ঠান্ডায় শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে যা করবেন

চন্দ্রদীপ নিউজ : ঢাকাসহ সারা দেশে শীতের প্রকোপ যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগ, যেমন সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, ভাইরাল ডায়রিয়া ইত্যাদি। ফলে হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর ভিড়। শীতের তীব্রতা যত বাড়ছে, তত আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। এদের মধ্যে সংখ্যায় বেশি নবজাতক।

এ সময় শিশুদের প্রচণ্ড কুয়াশা ও ঠান্ডা হাওয়া থেকে দূরে রাখতে হবে। এদের মধ্যে নিউমোনিয়া হওয়ার প্রবণতা বেশি। কেবল সন্ধ্যা নয়, এখন সারা দিন বইছে হিমেল হাওয়া। রোদ উঠলেও তীব্রতা খুব বেশি নয় বলে ঠান্ডা দূর হচ্ছে না। ফলে শিশুদের এই ঠান্ডা থেকে সাবধানে রাখার কোনো বিকল্প নেই।

একটি কথা আগেই বলে নিই, শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাসের ধরন অভিভাবকদের বুঝতে হবে। শিশু দ্রুত শ্বাস নিচ্ছে, শ্বাস নেওয়ার সময় শব্দ আর বুকের পাঁজরের নিচের অংশ দেবে যাচ্ছে। সঙ্গে আছে জ্বর, বমি। এসব লক্ষণ মারাত্মক। এমন হলে অবশ্যই হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে যত দ্রুত সম্ভব। এমন লক্ষণে নিউমোনিয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে।

শীতে ডায়রিয়া বাড়ে। এবারও বেড়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রথম ভরসা খাওয়ার স্যালাইন। তবে মাত্রা বেশি হলে নিয়ে যেতে হবে হাসপাতালে। এ ব্যাপারে কোনো হেলাফেলা করা যাবে না।

শিশুকে খাওয়াতে হবে পুষ্টিকর খাবার। খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে মৌসুমি শাকসবজি, ফল ইত্যাদি। এগুলো থেকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন আসবে। ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের মায়ের দুধ পান করাতে হবে নিয়মিত।

এ ছাড়া শিশুর শ্বাসকষ্ট বা ঠান্ডা লাগার ধাত থাকলে বাইরে যাওয়ার সময় মাস্ক পরিয়ে নিতে ভোলা যাবে না। সঙ্গে উপযুক্ত গরম পোশাক। শিশুকে শীতের পোশাক পরাতে হবে মাথা ঢেকে। তাতে শিশুর মাথায় ঠান্ডা লাগবে না। সঙ্গে হাতমোজা ও মোজা থাকতে হবে। এগুলো শরীর গরম রাখতে সহায়তা করবে। মনে রাখা উচিত, এই শীতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া শিশুদের বাইরে নিয়ে যাওয়া বা তাদের নিয়ে ঘোরাঘুরি করা যাবে না।

নবজাতককে অবশ্যই তার মায়ের বুকের সঙ্গে রাখতে হবে। এতে শিশুর শরীর গরম থাকবে। একে বলে ক্যাঙারু মাদার কেয়ার। শীতে এটি বিভিন্নভাবে নবজাতকের স্বাস্থ্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে। শিশুদের শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘরে রাখা যাবে না। গোসল করাতে হবে গরম পানি দিয়ে। সমস্যা হলে স্পঞ্জ করিয়ে দিতে হবে। আর গরম জলে কাপড় ভিজিয়ে নবজাতকদের শরীর মুছিয়ে দিতে হবে।

উষ্ণ রাখার জন্য শিশুর শরীরে তেল মালিশ করতে পারেন সতর্কতার সঙ্গে। শিশুর পোশাক ভিজে গেলে দ্রুত বদলে দিতে হবে।

অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী।




যেদিন থেকে শীত কমবে জানাল আবহাওয়া অফিস

চন্দ্রদীপ ডেস্ক: মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। ফলে শৈত্যপ্রবাহ আরও বেশ কয়েক দিন থাকতে পারে। সেই সঙ্গে পাঁচ বিভাগের দু–এক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। রাতে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। এ ছাড়া আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধির সম্ভাবনা কম। অর্থাৎ শীত থাকছে আরও কয়েক দিন।

শুক্রবার সকাল ৯টায় আবহাওয়াবিদ মো. হাফিজুর রহমানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী-অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং কিছু কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ এবং সড়ক যোগাযোগে সাময়িকভাবে বিঘ্ন ঘটতে পারে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা এক থেকে ২ ডিগ্রি কমতে পারে। তবে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে। এ ছাড়া দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কোথাও কোথাও দিনেও শৈতপ্রবাহ বিরাজ করতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, শুক্রবার শৈত্যপ্রবাহের এলাকা আরও বাড়তে পারে। আর সেই সঙ্গে পাঁচ বিভাগের দু–এক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত তাপমাত্রা আর বৃদ্ধির সম্ভাবনা কম




বাড়তে পারে শীত, বৃষ্টির পূর্বাভাস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আজ শুক্রবার শৈত্যপ্রবাহের এলাকা আরও বাড়তে পারে। আর সেই সঙ্গে পাঁচ বিভাগের দু–এক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। রাতে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত তাপমাত্রা আর বৃদ্ধির সম্ভাবনা কম।

মাঘের শীতে গতকাল বৃহস্পতিবার কষ্টের মাত্রা বাড়িয়েছে বৃষ্টি। খুলনা, যশোর, বরিশালসহ দেশের দক্ষিণের নানা স্থানে অনেক সময় ধরে বৃষ্টি হয়েছে। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে রাজধানীতেও। এতে মানুষের কষ্ট বেড়েছে।

পুরো রংপুর বিভাগসহ গতকাল ১০ জেলায় বয়ে গেছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। সরকার আগেই ঘোষণা করেছিল, কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়া হবে।

জানা গেছে, মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়া এলাকাগুলোর মধ্যে চার জেলায় স্কুল বন্ধ করা হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ হলেও প্রাথমিকের ক্লাস চলেছে। আবার কোনো স্থানে শিক্ষার্থীরা স্কুলে উপস্থিত হওয়ার পর ক্লাস বন্ধের ঘোষণা পেয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আজ শুক্রবার শৈত্যপ্রবাহের এলাকা আরও বাড়তে পারে। আর সেই সঙ্গে পাঁচ বিভাগের দু–এক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। রাতে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত তাপমাত্রা আর বৃদ্ধির সম্ভাবনা কম। অর্থাৎ শীত থাকছে আরও কয়েক দিন।

দক্ষিণের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি যে হবে তা আগেই জানিয়েছিল আবহাওয়া অফিস। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয় বৃষ্টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয় যশোরে, ২২ মিলিমিটার। আর চুয়াডাঙ্গায় ২০ ও সাতক্ষীরায় ১২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়।

বৃষ্টিতে এসব এলাকায় মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে। বিশেষ করে শিশু শিক্ষার্থীদের। গত বুধবার সন্ধ্যায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয় চুয়াডাঙ্গায়। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বন্ধ রাখার কোনো ঘোষণা না এলেও মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধের প্রভাব পড়ে সেখানে। এতে প্রাথমিকে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যায়।




শৈত্যপ্রবাহে কুড়িগ্রামের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যাওয়ায় কুড়িগ্রামের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ জানিয়েছেন, সরকারি নির্দেশনার আলোকে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণার জানায়, আজ ভোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা উপস্থিত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত জানতে পেরে তারা বাড়ি ফিরে যান।

তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।

কুড়িগ্রাম সদরের কাঁঠালবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন জানান, সকালে তারা যথারীতি স্কুলে আসেন, অ্যাসেম্বলি করার পর মেইলে স্কুল বন্ধের নির্দশনা আসে। সে অনুযায়ী স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী বায়েজীদ বোস্তামী জানান, প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারণে স্কুলে আসতে অনেক কষ্ট হতো।

অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ত। স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা খুশি।

কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসার শামসুল আলম জানান, সব প্রতিষ্ঠান প্রধানকে ইতিমধ্যে চিঠি দিয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নবেশ উদ্দিন সরকার জানান, পরবর্তী সময়ে তাপমাত্রার উন্নতি হলে স্কুল খুলে দেওয়া হবে।




আজ চট্টগ্রামে-বরিশাল বিভাগে হতে পারে বৃষ্টি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  কনকনে ঠান্ডা আর ঘন কুয়াশায় কাবু গোটা দেশ। গত এক সপ্তাহ ধরে সূর্যের দেখা মেলেনি দেশের অনেক জেলায়। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে হিমেল হাওয়ার সঙ্গে ঝিরঝির বৃষ্টির মতো কুয়াশায় জনজীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে। খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। বেড়েছে শীতজনিত রোগ।



চীনের জিনজিয়াংয়ে তুষারধসে আটকা ১০০০ পর্যটক

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : চীনের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াং অঞ্চলে টানা তুষারপাতের পর তুষারধসে মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রায় এক হাজার পর্যটক কয়েকদিন ধরে একটি প্রত্যন্ত পর্যটন গ্রামে আটকা পড়ে আছেন।

মঙ্গলবার চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন জানিয়েছে, কয়েক মিটার উঁচু তুষার ও অশান্ত আবহাওয়ার কারণে পর্যটকদের সরিয়ে আনার কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

কাজাখস্তান, রাশিয়া ও মঙ্গোলিয়ার সীমান্তবর্তী মনোরম পর্যটন গন্তব্য হেমু গ্রামে পর্যটকরা আটকা পড়েছেন। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় কয়েক দিন ধরে এখানেই আটকা পড়ে আছেন তারা। গ্রামটি জিনজিয়াংয়ের আলতাই প্রিফেকচারে অবস্থিত, এখানে কিছু এলাকায় টানা ১০ দিন ধরে অনবরত তুষারপাত হচ্ছে বলে খবরে বলা হয়েছে।

ভারি তুষারপাতের কারণে আলতাই পর্বতের ভেতর দিয়ে জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য কানাসের দিকে যাওয়া মহাসড়কগুলোতে বহু তুষারধস হয়েছে। এতে মহাসড়কগুলোর বিশাল অংশ তুষারের নিচে চাপা পড়ে আছে।

রোববার চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানিয়েছিল, কিছু পর্যটককে হেলিকপ্টারযোগে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে। কিন্তু আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় এ প্রক্রিয়ায়ও বিঘ্ন ঘটছে।

সিসিটিভি জানিয়েছে, কিছু অংশে তুষারধসের কারণে সাত মিটারের মতো উঁচু হয়ে তুষার জমে আছে আর অনেক জায়গায় তুষার পরিষ্কার করার যন্ত্রের চেয়ে উঁচু হয়ে আছে তুষার।

একটি মহাসড়কের ৫০ কিলোমিটার অংশ তুষারধসে চাপা পড়ে আছে। এটি পরিষ্কার করার কাজ এক সপ্তাহ আগে শুরু হলেও এখনও শেষ করা যায়নি।




বাউফলে কম্বল বিতরণ করলেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে গরীব ও দুঃস্থ শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার উপজেলার কালিশুরী আশ্রয়ন প্রকল্পে আয়োজিত কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মো. নূর কুতুবুল আলম। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বশির গাজীর সভাপতিত্বে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাউফলের সহকারি কমিশনার (ভূমি) প্রতীক কুমার কুন্ডু, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজিব বিশ্বাস, কালিশুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নেছার উদ্দিন সিকদার প্রমুখ।




পাতলা একখান কম্বল দিয়া শীত আটকান যায় না

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): ‘এই খোলা যাগায় এত ঠান্ডার মইধ্যে রাইতে ঘুম তো দূরের কথা, বইয়াও থাকতে পারি না বাবা। খালি বাতাস আর বাতাস, হাত-পা সব ঠান্ডা হইয়া যায়। পাতলা একখান কম্বল দিয়া এই শীত আটকান যায় না।’

তীব্র শীতে কাঁপতে কাঁপতে এমনটাই বলছিলেন পটুয়াখালীর লঞ্চ টার্মিনালের থাকা ছিন্নমূল আলেয়া বেগম নামের এক বৃদ্ধা।

ঘন কুয়াশায় রাতের পটুয়াখালী শহরে ফুটপাতে, বন্ধ চায়ের দোকানের বেঞ্চে কিংবা শহরের লঞ্চ টার্মিনালের ভেতরে দেখা মেলে গৃহহীন ছিন্নমূল মানুষগুলোর। যাদের কাছে শীত মানে অভিশাপ। এদের কাছে নেই মাথা গোঁজার মতো ঠাঁই, পেটে নেই অন্ন, শরীরে নেই শীত নিবারণের মতো কোনো পোশাক।

প্রতিবছর সরকারি – বেসরকারি ভাবে এই অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত মানুষ গুলোকে শীতবস্ত্র বিতরণসহ বিভিন্নভাবে সহায়তা প্রদান করা হলেও এ বছর এখন পর্যন্ত তেমন কোনো সহযোগিতা করা হয়নি।

এদিকে গত কয়েকদিন ধরেই হাঁড় কাঁপানো তীব্র শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন। দেশজুড়ে জেঁকে বসেছে ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীত। দক্ষিণবঙ্গ পটুয়াখালী জেলায় ঘন কুয়াশার কারণে রোদের দেখা মিলছে না বেশ কয়েকদিন। ফলে দিন ও রাতে প্রায় একই রকম শীত পড়ছে।

পটুয়াখালী জেলার আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, এই তীব্র শীত আরও বেশ কিছুদিন থাকতে পারে এবং চলতি মাসের ১৭ থেকে ১৯ জানুয়ারি আকাশ মেঘলা থাকবে সেইসঙ্গে হতে পারে বৃষ্টি। বৃষ্টির পর আবার তীব্র শীতের প্রভাব থাকতে পারে। এ সময়ে দেশের দক্ষিণবঙ্গে বয়ে যেতে পারে শৈত্যপ্রবাহ।




ঘন কুয়াশাতে পটুয়াখালী – বরিশাল মহাসড়কে বাস দুর্ঘটনায় আহত ৩

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): ঘন কুয়াশায় পটুয়াখালী-বরিশাল মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রিন লাইন পরিবহনের সঙ্গে রাজিব পরিবহনের ধাক্কায় তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) রাত ১টা দিকে জেলার সদর উপজেলার বদরপুর বাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পরিবহন দুটি ঢাকা থেকে ছেড়ে কুয়াকাটার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন।
আহতদের উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা জানান, ঘন কুয়াশার কারণে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রিন লাইন পরিবহনটি না দেখে সরাসরি এসে রাজিব পরিবহন পেছন দিক থেকে ধাক্কা দেয়।

রাজিব পরিবহনের সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায় ও গ্রিন লাইন পরিবহনের পিছনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা আহত যাত্রীদের পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

রাজিব পরিবহনের এক যাত্রী বলেন, ঢাকা থেকে রাজিব পরিবহন করে কুয়াকাটা যাচ্ছিলাম, তবে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রিন লাইন পরিবহনের সঙ্গে পেছন থেকে এসে আমাদের গাড়িতে ধাক্কা দেয়। আমি গাড়ির ড্রাইভারের মুখে শুধু এটুকুই শুনেছি তিনি ইন্নালিল্লাহ বলে ডাক দিয়েছেন, এর মধ্যে বিকট শব্দ হয় আমরা সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি থেকে দ্রুত নেমে যাই। রাজিব পরিবহনের সামনে যারা ছিল তারা বেশি ক্ষতি হয়েছে তাদেরকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাই। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সংবাদ দিলে, তারাও এসে উদ্ধার অভিযান চালায়। তাদের গাড়িতেই আহতদের দ্রুত পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।




শীতে বিপর্যয়ের মুখে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষক ও কৃষি অর্থনীতি

এস এল টি তুহিন,বরিশাল :: চলমান শৈত্য প্রবাহ ও ঘন কুয়াশা সহ একের পর এক বৈরী আবহাওয়ায় মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষক ও কৃষি অর্থনীতি। বোরো বীজতলা, গোলআলু, গম ও শীতকালীন সবজি মারাত্মক সংকটের মুখে। চলমান শৈত্য প্রবাহ বোরো বীজতলায় ‘কোল্ড ইনজুরী’, গোল আলুর জন্য ‘লেট ব্লাইট ডিজিজ’ এবং গমের জন্য ছত্রাকবাহী ‘ব্লাস্ট’ সংক্রমন সহ সবজি ফসলে ঘনকুয়াশা ও শীতের বিরুপ প্রভাবে গুনগত মান বিনষ্ট হচ্ছে। গত অক্টোবরে বঙ্গোপসাগর থেকে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় হামুনের পরে নভেম্বরে আরেক ঝড় ‘মিধিলি’ দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান দানাদার খাদ্য ফসল আমনের উৎপাদনে যথেষ্ট বিরুপ প্রভাব ফেলে।

পরপর দুই মাসের ওই দুটি ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে প্রবল বর্ষণে থোর এবং আধাপাকা আমনের বিপুল জমি প্লাবিত হওয়ায় উৎপাদন যেমন ব্যাহত হয় তেমনি শীতকালীন সবজি সহ অন্যান্য রবি ফসলের আবাদকে অনেকটা বিলম্বিত করে। এখন আবাদকৃত রবি ফসল নতুন দুর্যোগের কবলে। বিগত বছরগুলোতে যেখানে ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই গম, গোল আলু ও পেঁয়াজের আবাদ সম্পন্ন হতো এবার তা মধ্য জানুয়ারী পেড়িয়েও অব্যাহত আছে অক্টোবর-নভেম্বরের অকাল বর্ষণের কারণে। ফলে ওই সব ফসলের উৎপাদন ও গুণগতমান ব্যাহত হওয়ারও সম্ভাবনা বাড়ছে।এর উপরে অগ্রহায়ণের বর্ষণ সব ফসলের জন্যই যথেষ্ট বিরুপ পরিস্থিতি তৈরী করে।

বর্ষায় বৃষ্টির আকালের পরে হেমন্তের অতি বর্ষণ ও অকাল বর্ষণের ধকল কাটিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিযোদ্ধারা শীতকালীন সবজি, বোরো, গোল আলু, গম ও পেঁয়াজ সহ অন্যান্য ফসল আবাদে লক্ষ্য অর্জনে মাঠে থাকলেও কুয়াশার সাথে শীতের দাপট সব কিছু লন্ডভন্ড করে দিচ্ছে। পৌষের শেষভাগ থেকে ঘন কুয়াশার সাথে তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের নিচে নামার পরে মাঘের প্রথম দিন, ১৫ জানুয়ারী বরিশালে তাপমাত্রার পারদ দেশের সর্বনিম্ন, ৯ ডিগ্রী সেলসিয়াসে নেমে যায়। যা ছিল স্বাভাবিকের ২.৯ ডিগ্রী নিচে। সাথে ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়া পরিস্থিতিকে আরো বিপর্যয়ে ঠেলে দিয়েছে। বরিশালে তাপমাত্রার পারদ ১৪ জানুয়ারী ১০.৫, ১৩ জানুয়ারী ১০.৭ ডিগ্রীতে নেমে যায়। প্রায় ৪৮ ঘন্টা পরে সোমবার সকালে বরিশালে সূর্যের দেখা মিললেও মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১টার আগে রোদে চোখে পড়েনি।

চলতি রবি মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ১৭ লাখ টন বোরো চাল উৎপাদনের লক্ষ্যে ৪ লাখ হেক্টরে আবাদের জন্য যে বীজতলা তৈরী হয়েছে, তা ‘কোল্ড ইনজুরী’র কবলে।অপরদিকে ১৫ লাখ টন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যে যে প্রায় ৭৫ হাজার হেক্টরে শীতকালীন সবজির আবাদ হয়েছে সেখানেও থাবা বসিয়েছে প্রতিকূল আবহাওয়া পরিস্থিতি। ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়া সহ শৈত্য প্রবাহের কনকনে ঠান্ডায় ফুল কপি ও বাধা কপি সহ বিভিন্ন সবজির উৎপাদন ব্যাহত হবার পাশাপাশি গুণগত মানও বিনষ্ট হচ্ছে। অপরদিকে প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার টন উৎপাদনের লক্ষ্যে চলতি রবি মৌসুমে যে প্রায় ৬০ হাজার হেক্টরে গম আবাদ হয়েছে তাও ঝুঁকির মুখে ছত্রাকবাহী ‘ব্লাষ্ট’ রোগের শংকায়। বর্তমান জলবায়ু পরিস্থিতি সহ আগামী দু-একদিনের মধ্যে বৃষ্টির যে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ, তা ব্লাষ্ট সংক্রমনের উপযোগী বলে মনে করছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষিবীদরা।

অপরদিকে চলতি মৌসুমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে প্রায় ১২ হাজার হেক্টরে ৩ লাখ টন গোল আলু উৎপাদনের লক্ষে আবাদ শেষ পর্যায়ে থাকলেও ঘন কুয়াশার সাথে শৈত্য প্রবাহ অব্যাহত থাকায় সেই ফসল ‘লেট ব্লাইট’ নামে এক ধরনের ছত্রাকবাহী রোগের সংক্রমন নিয়ে শংকিত কৃষকরা।

এমনকি অক্টোবর ও নভেম্বরে দু দফার অকাল ও প্রবল বর্ষণের কারণে পেঁয়াজের আবাদও অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে। চলতি মৌসুমে বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলের ১১ জেলার প্রায় ৯৩ হাজার হেক্টরে ১১ লাখ ৮২ হাজার টন পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্য স্থির রয়েছে। দেশে উৎপাদিত মোট পেঁয়াজের প্রায় ৩৩ শতাংশই উৎপাদন হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলে। গত বছর দেশে উৎপাদিত ৩৪.১৬ লাখ টন পেঁয়াজের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলেই সাড়ে ১১ লাখ টনেরও বেশী উৎপাদন হয়েছিল বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা জানান, আমরা পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষনিক নজর রাখছি। প্রতিটি এলাকার ব্লক সুপারভাইজারদের পরিস্থিতি বুঝে কৃষকদের যথাযথ পরামর্শ প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রতিটি ব্লক সুপারভাইজারদের কাজ নিয়মিত মনিটরিং করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।