রাঙ্গাবালীতে হারিয়ে যাওয়া ২৯ জেলেকে উদ্ধার

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): ৯৯৯ নম্বরে ফোন কলে রাঙ্গাবালীর বিসিজি আউট পোস্ট ২৯ জন হারিয়ে যাওয়া জেলেকে উদ্ধার করেছে।

চট্টগ্রাম বাঁশখালী শেখের খাল বাজার থেকে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে ফিশিং ট্রলার ‘রহমত-ই-ইলাহী’ ২৯ জন জেলে নিয়ে পটুয়াখালী জেলার মায়ার চর এলাকায় গমন করে। পরবর্তীতে ১৭ই সেপ্টেম্বর ইঞ্জিন বিকল হয়ে উত্তাল সমুদ্রে ভাসতে থাকে।

পরে ২০শে সেপ্টেম্বর চর তুফানিয়া নামক স্থানে নিমজ্জিত হয়। অতঃপর সিকিউরিটি স্টেশন আন্ধারমানিক, বিসিজি স্টেশন নিজামপুর এবং বিসিজি আউটপোস্ট রাঙ্গাবালী যৌথ অপারেশান পরিচালনা করে তাদের উদ্ধার করা হয়।

জেলেদের প্রাথমিক চিকিৎসা এবং খাবার প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে সকলে সুস্থ রয়েছেন। পরবর্তীতে তাদেরকে বোটমালিকের কাছে গলাচিপায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

 




ভারী বৃষ্টির আভাস, কমবে তাপমাত্রা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সেই সঙ্গে দিনের তাপমাত্রা কমতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়েছে, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি বর্তমানে দক্ষিণ বিহার এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।




কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতা নিরসন করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

 

বরিশাল অফিস : পটুয়াখালীর জেলার কলাপাড়ায় জলবায়ু পরিবর্তন এবং ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, যথাযথ পুনর্বাসন, বিকল্প কর্মসংস্থান ও কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং প্রতিকারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার দুপুরে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ জননী সাহান আরা বেগম স্মৃতি মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ ও জনসুরক্ষা ফোরাম। অধ্যাপক এসএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ ও জনসুরক্ষা ফোরামের সমন্বয়কারী শুভংকর চক্রবর্তী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ ও জনসুরক্ষা ফোরামের সদস্য সুভাস চন্দ্র নিতাই, উন্নয়ন সংগঠক এসএম শাহাজাদা, সাংবাদিক সুশান্ত ঘোষ, বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মিথুন সাহা প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ ও জনসুরক্ষা ফোরামের সমন্বয়কারী শুভংকর চক্রবর্তী বলেন, জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশে নানারকম প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। তন্মধ্যে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, নদীভাঙন এবং ভূমিধসের মাত্রা বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য। চলতি শতকের ২০ বছরে বিশ্বের যে ১০টি দেশ সবচেয়ে বেশি দুর্যোগ-আক্রান্ত হয়েছে, তারমধ্যে বাংলাদেশ নবম। এ সময়ে বাংলাদেশের ১১ কোটি ২০ লাখ মানুষ দুর্যোগের শিকার হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ভূমিধস নদীভাঙ্গন, সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, সমুদ্র উপকূলে লবণাক্ত পানি প্রবেশের ফলে দেশের বাস্তুচ্যুত পরিবারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারনাল ডিসপ্লেসমেন্ট মনিটরিং সেন্টারের (আইডিএমসি) গ্লোবাল রিপোর্ট অন ইন্টারনাল ডিসপ্লেসমেন্ট ২০২৩ শীর্ষক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০২২ সালে বাংলাদেশে উদ্বাস্তু হয়েছে ১৫ লাখ ২৪ হাজার জন। বাংলাদেশ একটি আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার দেশ।

তিনি আরও বলেন, বিগত দুই দশকে জিডিপি প্রবৃদ্ধিসহ অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রায় সব সূচকেই বাংলাদেশের অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য উল্লেখযোগ্য নগরায়ণ, শিল্পায়ন ও উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন চলছে। এইসব উন্নয়নের ফলে যেমন দেশের অর্থনীতি গতিশীল হয়, তার সাথে সাথে কিছু পরিবারের বসতি ও কর্মসংস্থানের পরিবর্তন ঘটে এবং পরিবেশ, জীববৈচিত্র্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এইসব উন্নয়নমূলক কার্যক্রমসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জমির শ্রেণি পরিবর্তনের ফলে কিছু পরিবার স্বেচ্ছায় তাদের চলমান জীবন-জীবিকার ত্যাগ স্বীকার করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের জীবন-জীবিকা, সামাজিক ও মনস্তাত্বিক ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

তিনি আরও বলেন, ভূমিহীনতা ও ভূমি ব্যবহারের নীতিমালা বহির্ভূত ব্যবহারের ফলে কৃষিজীবী ও শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থান দিনে দিনে হ্রাস পাচ্ছে আবার দেশের খাদ্য নিরাপত্তার উপরও বিরূপ প্রভাব বিস্তার করছে। সরকারের খাসজমি বন্দোবস্ত নীতিমালা অনুসারে বিভিন্ন জেলায় উদ্বাস্তু ও ভূমিহীনদের যে পরিমাণ বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। টেকসই ও স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের জন্য এটা ইতিবাচক লক্ষণ নয়। বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালী জেলার সর্বদক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত কলাপাড়া উপজেলা। সাগর তীরবর্তী দক্ষিণের জনপদ পর্যটন সমৃদ্ধ কলাপাড়া উপজেলায় অবস্থিত কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নদী ভাঙন, সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, সমুদ্র উপকূলে লবণাক্ত পানি প্রবেশের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের ফলে কলাপাড়া উপজেলায় বাস্তুচ্যুত পরিবারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলায় সরকার বাস্তবায়ন করছে বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প। এসব উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছে হাজার হাজার একর ফসলি জমি এবং হাজার হাজার পরিবারের বসতবাড়ি। বিগত দশ বছরে চলমান এই অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। অধিগ্রহণকৃত জমির মূল্য এবং ক্ষতিপূরণ অনিশ্চয়তা ছাড়াও আছে দালাল ও কিছু সংখ্যক কর্মকর্তার উৎপাত। সম্প্রতি ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কানুনগো কর্তৃক অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ ক্ষতিপূরণের টাকা পাওয়ার দাবিতে বালিয়াতলী ইউপির চর বালিয়াতলী মৌজার বাসিন্দারা মানববন্ধন করেছেন। দালালের সহায়তায় প্রকৃত জমির মালিকের বিরুদ্ধে ঠুকে দেওয়া হয় মামলা। অনেক জমির মালিকের ক্ষতিপূরণের টাকা আটকে গেছে এমন ভুয়া মামলায়। এতে মিলছে না ক্ষতিপূরণ, ঠাঁই হচ্ছে না পুনর্বাসন কেন্দ্রে। আশ্রয়ের ব্যবস্থা না করেই উচ্ছেদ করা হয়েছে বহু পরিবারকে। আবার অনেককে পুনর্বাসন করা হলেও সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। কৃষক ও জেলে পরিবার হঠাৎ হারিয়েছে মাছ ধরার জলাশয় এবং কৃষিজমি। তারা এখন বেকার। কলাপাড়ায় মেগা প্রকল্পের কারণে ইলিশ প্রজননসহ প্রাণ-প্রকৃতিরও ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী রাখাইনদের ২৩৯ বছরের পুরোনো ছয়ানীপাড়া পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ ও জনসুরক্ষা ফোরামের পক্ষে থেকে আমরা দাবি জানাচ্ছি, কলাপাড়ায় জলবায়ুর পরিবর্তন এবং ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, যথাযথ পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক। সেই সাথে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতি করে না এমন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হোক। সর্বোপরি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সমীক্ষা পরিচালনা করে ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।




পটুয়াখালীতে অস্বাভাবিক জোয়ার, সাগর-নদী উত্তাল 

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর উপকূলজুড়ে বিরামহীন বৃষ্টি ও মাঝারি ধরনের ঝড়ো হাওয়া বইছে। এছাড়াও সাগর ও নদীতে বইছে অস্বাভাবিক জোয়ার। ঝড়-বাতাসে সাগর ও নদী প্রচণ্ড উত্তাল হয়ে আছে।

এদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় কারনে বিপাকে পড়েছেন মানুষজন ।
আরো ২-৩ দিন এমন আবহাওয়া বিরাজ করার আশঙ্কা রয়েছে। সমুদ্র বন্দরে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত ও নদী বন্দরে ১ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে পটুয়াখালী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ইনচার্জ মাহবুবা সুখী।

দেখা গেছে, কুয়াকাটা সমূদ্র সৈকতে ঢেউয়ের তাণ্ডব চলছে। ফলে মাছ শিকার বন্ধ রেখেছেন জেলেরা। শত শত ট্রলার খাপড়াভাঙ্গা নদীর তীরবর্তী স্থানে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে।




বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, কমবে দিনের তাপমাত্রা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৃষ্টিপাতের বিষয়ে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

পাঁচ দিনের আবহাওয়ার অবস্থায় বলা হয়েছে, এ সময়ের শেষের দিকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা হ্রাস পেতে পারে।

 




পটুয়াখালীর সাগর তীরে অপচনশীল বর্জ্য

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী : বেসরকারি সংস্থা ইকোফিশের গবেষণায় দেখা গেছে, এসব বর্জ্যের মধ্যে আছে প্লাস্টিকব্যাগ, বোতল, পলিথিন, বিস্কুটের প্যাকেট ও সমুদ্রে মাছ ধরার ট্রলারে ব্যবহৃত খাবার বহনের প্যাকেট।

পরিবেশ, মৎস্যজীবী ও উপকূল নিয়ে কাজ করা এই সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানান, চলতি বছরের থেকে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন আলীপুর ও মহিপুর নামের দুটি ফিশ ল্যান্ডিং স্টেশনের জেলেদের ওপর এই গবেষণা চালানো হয়।

একেকটি ট্রলার সারাবছর ১৫টি ট্রিপে প্রায় সাড়ে ৩৭ কেজি বর্জ্য সাগরে ফেলে।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া জন্য ও মাছের সুষ্ঠু প্রজনন নিশ্চিত করতে বছরের ৭ মাস সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকে। বাকি ৫ মাস জেলেরা মাছ ধরতে পারেন।

ইকোফিশের গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, এই পাঁচ মাসে পর্যায়ক্রমে প্রায় ৪০০ ট্রলার মাছ ধরার জন্য সমুদ্রে যায়। প্রতিটি ট্রলারে ১২ থেকে ২০ জেলে থাকেন এবং প্রতি ট্রিপে একেকটি ট্রলারকে তিন দিন থেকে প্রায় এক সপ্তাহ সমুদ্রে থাকতে হয়।

এই মেয়াদে একেকটি ট্রলার গড়ে ১৫টি ট্রিপ দিতে পারে। প্রতি ট্রিপে জেলেরা তাদের সঙ্গে প্লাস্টিকের ব্যাগ, বোতল, পলিথিন, বিস্কুট ও খাবারের প্যাকেটসহ আড়াই কেজি ওজনের প্লাস্টিক নিয়ে যান। ব্যবহারের পর এর প্রায় পুরোটা তারা সাগরে ফেলে দেন।
এই হিসাব অনুসারে এটা অনুমান করা যায় যে, একেকটি ট্রলার সারাবছর ১৫টি ট্রিপে প্রায় সাড়ে ৩৭ কেজি বর্জ্য সাগরে ফেলে।

ইকোফিশের গবেষণা সহযোগী সাগরিকা স্মৃতি বলেন, ‘আমাদের বেঁচে থাকার জন্য সমুদ্রকে দূষণমুক্ত রাখার বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি। সমুদ্রের পরিবেশ দূষণমুক্ত না রাখতে পারলে মাছসহ বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক প্রাণীর জীবন বিপন্ন হয়ে পড়বে।’

ইকোফিশের গত এক বছরের গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যটক ও স্থানীয়রা কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে প্রতিদিন ২২ কেজির বেশি অপচনশীল বর্জ্য ফেলেন।

সাগরিকার ভাষ্য, সমুদ্র ও সমুদ্র সৈকতকে দূষণমুক্ত রাখতে ইকোফিশ সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে কিছু জেলের মাঝে পাটের বস্তা বিতরণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং সচেতনতামূলক প্রচারণা অব্যাহত রাখতে তারা ২০ জন নারীসহ প্রায় ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবককে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।

কলাপাড়া উপজেলা ট্রলার মাঝি সমিতির সভাপতি নুরু মাঝি বলেন, ‘সমুদ্রে প্লাস্টিকের ব্যাগ, বোতল ও পলিথিন ফেলার বিরূপ প্রভাব আমরা বুঝতে পারছি। এখন আমরা আমাদের এলাকার সব জেলেকে এই অভ্যাস থেকে বিরত থাকতে বলছি।’

পটুয়াখালী পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দিন বলেন, ‘সমুদ্রদূষণ না করার বিষয়ে মৎস্যজীবীদের সচেতন করতে আমরা উদ্যোগ নেব।




ভূমিকম্পে কাঁপলো ঢাকা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেস্ক:  ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা। রোববার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে এ কম্পন অনুভূত হয়। সার্চ ইঞ্জিন গুগলের তথ্য বলছে, রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল চার দশমিক ২।

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল টাঙ্গাইলে। এ কম্পনের ফলে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা জানান, দুপুর ১২টা ৪৯ মিনিট ৫৬ সেকেন্ডে ভূমিকম্পটি টাঙ্গাইলে সংঘটিত হয়েছে। এটি ঢাকার ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র থেকে ৫৯ কিলোমিটার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে।

এর আগে গত ১৪ আগস্ট রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে রাজধানীসহ সারাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৫।




বৃষ্টি হতে পারে যেসব জায়গায়

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেস্ক:  খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সেই সাথে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে।

সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আজ (শনিবার) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়েছে— উত্তর উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি বর্তমানে পশ্চিম মধ্য প্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমী বায়ুর অক্ষ রাজস্থান, সুস্পষ্ট লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের ওপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে
মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯০%।  আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬ টা ৩ মিনিটে, আর আগামীকাল ঢাকায় সূর্যোদয় ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে।

গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল নিকলিতে ৩৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে হাতিয়া ও কুতুবদিয়াতে ২৪.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।




রাঙ্গাবালীতে বিশ্ব জলবায়ু দিবস উদযাপন “জীবান্ম জ্বালানীর যুগ শেষ করতে হবে”

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী : “আমাদেরকে অবশ্যই জীবান্ম জ্বালানীর যুগ শেষ করতে হবে” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারা বিশ্বের ন্যায় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় পালিত হয়েছে বিশ্ব জলবায়ু দিবস।

আজ শুক্রবার সকাল ১০ টায় উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের আগুনমুখা নদীর তীরে এই দিবসটি উদযাপন করা হয়। এতে শতাধিক এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
এ্যম্বেসী অব সুইডেন এর অর্থায়নে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ভিলেজ এডুকেশন রিসোর্স সেন্টার (ভার্ক) উপজেলার জলবায়ু পরিবর্তন জনিত বিভিন্ন ক্ষয়-ক্ষতির দাবী পূরন সহ বিভিন্ন প্রস্তাবনা নিয়ে বিশ্ব জলবায়ু দিবসটি পালন করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- ভার্কের প্রকল্প সমন্বয়ক মোহসিন তালুকদার, জাগোনারী সিনিয়র প্রজেক্ট অফিসার মো. ফরিদ উদ্দিন, ভার্কের প্রজেক্ট অফিসার কানিজ সুলতানা, প্রজেক্ট ফ্যাসিলিটেটর সালমা খান ও আবু জাফর প্রমুখ।

এ সময় বক্তরা বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবী ক্রমশ উষ্ণ হচ্ছে, আর সেই সাথে বিপন্ন হচ্ছে কোটি কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকা। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সাধারণ মানুষের জানার পরিধি বাড়ানো ও জলবায়ু সংশ্লিষ্ট তথ্যের অবাধ প্রচারণার কোনো বিকল্প নেই। তবে মুশকিল হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আলোচনা বা তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে কারিগরি ভাষা ব্যবহৃত হয় ফলে বিষয়টি সাধারণ মানুষ সহজে বুঝতে পারেনা ফলে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ সাধারণ জনগণ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সম্পর্কে আরো ভালোভাবে জানতে পারলে যা তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে বলে আমরা মনে করি।’ তাই এখন সারাবিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশও সকলকে আহব্বান জানাচ্ছে-‘‘জলবায়ু আন্দোলনে অবদান রাখুন, জীবাশ্ম জ্বালানীর আবসান করুন।”




জলবায়ু বিরূপ প্রভাবে ক্ষতিপূরণের দাবিতে বরগুনায় মানববন্ধন

 

বরিশাল অফিস: বিভিন্ন দেশের সাথে বাংলাদেশও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে বৈশ্বয়িক পরিবর্তন ঘটছে। বিশ্বের উন্নতদেশগুলোর লাগামহীন কার্বন নিঃসরণ ও ফসিল ফুয়েলের ব্যবহার, নি¤œ আয়ের দেশগুলোকে দিন দিন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে পরিণত করছে। সবুজ পৃথিবী গড়ে তুলতে বরগুনার আমতলীতে একশন এইডের সহযোগিতায় বেসরকারী সংস্থা এনএসএস ক্লাইমেট স্ট্রাইক আয়োজনে বিশ্ব জলবায়ু ধর্মঘট এবং মানববন্ধন পালন করা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে আমতলী প্রেসক্লাবের সামনে বিশ্ব জলবায়ু ধর্মঘট ও মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, এনএসএস’র নির্বাহী পরিচালক শাহাবুদ্দিন পাননা, প্রেসক্লাবের সভাপতি খায়রুল বাশার বুলবুল সাংবাদিক জাকির হোসেন, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান সুমন ও শিউলী মালা প্রমুখ। এছাড়াও কর্মসূচিতে ইয়ুথ ফোরামের সদস্যবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।