অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহে পর্যটকশূন্য কুয়াকাটা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: অস্বাভাবিক তাপমাত্রার কারণে এবং অসহ্য গরমে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে পর্যটনকেন্দ্র সাগরকন্যা কুয়াকাটা। কোথাও নেই পর্যটকদের কোলাহল। সৈকতজুড়ে শুধু ধু ধু বালুচর। দীর্ঘ ১৮ কিলোমিটার সৈকতজুড়ে বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা। দীর্ঘ সরকারি ছুটিতেও মিলছে না পর্যটক।

স্থানীয় ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তারা বলেছেন, অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহের কারণে এবার পর্যটক কমেছে।
প্রতিদিন এখানে অনেক দর্শনার্থীর আগমন ঘটত। সকাল, দুপুর, বিকাল কিংবা গভীর রাত পর্যন্ত পর্যটকদের পদচারণায় সাগরতট থাকত মুখরিত। পর্যটন স্পট গুলোতেও ছিল পর্যটকের উপচেপড়া ভিড়। সাগরের ঢেউ গর্জন করে তীরে আছড়ে পড়ছে। দেখলে মনে হয় যেন এসব মনোরম দৃশ্য দেখার কেউ নেই। কিছু পর্যটক থাকলেও তারা দিনের বেলা হোটেল থেকে বের হচ্ছে না প্রচণ্ড গরমের কারণে। পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো হয়ে পড়েছে একেবারে গ্রাহকহীন। 

এ দিকে কলাপাড়াসহ উপকূলজুড়ে অসহ্য তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বৈদ্যুতিক পাখার বাতাসেও মিলছে না স্বস্তি।

কুয়াকাটা সৈকতে চটপটি বিক্রেতা আলামিন বলেন, ঈদুল ফিতর ও বৈশাখ উপলক্ষে অনেক পর্যটকের ভিড় ছিল। এখন অস্বাভাকি তাপপ্রবাহের কারণে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ১ মাসে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৩ হাজার

হোটেল গ্র্যান্ড সাফা ইনে ম্যানেজার মো: সাইদুর রহমান জানান, প্রচণ্ড গরমের কারণে কুয়াকাটা পর্যটক নেই। বর্তমানে হোটেলের বিদ্যুৎ বিল ও কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ বলেন, গরমে পর্যটক এসে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন। যে কারণে মানুষ এসে টিকতে পারছেন না। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কিছু ট্যুরিস্ট আসছিল এরপর থেকে প্রচণ্ড গরমের কারণে বর্তমানে হোটেল-মোটেলের সিট ফাঁকা রয়েছে। সাগরের পাড়ে এসে মানুষ উত্তাপে টিকতে পারছে না। লবণাক্ত পানিতে শরীর শুষ্ক হয়ে যাচ্ছে।




আবহাওয়ার পূর্বাভাসে সুখবর নেই

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : এ মাসের মধ্যে ভারি বৃষ্টি বা গরম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই, বলছেন আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির।

দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় চলমান তাপপ্রবাহে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠলেও শিগগিরই কোনো সুখবর মিলছে না।

আগের দুইদিন থার্মোমিটারে পারদ খানিকটা নিচে নামলেও মঙ্গলবার থেকে ফের তাপমাত্রা বাড়ার আভাস রয়েছে।

সেইসঙ্গে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে ঢালাওভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি কিংবা গরম কমারও কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির।

মঙ্গলবার  তিনি বলেন, “আজকে তাপমাত্রা বাড়বে। সামনে এ ধারাটা অব্যাহত থাকবে৷ এই মাসের মধ্যে ঢালাওভাবে বৃষ্টি বা গরম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।”

চলমান তাপপ্রবাহের মধ্যেই সোমবার আরো তিন দিনের সতর্কবার্তা জারি করেছে আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়ার সবশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, “দেশের ওপর দিয়ে চলমান মৃদু থেকে তীব্র ধরনের তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে অস্বস্তি বাড়তে পারে।”

রোববার তাপমাত্রা সামান্য কমলেও তাপপ্রবাহের বিস্তার বেড়ে ছড়ায় ৫১ জেলায়। রোববার চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সোমবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা আরো কমে। এদিন খুলনা, যশোর ও চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বোচ্চ ৪০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। রাজধানীতে রেকর্ড করা হয় ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বাতাসে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম হলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ ধরা হয়। ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম তাপমাত্রাকে বলা হয় মাঝারি এবং ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম তাপমাত্রাকে তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়। আর তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রির উপরে উঠলে তাকে বলা হয় অতি তীব্র তাপপ্রবাহ।

মঙ্গলবারের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কৃষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আর ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজার ও রাঙামাটি জেলাসহ ঢাকা, রংপুর ও বরিশাল বিভাগ এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অবশিষ্টাংশের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।

“সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে অস্বস্তি বিরাজ করতে পারে।”

মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের দুয়েক জায়গায় দমকা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। বিক্ষিপ্তভাবে কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টি হতে পারে।

দেশের অন্য এলাকায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ সোমবার  বলেন, “সপ্তাহখানেক পর বড় ধরনের ঝড়বৃষ্টি হলে জনজীবনে স্বস্তি মিলতে পারে৷”

প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস অবস্থার মধ্যে গত কয়েক দিনে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। হিট স্ট্রোকে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকদের ধারণা।

তীব্র গরমের কারণে স্কুল-কলেজে সাত দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে ক্লাস চালানোর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

 




ঢাকাসহ ৪ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ঢাকাসহ দেশের চারটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।




আরো ৩ দিন বাড়তে পারে তাপমাত্রা 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :  দেশের বেশিরভাগ এলাকাজুড়ে বয়ে চলা মৃদু থেকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে আরো তিন দিনের সতর্কবার্তা জারি করেছে আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ  বলেন, রোববারের মত সোমবারও তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। তবে মঙ্গলবার থেকে তাপমাত্রা ফের বাড়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

“আকাশে মেঘ আছে, তাই সামান্য কমতে পারে তাপমাত্রা; কালকে থেকে আবার বাড়বে৷ সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামে হালকা বৃষ্টি হতে পারে৷ এছাড়া অন্য জায়গায় বৃষ্টির তেমন সম্ভাবনা নেই৷”

চলমান তাপপ্রবাহ আরো ৭২ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, “বাতাসে জলীয়বাষ্পের আধিক্যের কারণে এ সময় গরমে অস্বস্তি বাড়তে পারে। সপ্তাহখানেক পর বড় ধরনের ঝড়বৃষ্টি হলে জনজীবনে স্বস্তি মিলতে পারে৷”

চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় শনিবার; সেদিন যশোরে থার্মোমিটারের পারদ উঠেছিল ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আর ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

রোববার তাপমাত্রা সামান্য কমলেও তাপপ্রবাহের বিস্তার বেড়ে ছড়িয়েছে ৫১ জেলায়। রোববার চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সোমবার সকালে আবহাওয়ার বুলেটিনে বলা হয়েছে, পাবনা ও চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তীব্র তাপপ্রবাহ বইছে রাজশাহী, টাঙ্গাইল, যশোর ও কুষ্টিয়ার ওপর দিয়ে।

এর বাইরে মৌলভীবাজার, চাঁদপুর জেলাসহ ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অবশিষ্টাংশ এবং রংপুর, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। রোববার সারাদিনই এই ধারা চলতে পারে।

দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমার সম্ভাবনা থাকলেও রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বাতাসে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম হলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ ধরা হয়। ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম তাপমাত্রাকে বলা হয় মাঝারি এবং ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম তাপমাত্রাকে তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়। আর তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রির উপরে উঠলে তাকে বলা হয় অতি তীব্র তাপপ্রবাহ।

এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে তাপপ্রবাহ শুরু হয়। শনিবার তা কয়েক জেলায় অতি তীব্র তাপপ্রবাহের রূপ পায়।

তীব্র গরমের কারণে স্কুল-কলেজে সাত দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে ক্লাস চালানোর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস অবস্থার মধ্যে রোববার মেহেরপুর, সিলেট ও নরসিংদীতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার মৃত্যু হয়েছিল অন্তত দুইজনের। হিট স্ট্রোকে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে চিতিৎসকদের ধারণা।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা ও ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃদ্ধি হতে পারে। দেশের বাকি অংশে আকাশ আংশিক মেঘলা এবং আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। মঙ্গল ও বুধবার তাপমাত্রা বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।




তাপপ্রবাহ অব্যাহত, ৩ দিনের হিট অ্যালার্ট জারি

দেশের ওপর দিয়ে চলমান তাপপ্রবাহ সোমবার (২২ এপ্রিল) থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে বলেও তাপপ্রবাহের সতর্কবার্তায় (হিট অ্যালার্ট) জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে অস্বস্তি বাড়তে পারে বলেও সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে।

রোববার ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কম ছিল। রোববার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল চুয়াডাঙ্গায়। এছাড়া সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ঈশ্বরদীতে ৪২, টাঙ্গাইলে ৪০ দশমিক ৪, যশোরে ৪০ দশমিক ২, কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ৪০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল।

সোমবার সকাল ৯টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ জানান, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলা বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

এ সময়ে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে অস্বস্তি বিরাজ করতে পারে।

পাবনা ও চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। রাজশাহী, টাঙ্গাইল, যশোর ও কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। শ্রীমঙ্গল ও চাঁদপুর জেলাসহ ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অবশিষ্টাংশ এবং রংপুর, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানিয়েছেন বজলুর রশিদ।

তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার সিলেট অঞ্চলের দু-এক জায়গায় ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে। মঙ্গলবার এবং বুধবার দিনের তাপমাত্রা বাড়তে পারে।




কুয়াকাটায় বাতিল হচ্ছে হোটেল-রিসোর্টের অগ্রিম বুকিং

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: অতিরিক্ত তাপমাত্রায় পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরা হোটেল-রিসোর্টের অগ্রিম বুকিং বাতিল করছেন। কেউ কেউ দুই-তিনদিন থাকার জন্য এসে গরমে একদিন থেকে ফিরে যাচ্ছেন। এতে কাঙ্ক্ষিত পর্যটক পাচ্ছেন না পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

কুয়াকাটার বেশ কয়েকটি হোটেল মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদ পরবর্তী লম্বা একটি সময় কুয়াকাটায় পর্যটকদের আগমনে সরগরম থাকে। তবে প্রতি বছরের চেয়ে এ ঈদের পর অসংখ্য পর্যটকদের আগমন থাকলেও হঠাৎ ভাটা পড়ে। অতিরিক্ত দাবদাহের কারণে আগত পর্যটকরা দ্রুত চলে যাচ্ছেন।

আরো পড়ুন : তাপদাহে অসহনীয় পটুয়াখালীর জনজীবন

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ এসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ জানান, অগ্রিম বুকিং করা পর্যটকরা পরিবারের শিশু-বৃদ্ধদের চিন্তা করে সেটি বাতিল করছেন। প্রতিটি ঈদের পর আমরা প্রথম সপ্তাহ পুরোপুরি বুকিং পাই, দ্বিতীয় সপ্তাহে ৫০-৭০ শতাংশ বুকিং থাকে। এভাবে কমপক্ষে ২৫ দিন আমরা পর্যটকদের সরগরমে ব্যস্ত থাকি। তবে এ ঈদের পরে হঠাৎ পর্যটকদের অবস্থা ২০-৩০ শতাংশে চলে এসেছে।

বরিশাল থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক মো. শাহ আলম জানান, তিন সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে কুয়াকাটায় এসেছি। ২-৩ দিন থাকতে চেয়েছি কিন্তু একদিন থাকার পরে মনে হচ্ছে এখানে আর থাকা সম্ভব নয়।

হোটেল সমুদ্র বাড়ি রিসোর্টের পরিচালক নজরুল ইসলাম সজিব জানান, আমাদের হোটেলে ঈদের পরে বেশ ভালো অগ্রিম বুকিং পেয়ে থাকি।
তবে প্রতি বছর ঈদ পরবর্তী এমন সময়ে হোটেলের প্রায় ৫০-৬০ শতাংশ কক্ষ বুকিং থাকে। কিন্তু এ বছর মাত্র ১০ শতাংশ বুকিং রয়েছে। দুদিন আগে বুকিং দেওয়া চারটি রুম দুটি পরিবার আজকে বাতিল করেছে। তারা বলছে অতিরিক্ত গরমের কারণে শিশু ও পরিবারের লোকজন নিয়ে নিরাপদ মনে না করায় এ বুকিং বাতিল করা হয়েছে।

ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) সেক্রেটারি জেনারেল জহিরুল ইসলাম জানান, ঈদ পরবর্তী সময়কে আমরা পর্যটক মৌসুমের একটি বড় সময় ধরে থাকি। এ বছর মৌসুমে পর্যটক আসা শুরু করলেও অতিরিক্ত তাপমাত্রা সবকিছু এলোমেলো করে দিয়েছে।

আরো পড়ুন : দশমিনায় নদীতে ভেসে আসা যুবকের পরিচয় সনাক্ত

কুয়াকাটায় প্রায় ২০০ আবাসিক হোটেল-রিসোর্ট রয়েছে তার মধ্যে ৪০-৫০ শতাংশ হোটেলে কক্ষে এসি থাকে। সব পর্যটকরা তো আবার এসিতেও থাকে না। সব মিলিয়ে এ পর্যটক কমে যাওয়া ব্যবসায়ীদের জন্য একটি বড় ক্ষতির কারণ।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র আবহাওয়া পর্যবেক্ষক মো. জিল্লুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। কয়েকদিন ধরে এর আশপাশে অবস্থান করছে তাপমাত্রা। আগামীতে আরও এক সপ্তাহ এ অবস্থা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ জানান, পর্যটকদের বারবার মাইকিং করে সাবধানে থাকতে বলা হচ্ছে। এছাড়াও আমাদের সদস্য বাড়তি নজরদারি রাখছে যাতে কোনো পর্যটক অসুস্থ হলেও দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া যায়।




তাপদাহে অসহনীয় পটুয়াখালীর জনজীবন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বৈশাখের তপ্ত তাপদাহে দক্ষিণের জনপদের মাঠঘাট ফেটে চৌচির। শুকিয়ে গেছে পুকুর জলাশয়। প্রচণ্ড গরম ও পানির সংকটে অসহনীয় হয়ে উঠেছে মানুষ ও পশুপাখির জীবন। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় সেচের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে আউশ ও বোরো আবাদ। দিশেহারা পটুয়াখালীসহ দক্ষিণ জনপদের কৃষক।

এদিকে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় ৪৫ দশমিক ১৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৮ মিলিমিটার, ফেব্রুয়ারিতে ১৬ মিলিমিটার, মার্চে ১০ দশমিক ৮ মিলিমিটার এবং ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ১১ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়, যা গত বছরের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। ২০২৩ সালে জানুয়ারি-এপ্রিল জেলায় ৯৬ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। গতকাল রোববার পটুয়াখালীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পটুয়াখালী আবহাওয়া অধিদপ্তর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আরো পড়ুন : দশমিনায় নদীতে ভেসে আসা যুবকের পরিচয় সনাক্ত

পটুয়াখালী আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী জানান, আগামী ৭২ ঘণ্টা আবহাওয়ার এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে। সামান্য বৃষ্টিপাত হলেও তাতে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা নেই বলে জানান এ কর্মকর্তা।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ২৮ থেকে ৩৪ ফুট নিচে নেমে গেছে। এর মধ্যে বদরপুরে ৩৪ ফুট, ইটবাড়িয়ায় ৩০ ফুট, কালিকাপুরে ২৯ দশমিক ৬ ফুট, মাদারবুনিয়ায় ২৯ ফুট, জৈনকাঠিতে ২৮ দশমিক ৭ ফুট এবং লাউকাঠিতে ২৮ ফুট নিচে রয়েছে পানির স্তর। একই অবস্থা জেলার অন্যান্য ইউনিয়নেরও। এ অবস্থায় পটুয়াখালীসহ পুরো দক্ষিণ জনপদের অনেক গভীর নলকূপে পানি উঠছে না । এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

পটুয়াখালীর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুজ্জামান জানান, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অস্বাভাবিক ভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক নলকূপে পানি উঠছে না। সাধারণত ৬ নম্বর হ্যান্ডপাম্পযুক্ত গভীর নলকূপ বসানোর জন্য পানির সর্বোচ্চ স্থিতিতল হয় ২০ থেকে ২৫ ফুট। কিন্তু সদর উপজেলায় পানির স্তর আরও নিচে নেমে গেছে। এতে নলকূপগুলোর হাতল শক্ত হয়ে পানির ডিসচার্জ কমে যায়। কিছু কিছু নলকূপ অকেজো হয়ে পড়েছে। পানির সংকট নিরসনে সাবমার্সিবল পাম্প বরাদ্দ দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন : পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালে একসঙ্গে ভিড়বে তিন জাহাজ

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার ৬১০ হেক্টর। এর মধ্যে স্থানীয় জাতের ২৪১ হেক্টর, উফশী জাতের ১৫ হাজার ৫৫৯ হেক্টর এবং হাইব্রিড জাতের ৪ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়। কিন্তু অনাবৃষ্টি ও সেচের অভাবে বোরো আবাদ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বোরো আবাদে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে কৃষকদের অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া প্রচণ্ড তাপদাহে মাঠঘাট ফেটে চৌচির হওয়ায় আবাদ করা মুগ ডাল, তিল, চিনাবাদাম, কাঁচামরিচ, সূর্যমুখী, ভুট্টাসহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, খরা ও অনাবৃষ্টিতে রবিশস্যের তেমন ক্ষতি না হলেও বোরো আবাদে ক্ষতির শঙ্কা প্রবল। কৃষকরা জমিতে দুই থেকে তিন দিন পানি ধরে রাখতে পারলে এ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। ফসল রক্ষায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।




ভারতে রেড অ্যালার্ট : মরুভূমির চেয়ে তাপমাত্রা বেশি কলকাতায়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ভারতের চার রাজ্যে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া দপ্তর। এর মধ্যে রয়েছে বিহার, ঝাড়খণ্ড, উড়িষ্যা এবং পশ্চিমবঙ্গ।

এই চার রাজ্যে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে। এদিকে রোববার পশ্চিমবঙ্গ উড়িষ্যার বেশ কয়েকটি জেলায় রেকর্ড তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়াও ছত্তিশগড়, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, পুদুচেরি, গুজরাট এবং মহারাষ্ট্রেও তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রির কাছাকাছি রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে রাজস্থানের মরুভূমি জয়সলমেরের চেয়েও তাপমাত্রার পারদ বেশি পশ্চিমবঙ্গে। জয়সলমেরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি। সেখানে কলকাতার তাপমাত্রার পারদ ছিল ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রিতে। সবচেয়ে বেশি গরম ছিল পানাগড়ে। পানাগড়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী ৩ থেকে ৪ দিন একইরকম পরিস্থিতি থাকবে। সবমিলিয়ে বুধবার পর্যন্ত রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

এদিকে ভারতে তাপপ্রবাহের পাশাপাশি ২৬টি রাজ্যে বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ, আসাম, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম, ত্রিপুরা, সিকিম, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, মহারাষ্ট্র, গোয়া, ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, কেরালা, কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু এবং তেলেঙ্গানা।




৫৬ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রা বিশ্বের যে স্থানে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  তীব্র গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ। দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এখন পর্যন্ত ৪২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস যশোরে ছিল ২০ এপ্রিল। আবহাওয়া অফিস জানাচ্ছে এই তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলেও অনুভূত হচ্ছে ৪০ এর উপরে। নানা ভাবে মানুষ গরম থেকে নিজেদের রক্ষা করার চেষ্টা করছে।

তবে জানেন কি, বিশ্বের এমন কিছু স্থান রয়েছে যেখানে তাপমাত্রা ৫৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ১২৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছে যায়? আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এ সবই গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের জন্য হচ্ছে। কিন্তু বিশ্বের উষ্ণতম স্থানগুলোর কথা ভাবলে এই গরম কিছুই নয়। আসুন এমনই কয়েকটি জায়গার কথা জেনে নেওয়া যাক-

ফার্নেস ক্রিক, ডেথ ভ্যালি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
নামেই ফার্নেস। এখানে এলে যে ভাজাপোড়া হতে হবে বোঝাই যাচ্ছে। যাইহোক, অনেকে এই অঞ্চলকে ডেথ ভ্যালি বা মৃত্যু উপত্যকাও বলেন। ১৯১৩ সালের হিসেব অনুযায়ী এখানকার তাওমাত্রা ৫৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ১৩৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট। হাড় কাঁপানো শুষ্ক বাতাস ফার্নেস ক্রিকের বৈশিষ্ট।

ডাল্লোল, ইথিওপিয়া
শুধু গরম নয়, ডাল্লোল এক অন্য জগত। লবণাক্ত ভূমি এবং সালফিউরিক হট স্প্রিংস এখানকার বৈশিষ্ট। ডালোল জনবসতিপূর্ণ স্থান।

কেবিলি তিউনিশিয়া
সাহারা মরুভূমিতে অবস্থিত কেবিলি জ্বলন্ত তাপমাত্রা এবং খেজুর গাছের জন্য বিখ্যাত। এখানকার গড় তাপমাত্রা ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ১৩১ ডিগ্রি ফারেনহাইটকেও ছাড়িয়ে যায়।

লুট মরুভূমি ও আহভাজ, ইরান
বিশাল লুট মরুভূমির সর্বকালের উষ্ণ তাপমাত্রার রেকর্ড রয়েছে। এর ডাকনাম ‘দশত-ই-লুট’। এছাড়া দক্ষিণ পশ্চিম ইরানের প্রধান শহর আহভাজ। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং চিরন্তন চেতনার ধারা বহমান। সাধারণ তাপমাত্রা ৫৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়।

তুর্বাত, পাকিস্তান
বেলুচিস্তানের একটি জায়গার নাম তুর্বাত। গ্রীষ্মকালে ৫৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১২৮.৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট) তাপমাত্রা থাকে। তবে তীব্র গরমেও দিব্যি কাটান এখানকার বাসিন্দারা।

মিত্রিবাহ, কুয়েত
এই প্রত্যন্ত অঞ্চলেই এশিয়ার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ২০১৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, এখানকার গড় তাপমাত্রা ৫৩.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ১২৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট।

তিরাত তজভি, ইজরায়েল
জর্ডন উপত্যকায় অবস্থিত এই অঞ্চলের তাপমাত্রা গ্রীষ্মকালে ৫৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১২৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট) ছাড়িয়ে যায়। আশ্চর্যের বিষয় হল, তিরাত তজভি কৃষি প্রধান অঞ্চল। চরম তাপমাত্রাতেও দিব্যি ফসল ফলান এখানকার কৃষকরা।

মেক্সিকালি, মেক্সিকো
সোনোরান মরুভূমিতে অবস্থিত মেক্সিকালির বাসিন্দারা ৫২ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১২৫.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট) তাপমাত্রায় সহ্য করেন। মেক্সিকান সংস্কৃতি এবং মরুভূমির জন্য পর্যটকদের প্রিয় এই শহর।

আল জাজিরা বর্ডার গেট, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি
এটা ছোট ফাঁড়ি। সীমান্ত পারাপার করেন মানুষ। ২০২২ সালের হিসাব অনুযায়ী এখানকার গড় তাপমাত্রা ৫২.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ১২৫.৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট।

সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট




দাবদাহ : এবার ইংরেজি মাধ্যম স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ