এ মাসের শেষে ঘূর্ণিঝড়, বাড়তে পারে বৃষ্টি

চন্দ্রদীপ নিউজ ডেস্ক : এ মাসের শেষে বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। তারা জানান, আগামী দুই দিনের মধ্যে দেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। এ সময়ে দেশের কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে আগামী সোমবার অর্থাৎ ২১ আগস্ট থেকে পরবর্তী সাত দিন সারা দেশে বৃষ্টি বাড়বে।

দেশের কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ ছাড়া চলতি মাসের শেষে অর্থাৎ ৩০-৩১ আগস্ট বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হতে পারে।

গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় আবহাওয়া সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। আগামী পাঁচ দিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে।

মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়, আজ দেশের চার বিভাগে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণ হতে পারে।




প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে পেছালো তিন বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা

প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পেছানো হয়েছে।

পরিবর্তিত সময়সূচি অনুযায়ী এই তিন শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা ১৭ আগস্টের পরিবর্তে ২৭ আগস্ট থেকে শুরু হবে। তবে অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ১৭ আগস্ট থেকে অনুষ্ঠিত হবে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার শুক্রবার রাতে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

পূর্বঘোষিত সময় অনুযায়ী সব (১১টি) শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা ১৭ আগস্ট থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চট্টগ্রাম অঞ্চলে অতিবৃষ্টির কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিয়েছে। এজন্য ওই এলাকার চার জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছিল। এখন তিন শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাও পেছাল।




ভারি বর্ষণে লোহালিয়া নদীতে ভাঙ্গন: লঞ্চঘাট বিলীনের আশঙ্কা।

আল-আমিন (পটুয়াখালী): জেলার লোহালিয়া নদীতে তীব্র ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে। টানা ৪ দিনের ভারি বর্ষণের প্রভাবে উপজেলার ধরান্দী লঞ্চঘাট এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। নদী ভাঙ্গনে বিলীন হতে বসেছে উত্তর ধারান্দি বাজারের প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

টানা ভারী বর্ষণ এবং নদীতে জোয়ারের প্রভাবে তীব্র স্রোতে লঞ্চঘাট সংলগ্ন ১ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ভাঙনের। ইতোমধ্যে লঞ্চঘাট এলাকায় নদীর পাড়ের প্রায় ১০-১৫ টি দোকান, ১টি মসজিদ, ১ টি ঘাট নদীগর্ভে বিলীনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, নদীতে ভাঙ্গন শুরু হওয়ায় বাজারের মসজিদ, ঘাট এবং আশপাশের দোকান এখন ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। দ্রুতই যদি নদী ভাঙন রোধে কোন ব্যবস্থা নেয়া না হয় তাহলে অচিরেই এগুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

লোহালিয়া নদীর ভাঙ্গন রোধে একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে স্থানীয়দের জানমালের নিরাপত্তার নিশ্চিতের দাবিও করেন তারা।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.আরিফ হোসেনের জানান,”আমি বিষয়টি শুনিনি, এখন অবগত হলাম । খোঁজ-খবর নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”




চীনে বন্যায় ৩৩ জন নিহত

রাজধানী বেইজিংয়ে প্রবল বৃষ্টিপাতে ৩৩ জনের প্রাণহানি এবং এখনো ১৮ জন নিখোঁজ রয়েছে। বুধবার কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন। খবর এএফপি’র।
খবরে বলা হয়, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বেইজিংয়ে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়। এতে নগরীর শহরতলী ও আশপাশের অনেক এলাকা তলিয়ে যায় এবং অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কর্মকর্তারা বুধবার বলেছেন, বেইজিংয়ের সম্প্রতিক দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ৩৩ জন প্রাণ হারিয়েছে। প্রধানত প্রবল বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভবন ধসে এসব মানুষের মৃত্যু হয়। আর এ সংখ্যা গত মঙ্গলবার কর্মকর্তাদের দেওয়া সংখ্যার প্রায় তিনগুণ।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার কেন্দ্র সিসিটিভি পরিবেশিত খবরে বলা হয়, বেইজিংয়ের ভাইস মেয়র জিয়া লিমমাও এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘যারা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মারা গেছেন এবং যারা দুর্ভাগ্যবশত জীবনহানির শিকার হয়েছেন তাদের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাতে চাই।’

চীনের উত্তরাঞ্চল জুড়ে বন্যায় বিপুল সংখ্যক মানুষ মারা গেছে। এদিকে শুক্রবার বেইজিং বলেছে, গত মাসে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ১৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বা নিখোঁজ রয়েছে।

চীনের জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় জানায়, এদের মধ্যে ১৪২ জন বন্যায় বা ভূতাত্ত্বিক দুর্যোগের কারণে ঘটেছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার ঘটনা এবং দীর্ঘ সময় ধরে তাপপ্রবাহের কারণে লাখ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী এমন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমন ঘটনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।




নেপালে প্রবল বৃষ্টির ফলে বন্যা ও ভূমি ধস: নিহত ৪০

প্রবল বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমি ধসে নেপালে চলতি মৌসুমে ৪০ জন নিহত হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে আরও ৩১ জন।

গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। খবর এনডিটিভির।

নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মানা আচারিয়া বলেন, উদ্ধারকর্মীরাা আটকেপড়াদের উদ্ধারকাজ করে যাচ্ছেন। কাঠমান্ডুতে একটি পুরো বাড়ি ভূমিধসে ভেসে গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন সেই বাড়ির ছয় বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, ভূমিধসের কারণে বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা বন্ধ হয়ে আছে। যোগাযোগব্যবস্থা একদম খারাপ। তাই তাদের উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে গেছে।

এদিকে বাগমতি, বিষ্ণুমতি ও সিন্ধুলি নদীর পানির উচ্চতা ছাড়িয়েছে বিপৎসীমা। নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেখানকার বাসিন্দাদের।

এরই মধ্যে নদীগুলোর পানি উপচে পড়ে কাঠমান্ডু উপত্যকায় দেখা দিয়েছে বন্যা। ৪০ লাখ মানুষের বসবাস নেপালের রাজধানী ও আশপাশের এলাকায়। জলাবদ্ধতার কারণে অনেকেই পড়েছেন ভোগান্তিতে। শিগগিরই পরিস্থিতির উন্নতি হবে না— এমনটি আশঙ্কা প্রশাসনের।

প্রতিবছর জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভারি বৃষ্টিপাত হয় হিমালয়কন্যা নেপালে।




চরমোনাইতে চলন্ত গাড়ির উপর গাছ পড়ে নিহত ১, আহত ৩

বরিশাল অফিস: জেলার চরমোনাইতে চলন্ত মাহিন্দ্রা গাড়ির উপর গাছ পড়ে ১ জন নিহত এবং ৪ জন আহত হয়েছে। সোমবার মধ্য রাতে সদর উপজেলার ৫ নং চরমোনাই ইউনিয়নের পশুরীকাঠি গ্রামের খান বাড়ির সামনে এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়- বরিশালের বেলতলা খেয়াাঘাট থেকে চরমোনাই জামিয়া রশিদিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার এক শিক্ষক ও এক ছাত্রসহ চারজন যাত্রী নিয়ে চরমোনাই গ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন মাহেন্দ্রা চালক মাহাবুব। পথিমধ্যে চাঁদেরহাট সংলগ্ন খান বাড়ির সামনে গাছ উপরে পড়ে মাহিন্দ্রাটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই চরমোনাই মাদ্রাসার শিক্ষক মনির হোসেন নিহত হন। গুরুতর আহত হন পদ্মা ব্রিকস ফিল্টের ম্যানেজার বাচ্চু হোসেনের ছেলে সায়েম, তামিম ও গাড়ির ড্রাইভার মাহবুব সহ চারজন।

নিহত এবং আহতদের মধ্যে স্থানীয়রা দুইজনকে উদ্ধার করতে পারলেও বাকি তিনজনকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা উদ্ধার করে গুরুতর আহত দুইজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। নিহতের মরদেহ চরমোনাই জামিয়া রশিদিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল আব্দুল কুদ্দুসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান- অতি বৃষ্টির কারণে গাছের গোড়া নরম হয়ে যাওয়ায় রাস্তার উপড় গাছটি উপরে পড়ে। ঠিক ওই সময় রাস্তা দিয়ে মাহেন্দাটি যাচ্ছিল।

চরমোনাই ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সৈয়দ শীষ মুহাম্মদ মামুনসহ স্থানীয় অনেকেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করেন।




টানা ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজারে পাহাড় ধসে মা- মেয়েসহ নিহত ৪

টানা ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজারের উখিয়া এবং চকরিয়ায় তিন শিশু ও এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় উখিয়ার ৯ নম্বর ক্যাম্পের এ/৬ ব্লকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে মা-মেয়ের মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে বিকেল ৪টায় চকরিয়ায় পাহাড়ধসে পড়ে মাটির দেয়াল চাপায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
উখিয়ায় নিহতরা হলেন, উখিয়া বালুখালী সিক্স ব্লকের বাসিন্দা আনোয়ার ইসলামের স্ত্রী জান্নাত আরা (২৮) ও তার মেয়ে মাহিমা আক্তার (২)।

উখিয়ায় রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) আমির জাফর বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে ক্যাম্পে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে একই পরিবারের মা-মেয়ে মাটি চাপায় মারা গেছে। খবর পেয়ে এপিবিএন ও উখিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। ক্যাম্পে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের অন্য জায়গায় সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে।




ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ায় পিরোজপুরে সেতুর এপ্রোচ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত

ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ায় পিরোজপুরে সেতুর এপ্রোচ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত, আশ্রয়ণ বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে যাওয়ার পরামর্শ, জেলা প্রশাসকের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন

এস এম পারভেজ (পিরোজপুর): উপকূলীয় জেলা পিরোজপুরে চলমান বৈরী আবহাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। চলতি রোপা আউশ ধানের ফসলী জমি, শাক সবিজ এবং রাস্তাঘাটসহ নদ নদীর পানি ফুল-ফেঁপে ওঠায় নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জেলা শহরের রাস্তাঘাটেও পানি উঠেছে। অনেক বাসা-বাড়িতে পানি ঢুকে পরায় তারা এখন চরম বিপাকে পরেছেন।
গত কয়েক দিনের টানা বর্ষনে জেলার সাড় ৩শ’ মাছের ঘের ভেসে গেছে।
এদিকে, পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান আজ মঙ্গলবার দুর্যোগপূর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা মঠবাড়িয়ার ক্ষতাছিড়া, সদরের বাদূরা ব্রীজ-আশ্রায়ন প্রকল্প এবং ইন্দুরকানী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি এসময় বাদূরা ব্রীজর এপ্রোচ সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত স্থান তাৎক্ষণিকভাবে মেরামতের জন্য এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন। এসময় তিনি ব্রীজ সংলগ্ন আশ্রয়ন বাসিন্দাদের নিরাপদে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি ‘চদ্রদীপ নিউজক’ জানান, সরকারি পর্যাপ্ত ত্রান ও খাদ্য সরবরাহ মজুদ রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরীর কাজ চলছে।
অন্যদিক, মঠবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রোকনুজ্জামান শরীফ ‘চদ্রদীপ নিউজকে’ জানান, ধানিসাফা সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানির চাপ বেড়ে সড়কে বড় বড় গর্ত হয়ে জনদুর্ভাগ সৃষ্টি হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (রাত সাড় ৯টা) ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে।




পিরোজপুরে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া : গত চার দিনের প্রবল বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত : পাড়েরহাট মৎস্য বন্দরে অবতরন করেছে ফিসিং ট্রলার

এস এম পারভেজ (পিরোজপুর): জেলায় গত চার দিন ধরে অব্যাহত রয়েছে দুর্যোগপূর্ন আবহাওয়া। শহরের নিচু রাস্তাঘাটসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আউশ ধানের ক্ষেত ডুবে গেছে, সেই সঙ্গে চাষকৃত বিভিন্ন সব্জি ফসলের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন উপ বিভাগীয় সহকারি কৃষি কর্মকর্তা হালিম হোসেন।
এদিকে, জেলার কচা, বলেশ্বর ও সন্ধ্যাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দেড় থেকে দুই ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। কখনো ভারী বর্ষণ আবার কখনো বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করায় নিম্ন আয়ের মানুষজন কষ্টের মধ্যে রয়েছেন।

পাড়েরহাট ফিসিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি কমল দাস জানান, মৎস্য বন্দর থেকে সাগরে যাওয়া কিছু কিছু ফিসিং ট্রলার ঘাটে নোঙ্গর করেছে, বেরী আবহাওয়ার কারনে আরও কিছু ট্রলার বন্দরে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে। এদিকে, চলমান দুর্যোগের কারনে নিম্ন আয়ের মানুষজন কাজ হারিয়ে দুর্বিসহ অবস্থার মধ্যে রয়েছেন।

জেলার দক্ষিনের বৃহৎ মঠবাড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন সড়ক পানির তোড়ে ভেঙ্গে চলাচলে অসহনীয় দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে প্রমত্তা বলেশ্বর নদীর তীর রক্ষা বেড়ীবাঁধগুলো ঝুঁকির মধ্যে থাকায় বাঁধের ওপর বসবাসরত জেলেরা প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছেন।

এদিকে, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান সোমবার জানান, তিনি বিভিন্ন উপজেলার ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনে বর্তমানে দক্ষিনের বৃহৎ মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের খেতাছিড়া এলাকায় পরিদর্শনে রয়েছেন। তিনি আরও জানান, নিম্ন আয়ের মানুষজনের তালিকা নিরুপন করে তাদেরকে সরকারি ত্রান ও সাহায্য বিতরনের জন্য প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, জেলায় গত রোববার সকাল ৬টা থেকে আজ সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় ২৮ মি:মি: বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।




টানা বৃষ্টিতে বরিশালে জনজীবন বিপর্যস্ত, কীর্তনখোলা নদীর পাড়ে বাঁধ নির্মাণের দাবি

এস এল টি তুহিন (বরিশাল): পূর্ণিমার জোয়ার ও উজানের ঢলে দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীর পানির প্রবাহ বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। নদীর তীরবর্তী জনপদ ও চরাঞ্চল দুই-তিন ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। জোয়ারের সময় পানিতে তলিয়ে গেলেও ভাটায় নেমে যাচ্ছে। জোয়ারের ৩-৪ ঘণ্টা পর ভাটার সময় আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। খানিক সময়ের জন্য হলেও দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে নদীর তীরবর্তী ও নিচু এলাকায় বসবাস করা মানুষদের।

বরিশাল নগরীর স্থান বাসিন্দারা  জানান, জোয়ারের পানিতে তাদের ঘরে পানি ঢুকছে, রাস্তা ঘাট ডুবে যাচ্ছে। এতে চলাচলের যোগ্য সড়ক ও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সোমবার বিকেলের পর কীর্তনখোলার পানিতে বরিশাল নগরী ও নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে।

বিকেল থেকে বরিশাল নগরীর রসুলপুর, পলাশপুর ৩, ৭, ৮ নম্বর, ভাটিখানা, সাগরদী, ধান গবেষণা রোড, জিয়ানগর, ব্যাপ্টিস্ট মিশন রোড, স্টেডিয়াম কলোনি নগরীর সদর রোড, নগরীর মাইনুল হাসান সড়ক, বগুড়া রোডের একাংশ, বটতলার একাংশ, আমির কুটির জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায়।

বরিশাল নগরীর  ৫নং ওয়ার্ডের পলাশপুর এলাকার বাসিন্দা সামীম হোসেন জনি বলেন, চারদিন ধরে বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত তিন ফুটের বেশি উচ্চতায় পানি থাকে। দুটি ওয়ার্ডের তিন কিলোমিটারের এলাকাবাসী এ পানিতে জিম্মি। কিন্তু একজন জনপ্রতিনিধিকে দেখলাম না খবর নিতে।

এদিকে পানিতে প্লাবিত থাকে ১২ নম্বর ওয়ার্ডের খ্রিস্টান পাড়া ও ত্রিশ গোডাউন এবং ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের চরআইচা খেয়াঘাট, জিয়ানগর, পূর্ব রূপাতলী ও পাকার মাথা।

বরিশাল নগরীর বটতলার এলাকার বাসিন্দা হেমন্ত লাল সরকার  বলেন, এ পানি প্রতি বছর উঠছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে বিভিন্ন প্রাকৃতিক সমস্যা সৃষ্টি হলে পানি বেড়ে যায়। এখন কীর্তনখোলা নদীর পানিরস বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার নিচু এলাকা প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা পানিতে নিমজ্জিত থাকে। ওই সময় ঘর থেকে বের হতে হলে তিন ফুট পানি অতিক্রম করতে হয়।

বরিশাল নগরীর ধান গবেষণা এলাকার বাসিন্দা আমজেদ আলী হা্ওলাদার বলেন, কীর্তনখোলার পানির উচ্চতা বেড়ে গেলে এ সমস্যা বড় আকার ধারণ করে। তবে প্রতি বছর বর্ষাকালের স্বাভাবিক দিনগুলোতেও পানিতে প্লাবিত হয় ধান গবেষণা এলাকার সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি। পানি সরানোর জন্য ড্রেন নেই। ড্রেন থাকলে এ অবস্থার সৃষ্টি হতো না।

বরিশাল নগরীর নবনির্বাচিত কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন রয়েল বলেন, কীর্তনখোলা নদীর পাড়ে বাঁধ নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে সড়ক উঁচু করে ড্রেন নির্মাণ করে সাগরদী খালের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

বরিশাল নগরীর নবনির্বাচিত মেয়র খোকন সেরনিয়াবাত বলেন, শপথ গ্রহণের পর বেশকিছু এলাকা পরিদর্শন করে সমস্যা তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।  স্থানীয় এমপিকে সঙ্গে নিয়ে এ সমস্যার সমাধান করা হবে। যে ওয়াদা করেছি, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে নজির স্থাপন করব।

পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী, বরিশাল সদর আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জাহিদ ফারুক বলেন, কী কারণে বরিশাল নগরীতে কাজ করতে পারিনি তা গণমাধ্যম কর্মীরা জানেন। তবে এখন নবনির্বাচিত মেয়রকে সঙ্গে নিয়ে নগরীর ভাঙা সড়ক সংস্কার থেকে শুরু করে জলাবদ্ধতা এবং কীর্তনখোলার পানি থেকে নগরবাসীকে রক্ষায় বড় ধরনের কাজ করা হবে। এ জন্য শিগগির সাতটি খাল খনন করা হবে।