আজ রাতেই আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় হামুন : দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী




হামুনের প্রভাবে কুয়াকাটা ছাড়ছেন পর্যটকরা

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যহত রয়েছে। এতে কুয়াকাটা ছাড়ছেন পর্যটকরা।

সোমবার বিকেল থেকে গুড়ি বৃষ্টি এবং বাতাসের তীব্রতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সাথে বৃদ্ধি পেয়েছে নদ-নদীর পানি। উত্তাল হয়ে উঠেছে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর। যার ফলে নিরাপদ থাকতে কুয়াকাটা ছাড়তে শুরু করেছেন পর্যটন নগরীতে আগত ভ্রমণ পিপাসুরা। গতকাল বিকেল থেকেই অনেক পর্যটক কুয়াকাটা ছেড়েছেন।

মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) সকাল থেকে আবহাওয়ার পরিবর্তন ও বিপদ সংকেত পেয়ে হোটেল ছাড়ছেন সিংহভাগ পর্যটকরা।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক সিয়াম বলেন, কুয়াকাটায় গতকাল এসেছিলাম। ইচ্ছে ছিল ৩-৪ দিন থাকার। কিন্তু আবহাওয়া ভালো না থাকার কারণে ১ দিন থেকেই চলে যাচ্ছি। এর ভিতর কোথাও বের হওয়া যাচ্ছে না।

কুয়াকাটা সমুদ্রবাড়ি রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলাম মিরন জানান, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে আমার রিসোর্টের অনেক পর্যটক চলে গেছেন। আবহাওয়া ভালো থাকলে অনেকেই থাকতেন।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের পরিদর্শক হাসনাইন পারভেজ জানান, আমরা প্রস্তুত আছি পর্যটকদের বাড়তি নিরাপত্তা দিতে। গতকাল থেকেই আমরা পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে মাইকিং করছি এবং তাদেরকে নিরাপদে থাকতে অনুরোধ করছি।

এদিকে, ঘুর্ণিঝড় হামুন মোকাবিলায় উপজেলায় এক শত শত্তরটি সাইক্লোন শেল্টার ও বিশ টি মুজিব কিল্লা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রস্তুত রাখা হয়েছে তিন হাজার একশত ষাট জন সিপিপি সদস্যদের।

উপজেলা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতির পাশাপাশি শুকনো খাবার মজুদ রাখা হয়েছে।




আগামীকাল দুপুর নাগাদ বাংলাদেশ অতিক্রম করবে ‘হামুন’ : জেলা প্রশাসনের ইউএনওদের সঙ্গে জরুরী সভা

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): আগামীকাল দুপুর নাগাদ ভোলা হয়ে চট্টগ্রাম ও পটুয়াখালী অতিক্রম করতে পারে ঘূর্ণিঝড় হামুন।  উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্নিঝড় হামুন উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে একই এলাকায় অবস্থান করতেছে। এর প্রভাবে গতকাল থেকে পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকায় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর কিছুটা উত্তাল রয়েছে। বাতাসের তীব্রতা কিছুটা বেড়েছে।

এটি আজ দুপুর ১২ টার দিকে পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ২১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে ও চট্রগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ৩৩০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিলো।

তাই পায়রা ও চট্রগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ০৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

সকল মাছধরা ট্রলার সমূহকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

এদিকে ঘূর্নিঝড় হামুন মোকাবেলায় মঙ্গলবার বেলা এগারোটায় ইউএনওদের সঙ্গে জরুরী সভা করেছে জেলা প্রশাসন। সেখানে জানানো হয় হামুন মোকাবেলায় ৭০৩ টি সাইক্লোন সেল্টার, ৩৫ টি মুজিব কিল্লা, ৮৭৬০ জন সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক, ৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা ও ৬ লাখ মেট্রিকটন জির আর চাল মজুদ রাখা হয়েছে।




উপকূলের ৩৫০ কিমির মধ্যে ‌‌‌‘হামুন’, রূপ নিয়েছে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে

চন্দ্রদীপ নিউজ: ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ আরও শক্তি সঞ্চয় করে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। এটি গতি বাড়িয়ে বাংলাদেশের উপকূলের ৩৫০ কিলোমিটারের মধ্যে চলে এসেছে।

তবে সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত বহাল রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) সকালে আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে (ক্রমিক নম্বর-৯) এই তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

প্রবল ঘূর্ণিঝড় হামুন সমুদ্রেই দুর্বল হয়ে ঘূর্ণিঝড় এবং গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর বুধবার নাগাদ বাংলাদেশের পটুয়াখালী ও চট্টগ্রাম উপকূলের মাঝখান দিয়ে এটি আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।




ঘূর্ণিঝড়ের আভাসে কুয়াকাটায় ছাপ পড়েনি পর্যটকদের মধ্যে  

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী) : পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি সামান্য উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে।

নিম্নচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে আজ রাতের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এর নাম হবে হামুন। এটি বুধবার নাগাদ বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় দেশের সব সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’-এ রূপ নিতে পারে। এটি প্রবল শক্তি সঞ্চয় করে বুধবার উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে মোড় নিয়ে বাংলাদেশ উপকূলের দিকে ধেয়ে আসতে পারে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ২৫ অক্টোবর বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে ২৬ অক্টোবর দুপুর ১২টার মধ্যে সরাসরি বাংলাদেশের খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের মাঝামাঝি এলাকার উপকূলে এই ঘূর্ণিঝর আছড়ে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, সোমবার থেকে খুলনা, চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গা; ঢাকা, ময়মনসিংহ সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং দেশের অন্যত্র দু এক জায়গায় (আগামী ৭২ ঘণ্টা) অস্থায়ীভাবে ধমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের কোথাও কোথাও মাঝারি ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

এদিকে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা উপকূল সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর বেশ উত্তাল রয়েছে। সমুদ্রের জোয়ারের পানির উচ্চতা স্বাভাবিক রয়েছে। দিনব্যাপী আকাশে মেঘমালা এবং সেই সাথে থেমে থেমে গুড়ি-গুড়ি বৃষ্টিপাত ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে উপকূলজুড়ে এক থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও আনন্দ-উল্লাস থেমে নেই কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে আগত পর্যটক দর্শনার্থীদের। পর্যটকদের আনাগোনা করতে দেখা গেছে সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন দর্শনীয় স্পটে। পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যবয়াসীদের কর্মব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে। আবহাওয়ার স্বাভাবিক গতিবিধ থাকার কারণে প্রশাসনের তেমন কোনো তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি।




সাগরে গভীর নিম্নচাপ: ৮ বিভাগেই বৃষ্টি হতে পারে

এর প্রভাবে ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সোমবার (২৩ অক্টোবর) দেশের আট বিভাগেই বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। অন্যদিকে, দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মো. মনোয়ার হোসেন জানান, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি সোমবার সকাল ৬টায় ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হতে পারে।

সোমবার সকাল ৯টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায়; ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমক বা ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ সময়ে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

আগামী দু’দিন (মঙ্গল ও বুধবার) বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বেড়ে তাপমাত্রা কমতে পারে বলেও পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

রোববার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের মধ্যে শুধু চট্টগ্রাম বিভাগে বৃষ্টি হয়েছে। এ সময়ে মাইজদীকোর্টে সবচেয়ে বেশি ৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার সকাল থেকেই ঢাকার আকাশ মেঘলা। যদিও রোববার দুপুরের দিকে ঢাকায় গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছিল।

সোমবার সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রোববার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল সীতাকুণ্ডে, সেখানে ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে আবহাওয়া দপ্তর।

সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়- খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে পূর্ব বা উত্তর-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।




দক্ষিণাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের আভাস

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : নিম্নচাপের প্রভাবে সারাদেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বেড়েছে। ফলে ঢাকাসহ দেশের ছয় বিভাগে বৃষ্টিপাত হতে পারে।

আর চট্টগ্রাম বিভাগে হতে পারে ভারী বৃষ্টিপাত।

রোববার (২২ অক্টোবর) এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির জানিয়েছেন, সোমবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায়; ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং দেশের অন্যত্র দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের দক্ষিণঞ্চলের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

এছাড়া নিম্নচাপের কারণে সাগর উত্তাল থাকায় সকল সমুদ্রবন্দরে তোলা রয়েছে এক নম্বর সতর্ক সংকেত।

 




বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, বন্দরে সতর্ক সংকেত

বরিশাল অফিস: বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। তাই পায়রা সমুদ্র বন্দরে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর।

আজ রোববার আবহাওয়া অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।

এটি রোববার সকাল ৬টায় পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৯২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। যা আরো ঘনীভূত হতে পারে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।

তবে পায়রা সমুদ্র বন্দর এলাকায় এর প্রভাবে বৃষ্টি না হলেও ভ্যাপসা গরম পড়ছে।




ইজ়রায়েল নাকের ডগায় হামলার প্রশিক্ষণ শিবির ছিল আল-নুখবার, কেন টের পায়নি মোসাদ?

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেস্ক:  শুধু অতর্কিত হামলা চালিয়ে শুধু ইজ়রায়েল সেনাকে হতবাক করে দেওয়াই নয়, ৭ অক্টোবর হামাসের ত্রিমুখী হানাদারি প্রশ্ন তুলে দিয়েছে বিশ্বখ্যাত গুপ্তচর সংস্থা মোসাদের কর্মদক্ষতা নিয়েও।

হামাসের সামরিক শাখা ইজ় আল-দিন আল-কাসাম ব্রিগেডের প্রধান মহম্মদ দেইফের পরিকল্পনাতেই ৭ অক্টোবর ইহুদিদের পবিত্র দিবস সিমহাত টোরায় গাজ়া ভূখণ্ড থেকে নজিরবিহীন হামলার শিকার হতে হয়েছে ইজ়রায়েলকে। এই সফল ত্রিমুখী হামলার নেপথ্যে ছিল দু’বছরের নিরবচ্ছিন্ন অনুশীলন এবং পরিকল্পনা।

বৃহস্পতিবার প্রকাশ্যে এসেছে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে হামাস যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের একটি ভিডিয়ো। যেখানে ঝটিকা হামলায় একটি বাড়ির ভিতর ঢুকে পড়ে ‘শক্র শিবিরের’ মানুষদের পণবন্দি করার কৌশল রপ্ত করতে দেখা গিয়েছে অ্যাসল্ট রাইফেল এবং রকেট লঞ্চারে সজ্জিত হামাস বাহিনীকে।

গাজ়া সীমান্তে ইজ়রায়েল নির্মিত ‘দি গ্রেট স্মার্ট ফেন্স’-এর একটি সামরিক ঘাঁটির আদলে তৈরি ওই বাড়িটিতে হামলার অনুশীলন চালানো হয়েছিল বলে হামাস প্রকাশিত ভিডিয়োটিতে জানানো হয়েছে। আল-কাসাম ব্রিগেডের ‘এলিট’ কমান্ডো বাহিনী আল-নুখবার যোদ্ধারা অংশ নিয়েছিলেন এই প্রশিক্ষণে।

আমেরিকার সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর দাবি, গাজ়া-ইজ়রায়েল সীমান্তবর্তী অ্যারেজ ক্রসিং থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে প্রায় দু’বছর ধরে চলেছিল হামাস কমান্ডোদের এই অনুশীলন পর্ব। কিন্তু ঘুণাক্ষরেও তা টের পায়নি ইজ়রায়েলের বিশ্বখ্যাত গুপ্তচর সংস্থা মোসাদ!

সিএনএন প্রকাশিত ওই খবরে দাবি, ইজ়রায়েল সীমান্ত লাগোয়া গাজ়া ভূখণ্ডের মোট ছ’টি প্রশিক্ষণ শিবিরে হামলার অনুশীলন চালিয়েছিলেন হামাসের যোদ্ধারা। বিশেষ ভাবে জোর দেওয়া হয়েছিল ইজ়রায়েল ফৌজের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাত এড়িয়ে যত বেশি সম্ভব পণবন্দি ধরে আনার উপর।

এই ছ’টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে একটির অবস্থান ছিল সীমান্তের মাত্র দু’কিলোমিটার দূরে। একটি মধ্য গাজায়। অন্য তিনটি সীমান্ত থেকে কিছুটা দূরে দক্ষিণ গাজ়ায়। দক্ষিণ গাজ়ায় একটি শিবিরে সমুদ্রপথে হামলারও মহড়া দিয়েছিল হামাসের নৌযোদ্ধারা। তাদের লক্ষ্য ছিল শত্রু ভূখণ্ডে সৈকত শহরগুলি।

হামাস প্রকাশিত আর একটি ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, তাদের যোদ্ধাদের প্যারাগ্লাইডিং উড়ান এবং অবতরণ অনুশীলন। ইজ়রায়েল ফৌজের বানানো ‘স্মার্ট ফেন্স’ এড়িয়ে হামলা চালানোর জন্য গত ৭ অক্টোবর হামাসের একটি বাহিনী প্যারাগ্লাইডারেরও সাহায্য নিয়েছিল।

ইজ়রায়েলি সেনার হামলার বিধ্বস্ত গাজ়ায় আল-কাসাম ব্রিগেডের একটি সীমান্তবর্তী ডেরা থেকে উদ্ধার করা কিছু নথিপত্র আমেরিকার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের হাতে এসেছে। তার মধ্যে রয়েছে আরবি ভাষায় লেখা চলতি বছরের ১৫ জুন তারিখের ১৪ পাতার একটি ‘টপ সিক্রেট’ নথি।

ওই নথির মানচিত্রে গাজ়া সীমান্তবর্তী কিবুট্‌জ় শহরের সম্ভাব্য হামলাস্থলগুলি চিহ্নিত করা হয়েছে। রয়েছে পণবন্দিদের তুলে আনার পথনির্দেশিকা। যা দেখে ইজ়রায়েলের প্রাক্তন গোয়েন্দা আধিকারিক মাইকেল মিলস্টাইন জানিয়েছেন, অতীতে কোনও প্যালেস্তেনীয় গোষ্ঠীর এমন নিপুণ ছক তিনি দেখেননি।

১৯৭৩ সালের ৬ অক্টোবর ইহুদিদের সবচেয়ে পবিত্র দিন ইয়ম কিপুর দিনে অতর্কিত হানায় ইজ়রায়েলকে বিপাকে ফেলেছিল আরব দেশগুলির জোট। অর্ধ শতক পরের অতর্কিত হামলায় ইহুদি জনগোষ্ঠীর মনে সেই ভয়াবহ স্মৃতিই ফিরিয়ে এনেছেন আল-কাসাম কমান্ডার দেইফ। ঘটনাচক্রে, যিনি এক জন প্রতিবন্ধী।

২০২১ সালের মে মাসে ১৫ দিনের ইজ়রায়েলি হামলায় তিনশো প্যালেস্তিনীয়ের মৃত্যুর পরেই প্রত্যাঘাতের পরিকল্পনা কর‌তে শুরু করেছিলেন দেইফ। তাঁর সহযোগী ছিলেন, গাজ়ায় হামাসের প্রধান নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার এবং হামাসের বিদেশ সংক্রান্ত শাখার ভারপ্রাপ্ত নেতা আলি বারাকা-সহ হাতেগোনা কয়েক জন।

বারাকা বুধবার রয়টার্সকে বলেন, ‘‘দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে আমরা এর জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলাম।’’ ইজ়রায়েলি সেনার একটি সূত্র উদ্ধৃত করে প্রকাশিত খবরে দাবি, ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের গোড়া পর্যন্ত, অর্থাৎ দু’বছরেও বেশি সময় ধরে চলেছিল হামলার প্রশিক্ষণ।

ছ’টি শিবিরের উপগ্রহচিত্র পর্যবেক্ষণ করে দেখা গিয়েছে, কয়েক মাস আগেই সেখানে যাবতীয় তৎপরতা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। মনে করা হচ্ছে, সফল প্রশিক্ষণের পর হামলার প্রয়োজনীয় অস্ত্রশস্ত্র, অন্যান্য উপকরণ এবং পরিকাঠামোর বন্দোবস্ত করতে সক্রিয় ছিল হামাস। এই পর্বেও ছিল চূড়ান্ত গোপনীয়তা।

ইজ়রায়েল সেনার অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ‘স্মার্ট ফেন্স’ নিরাপত্তা ব্যবস্থা লঙ্ঘনের কোনও চেষ্টা হলেই তা স্বয়ংক্রিয় ভাবে শনাক্ত করতে পারে। কিন্তু সেই মাটির গভীরে সুড়ঙ্গ প্রতিরোধী কংক্রিটের ভিত এবং মাটির উপরে ইস্পাতের ২০ ফুট উঁচু ঘেরাটোপের এই প্রতিরক্ষা দেওয়াল হেলায় ভেদ করেছে হামাস।

কয়েকশো সিসি ক্যামেরা, সেন্সর, রাডার, নজরমিনার-যুক্ত ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ ওই দেওয়ালের ২৮টিরও বেশি পয়েন্ট দিয়ে সে দিন অনুপ্রবেশ করেছিল হামাস। তার আগে রকেট এবং ড্রোন হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ৫০০ মিটার ব্যবধানে বসানো নজর মিনারগুলির বেশ কয়েকটিকে।

হামাস কমান্ডোদের নিশানায় ছিল গাজ়ার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার লাগোয়া নজরমিনারগুলি। উদ্দেশ্যে ছিল, আমজনতার মধ্যে মিশে থেকে হঠাৎ হামলা চালানো। এ ধরনের আকস্মিক, দ্রুত গতির এবং বহুমুখী পরিসরের হামলায় হতচকিত হয়ে গিয়েছিল ইজ়রায়েল সেনা। কার্যত কোনও প্রতিরোধ করতে পারেনি তারা।

হামলা চালানোর আগে সীমানা প্রাচীর ভাঙতে বুলডোজার ব্যবহার করে হামাস। তার পর প্রাচীরের ভাঙা অংশ দিয়ে মোটরবাইক এবং মেশিনগানবাহী গাড়ি নিয়ে অনুপ্রবেশ করে ইজ়রায়েলি ভূখণ্ডে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় যানবাহন এবং বুলডোজ়ার লুকিয়ে রাখতে সুবিধা হয়েছিল তাদের।

হামাস যোদ্ধাদের মধ্যে একটি অংশকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল অসামরিক মানুষদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো এবং পণবন্দি বানানোর জন্য। অন্য একটি অংশকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল সীমান্তবর্তী নজরমিনার এবং ঘাঁটিগুলির উপর হামলা চালিয়ে মোতায়েন সেনাদের ব্যস্ত রাখার।

ইজ়রায়েল সেনার মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল জোনাথন কনরিকাস অবশ্য সেনা বা গুপ্তচর সংস্থা মোসাদের গাফিলতির কথা স্বীকার করেননি। তিনি জানিয়েছেন, নিয়মিত ভাবেই গাজ়া ভূখণ্ডে হামাসের ডেরায় যুদ্ধবিমান এবং সাঁজোয়া কপ্টারের হানাদারি চলে। ধ্বংস করা হয় প্রশিক্ষণ শিবিরগুলিও।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, গত কয়েক বছরে গাজ়া জুড়ে ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গের ‘জাল’ বানিয়ে ফেলেছে হামাস। তাদের নেতা এবং যোদ্ধাদের পাশাপাশি অস্ত্র এবং সরঞ্জামও থাকে ওই সুড়ঙ্গগুলিতে। বিমানহানায় সেই ‘নেটওয়ার্ক’ ভাঙা সম্ভব হয়নি ইজরায়েল সেনার পক্ষে।




আজকের আবহাওয়ার খবর

 চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:  আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের আট বিভাগীয় শহরের (চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুর) আজকের আবহাওয়ার সংবাদ, ঝড় ও বৃষ্টির পূর্বাভাস কেমন থাকবে, আজ বৃষ্টি হবে কি না এবং আগামীকালের আবহাওয়ার পূর্বাভাসের সর্বশেষ আপডেট।

আজ ২৪ আশ্বিন, রোববার। আজকের (৮ অক্টোবর) আবহাওয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরা হলো-

গতকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা (রাঙ্গামাটি) ৩৩.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস
গতকালের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (নিকলি) ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস
আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (সিলেট) ২৩.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস
আজকে ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়া্স
গত ২৪ ঘণ্টায় (সকাল ৬টা পর্যন্ত) সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি (সিলেট) ১০৭ মিলিমিটার
সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায়, ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে।
সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।