হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচতে যা করবেন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  গত কয়েক দিন ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এতে রীতিমতো বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। রাজধানী ঢাকায় ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। আগামী দিনে এই তাপপ্রবাহ আরও বাড়বে বলে সতর্ক করে দিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর। অসহনীয় এই গরমে ঘরে-বাইরের কাজ সামলে সুস্থ থাকাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকে। এ সময় সবচেয়ে বেশি ভয় হিটস্ট্রোক বা সানস্ট্রোকের। তবে হিটস্ট্রোক হওয়ার আগে পূর্বাভাস পাওয়া যায়। সর্তক হতে হয় সে সময়েই।



গরমে ঘেমে  যাচ্ছেন? মেনে চলুন কয়েকটি নিয়ম

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  ঘামের দাগে পোশাকের সৌন্দর্যও নষ্ট হয়ে যায়। যাঁদের রোজ বাইরে বেরোতে হয়, এই বিষয়ে তাঁদের নজর দেওয়া জরুরি। কিছু বিষয় মাথায় রাখলে সমস্যা হবে না।

গরমের সবে শুরু। বৈশাখের প্রথমেই দাপট দেখাতে শুরু করেছে গ্রীষ্মকাল। হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, গরমের তীব্রতা আরও বাড়বে। আপাতত ঝেঁপে বৃষ্টি কিংবা কালবৈশাখীর কোনও সম্ভাবনা নেই। অগত্যা ঘামে ভিজে যাওয়া ছা়ড়া আর উপায় নেই। পোশাক ঘামে ভিজে দেখতে যেমন খারাপ লাগে, তেমনই ঠান্ডা লেগে যাওয়ারও সম্ভাবনা থাকে। তা ছাড়া ঘামের দাগে পোশাকের সৌন্দর্যও নষ্ট হয়ে যায়। যাঁদের রোজ বাইরে বেরোতে হয় এই বিষয়ে তাঁদের নজর দেওয়া জরুরি। কিন্তু এত কাজের মধ্যে আর আলাদা করে ঘাম নিয়ে ভাবার অবকাশ পাওয়া যায় না। তবে ছোটখাটো কিছু বিষয় মাথায় রাখলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

১) জামা থেকে ঘামের দাগ তোলা সহজ নয়। কালো, নীল রঙের পোশাকে ঘামের দাগ অত্যন্ত স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যাঁরা খুব বেশি ঘামেন, তাঁরা গরমে এই রঙের পোশাক পরা এড়িয়ে চলুন।

২) গরমে অনেক পুরুষই জামার ভিতরে গেঞ্জি পরেন না। তাতে গরম কম লাগে ঠিকই। তবে সুতির গেঞ্জি পরে নিলে ঘামের দাগ জামায় লাগে না। ঘামে ভিজে পোশাক নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কম।

৩) গরমে এমনি টি-শার্টের বদলে স্পোর্টস টি-শার্ট পরতে পারেন। এই সব টি-শার্টে ফ্যাব্রিক ব্যবহার করা হয়। যা খুব সহজেই ঘাম ত্বকের উপরিভাগে নিয়ে আসে।

৪) গরমে পা ঢাকা জুতো না পরাই শ্রেয়। রোদে পুড়ে ট্যান পড়ে যাওয়ার ভয়ে অনেকেই এমন জুতো পরেন। তবে এতে পা ঘামে বেশি। গরমও বেশি লাগে।




চট্টগ্রামে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত




প্রাথমিকের পর এবার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৫ দিন বন্ধ ঘোষণা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে আগামী ২৫ এপ্রিল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। তবে যেহেতু এরপর শুক্র-শনিবার রয়েছে তাই বন্ধটা টানা ৭ দিনে গিয়ে ঠেকছে। আগামী ২৮ এপ্রিল থেকে খুলবে স্কুল-কলেজ।

শনিবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পৃথক বিবৃতিতে বিষয়টি জানিয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মন্ত্রণালয় তাদের বিবৃতিতে বলেছে, চলমান তাপপ্রবোহের কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাথে পরামর্শক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সকল স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগামী ২৫ এপ্রিল ২০২৪ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে আবহাওয়া পরিস্থিতি পরিবর্তন সাপেক্ষে এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হতে পারে।




তাপপ্রবাহ আরও তিন দিন 




বরিশালসহ চার বিভাগে আজ বৃষ্টির আভাস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ঢাকা, সিলেট, ফেনী ও ভোলাসহ কয়েক জেলায় বুধবার বিকালে বৃষ্টি হয়েছে। আজও ঢাকা, বরিশাল, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েক জায়গায় দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে। ওই বৃষ্টির প্রভাবে আজ তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। তবে এতে জনমনে স্বস্তি ফিরবে না। কারণ বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্য থাকায় বাড়বে ভ্যাপসা গরম। এই অবস্থা ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ২০ এপ্রিল থেকে আবারও তাপমাত্রা বাড়বে। বুধবার সন্ধ্যায় এমনই পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বুধবার বিকালে বৃষ্টির আগ পর্যন্ত সারা দেশে তীব্র গরম ছিল। দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়। সেখানে ৪০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল। ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ফেনীতে ২৪ মিলিমিটার। ঢাকায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৭ মিলিমিটার।

আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ জানান, কয়েক জায়গায় বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কিছুটা কম রয়েছে। তবে তা স্থায়ী হবে না। বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্য থাকায় মানুষের মধ্যে অস্বস্তি বিরাজ করছে।

শুক্র ও শনিবার চট্টগ্রাম এবং সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। বিরাজমান তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। ২০ এপ্রিল থেকে দেশে তাপমাত্রা আবারও বাড়বে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।




পানিতে ভাসছে দুবাই, মরুশহরের কেন এই বিপর্যয়?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত মধ্যপ্রাচ্যের দেশ আরব আমিরাত। গত ৭৫ বছরে এত বৃষ্টিপাত দেখেনি দেশটির মানুষ। এতে প্রধান বাণিজ্যিক শহর দুবাইয়ের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। সেখানে সৃষ্টি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। ডুবে গেছে রাস্তাঘাট, শপিংমল। এমনকি তলিয়ে গেছে বিমানবন্দরও। এতে পৃথিবীর অন্যতম ব্যস্ততম বিমানবন্দরটিতে ফ্লাইট ওঠানামা বিঘ্নিত হচ্ছে। অনেক বিমান সংস্থা তাদের ফ্লাইট বাতিল করেছে।

পশ্চিম এশিয়ার অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গণ্য করা হয় দুবাইকে। কিন্তু প্রবল ঝড়-বৃষ্টির জেরে যে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে, তাতে এই মুহূর্তে থমকে রয়েছে যাবতীয় কাজকর্ম। দুবাই মল এবং মল অফ দ্য এমিরেটসে ঢুকে গেছে পানি। পানিতে তলিয়ে গেছে মেট্রো স্টেশনও। কোথাও কোথাও হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে রয়েছে। নৌকায় চেপে পার হতেও দেখা গিয়েছে মানুষজনকে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ছবি এবং ভিডিও সামনে এসেছে দুবাইয়ের, তাতে পানিতে খেলনার মতো ভাসতে দেখা গিয়েছে দামি গাড়িকে। রাস্তাঘাট সব জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। গগনচুম্বী বিল্ডিংগুরোর সামনেও পানি থৈ থৈ অবস্থা। দুবাই বিমানবন্দরে নামার কথা থাকলেও বিপর্যয়ের জেরে একাধিক বিমানকে অন্যত্র ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

এই মুহূর্তে যা পরিস্থিতি, তাতে বুধবারও দুবাইয়ে পরিস্থিতি উন্নতির কোনো লক্ষণ নেই। স্কুল-কলেজ আপাতত বন্ধ। আমিরাতের আল আইন এবং সৌদির আল হিলালের মধ্যে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফুটবল সেমিফাইনাল ম্যাচেও আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে। ঝড়-বৃষ্টির জেরে ম্যাচ ২৪ ঘণ্টার জন্য স্থগিত রাখা হয়।

তেলসমৃদ্ধ আমিরাত একটি মরুদেশ। সেখানে বৃষ্টির দেখাই পাওয়া যায় না। কৃত্রিমভাবে বৃষ্টিপাত ঘটাতে হয়। তাই আচমকা ভারী বৃষ্টি, বন্যা কেন সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এর জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকেই দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। জলবায়ু পরিবর্তনের জেরেই আবহাওয়ার আচরণ খামখেয়ালি বলে দাবি তাদের।

জলবায়ু পরিবর্তনের জেরেই এমন পরিস্থিতি বলে জানিয়েছে আমিরাতের সরকারও। আগামী দিনে প্রায়শই এমন ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা তাদের।

তবে দুবাইয়ের এই বন্যা পরিস্থিতির জন্য বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ ‘ক্লাউড সিডিং’-কেই দায়ী করেছেন। তারা বলছেন, অত্যাধুনিক এই প্রযুক্তির কারণেই বানভাসি হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বাণিজ্যিক শহর দুবাই।

বিশ্বের মধ্যে অন্যতম উষ্ণতম এবং শুষ্ক মরু অঞ্চল হলো সংযুক্ত আরব আমিরাত। সেখানে বৃষ্টি প্রায় হয় না বললেই চলে। আর সেই কারণেই বৃষ্টির পরিমাণ বাড়াতে ‘ক্লাউড সিডিং’ প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হয়েছে। যার ফলে কৃত্রিম বৃষ্টি তৈরি করা যায়। এই প্রযুক্তির আসল উদ্দেশ্য হলো, মরু এলাকায় পানির ঘাটতি মেটানো।

এমনিতে বছরে দুবাইয়ে গড়ে ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। সেই তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টাতেই ৮০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে। গত ৭৫ বছরের ইতিহাসে মঙ্গলবারই সর্বাধিক বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে আমিরাতের সরকার।

দেশের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, গত ৭৫ বছরে এত পরিমাণ বৃষ্টি দেখা যায়নি। খতম আল-শকলায় ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ২৫৪.৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। দেড় বছরে যে বৃষ্টি হয়, তা একদিনে হয়ে গিয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ ইঞ্চি পানি জমে যায়।

আবহাওয়া বিভাগের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে। বন্যাদুর্গত এবং জলমগ্ন এলাকা থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে সবাইকে।




তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যাবে!

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : তীব্র গরমে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় জনজীবন যখন অস্থির হয়ে উঠেছে, তখন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের কিছু জায়গায় বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসলেও সেটি খুব বেশি স্থায়ী হবে না বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

গত কয়েক বছর যাবত দেখা যাচ্ছে, বৈশাখ মাসের এই সময়টিতে তাপমাত্রা এ রকম থাকে এবং এবারো সেটির ব্যতিক্রম হয়নি।

এপ্রিল মাসে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মনে উদ্বেগও বাড়ছে। সাধারণত দেখা যায়, গরম বাড়লে বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দেয়।

এমন অবস্থায় আবহাওয়া অধিদফতর যে পূর্বাভাস দিচ্ছে সেটি গরম নিয়ে দুশ্চিন্তা আরো বাড়িয়ে তুলছে।

আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, আগামী ২০ এপ্রিলের পরে গরমের তীব্রতা আরো বৃদ্ধির পূর্বাভাস করা হচ্ছে।

‘আগামী ২০ তারিখের পর বিভিন্ন জায়গায় গরমের ব্যাপ্তি আরো বাড়বে,’ আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

দেশের কিছু জায়গায় ইতোমধ্যে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এসব জায়গা হচ্ছে – রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গা।

আবহাওয়া অধিদফতর বলেছে, মৃদু তাপপ্রবাহে তাপমাত্রা থাকে ৩৬ ডিগ্রি থেকে ৩৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এবং মাঝারি তাপপ্রবাহে তাপমাত্রা থাকে ৩৮ ডিগ্রি থেকে ৩৯.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তাপ প্রবাহের তেমন কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছে না আবহাওয়া অধিদফতর।

আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বলেছেন, কয়েকদিন পরে ময়মনসিংহ, সিলেট এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কিছু জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। তবে তাতে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা কম বলে তিনি উল্লেখ করেন।

‘যে বৃষ্টিপাত হবে তাতে গরমের তীব্রতা কমবে না। গরমের তীব্রতা কমে আসার জন্য যে ধরনের বৃষ্টিপাত প্রয়োজন সেটির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না,’ বলেন তিনি।

আজ (১৭ এপ্রিল) চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্ত শিলাবৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়া বিভাগ বলেছে, গত বছরের ১৬ এপ্রিল ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল। তখন তাপমাত্রা ছাড়িয়েছিল ৪০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী সপ্তাহ নাগাদ ঢাকার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছুঁতে পারে বলে ধারণা করছেন আবহাওয়াবিদরা।

ছবি ও কনটেন্ট বিবিসি বাংলার সৌজন্যে। 




বেড়েই চলছে গরমের তীব্রতা, নিম্নআয়ের মানুষ দিশেহারা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে হঠাৎ করেই প্রচন্ড ভ্যাপসা গরমে দিশেহারা মানুষ। গত এক সপ্তাহ ধরে বেড়েই চলছে গরমের তীব্রতা। সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেই প্রখর রোদ আর গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। সেই সাথে পশুপাখিগুলোর হাঁসফাঁস অবস্থা। তাই গরম থেকে রক্ষা পেতে পানির ট্যাব বা পানি দিয়ে হাত মুখ ধুয়ে শরীর ভিজিয়ে ঠান্ডা করছে মানুষ।

গত দু’দিন সোমবার ও মঙ্গলবার বছরের সর্বোচ্চ গরম অনুভূত হয়েছে জেলার কলাপাড়া উপজেলায়।

আরো পড়ুন : গরুসহ আটক ২, ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় চুরির মামলা

তীব্র গরমের কারনে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় পর্যটক অনেকটা কমে গেছে । তবে একটু স্বস্তির আশায় ডাব ও শরবতের দোকানে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

গতকাল দেশের সর্বোচ্চ ৪০.২ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে খেপুপাড়া আবহাওয়া অফিস।

এদিকে প্রচন্ড খড়তাপে মাঠ ঘাট ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। তপ্ত রোদে মৌসুমী সবজী চাষিরা রয়েছেন বড় দুশ্চিন্তায়। এছাড়া ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। হাসপাতালে বেড়েছে গরম জনিত রোগীর সংখ্যা। অধিকাংশই শিশু ও বৃদ্ধ। তবে দুই এক দিনের মধ্যে বৃষ্টির হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

ভ্যানচালক চালক সোবাহান মিয়া বলেন, রোদের তীব্র তাপ। তাই ভ্যান চালানো বন্ধ রেখেছেন তিনি।

পর্যটক মাহিন বলেন, হোটেল থেকে বের হয়ে সৈকতে গিয়ে ছিলাম। কিন্তু ভ্যাপসা গরমে শরীর ঘেমে একাকার হয়ে গেছে। কোনো উপায় না পেয়ে ডাব খেয়েছি। তাতেও তৃষ্ণা মিটছে না।

আরো পড়ুন : শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যু

নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষক কবির হোসেন বলেন, সে বিভিন্ন রকমের শাক-সবজি চাষ করেছেন। রোদের তেজে শুকিয়ে যাচ্ছে ক্ষেত। বৃষ্টি না হলে তিনি বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে জানিয়েছেন।

খেপুপাড়া আবহাওয়া আফিসের সিনিয়ার অবজারভার অফিসার মো. জিল্লুর রহমান জানান, গতকাল সোমবার সর্বোচ্চ ৪০.২ ডিগ্রী ও মঙ্গলবার বিকেল ৩ টা পর্যন্ত ৩৮.৪ ডিগ্রী তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে, তাপমাত্রা কম বেশি হতে পারে।




৫৪ জেলায় বইছে দাবদাহ হাঁসফাঁস জনজীবন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : পয়লা বৈশাখ থেকে প্রচণ্ড দাবদাহে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সারা দেশের জনজীবন। গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা সাধারণ মানুষের। রাজধানীসহ দেশের ৫৪ জেলায় বইছে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ। গরমের দাপটে নাভিশ্বাস অবস্থা। বয়ে যাওয়া তীব্র তাপদগ্ধের কারণে চরম বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। প্রচণ্ড দাবদাহের কারণে তাদের রাস্তায় বের হয়ে কাজ করতে চরম কষ্ট হচ্ছে। এই বৈশাখ জুড়ে টানা গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার শঙ্কার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, চড়তে থাকবে তাপমাত্রা, বাড়বে আরও গরম। ২০২৩ সাল ছিল পৃথিবীর ইতিহাসের উষ্ণতম বছর। গত বছরের সেই উষ্ণতা এবার ছাড়িয়ে যাবে। এবার পুরো মৌসুমে তাপমাত্রা বেশি থাকবে। এর মধ্যে এই এপ্রিলে গরমের তীব্রতা পৌঁছাতে পারে সর্বোচ্চ পর্যায়ে।

আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, দেশের অধিকাংশ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তাপপ্রবাহের তীব্রতা গতকাল সোমবার আরো বেড়েছে। থার্মোমিটারের পারদ বলছে, তাপমাত্রা ছাড়িয়েছে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় ৪০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন রোববার (১৪ এপ্রিল) দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল রাঙামাটিতে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আগের দিন ছিল ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে জলীয় বাস্পের পরিমাণ বেশি হওয়ায় গরমে অস্বস্তি আরও বাড়ছে। ২০২৩ সালের তুলনায় এ বছর তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। বাংলাদেশে সাধারণত মার্চ থেকে মে মাসকে বছরের উষ্ণতম সময় ধরা হয়। এর মধ্যে এপ্রিল মাসেই সাধারণত তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে। নির্বিচারে গাছ কাটা, জলাশয় ভরাট করা, এসির অত্যধিক ব্যবহারের কারণে রাজধানীর তাপমাত্রা বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের গত কয়েক দিনের পূর্বাভাসের দিকে লক্ষ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে এখন বেশি তাপমাত্রা বিরাজ করছে। এর কারণ বাংলাদেশের ওই অঞ্চলের দিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, উত্তর প্রদেশ ইত্যাদি রাজ্যের অবস্থান। কিন্তু এসব প্রদেশের তাপমাত্রা অনেক বেশি। এসব জায়গায় বছরের এই সময়ে তাপমাত্রা ৪২ থেকে ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করে। ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, গত বছর ভারতের ঐ সব অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৫২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যেহেতু ওগুলো উত্তপ্ত অঞ্চল, তাই ওখানকার গরম বাতাস চুয়াডাঙ্গা, যশোর, কুষ্টিয়া, রাজশাহী হয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে এবং তা আমাদের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। বিগত বছরের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে এটা প্রতীয়মান হচ্ছে, ২০২৪ সাল উত্তপ্ত বছর হিসেবে যাবে। আমরা এ বছর তাপপ্রবাহের দিন ও হার বেশি পেতে যাচ্ছি।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তাপমাত্রা যদি ৩৬ থেকে ৩৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়, তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলে। ৩৮ থেকে ৩৯.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ বলা হয়। আর অতি প্রচণ্ড হয় ৪২ ডিগ্রি বা এর বেশি হলে। বর্তমানে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৪০ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করছে।