্বীপ ও চর

উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আবহাওয়ার চরম অবনতি ঘটেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকায় দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
আবহাওয়ার বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের উপর অবস্থানরত নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ২৫ জুলাই মধ্যরাতে পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের ওপর অবস্থান করছিল। নিম্নচাপটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগরের বাতাসে চাপের তারতম্য বেড়ে গেছে, ফলে সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠেছে। এতে সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় জেলাগুলোতে বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
নিম্নচাপ ও অমাবস্যার প্রভাবে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় এলাকা এবং নিকটবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১ থেকে ৩ ফুট উচ্চতার বায়ু-চালিত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
আবহাওয়া অফিস থেকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকবে। এরই মধ্যে মৎস্যজীবীদের অনেকে ঘাটে নৌকা বেঁধে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন। তবে কিছু এলাকায় এখনো ঝুঁকি নিয়ে অনেকে মাছ ধরছেন, যা বড় ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়িয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে উদ্ধারকারী দল ও আশ্রয়কেন্দ্রসমূহ। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনগুলো বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে অনুরোধ করেছে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে।
এদিকে উপকূলের সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের মানুষ যারা আগে থেকেই জোয়ারের পানিতে ভোগান্তিতে রয়েছে, তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। অনেক কৃষকের ধানক্ষেত ইতোমধ্যে পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, নিম্নচাপটি স্থলভাগে উঠে এলেও এর প্রভাব কিছুদিন পর্যন্ত থেকে যেতে পারে। তাই সতর্ক সংকেত অব্যাহত থাকবে। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষজনকে সব ধরনের সাবধানতা অবলম্বন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।







