৪৮ ঘণ্টায় সাগরে লঘুচাপের সম্ভাবনা, বৃষ্টিপাত বাড়বে

উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়বে এবং কিছু এলাকায় ভারী বর্ষণ হতে পারে।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিকের দেওয়া পূর্বাভাসে জানানো হয়, বুধবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৯টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; রাজশাহী ও চট্টগ্রামের কিছু কিছু এলাকায় এবং ঢাকা, খুলনা ও বরিশালের কিছু স্থানে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণও হতে পারে।

পরবর্তী দিনগুলোতেও দেশের বিভিন্ন বিভাগে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) থেকে শুক্রবার (১৫ আগস্ট) পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেটের বহু স্থানে এবং রাজশাহী ও খুলনার কিছু এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এ সময় দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে।

শনিবার (১৬ আগস্ট) চট্টগ্রাম ও সিলেটের বহু স্থানে এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল ও খুলনার কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিন দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এ কারণে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সারাদেশে বৃষ্টি বাড়ছে, তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়বে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে কিছু অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশেই দিনের ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ স্থানে এবং ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামের কিছু কিছু এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতও হতে পারে। এ সময় সারাদেশে দিনের ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে।

শুক্রবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের আটটি বিভাগেই (রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট) অনেক স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও হতে পারে ভারী বর্ষণ। তবে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

শনিবার (৯ আগস্ট) থেকে শুরু হওয়া ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং অন্যান্য বিভাগে কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে তাপমাত্রা সামান্য বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে।

রোববার (১০ আগস্ট)সোমবার (১১ আগস্ট) পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের ধারা অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। অন্যদিকে সারাদেশে তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, আগামী পাঁচদিনের শেষের দিকে সারাদেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।

এদিকে এ ধরনের আবহাওয়া কৃষিজমি ও শহরাঞ্চলে জলাবদ্ধতা তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আবহাওয়াবিদরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পাঁচ বিভাগে ভারী বৃষ্টির আভাস, তাপমাত্রা কমতে পারে

সারা দেশে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়ছে। আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এতে দিন ও রাতের তাপমাত্রায় কিছুটা ওঠানামার সম্ভাবনাও রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এই সময়ের মধ্যে বিশেষ করে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। সেই সঙ্গে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

পরবর্তী তিনদিনেও একই রকম পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

  • শুক্রবার (৮ আগস্ট): একই পাঁচ বিভাগে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমবে।

  • শনিবার (৯ আগস্ট): রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা।

  • রোববার (১০ আগস্ট): একই চার বিভাগে অনেক জায়গায় এবং অন্যান্য বিভাগে কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা। তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

আবহাওয়া অধিদফতর আরও জানিয়েছে, বর্ধিত পাঁচ দিনের শেষভাগে দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা এবং বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জলাবদ্ধতা, নদীভাঙন কিংবা ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি থেকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




৩ দিন পর ভোলার নৌপথে লঞ্চ চলাচল শুরু, ঘাটে ফিরছে স্বাভাবিকতা

টানা তিনদিন বন্ধ থাকার পর ভোলার অভ্যন্তরীণ নৌরুটে ফের লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে। সমুদ্র ও নদী বন্দরে সতর্কতা সংকেত তুলে নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ধীরে ধীরে সচল হতে শুরু করে লঞ্চ সার্ভিস। এতে আটকে পড়া যাত্রীরা গন্তব্যে যাত্রা শুরু করেছেন এবং ঘাটগুলোতে ফিরেছে চেনা কর্মচাঞ্চল্য।

ভোলা নৌবন্দরের সহকারী পরিচালক রিয়াদ হোসেন জানান, আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় সকাল থেকেই সব রুটে লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে। তবে নৌযান কর্তৃপক্ষকে সতর্কতা বজায় রেখে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, টানা বৃষ্টিপাতে উপকূলীয় অঞ্চলসহ ভোলার বিভিন্ন এলাকায় জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। নদ-নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় অনেক এলাকায় বসতঘর, রাস্তা ও ফসলি জমি পানির নিচে চলে গেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন হাজারো পরিবার।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দেশের উপকূলীয় অঞ্চলজুড়ে এখনও বজায় রয়েছে বৈরী আবহাওয়া। বৃষ্টিপাত আরও ২-৩ দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

পর্যটক ও স্থানীয় যাত্রীদের সুবিধার্থে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




মাঝের চরে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে বরগুনার তিন হাজার চরবাসী!

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেস্ক
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বিষখালি নদীর তীরে জেগে ওঠা মাঝের চরে টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্টি হয়েছে চরম জলাবদ্ধতা। ফলে পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন প্রায় তিন হাজার চরবাসী।

নদীঘেরা চরটিতে চতুর্দিকে বেরিবাঁধ থাকলেও নেই সঠিক পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা। ফলে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে শত শত বাড়িঘর, ফসলি জমি, মাছের ঘের ও চলাচলের রাস্তাঘাট। রান্নাঘর, চুলা, টয়লেটসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো পানির নিচে ডুবে যাওয়ায় পরিবারগুলো পড়েছে চরম দুর্ভোগে।

স্থানীয়দের আর্তি

চরের বাসিন্দারা বলেন, “আমাদের ঘরবাড়ি, বাথরুম, রান্নাঘর—সবকিছু পানির নিচে। কয়েকদিন ধরে ঠিকমতো খেতেও পারছি না। ছোট ছোট শিশুরাও পানিবন্দি হয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে।”

তারা আরও জানান, প্রতি বছর একই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন তারা। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিয়ে শুধু আশ্বাসই মেলে, বাস্তবে মিলছে না কোনো স্থায়ী সমাধান।

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

এ বিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “আমি আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

চরবাসীর অভিযোগ, বারবার প্রশাসনের নজরে আনা হলেও এখনও কার্যকর কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা হয়নি, যা চরবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের একটি স্থায়ী সমাধান এনে দিতে পারে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫





দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ভোলার ১০ রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেস্ক
সমুদ্র ও নদীবন্দরে জারি করা সতর্কতা সংকেতের কারণে ভোলার অভ্যন্তরীণ ১০টি রুটে লঞ্চ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। এতে বিপাকে পড়েছেন হাজারো যাত্রী।

বুধবার (৩০ জুলাই ২০২৫) সকাল থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়, যা বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) পর্যন্ত বলবৎ রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ভোলা নৌবন্দরের সহকারী পরিচালক রিয়াদ হোসেন।

সতর্ক সংকেত ও ঝুঁকি মোকাবেলায় সিদ্ধান্ত

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ এবং অব্যাহত দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে দেশের ৪টি সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর এবং নৌবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে ভোলার নিচের রুটগুলোতে লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়:

 ভোলা-লক্ষীপুর
 দৌলতখান-আলেকজান্ডার
 মির্জাকালু-আলোকজেন্ডার
 বেতুয়া-ঢাকা
 তজুমদ্দিন-মনপুরা
 বেতুয়া-মনপুরা
 হাতিয়া-ঢাকা
 তজুমদ্দিন-চর জহিরউদ্দিন
 হাকিমুদ্দিন-মনপুরা-চর জহিরউদ্দিন
 দৌলতখান-চরফ্যাশন

তবে ভোলা-ঢাকাভোলা-বরিশাল রুটে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

যাত্রীদের দুর্ভোগ, ফেরিঘাটে পানি

লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। অনেক যাত্রী ঘাটে এসে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। অন্যদিকে ভোলার ইলিশা ফেরিঘাটে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্লাবিত হয়ে ওঠানামায় ব্যাঘাত ঘটছে। তবুও অনেক যাত্রী ফেরির মাধ্যমেই ঝুঁকি নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন।

কর্তৃপক্ষ যা বলছে

ভোলা নৌবন্দরের সহকারী পরিচালক রিয়াদ হোসেন বলেন,

“সমুদ্র ও নদীবন্দরে সতর্কতা সংকেত জারি থাকায় অভ্যন্তরীণ নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এটি বলবৎ থাকবে।”

তিনি আরও জানান, মূল রুটগুলোতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় সেখানে লঞ্চ চলাচলে কোনো বাধা নেই।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫





অমাবস্যার জোয়ারে পটুয়াখালীর নদীভাঙন-দুর্ভোগ চরমে

অমাবস্যা ঘিরে সৃষ্ট প্রবল জোয়ারের কারণে পটুয়াখালীর নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টানা চারদিন ধরে প্রতিদিন দুই দফা পানিতে প্লাবিত হচ্ছে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। নদীর পানি বেড়ে উপচে পড়ছে বেড়িবাঁধের উপর দিয়ে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে পানির নিচে।

এতে করে ইতোমধ্যে সদর উপজেলার ইদ্রাকপুর, কাঁকড়াবুনিয়া এবং দমুকি উপজেলার দক্ষিণ মুরাদিয়া, উত্তর মুরাদিয়া, সন্তোষদি ও চরগরদি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। আগেই রাঙ্গাবালী উপজেলার ১০টি এবং বাউফল উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রাম জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল।

জোয়ারের পানি অনেকের ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং পাকা ও আধা-পাকা সড়কগুলোতেও প্রবেশ করেছে। ভেসে গেছে অসংখ্য মাছের ঘের ও পুকুর। নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে কুয়াকাটাসহ বিভিন্ন এলাকায়। উত্তাল বঙ্গোপসাগরের ঢেউয়ে কুয়াকাটা সৈকতের ঝাউবাগানসংলগ্ন জাতীয় উদ্যান, বেড়িবাঁধ ও সৈকত সড়ক ভাঙনের মুখে পড়েছে।

হোসেনপাড়া এলাকার জাতীয় উদ্যান ঘেঁষে নির্মিত সড়কের প্রায় ৩০ মিটার ভেঙে যাওয়ায় সেখানকার ঘরবাড়িতেও পানি ঢুকেছে। ডিসি পার্ক সংলগ্ন সৈকত সড়কে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। ভেঙে গেছে অসংখ্য গাছপালা। পুরো সৈকতের প্রায় ২২ কিলোমিটার এলাকায় বালু সরে গিয়ে মাটির স্তর বেরিয়ে পড়েছে, যা ভয়াবহ বিপদের পূর্বাভাস।

স্থানীয়দের মতে, মসজিদ, মন্দির ও ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্সসহ অনেক স্থাপনাই এখন ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের মমিনপুর গ্রামের এক কৃষক জানান, তেঁতুলিয়া নদীর পানি প্রবেশ করে তার আমনের বীজতলা তলিয়ে গেছে। বসতবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়েছে।

সদর উপজেলার ইদ্রাকপুর গ্রামের একজন বাসিন্দা বলেন, “প্রতিদিন দুই দফা করে পানি ঢুকছে। বেড়িবাঁধ উপচে এখন তো ভেঙেও গেছে। ঘরের ভেতরেও পানি উঠে গেছে। এভাবে আর কতদিন?”

ভাঙনরোধে কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী তরিকুর রহমান জানান, “দুই দিন আগে কুয়াকাটা সৈকত সড়ক এলাকায় ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। স্থায়ী প্রতিরক্ষা প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রণালে পাঠানো হয়েছে।”

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব জানান, “তেঁতুলিয়া নদীর পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার এবং পায়রা নদীর পানি ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জরুরি মেরামতের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”

তবে স্থানীয়রা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে প্রতিবছর এমন দুর্ভোগ নতুন কিছু নয়। তবে কার্যকর পদক্ষেপ ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ছাড়া এই দুর্ভোগের থেকে মুক্তি মিলবে না।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালিসহ উপকূলীয় পাঁচ জেলায় নদীবন্দর সমূহের জন্য ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

পটুয়াখালি, বরিশাল, নোয়াখালি, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ উপকূলীয় অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার গতিতে অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আজ রোববার (২৭ জুলাই) সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য প্রকাশিত পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়, বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সময় এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বিভাগ। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরের উপর সৃষ্ট মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এতে নদীপথে চলাচলকারী নৌযানকে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, পটুয়াখালির কলাপাড়া, গলাচিপা, রাঙ্গাবালী ও পায়রা বন্দর এলাকা থেকে ইতোমধ্যে কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলার দ্রুত তীরে ফিরে এসেছে। স্থানীয় মাঝি-মাল্লারা জানিয়েছেন, সমুদ্রে বাতাসের গতি হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় তারা নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরেছেন।

আবহাওয়ার এমন পূর্বাভাসের কারণে নদীপথে যাত্রীবাহী লঞ্চ, ট্রলার ও স্পিডবোট চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আবহাওয়াবিদদের পরামর্শ:

  • বজ্রবৃষ্টির সময় খোলা জায়গায় অবস্থান না করার অনুরোধ
  • নৌযান চালক ও মাঝিদের সতর্কভাবে চলাচলের নির্দেশনা
  • স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার জনগণকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে

🟢 প্রতিবেদক: আল-আমিন |

 




পটুয়াখালীতে টানা ভারি বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় জনজীবন বিপর্যস্ত

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে গত দু’দিন টানা ভারি বৃষ্টির ফলে পটুয়াখালী পৌর শহরসহ উপকূলীয় এলাকা ব্যাপক জলাবদ্ধতায় ভুগছে। শহরের অধিকাংশ সড়ক পানিতে তলিয়ে যায় এবং বসতঘরে পানি প্রবেশ করে জনজীবন প্রভাবিত হয়েছে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ এবং শিক্ষার্থীরা বেশি কষ্টের মুখে পড়েছেন।

পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৮.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, চলমান বৃষ্টি আগামী দুই দিন অব্যাহত থাকতে পারে, যদিও ভারি বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমে আসবে।

শহরের জুবিলী স্কুল রোড, মহিলা কলেজ রোড, সবুজবাগ ৬ নম্বর লেন, মুন্সেফপাড়া, পুরাতন হাসপাতাল রোড এবং পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা সহ নিচু স্থানের অনেক জায়গায় হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে গেছে। এতে রাস্তাঘাট চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

দিনমজুর কামাল হোসেন বলেন, “সকালে কাজে বের হতে না হতেই দেখি ঝুম বৃষ্টি, আর রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে আছে, তাই কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না, আবার ফিরে যাচ্ছি।”

ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাতমিন জানান, “আজকে স্কুলে পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বৃষ্টি আর জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষা হয়নি।”

অন্যদিকে, কলাপাড়া রাডার স্টেশন থেকে জানানো হয়েছে, পায়রা সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। সমুদ্র উত্তাল হওয়ায় গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার ট্রলারগুলো নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে এসেছে।

এ অবস্থায় শহরের দোকানপাট বন্ধ, যান চলাচল ব্যাহত এবং অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। জলাবদ্ধতার দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



নিম্নচাপে রাঙ্গাবালীর দুই ইউনিয়নে প্লাবন, ঘরবাড়ি জোয়ারে তলিয়ে গেছে

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে দুই থেকে তিন ফুট উচ্চতায় পানি বেড়ে গেছে। এর ফলে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া ও চরমোন্তাজ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। উপচে পড়া নদীর পানি এবং ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে প্রবল স্রোতে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে, এতে ভেঙে পড়ে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

স্থানীয়রা জানান, আগুনমুখা ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর পানি উপচে পড়ায় চালিতাবুনিয়ার মধ্য-চালিতাবুনিয়া, বিবির হাওলা, গরুভাঙ্গা এবং চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডা গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকায় অনেক ঘরবাড়ি জোয়ারের পানিতে ডুবে গেছে, ঘরের মালামাল ভেসে গেছে। বহু মানুষ এখন আশ্রয় নিয়েছে বাঁধের ওপরে, কেউবা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে।

চালিতাবুনিয়ার বাসিন্দা বায়েজীদ গাজী ও আতিক গাজী জানান, মধ্য-চালিতাবুনিয়ার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিভিন্ন জায়গা ভেঙে পানি ঢুকে পুরো ইউনিয়নের ঘরবাড়ি ডুবিয়ে দিয়েছে। তারা বলেন, “জোয়ার এলেই ঘরে পানি ওঠে, রান্না-বান্না বন্ধ। ভাটার সময় পানি একটু নামলেও বসবাসের মতো পরিবেশ থাকে না।”

চরমোন্তাজের চরআন্ডা গ্রামের ওহাব মিয়া ও রাকিব ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা অবস্থায় থাকা বাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে গ্রাম তলিয়ে দেয়। নতুন করে আরও একটি বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। পুকুর-ঘেরে থাকা মাছ পানিতে ভেসে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এলাকার মৎস্যচাষিরা।

উপজেলার সামুদ্রিক মৎস্য কর্মকর্তা এসএম শাহাদাত হোসেন বলেন, “জোয়ারের পানি বৃদ্ধি এবং বাঁধ ভেঙে পড়ায় বহু মৎস্য ঘের ও পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ পরে নিরূপণ করা সম্ভব হবে।”

অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) উপজেলা ওয়্যারলেস অপারেটর নজরুল ইসলাম জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে সরে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন ঝড়খণ্ড এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও উত্তর-পশ্চিমে অগ্রসর হতে পারে। তার মতে, অমাবস্যা ও নিম্নচাপ মিলিয়ে পটুয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চল ১-৩ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষ দ্রুত বাঁধ সংস্কার, খাবার ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ পরিমাণ নির্ধারণ করে সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ চলছে বলে জানা গেছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম