আবহাওয়ার খবর: ৭ অক্টোবর, ২০২৩

আজ ২৩ আশ্বিন, শনিবার। আজকের (৭ অক্টোবর) আবহাওয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরা হলো-

গতকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা (পটুয়াখালী) ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস
গতকালের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (তেঁতুলিয়া) ২২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস
আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (নিকলি) ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস
আজকে ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস
গত ২৪ ঘন্টায় (সকাল ৬টা পর্যন্ত) সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি  (সিলেট) ৩৫৮ মিলিমিটার
ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে।
সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।



বৃষ্টি কমবে আজ থেকে, রোদের দেখা মিলবে কাল

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : একটানা ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝরছে বৃষ্টি। কখনো মুষলধারে, আবার কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। মাঝে মধ্যে বৃষ্টি থামলেও তা খুব একটা সময় দীর্ঘ হচ্ছে না। সাময়িক সময়ের ব্যবধানে আবার আবহাওয়া দখলে নিচ্ছে বৃষ্টি।

ভোগান্তির মধ্যেই স্বস্তির বার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। জানিয়েছে, আজ দুপুরের মধ্যে কমে আসবে বৃষ্টি।

এ বিষয়ে আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক ঢাকা পোস্টকে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীজুড়ে ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পরিমাণ না বাড়লেও শনিবার পর্যন্ত এ অবস্থা বিরাজ করবে। তবে শনিবার দুপুরের মধ্যে বৃষ্টি কমে আসবে। কিন্তু আকাশ দিনভর মেঘলা থাকবে।




সন্ধ্যার মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:  সারাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলো এক নম্বর নৌ সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।



সিকিমের বন্যায় নিহত বেড়ে ৪০

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেস্ক:  ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য সিকিমে প্রবল বৃষ্টিতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ৪০ জনে। এছাড়া বন্যায় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বহু মানুষ এবং তাদের সন্ধানে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারীরা।




সিকিমে আকস্মিক বন্যায় ১০ জনের মৃত্যু, ২২ সেনাসহ নিখোঁজ ৮২

চন্দ্রদীপ ডেস্ক: ভারতের সিকিম রাজ্যে অতিবৃষ্টির জেরে আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১০ জন বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়াও ২২ জন সেনাসদস্যসহ নিখোঁজ রয়েছেন আরও অন্তত ৮২ ব্যক্তি। স্থানীয় সরকারি দপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এনডিটিভি খবর।

সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, তিস্তা নদীর পানি বেড়ে গিয়ে সিকিমে অন্তত ১৪টি সেতু পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। সেখানকার বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৩ হাজার পর্যটক আটকা পড়েছেন।

সিকিমে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ভারী বৃষ্টি হয়। বৃষ্টিপাতে সিকিমের উত্তরাঞ্চলে লোনাক হ্রদের পানি অনেক বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে তিস্তা নদীর ওপর। তিস্তা নদী সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে।

বৃষ্টির পাশাপাশি চানথাং বাঁধের অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দিলে তিস্তা নদীর ভাটিতে পানির উচ্চতা ১৫ থেকে ২০ ফুট বেড়ে যায়। এতে সিংতামের কাছে বারদাংয়ে সেনাবাহিনীর যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে অন্তত ২৩ সেনাসদস্য নিখোঁজ হন। বেশ কয়েকটি গাড়ি পানির নিচের কাঁদায় আটকে যায় বলে জানায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড।

গতকাল বুধবার সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিখোঁজ ২৩ জন সেনা সদস্যের মধ্যে একজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো ২২ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

ভারতের আবহাওয়া দপ্তর বলেছে, সিকিমের চানথাং হ্রদের উপচে পড়া পানিপ্রবাহের ফলে তিস্তার পানির উচ্চতাও অনেক বেড়ে গেছে। এতে গাজলডোবা, দোমোহানি, মেখালিগঞ্জ ও ঘিশের মতো নিচু এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।




বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, সতর্কতায় মাইকিং

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:  ভারতের উত্তর সিকিমে ভয়াবহ বন্যা ও বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বাংলাদেশ অংশে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। বুধবার (৪ অক্টোবর) বিকেল ৪টা থেকে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের অনেক বসতবাড়িতে পানি উঠেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।



ভারী বর্ষণের আভাস দিলো আবহাওয়া অধিদপ্তর

সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সব বিভাগেই বৃষ্টির হয়েছে। তবে বেশিরভাগ স্থানেই বৃষ্টির পরিমাণ কম ছিল। চট্টগ্রাম ও খুলনার কয়েকটি অঞ্চলে বৃষ্টিও হয়নি। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি ৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে টেকনাফে। ঢাকায় ৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি বর্তমানে পূর্ব মধ্য প্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় লঘুচাপ হিসেবে অবস্থান করছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাস তুলে ধরে আবহাওয়াবিদ মো. মনোয়ার হোসেন জানান, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ সময়ে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আগামী দুদিন (বুধ ও বৃহস্পতিবার) বৃষ্টির এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলেও জানান এ আবহাওয়াবিদ।

সোমবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল চাঁদপুরে। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

অন্যদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়- রাজশাহী, পাবনা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষি বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘন্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।




দুই কাভার্ড ভ্যান ভর্তি পলিথিন উদ্ধার, আটক ৩

 

বরিশাল অফিস: বাবুগঞ্জ উপজেলা থেকে দুই কাভার্ড ভ্যান ভর্তি নিষিদ্ধ পলিথিন উদ্ধার করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। রোববার দিনগত রাত সাড়ে ১২ টায় পরিচালিত এ অভিযানে তিনজনকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন দপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল মালেক মিয়া। আটককৃতরা হলো- যশোরের বেনাপোল পৌর এলাকার মৃত সন্নত আলীর ছেলে মো. ইউনুস কালু (৩৮), একই এলাকার মো. নুরন্নবীর ছেলে মাহমুদুল হাসান (৩২) ও বেনাপোল দিঘির পাড় এলাকার মৃত জামির হোসেনের ছেলে মানিক হোসেন (৩৮)। সহকারী পরিচালক মালেক জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের বাবুগঞ্জের রামপট্টির কামিনী পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার একটি দলের সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে দুটি কাভার্ড ভ্যান ভর্তি আনুমানিক ৬ টন নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন উদ্ধার করা হয়। এ সময় দুই কাভার্ড ভ্যানের চালক ও একজন হেলপারকে আটক করা হয়েছে।
সহকারী পরিচালক বলেন, উদ্ধার করা পলিথিন কেটে টুকরো করে সমাজকল্যান অধিদপ্তরের পরিচালনাধীন একটি প্রতিষ্ঠানে দেয়া হবে। আটক তিনজনকে ভ্রাম্যমান আদালতে সোপর্দ করা হবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কাভার্ড ভ্যান দুটি ঢাকা থেকে পটুয়াখালীর দিকে যাচ্ছিলো। পেট্রোল পাম্পের পার্কিং এলাকায় রেখে খাওয়া-দাওয়া করছিলো। তখন পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে কাভার্ড ভ্যান দুটি খুলে বিপুল পরিমান পলিথিন উদ্ধার করেছে।
তারা আরো জানিয়েছে, একটি কাভার্ড ভ্যান পুরো ভর্তি পলিথিন ছিলো। অপরটিতে অর্ধেক ভর্তি ছিলো।

সন্ধ্যায় সহকারী পরিচালক জানিয়েছেন, আটক দুই কাভার্ড ভ্যান চালককে ১৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। জরিমানা করার আদেশ দিয়েছেন বরিশাল জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার দেবযানী কর।

তিনি আরো জানান, জরিমানার টাকা পরিশোধ করে কাভার্ড ভ্যান নিয়ে চলে গেছে দুই চালক।




ভূমিকম্পে ঢাকাসহ কাঁপলো সারাদেশ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:  ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশ। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৩। গুগলের অ্যান্ড্রয়েড অ্যালার্ট সিস্টেমের তথ্য বলছে, সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে বাংলাদেশ।

এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের মেঘালয়ের রেসুবেলপাড়া থেকে তিন কিলোমিটার দূরে। বাংলাদেশ, ভারত ছাড়াও নেপাল, ভুটান এবং চীনেও অনুভূত হয়েছে এর কম্পন। এদিকে রংপুর, দিনাজপুর ও লালমনিরহাটে ভূমিকম্পের খবর পাওয়া গেছে।

জাগো নিউজের দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিট ১৭ সেকেন্ডে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। হঠাৎ করে থরথর করে কেঁপে ওঠে সব। জেলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান, সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিট ১৫ সেকেন্ডে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। জেলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ওয়ারলেস সুপারভাইজার জহিরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে ভূমিকম্প হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ৫ দশমিক ২। এটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প। ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল ভারতের আসামে। এটি ঢাকার ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র থেকে ২৩৬ কিলোমিটার উত্তরে।

এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল চার দশমিক ২। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল টাঙ্গাইলে।

 




বর্ষার পানি ও ঘাম দুয়ে মিলে বারোটা বাজায় ত্বকের: হতে পারে ফাংগাল ইনফেকশন

বৃষ্টির পানি আর ঘাম, মিলেমিশে ফাংগাল ইনফেকশনের সম্ভাবনা বাড়ায়। তাই এই আবহাওয়ায় খুব সতর্ক থাকগে হবে। ভারতীয় এসএসকেএম হাসপাতালের ডার্মাটোলজিস্ট ডা. অলিম্পিয়া রুদ্রের পরামর্শ অবলম্বনে লিখেছেন মোহাম্মদ খান।

বর্ষাকাল মানেই বৃষ্টি। আর বৃষ্টি মানেই শরীর-মনে একটা শান্তির সুর। গরম থেকে স্বস্তি, রোদের চোখরাঙানি থেকে মুক্তি। তবে, কথায় আছে না, ভালর আড়ালে কালো। তেমনই বেশ কিছু সমস্যাও আছে বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায়। নানা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। বিশেষত ত্বকের জন্য বর্ষা মোটেই ভরসাযোগ্য নয়।

এই সময় বিভিন্ন ফাংগাস ত্বকের আনাচে-কানাচে বাসা বাঁধে। কারণ ভেজা বা আধভেজা জায়গাই এদের মোক্ষম বাসস্থান। তাই এই সময়টা ত্বকের বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি।

চিন্তার উপসর্গ: সাধারণত ত্বকে যে কোনও স্থানেই লালচে গোল গোল চাকাচাকা দাগ দেখা দেয়। এগুলো চুলকায়, হালকা চামড়া উঠতে থাকে। অনেকের চুলকাতে থাকে। শরীরে যে কোনও স্থানে এই ফাংগাস ইনফেকশন হতে পারে। বিশেষত শরীরের ভাঁজে এমন হয়। অনেকের যৌনাঙ্গে, স্তনের নিচে, পশ্চাৎ অংশে এই সমস্যা বেশি হয়। প্রথমে চুলকানি দিয়ে সমস্যা শুরু হয়। তারপর চাকাচাকা দাগ দেখা দেয়। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে যদি না চিকিৎসা করানো হয়।

ভুলটা হয় যেখানে: সাধারণত এই ধরনের সমস্যা অধিকাংশ রোগীই এড়িয়ে যান। আর খুব সমস্যা হলে ওষুধের দোকান থেকে ওভার দ্যা কাউন্টার ড্রাগ কিনে লাগাতে শুরু করেন। এইভাবে নিজের ডাক্তারি নিজে করতে গিয়ে এই সমস্যা আরও জটিল হয়। প্রথম চোটে এই ধরনের ওষুধে সমস্যা কমে, তারপর আবার কয়েকদিন পর শুরু হয়। কারণ, এই ধরনের ওষুধে স্টেরয়েড থাকে। এইভাবে ফেলে রাখতে রাখতে ফাংগাস ইনফেকশন আরও বেড়ে যায়।

ফাংগাল ইনফেকশন কি ছোঁয়াচে? এই ধরনের সংক্রমণ এমন নয় যে হাত দিলেই অন্যের হয়ে যাবে। কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। বিশেষ কিছু পরিচ্ছন্নতা মানতে হবে। শরীরের যে স্থানে ঘাম বেশি জমে সেই স্থানগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা দরকার। নিত্য তোয়ালে, গামছা কেচে নেওয়া প্রয়োজন। এগুলো কারও সঙ্গে শেয়ার না করাই ভাল। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ত্বকের যে কোনও স্থানে এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের সুপরামর্শ নেওয়া। নিজে থেকে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া এই অসুখে মারাত্মক। প্রয়োজনে টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রত্যন্ত গ্রামে থাকলেও এইভাবে চিকিৎসা করে এই রোগ প্রতিহত করা যায়।

বারবার ঘুরে আসে: অসমাপ্ত ট্রিটমেন্ট এক্ষেত্রে দায়ী। রিক্যালসিট্রেন্ট ফাংগাল ইনফেকশন হল, যে ফাংগাল ইনফেকশন বারবার ফিরে আসে। কী হয়, রোগী কিছু দিন ওষুধ ব্যবহার করেন। তারপর যে-ই সমস্যা একটু ঠিক হয় তখন আর নিয়মিত ওষুধ খান না বা লাগান না। নিজের মতোই বন্ধ করে দেন। কিছুদিন পর আবার সেই সমস্যা ফিরে আসে। এই করে রোগ সারার বদলে রোগ আরও বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে মেন্টেনেন্স থেরাপি খুব প্রয়োজনীয়। অর্থাৎ চিকিৎসক যখন ওষুধ শেষ হলে আবার পরামর্শ নিতে আসতে বলেন তখনই যেতে হবে, প্রতি ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ মাফিক ত্বকের যত্ন নিতে হবে। তাহলেই ধীরে ধীরে রোগ সারবে। না হলে ধীরে ধীরে সারা শরীরে এই ফাংগাল ইনফেকশন ছড়িয়ে যেতে পারে। বর্তমানে এমন রোগীর সংখ্যাটাও বেশ বেড়েছে।