২২ জেলায় বইছে শৈত্যপ্রবাহ, তাপমাত্রা কমতে পারে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  সর্বনিম্ন রাতের তাপমাত্রা দেশের উত্তরাঞ্চলে কিছুটা বেড়েছে। তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে কমে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের আওতা বেড়েছে। শনিবার (২৭ জানুয়ারি) দুই বিভাগ (১৬ জেলা) ও ছয় জেলাসহ মোট ২২ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে।

আগামী ২৪ ঘণ্টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। তবে এরপর রাতের তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করতে পারে। একই সঙ্গে চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও উত্তরাঞ্চলে এখনও শীতের তীব্রতা রয়েছে। তীব্র শীতে জনজীবনে জবুথবু অবস্থা। বিঘ্নিত হচ্ছে স্বাভাবিকতা।

তবে সারাদেশে ঘন কুয়াশা পরিস্থিতির ক্রমেই উন্নতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা

শুক্রবার সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। শনিবার সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বেড়ে হয়েছে ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তবে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি থেকে কমে হয়েছে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত রাতে ঢাকায় শীত অনেকটা বেড়ে গিয়েছিল।

শনিবার সকাল ৯টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাস তুলে ধরে আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী-অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং দেশের অন্যত্র কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন চলাচল ব্যাহত হতে পারে

তিনি আরও জানান, কিশোরগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, মৌলভীবাজার, যশোর, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা জেলাসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।

এ সময়ে সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলেও জানান আবুল কালাম মল্লিক।

রোববার সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। সোমবার সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। পরবর্তী পাঁচদিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা রয়েছে বলে পূর্বাভাসে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।




দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় কাঁপছে দিনাজপুর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  আবারো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় কাঁপছে দিনাজপুর। মৃদু শৈত্যপ্রবাহে কাবু এ অঞ্চলের মানুষ। দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এসময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ।




তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা




পটুয়াখালীতে শীতের তীব্রতা বেড়েছে

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: পটুয়াখালীতে ঘন কুয়াশার সঙ্গে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। এতে স্থবিরতা নেমে এসেছে শহর থেকে গ্রামাঞ্চলে।

মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলায় এ বছরের সর্বনিম্ন ১০.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস।

এদিকে ভোর থেকেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মতো ঝড়ছে ঘন কুয়াশা। বেলা বাড়লেও দেখা মিলছে না সূর্যের।

এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন সবজি চাষিরা। তীব্র শীতে ভোগান্তিতে পড়েছে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। চরম বেকায়দায় পড়েছে গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ শিকারি জেলেরা।

জেলার হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা।

পটুয়াখালী পৌর শহরের রিকশাচালক মোশারেফ হোসেন বলেন, আজকের মতো এতো শীত আর মনে হয়নি। শীতের সঙ্গে বাতাস আর ঘন কুয়াশাও রয়েছে। বেলা এগারোটায়ও আমরা সূর্যের দেখা পাইনি। আজকে হাটের দিন হওয়ার পরও সকাল দশটা পর্যন্ত একশ টাকাও ইনকাম করতে পারিনি।

শহরের আরেক ভ্যান চালক আব্বাস বলেন, সকালেই ভ্যান নিয়ে বের হয়েছি। কিন্তু এতো বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে যে ভ্যান চালানো তো দূরের কথা খোলা স্থানে দাঁড়িয়ে থাকা দায়। সকাল সকাল কোনো ক্ষ্যাপই মারতে পারিনি।

নিউমার্কেটের সবজি বিক্রেতা হারুন বলেন, এত এত কুয়াশা যে ভ্যানে করে যে সবজি আনব রাস্তা ঠিকমতো দেখা যায় না। আর যে ঠান্ডা ঘর থেকে বের হতে ইচ্ছা করে না। কিন্তু কি করুম দুইডা টাকা আয় করন তো লাগবে, নইলে খামু কি।

পুরান বাজারের মাছ বিক্রেতা বশির মোল্লা বলেন, যে ঠান্ডা পড়ে হের মধ্যে বরফ দেওয়া মাছের ঢোল মাথায় কইরা বাজারে আনতে হয়। মোগো সব হাত-পাও শক্ত হইয়া যায়, আর চলতো পারি না।

পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী বলেন, শীতের এই অবস্থা আরও অব্যাহত থাকতে পারে এবং কুয়াশা আরও বাড়তে পারে




দশমিনায় ভাঙছে নদী, কমছে ফসলি জমি

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় ফি বছর বাড়ছে মানুষ, বাড়ছে নতুন বাড়িঘর আর বুড়াগৌরাঙ্গ ও তেঁতুলিয়া নদীর অব্যাহত ভাঙনে কমছে ফসলি জমি।

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সরকারি- বেসরকারি উদ্যোগ থাকলেও সচেতনতার অভাবে উপজেলার জন্মনিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা আলোর মুখ দেখছে না। এখনো দুর্গম ও চরাঞ্চল এলাকার বসতিদের ধর্মান্ধ ও কুসংস্কার আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে। ফলে প্রতি বছর লোকসংখ্যা বৃদ্ধিতে নির্মাণ হচ্ছে নতুন নতুন বাড়িঘর। অপর দিকে নদী ভাঙন রোধের ব্যবস্থা না থাকায় শত শত একর জমি নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় কমে যাচ্ছে ফসলি জমি ।

সরেজমিন ঘুরে দশমিনা উপজেলার চর-বোরহান, চর-শাহজালাল ও চর হাদিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির অস্বাভাবিক চিত্র পাওয়া গেছে। এসব চরে প্রায় ১১ হাজার লোকের বসতি। প্রতি পরিবারে গড় লোকসংখ্যা ছয়-সাতজন। বেশি সন্তান বেশি উপার্জনে বিশ্বাসী চরবাসী জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহার করতে নারাজ। আধা সচেতন মায়েরা উপজেলা সদরে এসে গোপনে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি বা ইনজেকশন কিনে নেয়। তাও আবার স্বামী বা পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে ব্যবহার করতে হয় তাদের। জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি ব্যবহার করায় স্বামী কর্তৃক নির্যাতনের শিকারও হতে হয়। চরবোরহানে এমনই একজন নির্যাতিত নারীর সন্ধান পাওয়া যায়।

স্থানীয় আলম ফকিরের স্ত্রী ফেরেজা বেগম (৩৪)। তার বিয়ে হয় ১৩ বছর বয়সে। বাল্যবিয়ে হলেও ফেরেজা এখন তিন মেয়ে ও এক ছেলের জননী। তার স্বামী আরো সন্তান নিতে চায়।

এ চরের বারেক গাজীর স্ত্রী শাহিনুরের ছয় সন্তান, হেলেনার পাঁচ সস্তান। এদের প্রত্যেকের স্বামী আরো সন্তান নিতে চায়। তাদের ধারণা বেশি সন্তান হলে লাঠিয়ালদের হাত থেকে ফসল রক্ষা হবে, পাশাপাশি আয় রোজগার বেশি হবে।

চরশাহজালালের পাঁচ সন্তানের জননী হেলেনা বলেন, ‘পোলা মাইয়া জে দ্যায় হেয়ই ন্যয়ুইন্না মালিক, বন্দা অয়ুইন্না ওসুদ পত্তরে খোদায় ব্যারাজি অয় ও গুনা অয়।’ চরহাদির মাজেদা বিবি ছয় সন্তানের জননী। তার ছেলে নাই একটিও। তাই তিনি ছেলে না হওয়া পর্যন্ত যত সন্তান নিতে হয় ততবার নিবেন।

পরিসংখ্যান অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে জরিপে দশমিনা উপজেলায় ১ লাখ ২৩ হাজার ৩৮৮জন। বসতবাড়ির সংখ্যা ২৮হাজার ৪৯০টি ।

উপজেলা স্বাস্থ্য জরিপ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের জরিপে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে মোট লোকসংখ্যা ১ লাখ ৪৪ হাজার ২৯৮ জন। বসতবাড়ির সংখ্যা ৪৭ হাজার ৯১১টি। ফলে আট বছরে উপজেলায় লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ২০ হাজার ৯১০ জন। বাড়ির সংখ্যা বেড়েছে ১৯ হাজার ৪২১টি।

উপজেলার বুড়াগৌরাঙ্গ ও তেঁতুলিয়া নদীর র্তীরবর্তী এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক বছরে নদীর অব্যাহত ভাঙনে উপজেলার বীজ বর্ধন খামার, বাঁশবাড়িয়ার ঢনঢনিয়া, হাজির হাট, আউলিয়াপুর, চরঘূূর্ণী, চরহাদি ও চর-বোরহানসহ মোট এক হাজার ৭৯৪ একর জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। দেশের সর্ববৃহৎ বীজবর্ধন খামারের আওতায় ১ হাজার ৪৪ একর জমি থাকলেও এবার চাষাবাদ করা হয় ৩৫০ একর জমি। নদীতে বিলীন হয়ে গেছে ৬৯৪একর জমি।

দশমিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল মাহামুদ লিটন বলেন, চরহাদীতে বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছি।
তিনি আরো বলেন, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসে চরে নোনা পানি ঢুকে কৃষকের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে।

চরবোরহান ইউপি চেয়ারম্যান নজির আহমেদ সরদার বলেন, চরাঞ্চলে বেড়িবাঁধ না থাকায় ঝড় জলোচ্ছ্বাসে নদী ও সাগরের নোনা পানি রোধে চরাঞ্চলে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা একান্ত প্রয়োজন।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাফর আহমেদ বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে চরাঞ্চলে নোনা পানি ঢুুকে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

দশমিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাফিসা নাজ নীরা বলেন, পটুয়াখালী জেলা সভা ও দশমিনায় সমন্বয় সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্থানে জিওব্যাগের মাধ্যেমে ভাঙন রোধ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, চরাঞ্চলে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে। আর নদীর ভাঙন রোধে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে।

পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা – গলাচিপা) আসনের সংসদ সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা সাজু বলেন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার পাঠানো হয়েছে। নদীর ভাঙন রোধসহ বেড়িবাঁধের বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে।




চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা ৬.৬ ডিগ্রি, কমেছে ঢাকায়ও




রাতে বাড়বে শীত, ঢাকাসহ বহু জেলায় শৈত্যপ্রবাহ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  আগামী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকাসহ সারা দেশে তাপমাত্রা কমে শীত আরও বাড়বে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে রাজধানীতে শৈত্যপ্রবাহেরও আভাস দিয়েছে তারা।




তীব্র শীত ও তুষারপাতে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র, ৮৩ জনের প্রাণহানি

চন্দ্রদীপ ডেস্ক: সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আবহাওয়া বেশ শীতল হয়ে উঠেছে। তুষারপাতের পাশাপাশি চলছে বৃষ্টি ও ভারী বর্ষণ। দেশটিতে গত সপ্তাহে শীত-তুষারপাত ও ঝড়ে ৮৩ জনের প্রাণহাণি ঘটেছে। খবর সিবিএসের

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবহাওয়ার কারণে টেনেসিতে প্রাণ হারান ১৯ জন, ওরেগনে ১৬ জন এবং রাস্তায় চলমান একটি গাড়িতে ঝুলে পড়া বিদ্যুতের তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গাড়িটির ৩ আরোহী মারা যান।

এ ছাড়া মৃত্যুর খবর আসে ইলিনয়, পেনসিলভেনিয়া, মিসিসিপি, ওয়াশিংটন, কেনটাকি, নিউইয়র্ক, নিউ জার্সিসহ আরও কয়টি অঙ্গরাজ্য থেকে।

গত সপ্তাহে উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকা এবং দক্ষিণের কিছু অংশে তীব্র শীত জেঁকে বসে। এ সময় বাড়িঘর ও ব্যবসায়িক দপ্তরগুলো তীব্র ঠান্ডার কারণে উষ্ণ রাখতে গিয়ে বিদ্যুত উৎপাদনে রেকর্ড পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে।




৪ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ, শীতের সঙ্গে ফের বাড়তে পারে কুয়াশা

শনিবার (২০ জানুয়ারি) সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে। তাপমাত্রা ১০ বা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রয়েছে রাজশাহী (৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস), দিনাজপুর (৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ও নওগাঁ (বদলগাছীতে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস)। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে কমে হয়েছে ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গত কিছুদিন ধরে ঘন কুয়াশার কারণে দেশে শীতের তীব্রতা অনেক বেড়ে গিয়েছিল। দিনের বেশিরভাগ সময় সূর্যের দেখা পাওয়া যায় নি। তবে গত দু’দিন ধরে দেশের বেশিরভাগ অঞ্চল থেকেই কেটে যায় ঘন কুয়াশা। শুক্রবারের মতো শনিবার সকাল থেকেও ঢাকার আকাশে ঝলমলে রোদ। কিন্তু আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন কাল থেকেই ফের বাড়তে পারে ঘন কুয়াশা।

গত দুদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হালকা বৃষ্টিও ছিল। তবে চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে ফের বৃষ্টির দেখা মিলতে পারে বলেও জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হাতিয়ায় ৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার সকাল ৯টা থেকে আগামী ২৪ ঘন্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং তা দুপুর পর্যন্ত কোথাও কোথাও অব্যাহত থাকতে পারে।

নওগাঁ, দিনাজপুর ও মৌলভীবাজার জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা বিস্তার লাভ করতে পারে। সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলেও জানান এ আবহাওয়াবিদ।

আগামী রবি ও সোমবার কুয়াশা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে রোববার সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। সোমবার সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।




জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব: পটুয়াখালীতে ১০ বছরে কৃষিকাজ ছেড়েছে ৪০ হাজার পরিবার

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): বাপ-দাদার পেশা কৃষিকে আঁকড়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন ছিল নুরুল ইসলামের (৪০)। কিন্তু উপকূলে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে আবাদি জমিতে বছরের পর বছর ধরে ফলন কমে আসায় যে লোকসানের চক্রে পড়ে যান এক সময়ের স্বচ্ছল কৃষক নুরুল ইসলাম, তা থেকে আর বের হতে পারেননি তিনি। এক পর্যায়ে দেনার দায়ে জর্জরিত হয়ে ভিটেমাটি রেখে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয় এই কৃষক পরিবারটি।

নুরুল ইসলামের ভিটে ছিল পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার পশ্চিম সোনাতলা গ্রামে। সেখানে নিজের আড়াই একর জমিতে ধানসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করতেন তিনি। এখন তিনি স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে চট্টগ্রামে থাকেন। স্যানিটারি মিস্ত্রির কাজ করেন।

নুরুল ইসলামের মতো পাশের আদমপুর গ্রামের খলিলুর রহমানও চার বছর আগে কৃষিকাজ ছেড়েছেন।
খলিলুরের ভাষ্য, তার খেতে যে ধান হতো, তার অর্ধেকটাই চিটা হয়ে যেত। অধিক তাপমাত্রার কারণে ধান পরিপক্ব হতো না। এখন তিনি কৃষিকাজ বাদ দিয়ে কলাপাড়া উপজেলা শহরে স্যানিটারি মিস্ত্রির কাজসহ দিনমজুরি করে সংসার চালান।

একই এলাকার আরেক কৃষক সেলিম খান বলেন, ‘আগের তুলনায় তাপমাত্রা দিন দিন বাড়ছেই। এ কারণে বেশির ভাগ ধান চিটা হয়ে যাচ্ছে। চিটা ধান থেকে পাওয়া চাল ভালো দামে বিক্রি করা যায় না। আবার এ চালের ভাতে স্বাদ কম। তিতা লাগে। বাধ্য হয়ে তা হাঁস-মুরগিকে খাওয়াতে হয়।’
সেলিম আরও বলেন, ‘বেশি তাপমাত্রার কারণে এখন উৎপাদিত ধানের এক-তৃতীয়াংশ চিটা হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে আগের তুলনায় এখন ধানের কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের এ অঞ্চলের কৃষিকাজ এখনো বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। এখন আর সময়মতো বৃষ্টি হয় না। তাই ধানসহ অন্যান্য ফসলের স্বাভাবিক চাষাবাদ প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’

কৃষক নুরুল ইসলাম, খলিল ও সেলিম খানদের এমন সব ভাষ্যের সত্যতা মিলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে। পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা জানান, গত ছয় বছরে পটুয়াখালী জেলার গড় তাপমাত্রা বেড়েছে অন্তত সাড়ে চার ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০১৭ সালে এখানে গড় তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এখানকার গড় তাপমাত্রা ছিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট পটুয়াখালীর মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. সহিদুল ইসলাম খানও তাপমাত্রা বৃদ্ধিসহ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ার বিষয়ে সহমত পোষণ করেন।
সহিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার আবাদযোগ্য কৃষি জমিতে আগের তুলনায় লবণাক্ততা অনেকটাই বেড়েছে। ফলে কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত ফসল পাচ্ছেন না।’

এসব কারণে এ অঞ্চলে কৃষিকে এখন আর লাভজনক পেশা বলা যাচ্ছে না। অনেকেই পেশা বদল করে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।

পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানেও মিলেছে এর সত্যতা। গত বছর পটুয়াখালী জেলায় কৃষক পরিবারের সংখ্যা ছিল দুই লাখ ৬৬ হাজার ৬৩০। ১০ বছর আগে এ সংখ্যা ছিল তিন লাখ ছয় হাজার। অর্থাৎ এ সময়ে কৃষক পরিবারের সংখ্যা কমেছে প্রায় ৪০ হাজার বা ১৫ শতাংশ।