দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা শ্রীমঙ্গলে 




শীতের মধ্যেই যে বিভাগে বৃষ্টি হতে পারে আজ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। সেই সঙ্গে রয়েছে ঘন কুয়াশা। বেলা বাড়লেও সূর্যের দেখা না মেলায় শীতে কাবু হয়ে পড়েছেন বিভিন্ন জনপদের মানুষ। আবহাওয়ার এই অবস্থার মধ্যেই বৃষ্টির আভাস দিয়েছে অধিদপ্তর।




সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বরিশালে

চন্দ্রদীপ নিউজ : চার দিন ধরে তীব্র ঠান্ডায় বরিশালসহ গোটা দক্ষিণের জেলাগুলোর জীবনযাত্রা থমকে পড়ার উপক্রম হয়েছে। আজ সোমবার সকাল ৯টায় বরিশালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এই তীব্র শীতে বেশি ভুগছেন শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষেরা। দিনের বেলা ঘন কুয়াশায় রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকায় শ্রমজীবীদের আয়ে টান পড়েছে। সন্ধ্যার পর প্রয়োজনীয় গরম কাপড়ের অভাবে কষ্ট পাচ্ছেন ছিন্নমূল ও বস্তিবাসী।

বরিশাল আবহাওয়া কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বশির আহমেদ রাতে প্রথম আলোকে বলেন, আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বরিশালে। এই অবস্থা আরও দু-এক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। তিনি বলেন, এর আগে ২০২১ সালের শীত মৌসুমে বরিশালের তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রিতে নেমেছিল।




তীব্র শীতে বিপর্যস্ত বরিশালের ফসল উৎপাদন

বরিশাল অফিস :: দক্ষিণাঞ্চলসহ সারাদেশে গত তিন-চার দিন ধরে হিমেল হাওয়া, প্রচণ্ড শীত ও কুয়াশা অব্যাহত রয়েছে। তবে উত্তরাঞ্চলের তুলনায় তাপমাত্রা কিছু বেশি হলেও শীতের তীব্রতা মোটেও কম নয় বরিশালে। শীতের তীব্রতায় জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি ফসলের উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে চাষীরা’।

কীটনাশক স্প্রে করলে তা কুয়াশায় ধুয়ে যাচ্ছে, ফলে সুফল মিলছে না বলে দাবী কৃষকদের।

পিরোজপুর,ঝালকাঠি ও বরিশালের বাকেরগঞ্জের কৃষকদের অভিযোগ, অব্যাহত ঘন কুয়াশা ও রোদ না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ধানের চারা, ঝরে পড়ছে সরিষার ফুল। তীব্র ঠান্ডায় কৃষক জমিতে কাজ করতে পারছে না। অনেকে বোরো বীজতলায় পলিথিন দিয়ে ঢেকে কিংবা নানা রকমের কীটনাশক স্প্রে করেও তেমন কোনও সুফল পাচ্ছেন।’

চলতি মৌসুমে ছয় জেলায় শীতকালীন সবজি চাষের জন্য ৪০ হাজার ৪১১ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫১ হাজার টন সবজি। মৌসুমের শুরু থেকেই বাজারে দাম ভাল থাকলেও অব্যাহত ঘন কুয়াশার কারণে সিম ও ফুলকপি ক্ষেতে পোকার আক্রমণ, ডগা পঁচা রোগে গাছের ক্ষতি হয়েছে, হ্রাস পেয়েছে উৎপাদনও।

অন্যদিকে, বরিশালের বানারীপাড়ার বাইশারীতে ভাসমান সবজি চাষীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি বলে দাবী কৃষকদের।

আবুল হাওলাদার নামের এক কৃষক জানান,’আমরা এখানের উদ্যানে করলা, টমেটো, বেগুন ও সিমসহ শীতকালীন প্রায় সব সবজির চাষ করেছি। কিন্তু কুয়াশার কারণে গাছের গোড়া পঁচে বেশকিছু সবজি বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা জানান, বরিশাল বিভাগের ৪১১ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির আবাদ হয়েছে।বিভাগের ৬ জেলায় ৫১ হাজার টন শীতকালীন সবজির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। তবে কুয়াশা ও শীতের প্রভাবে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।




অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সোনার চর

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী : বাংলাদেশের অপার এক সৌন্দর্যের নাম সোনার চর। বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে জেগে ওঠা অপরূপ প্রাকৃতিক এক লীলাভূমি।

পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলার দক্ষিণে সীমান্ত ঘেঁষে এই চরের অবস্থান। ১০ হাজার একর আয়তনের চরটি দুর্গম হলেও প্রকৃতিক সৌন্দর্যের কমতি নেই।

সুন্দরবন বা কুয়াকাটা নামের পেছনে যেমন একটি গল্প আছে, তেমনি সোনার চরের নামের পেছনেও কারণ আছে। চরটি সোনা দিয়ে তৈরি না হলেও সূর্যের প্রখর রোদ যখন বালুর ওপর পড়ে তখন সোনার মতোই মনে হয়। লোকের মুখে মুখে নামটি জনপ্রিয়তা পায়। ফলে একসময় এটি প্রশাসনিক নামে রূপ নেয়।

পটুয়াখালী প্রশাসনের ওয়েবসাইটের তথ্য মতে, ২০০৪ সালে বঙ্গোপসাগরের কোল জুড়ে জেগে ওঠে চরটি। আয়তনের দিক থেকে সুন্দরবনের পরেই এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বনাঞ্চল। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিশাল সমুদ্র সৈকত। ২০১১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ২০ হাজার ২৬ হেক্টর আয়তনের এই বনভূমিকে বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করে সরকার। একই বছরের ২৪ ডিসেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এরপর থেকেই বনায়ন শুরু করে বন কর্তৃপক্ষ।

ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে সোনারচর নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের আধার। যেতে যেতে দেখতে পাবেন সাগরের অপরূপ দৃশ্য। ছোট-ছোট নৌকা চলছে বড়-বড় ঢেউয়ের তালে। বিভিন্ন ধরনের জাল ফেলে মাছ ধরছে জেলে। সাগর থেকে আসা খালগুলোতে মাকড়শার মত অসংখ্য ঠেলা জাল দিয়ে মাছ ধরছে শিশুরা। সাগরে যখন জোয়ারের জল উথলে ওঠে তখন চাঁদের আলোয় অন্য এক সৌন্দর্যে রূপ নেয় সোনার চর।

দূর থেকে চরের ওপর বনের দৃশ্য অবাক করার মতো। একটু কাছাকাছি গেলে সহজেই চোখে পড়বে মেছো বাঘ, বুনো মোষ, হরিণ, শূকর, বানরসহ আরো সব বন্য প্রাণী। এছাড়া গাছে গাছে নানা ধরনের পাখিদের দেখা মেলে। যাদের কলকাকলিতে নিশ্চয়ই আপনি মুগ্ধ হবেন।

এসব দেখতে হলে খুব সকালেই বেরিয়ে পড়তে হবে নৌকা নিয়ে। সৈকতে দাঁড়িয়ে উপভোগ করা যাবে সূর্যাস্ত কিংবা সূর্যোদয়ের মনোরম দৃশ্য। এখানে রয়েছে প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত। তীরে আছড়ে পড়ছে ছোট-বড় ঢেউ।  ঝুরঝুরে বালি গলে পড়ছে নোনা জলে।

সৈকতে বিচরণ করছে লাল কাঁকড়া। কাঁকড়ার এ প্রজাতি সামুদ্রিক হলেও চরের বালুমাটিতে বাস করে। বালুর গভীরে নিজেদের তৈরি সুড়ঙ্গে দলবেঁধে চলাচল করে। জোয়ারের পানিতে সৈকত যখন ডুবে যায়, তখন এরা সুড়ঙ্গে নিরাপদে আশ্রয় নেয়। এছাড়া চোখে পড়বে ডানা ঝাপটানো নাম না জানা পাখির দল। তাদের কিচির-মিচির শব্দে সন্ধ্যার পরিবেশটুকু উপভোগ করা যাবে নিজের মতো করে। এছাড়া দেখতে পাবেন সমুদ্রগামী হাজারো জেলের জীবন সংগ্রামের দৃশ্য। সমুদ্রের নীল জলরাশি আর সবুজ প্রকৃতির এমন নিরিবিলি জায়গা সহজে কোথাও পাওয়া যাবে না।

এটি যেহেতু রিজার্ভ বন, তাই আপনি এখানে বাইরের লোক। বণ্যপ্রাণীদের বিরক্ত করলে তারাও হিংস্র হয়ে উঠবে- এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। আর আবহাওয়ার পরিবর্তন সমুদ্রকে আরও ভয়াল করে তুলতে পারে। তাই এখানে গেলে শীতের সময় সবচেয়ে ভালো। এর পাশাপাশি অবশ্যই আবহাওয়ার তথ্য জেনে যেতে হবে। ক্যাম্পিং-এর বিকল্প ব্যবস্থাও ভেবে রাখতে হবে। সমুদ্র তীরে বিপদ সংকেত আছে কিনা খেয়াল রাখুন। খেয়াল না করলে কক্সবাজারের মতো আপনাকে সতর্ক করতে এখানে কেউ ছুটে আসবে না। এমনকি বিপদে পড়লে উদ্ধার বাহিনী আসতেও অনেক সময় লাগবে।

পর্যটন শিল্পে এখন প্যাকেজ ট্যুরের বিষয়টি বেশ পরিচিত। পারিবারিকভাবে তো বটেই, সবাই মিলে একসঙ্গে দলবেঁধে ঘুরে বেড়াবার মজাও কিন্তু কম নয়। ঢাকা থেকে আসা বেশির ভাগ পর্যটকই এই জেলার আরেকটি পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা এসে ঘুরে চলে যান। কিন্তু সোনার চর, রূপার চর, চর মৌডুবী, জাহাজমারা, তুফানিয়া, চর ফরিদ, শিপচরসহ সমুদ্রফুঁড়ে জেগে ওঠা সবুজ বনাঞ্চলের সন্ধান জানেন না অনেকেই।

দ্বীপগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করলে দেশের পর্যটন শিল্পে যোগ হবে নতুন মাত্রা। তাই বনাঞ্চলকে পর্যটনমুখী করতে আগে দরকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। এর সাথে নির্মাণ করা জরুরি হোটেল-মোটেল। এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে।

ঢাকার সদরঘাট থেকে লঞ্চযোগে কিংবা সড়কপথে পটুয়াখালী যাবেন। সেখান থেকে গলাচিপা উপজেলা সদর হয়ে সড়কপথে দক্ষিণে পানপট্টি লঞ্চঘাট। লঞ্চঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারযোগে আগুনমুখা মোহনা পেরিয়ে দক্ষিণে যেতে হবে। ডিগ্রি নদীর বুক চিরে একটু বাঁয়ে গেলেই বুড়া গৌরাঙ্গ নদী। সামনে গিয়ে বাঁক ঘুরতেই দাঁড়ছিড়া নদী। এরপরই সোনার চরের অপরূপ দৃশ্যের দেখা মেলবে।

গলাচিপা লঞ্চঘাট থেকে স্পিড বোটে সোনারে চর যেতে মাত্র দেড় ঘণ্টা লাগবে। অন্যদিকে সদরঘাট থেকে রাঙাবালীর লঞ্চে চরকাজল নামার পর ছোট লঞ্চে চরমন্তাজ গিয়ে ট্রলারে সোনার চর যাওয়া যাবে। আবার কুয়াকাটা থেকেও সোনার চরে যাওয়া যায়। যেতে হবে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে। কুয়াকাটা থেকে স্পিড বোট রিজার্ভ করে সোনার চর যাওয়ার সু-ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে যেতে পারেন কিন্তু সময় লাগবে ঘণ্টাতিনেক।

রাত কাটানোর জন্য এখনও সোনার চরে নিরাপদ ও আরামদায়ক ব্যবস্থা হয়ে ওঠেনি। তবে প্রশাসনের উদ্যোগে পর্যটকদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে তিন কক্ষের একটি বাংলো। ইচ্ছে করলে রাতে সেখানে থাকতে পারেন। এছাড়া রয়েছে বন বিভাগের ক্যাম্প। সেখানে কিছুটা কষ্ট হলেও পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা আছে। থাকতে চাইলে চলে যেতে পারেন চরমোন্তাজ। সেখানে বন বিভাগ, স্যাপ বাংলাদেশ ও মহিলা উন্নয়ন সমিতির ব্যবস্থাপনায় রাত যাপনে জন্য বাংলো রয়েছে। আরও ভালোভাবে থাকতে চাইলে গলাচিপা ও জেলা শহর পটুয়াখালীতে রাত কাটানোর জন্য আধুনিক মানের হোটেল রয়েছে।




কেমন থাকবে আজকের আবহাওয়া?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  দেশের ১৩ জেলার উপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থার মধ্যেই আজ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে।



এবার রমজান মাস কত দিনের হবে, জানাল আমিরাতের দুই সংস্থা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যে আজ শনিবার থেকে শুরু হয়েছে রজব মাস। জ্যোতির্বিদ্যার হিসাব-নিকাশ অনুযায়ী, আর মাত্র ৬০ দিন পর পবিত্র রমজান মাস শুরু হবে। অর্থাৎ আগামী ১১ মার্চ থেকে মানুষ রমজানের রোজা রাখবেন। আর এবারের রমজান মাসটি ৩০ দিনের হতে পারে।



বাড়ছে শীতজনিত রোগ: সামান্য অবহেলায় শিশুদের মারাত্মক জটিলতার আশঙ্কা

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : শীতের তীব্রতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ব্যাপক হারে বাড়ছে শীতজনিত রোগ। সর্দি-কাশি, জ্বর, নিউমোনিয়া, টনসিলাইটিস, ব্রঙ্কিওলাইটিস, সাইনোসাইটিস, অ্যাজমা, চর্মরোগ, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়াসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু থেকে বয়স্ক সব বয়সের মানুষ। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে যারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। প্রতিটি হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর চাপ বেড়েছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন শতাধিক শিশু শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে আসছে। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটেও (ঢাকা শিশু হাসপাতাল) প্রতিদিন ব্যাপক শিশু আসছে। চিকিৎসকদের যেন দম ফেলার ফুরসত নেই।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, বয়স্ক ও শিশুদের শীতে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া উচিত নয়। শিশুদের শীতের পোশাক পরিধান করাতে হবে। সামান্য অবহেলার কারণে শিশুদের মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করে বিশেষজ্ঞরা বলেন, গ্রামাঞ্চলে অনেকে শীতের জন্য গোসল করে না। নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকে। এসব কারণে এ রোগের সংক্রমণ বেশি হয়।

রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে জেঁকে বসেছে শীত। ঘন কুয়াশায় দুপুরেও সূর্যের দেখা মিলছে না। ফলে দিনের উত্তাপ কমছে, চারদিকে যেন জবুথবু অবস্থা। এরই মধ্যে হিমেল বাতাসের কারণে শীত যেন শরীরে আরও কামড় বসাচ্ছে। এতে বাড়ছে শীতজনিত রোগ।




হাড় কাঁপানো শীতে সীমাহীন ভোগান্তি

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : পৌষের শেষদিকে এসে তীব্র শীতে কাঁপছে দেশ। ১৩ জেলায় চলছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। হাড় কাঁপানো শীতের সঙ্গে বেড়েছে কুয়াশার দাপট। উত্তরের হিমেল বাতাসে রাজধানীসহ সারা দেশের মানুষই এখন শীতে কাবু। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত।

এদিকে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শীতের তীব্রতার মধ্যে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে আসতে পারে বৃষ্টি। এতে শীত আরও তীব্র হবে।

১৮-১৯ জানুয়ারি অর্থাৎ বৃহস্পতি ও শুক্রবার বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও জানান, উত্তরাঞ্চলের বেশকিছু জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছে। আরও দু-এক দিন এই অবস্থা থাকতে পারে। তবে রোববার রাতে দু-এক জায়গায় তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। ১৭ তারিখ রাত থেকে আবার আকাশ মেঘলা হবে। ১৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আরও দু-এক দিন কুয়াশা থাকবে। তারপর কমবে। আস্তে আস্তে তাপমাত্রা বাড়বে।

শনিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে দিনাজপুরে। এছাড়া নওগাঁর বদলগাছীতে ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি, সৈয়দপুরে ৯ ডিগ্রি, রাজশাহীতে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি এবং পাবনার ঈশ্বরদীতে ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এ সময়ে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল টেকনাফে ২৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি, আর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।




হিমেল বাতাস উপেক্ষা করে কুয়াকাটা সৈকতে পর্যটকরা

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: কুয়াশার ঘনত্ব কিছুটা কমলেও পটুয়াখালীতে তীব্র শীতের সঙ্গে বইছে হিমেল বাতাস। তবে শীত উপেক্ষা করে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলো ঘুরে বেরাচ্ছেন ভ্রমণে আসা পর্যটকরা। আগত পর্যটকদের সেবা দিতে ব্যস্ত সময় পার করছে ব্যবসায়ীরা।

ঢাকা থেকে ভ্রমণে আসা পর্যটক সিয়াম বলেন, শীতে ঘুরতে ভালো লাগে। এতে অন্যরকম একটি ভালো লাগা কাজ করে। শীতের সমুদ্র সৈকত সত্যি অন্য রকম।

রাজশাহী থেকে আসা মুনতাসির বলেন, পরিবার নিয়ে প্রথমবারের মতো কুয়াকাটা ভ্রমণে এসেছি। আশার পর সত্যি ভালো লাগছে। তবে বিচটা একটু নোংরা মনে হলো, পরিষ্কার হলে ভালো হতো।

সৈকতে ঝিনুক বিক্রেতা মো. শামিম বলেন, দীর্ঘ এক মাস পরে গতকাল থেকে সৈকতে কিছু পর্যটক আসছে। আগত পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে ব্যবসা ভালো হতো। বিদেশি পর্যটকরা এলে বিক্রি ভালো হয়।

কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পরে পর্যটক বৃদ্ধি পাচ্ছে। সামনের দিনে পরিবেশ ভালো থাকলে পর্যটকের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. হাসনাইন পারভেজ বলেন, আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে পুলিশ সদস্যরা।

পটুয়াখালী আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখি বলেন, শনিবার জেলায় সর্বনিম্ন ১২ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এসময় বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ছিলো ৯৩ শতাংশ।