আজ ভয়াল ১২ নভেম্বর

 

মো:আল-আমিন,পটুয়াখালী :  আজ ভয়াল ১২ নভেম্বর। ১৯৭০ সালের এই দিন রাতে উপকূলে আঘাত হানে প্রলয়ঙ্করী ঘুর্ণিঝড় ভয়াল গোর্কি। বিভিন্ন ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি প্রাণ কাড়ে ১০ লাখ মানুষের।

ভয়াল এই দিনের কথা স্মরণ করতে গেলে আজো আঁতকে ওঠে পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন উপকূলের মানুষ। সরকারি হিসেবে বৃহত্তর পটুয়াখালী জেলায় (বরগুনাসহ) সেদিন রাতে ৪৮ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। বাস্তাবে এ সংখ্যা লাখেরও বেশি। বর্তমান রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ, সোনার চর, মৌডুবি, বড় বাইশদিয়াসহ দ্বীপ সমৃদ্ধজনপদ পরিনত হয় জনশূন্য বিরাণ ভূমিতে।

ভয়াল এই দিনটিকে স্মরণ করতে ও দিনটিকে উপকূল দিবস হিসেবে ঘোষণার দাবিতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করেছে কলাপাড়াবাসী নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। শনিবার রাত সাড়ে ৮ টায় কলাপাড়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়। এসময় কলাপাড়াবাসীর সভাপতি নজরুল ইসলাম, কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি হুমায়ুন কবির, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নেছার উদ্দিন আহমেদ টিপু ও কলাপাড়া সম্মিলিত নাগরিক ঐক্য জোটের সভাপতি সৈয়দ রেজা সহ কলাপাড়াবাসী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন।

এদিকে দিনটি উপকূল দিবস হিসেবে ঘোষণার দাবিতে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের ছবি সম্বলিত ব্যানার পোস্ট করেছেন।

কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি হুমায়ুন কবির বলেন, এই দিনে আমি আমার বাবাসহ পরিবারের ১২ জনকে হারিয়েছি। আমি তখন খুব ছোট ছিলাম। এই দিনটির কথা মনে উঠলে আমি আজও আঁতকে উঠি। আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। শুধু মাত্র একটি কাঠের টুকরা ধরে বেঁচেছিলাম। আমার পাশ থেকে অনেক মানুষ এবং গবাদি পশুর মৃতদেহ ভেসে গেছে। আমরা এই দিনটিকে উপকূল দিবস হিসেবে ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি।




আজ ভয়াল ১২ নভেম্বর

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): আজ ভয়াল ১২ নভেম্বর। ১৯৭০ সালের এই দিন রাতে উপকূলে আঘাত হানে প্রলয়ঙ্করী ঘুর্ণিঝড় ভয়াল গোর্কি। বিভিন্ন ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি প্রাণ কাড়ে ১০ লাখ মানুষের।

ভয়াল এই দিনের কথা স্মরণ করতে গেলে আজো আঁতকে ওঠে পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন উপকূলের মানুষ। সরকারি হিসেবে বৃহত্তর পটুয়াখালী জেলায় (বরগুনাসহ) সেদিন রাতে ৪৮ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। বাস্তাবে এ সংখ্যা লাখেরও বেশি।

বর্তমান রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ, সোনার চর, মৌডুবি, বড় বাইশদিয়াসহ দ্বীপ সমৃদ্ধজনপদ পরিনত হয় জনশূন্য বিরাণ ভূমিতে।

ভয়াল এই দিনটিকে স্মরণ করতে ও দিনটিকে উপকূল দিবস হিসেবে ঘোষণার দাবিতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করেছে কলাপাড়াবাসী নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। শনিবার রাত সাড়ে ৮ টায় কলাপাড়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়।

এসময় কলাপাড়াবাসীর সভাপতি নজরুল ইসলাম, কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি হুমায়ুন কবির, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নেছার উদ্দিন আহমেদ টিপু ও কলাপাড়া সম্মিলিত নাগরিক ঐক্য জোটের সভাপতি সৈয়দ রেজা সহ কলাপাড়াবাসী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন।

এদিকে দিনটি উপকূল দিবস হিসেবে ঘোষণার দাবিতে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের ছবি সম্বলিত ব্যানার পোস্ট করেছেন।

কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি হুমায়ুন কবির বলেন, এই দিনে আমি আমার বাবাসহ পরিবারের ১২ জনকে হারিয়েছি। আমি তখন খুব ছোট ছিলাম। এই দিনটির কথা মনে উঠলে আমি আজও আঁতকে উঠি। আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। শুধু মাত্র একটি কাঠের টুকরা ধরে বেঁচেছিলাম। আমার পাশ থেকে অনেক মানুষ এবং গবাদি পশুর মৃতদেহ ভেসে গেছে। আমরা এই দিনটিকে উপকূল দিবস হিসেবে ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি।




হিমালয়ের দুর্গম চূড়ায় বাংলাদেশ

 

বাংলাদেশের ক্লাব বিএমটিসির দুই অভিযাত্রী এম এ মুহিত এবং কাজী বিপ্লব হিমালয়ের ২০ হাজার ৩০০ ফুট উঁচু দুর্গম চূড়া ‘ফার্চামো’তে সফলভাবে আরোহণ করেছেন।

শুক্রবার (৩ নভেম্বর) সকাল ৯টায় ‘ফার্চামো’এ পর্বতচূড়ায় বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে দেন। দলের আরেক সদস্য নুরুননাহার নিম্নি অসুস্থতাজনিত কারণে সামিট সম্পন্ন করতে পারেনি।

এর আগে বাংলাদেশের পর্বতারোহী দল গত ২৪ অক্টোবর নেপালের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করে। ২০ হাজার ৩০০ ফুট উঁচু ‘ফার্চামো’ পর্বতশিখর এভারেস্ট-এর দক্ষিণ-পশ্চিমে নেপালের রোলওয়ালিং হিমালয় অঞ্চলে অবস্থিত। এ অভিযানের দলনেতা এম এ মুহিত দুই বার এভারেস্ট আরোহণ করেছেন। ‘ফার্চামো’ পর্বতশিখর অভিযানটি পরিচালনা করছে বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব এবং স্পনসর করছে ইস্পাহানি টি লিমিটেড। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেড ২০ শতাংশ ছাড়ে অভিযাত্রীদের ঢাকা-কাঠমান্ডু-ঢাকা বিমান টিকিট দিয়েছে।




বরিশালে হেমন্তে শীতের আগমনী বার্তা

 

এস এল টি তুহিন,বরিশাল : আবহমান বাংলার সবুজ-শ্যামল প্রকৃতিতে আবারও শুরু হয়েছে ঋতুর পালাবদল। আবারও পাল্টাচ্ছে প্রকৃতি ও জীবন। ছয়ঋতুর বঙ্গাব্দ বর্ষপঞ্জিতে এখন চলছে কার্ত্তিক মাস। কার্ত্তিক-অগ্রহায়ণ এ দুই মাস বাংলায় হেমন্তকাল। আর হেমন্তকে বলা হয় অনুপম ও অপরূপ রূপের ঋতু। যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলার মানুষের সুখ-দুঃখ ও হাসি-কান্না। এ ঋতুতেই স্বপ্ন দেখেন বাংলার কৃষক-কৃষাণী।

সকালের শিশির ভেজা ঘাস আর হালকা কুয়াশায় প্রকৃতিতে বেজে ওঠে শীতের আগমনী বার্তা। মাঠের পাকা সোনালি ধান, কৃষকের ধান ঘরে তোলার দৃশ্য, কৃষক-কৃষাণীর নবান্নের আনন্দ সবই হেমন্তের রূপের অনুষঙ্গ। এ যেন হেমন্তেই শীতের হাতছানি। রাতভর টিপটিপ করে শিশির পড়ছে। খোলা মাঠে দুর্বা ঘাসের উপর চিকচিক করছে শিশির ফোটা। ভোরে ফসলের মাঠ, সবজি ক্ষেত ভরে যায় শিশিরে। নানা ইতিহাস ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধময় ধান নদী খাল এই তিনে বরিশালে হেমন্তের প্রথমেই শীতের আমেজ অনুভব হচ্ছে ।

এ ঋতুতে বরিশালের বিভিন্ন উপজেলার গ্রামাঞ্চলে শুরু হয় মাছ ধরার উৎসব। বর্ষা আর শরতের বৃষ্টির জলধারা হেমন্তে শুকাতে থাকে। মাছে ভাতে বাঙালি হেমন্তকালে জাল, বর্শা-পলো ও বড়শি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে মাছ শিকারে। এদিকে দিনে গরম ও রাতে শীতের কারণে উপজেলা হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বাড়ছে শীতজনিত রোগবালাই। বিশেষ করে শিশু ও বয়ষ্করা সর্দি, কাশি,নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।

বরিশাল সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ প্রশান্ত কুমার সাহা চন্দ্রদীপ নিউজকে বলেন, ঋতু পরিবর্তনের সময় সাধারণত অনেকেই ভাইরাসজনিত নানান রোগে আক্রান্ত হয়। সম্প্রতি বরিশালের হাসপাতালেও ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত রোগী বেশি পাচ্ছি। বিশেষ করে বর্তমানে শিশুরা শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসছেন। শিশু অসুস্থ হলে মায়ের বুকের দুধ দিতে হবে এবং নিয়মিত খাবার খাওয়াতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন তার ঠান্ডা না লাগে। বসত বাড়িতে আলোর ব্যবস্থা থাকতে হবে এবং ধুলাবালি থেকেও দূরে রাখতে হবে। শিশু একটানা ৩ দিনের বেশি অসুস্থ থাকলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পরামর্শ নিতে হবে ।

এ বিষয়ে বরিশাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অনিরুদ্ধ দাস চন্দ্রদীপ নিউজকে বলেন, এ সময়টাতে ফসলি জমিতে পোকা মাকড়ের উপদ্রব বেড়ে যায়। যেকারণে আমরা আগে থেকেই সঠিক ওষুধ, সঠিক মাত্রা, সঠিক সময় ইত্যাদি নির্ধারণের পর সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছি। পাশাপাশি সঠিক পদ্ধতিতে বালাইনাশক স্প্রে করারও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।




অপরিকল্পিত ড্রেজিং ইলিশ প্রজননে অন্তরায়

মো:আল-আমিন (পটুয়াখালী): মা ইলিশ রক্ষার জন্য সরকার নানামুখী পদক্ষেপের গ্রহণের কারণে ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু সম্প্রতি অপরিকল্পিত ভাবে ড্রেজিং এর কারণে সাগর ও নদী মোহনায় ইলিশের বিচরণক্ষেত্র ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। মা ইলিশের বিচরণ ও অভিপ্রায়ণ নিরাপদকরণের দাবি করেছেন স্থানীয় ইলিশের আড়ৎমালিকসহ জেলেরা।

সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, একাধিক ড্রেজারে নিয়মিত বালু উত্তোলনের কাজ চলছে।

কলাপাড়া উপজেলা মাঝি সমিতির সভাপতি নূরু মিয়া বলেন, আন্ধারমানিকের সাগর মোহনায় বছরের অধিকাংশ সময় বালু তোলা হয়। এসব ড্রেজারের বিকট শব্দে মা ইলিশ অন্যত্র চলে যায়। মোহনা থেকে পালিয়ে যায় গভীর সাগরে। তাই অন্তত প্রজননকালে বালু কাটা যেন বন্ধ রাখা হয়।

মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে বারো অক্টোবর থেকে দুই নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশসহ সকল প্রকার মাছ ধরা, ক্রয়- বিক্রিয়ের ও পরিবহন এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার। এসময় বঙ্গোপসাগর থেকে নদী মোহনায় ডিম ছাড়তে আসে মা ইলিশ। তাই ইলিশ রক্ষার অভিযান সফল করতে কাজ করছে মৎস্য বিভাগ।

নিয়ম রয়েছে এ সময়ে অভয়াশ্রম নিরাপদকরণসহ অবাধ প্রজননের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে ইলিশের প্রবৃদ্ধি অক্ষুণ্ন রাখতে মৎস্য নৌযানসহ সাধারণের বাণিজ্যিক ট্রলার সমুদ্র উপকূল ও মোহনায় চলাচলে পর্যাপ্ত সতর্কতা অবলম্বন করার।

সেখানে সাগর মোহনায় ডুবোচর কেটে ড্রেজার দিয়ে ফ্রি-স্টাইলে রাতদিন বালু উত্তোলনের কাজ চলছে।

স্থানীয় এক মৎস্য ব্যবসায়ী রাসেল মিয়ায় বলেন, সাগর থেকে নদী মোহনায় যাতে মা ইলিশ প্রবেশ করে ডিম ছাড়তে পারে সে জন্য এ অবরোধ দিয়েছে সরকার। কিন্তু সমুদ্রের মোহনায় ব্যক্তি মালিকানাধীন ড্রেজারে অপরিকল্পিত ড্রেজিং এর কম্পন ও শব্দ দূষণের কারণে বঙ্গোপসাগরের মোহনা দিয়ে মা ইলিশ নদীতে প্রবেশ করতে পারছেনা। আর যদি মা ইলিশ নদী মোহনায় ঢুকতে না পারে তাহলে এই ২২ দিন অবরোধ কোন কাজে আসবে নাহ। সরকারের কাছে দাবি দ্রুত এই ড্রেজিং বন্ধ করা হোক।

ইকোফিসের সহকারী গবেষক সাগরিকা স্মৃতি বলেন, ইলিশ দ্রুত গতি সম্পন্ন মাছ। এই সময়টায় মা ইলিশ বঙ্গোপসাগর থেকে নদীতে ডিম ছাড়তে আসে। তবে এ মাছ কোনো ধরনের শব্দ বা কম্পন সহ্য করতে পারে না। এই সময়টাতে ড্রেজিং বন্ধ রাখা উচিত।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক, এটি ইলিশের প্রজননকালের জন্য ভয়াবহ সমস্যার। তবে যত দ্রুত সম্ভব আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয় আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।




বরিশাল থেকে সব ধরনের লঞ্চ চলাচল শুরু

বরিশাল অফিস : উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ উপকূলের দিকে অগ্রসর প্রভাব কেটে যাওয়ায় ১ দিন পর বরিশাল থেকে সব ধরনের নৌযান চলাচল শুরুর ঘোষণা দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (২৫ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে সব রুটে লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নদী বন্দর কর্মকর্তা মোঃ আব্দুর রাজ্জাক।

তিনি জানান, বরিশাল থেকে সব ধরনের সকাল ৮ টা থেকে সব রুটে নৌযান চলাচল শুরু হয়েছে । সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ উপকূলের দিকে অগ্রসর বিপদ কেটে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার রুটে সব ধরনের নৌযান চলাচলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এর আগে ঘূর্ণিঝড় হামুন’র কারণে মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) বেলা ১ টায় সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ ।




ঘূর্ণিঝড় ‌‘হামুন’র তাণ্ডব, কক্সবাজারে ৩ জনের মৃত্যু

চন্দ্রদীপ নিউজ : ঘূর্ণিঝড় ‌‘হামুন’র প্রভাবে কক্সবাজারে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে প্রবল বেগে ঝোড়ো হাওয়ার তাণ্ডব শুরু হয়। তা প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী স্থায়ী হয়।

বিশেষ করে সমুদ্র উপকূলের কাছাকাছি এলাকাগুলোতে বাতাসের তীব্রতা ছিল খুব বেশি। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় হামুনের তাণ্ডবে কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলীতে ঘরের দেয়ার চাপা পড়ে আব্দুল খালেক, চকরিয়ার বদরখালীতে গাছচাপায় আসকর আলী (৫০) ও মহেশখালীতে মাটির দেয়াল চাপা পড়ে একজন নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মুহম্মদ শাহীন ইমরান একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। মৃত বাকি দুইজনের বিষয়ে স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

অন্যদিকে বাতাসের তোড়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়কে গাছ ভেঙে পড়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

কক্সবাজার শহরের বাংলাবাজার এলাকার বাসিন্দারা জানান, রাত পৌনে আটটার দিকে বাংলাবাজার ও খরুলিয়া এলাকায় সড়কের ওপর বড় বড় দুটি গাছ ভেঙে পড়লে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুই দিক থেকে আসা শত শত দূরপাল্লার বাস কয়েক ঘণ্টা ধরে আটকা পড়ে। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা যাত্রী ও পর্যটকদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। রাত প্রায় সাড়ে ১০টার দিকে পুনরায় যান চলাচল শুরু হয়।

কক্সবাজার শহরের দরিয়া নগর এলাকার বাসিন্দা নজরুল  ইসলাম জানান, সন্ধ্যা সাতটার দিকে পর পর তীব্র বেগে বাতাস শুরু হয়। বাতাসের তাণ্ডব চলে প্রায় দুই ঘণ্টা। এতে ওই এলাকার কয়েকশ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মেরিন ড্রাইভ সড়কে গাছ পড়ে যোাগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কলাতলী থেকে টেকনাফ পর্যন্ত শত শত গাছ ভেঙে সড়কের ওপর পড়েছে।

তিনি বলেন, এবারের বাতাস যে গতি তা গত ১০ বছরেও আমরা দেখিনি হয়নি। গত বছর ২৪ অক্টোবর ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং আঘাত হেনেছিল তখন জলোচ্ছ্বাস হলেও বাতাসের তীব্রতা এবারের মতো ছিল না।




উপকূল অতিক্রম করে দুর্বল হলো ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’

চন্দ্রদীপ নিউজ: ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ কক্সবাজারে তাণ্ডব চালিয়ে উপকূলীয় এলাকা অতিক্রম শেষ করেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে এ ঘূর্ণিঝড়টি শান্ত হয়ে স্থল গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে (ক্রমিক নম্বর-১৫) এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় হামুন উত্তরপূর্ব দিকে এগিয়ে রাত ১টার দিকে উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করেছে।

এতে আরও জানানো হয়েছে, উপকূল অতিক্রম শেষ করে এটি দুর্বল হয়ে স্থল গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। স্থলভাগের আরও ভেতরে এগিয়ে বৃষ্টি ঝরিয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ দুর্বল হয়ে পড়ায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ ছাড়া মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরেও ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ওপর দিয়ে পূর্ব-উত্তরপূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকায় নদীবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর নৌ-বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া দেশের অন্য এলাকায় ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকায় এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।




‘হামুন’ মোকাবিলায় পিরোজপুরে ৪০৭ আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত

বরিশাল অফিস: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি প্রবল ঘূর্ণিঝড় হামুন মোকাবিলায় পিরোজপুরে ৪০৭ টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়াও ঘূর্ণিঝড় হামুন এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় জেলা শহর সহ জেলার ৭ টি উপজেলায় মোট ৮ টি কল্টোল রুম খোলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের আয়োজনে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরী সভায় পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান এ কথা জানান।

সভায় আরো জানানো হয় এই দুর্যোগ মোবাকেলায় জেলা প্রশাসনের কাছে ৪ লক্ষ ৪০ হাজার নগদ টাকা, ৫০ বাল্ডিল টিন, ৪১২ মে.টন চাল ও ৪ হাজার কম্বল রয়েছে। এছাড়াও জনগনের সেবার জন্য ৬৩টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। অপরদিকে দুর্যোগ পূর্ব ও পরবর্তী সেবা দিতে ১৭০০ সিপিপি সদস্য ও ৩৫০ জন স্কাউট সদস্য কাজ করবেন।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে পিরোজপুর জেলা সহ তার পাশ্ববর্তী দ্বীপ সমূহকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখানো হয়েছে। তাই আজ রাত ৮ টার ভিতরে উপকূলীয় এলাকার জন সাধারনকে নিরাপদে রাখার জন্য স্থানীয় আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জেলা প্রশাসক জানান। এ দিকে ঘূর্নিঝড় মোকাবেলায় জেলার ৭ উপজেলায় স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচান সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জেলার নাজিরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ইস্রাফিল হোসেন জানান, মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাকক্ষে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সমন্বয় দূযোর্গ মোকাবেলায় টিম গঠন করা হয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ শফিউর রহমান জানান, দূর্যোগ মোকাবেলায় পুলিশকে কাজ করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সে জন্য প্রতি থানায় পৃথক টিম গঠন করা হয়েছে।




হঠাৎ লঞ্চ বন্ধে ভোগান্তিতে যাত্রীরা

মঙ্গলবার সদরঘাটে দেখা যায়, হাজারো যাত্রীর ভিড়। সবগুলো পন্টুন গেট বন্ধ করে দেওয়ায় তারা বাইরে অবস্থান করছেন। এসময় অনেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন

বরিশালগামী যাত্রী শহিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, আমি ইমামতি করি। দুদিনের ছুটি নিয়েছি। হঠাৎ সদরঘাটে এসে দেখি লঞ্চ বন্ধ। যাত্রাবাড়ী থেকে পরিবার নিয়ে এসে এখন আবার ফিরে যেতে হচ্ছে।

বরিশালগামী আরেক যাত্রী বলেন, বসুন্ধরা থেকে অনেক টাকা সিএনজি ভাড়া দিয়ে সদরঘাট আসছি। এতদূর থেকে এসে দেখি লঞ্চ বন্ধ। আগে থেকে না জানিয়ে হয়রানির করা হচ্ছে আমাদের।

ভোলাগামী লঞ্চঘাটে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা বলেন, আগে থেকে মিডিয়ায় কোনো খবর দেওয়া হয়নি। লঞ্চ যে বন্ধ হবে এটা জানলে আমরা এতদূর থেকে আসতাম না। এখন কই যাবো। নিরুপায় হয়ে বাসায় চলে যাচ্ছি।

এদিকে সকালে ৭ নম্বর বিপৎসংকেত জারির পর উপকূলীয় অঞ্চলে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

এরমধ্যে সকাল থেকে চাঁদপুরের লঞ্চ চলাচল করলেও বিকেল ৩টার পর সব অঞ্চলে লঞ্চ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানান বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান।