৮০ কি.মি. বেগে ঝড়ের আভাস




দাবদাহের কারণে স্কুল বন্ধ দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার আরও যেসব দেশে

 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  চলতি এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি থেকে এশিয়ার বিভিন্ন অংশে বয়ে যাচ্ছে তাপপ্রবাহ। ব্যাপক গরম ও দাবদাহের কারণে আগামী ৩ দিন স্কুল-মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশের হাইকোর্ট।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ছাড়াও অসহনীয় গরমের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার অন্তত ৫টি দেশ। এসব দেশ হলো— ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুর।

ফিলিপাইনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় রোববার দেশজুড়ে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগামী দুই দিনের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই দ্বীপরাষ্ট্রের আবহাওয়া দপ্তরের কর্মকর্তারা বলেছেন, বর্তমানে ফিলিপাইনের প্রায় সব অঞ্চলে তাপমাত্রার পারদ ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার আশপাশে; কিন্তু এপ্রিলের শুষ্ক আবহাওয়া এবং বৃষ্টিহীনতার কারণে রাজধানী ম্যানিলাসহ বিভিন্ন দ্বীপে অনুভূত তাপমাত্রা প্রায় ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

দেশটির স্কুলশিক্ষকদের সংগঠন টিচার্স ডিগনিটি কোয়ালিশনের চেয়ারপারসন বেঞ্জো বাসাস স্থানীয় বেতার সংবাদমাধ্যম ডিডব্লিউপিএম রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ফিলিপাইনের অধিকাংশ স্কুলের শ্রেনীকক্ষে এসি নেই, শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেশি। গত কয়েকদিন ধরে আমরা খবর পাচ্ছিলাম যে অত্যাধিক গরমের কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্লান্তিভাবসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। গরম ও কোলাহলের কারণে ক্লাসের মধ্যে শিক্ষক বা শিক্ষার্থী অজ্ঞান হয়ে পড়েছেন— এমন কিছু ঘটনাও আমরা শুনেচ্ছি।’

‘তাই আমরা মনে করছি সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী এবং টিচার্স ডিগনিটি কোয়ালিশনের পক্ষ থেকে আমি এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি।’

স্কুলগুলোতে ক্লাসের সময় বৈদ্যুতিক পাখাও সবসময় চালু রাখা যাচ্ছে না। দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন কর্তৃপক্ষ শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এই ঘাটতি শুরু হয়েছে। অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে গিয়ে ইতোমধ্যে অন্তত ১৩টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বিকল হয়ে গেছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে রোববার লোকজনকে অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত বাড়ির বাইরে বের না হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে থাইল্যান্ড। গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে রাজাধানী ব্যাংককসহ দেশটির মধ্য ও উত্তরাঞ্চলের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির নিচে নামছে না। গত ২২ এপ্রিল উত্তরাঞ্চলীয় শহর ল্যামপাঙের তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছিল।




দেশের কোন জেলার তাপমাত্রা কত?

 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:   দেশের ওপর দিয়ে স্মরণকালের সবচেয়ে দীর্ঘতম তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। দাবদাহের কারণে হিট স্ট্রোকে মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্কুলশিক্ষার্থীসহ অনেক মানুষকে গরমে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। গরম থেকে বাঁচতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৯ এপ্রিল) দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায় ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকার তাপমাত্রা ওঠে ৪০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত।

গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় আবহাওয়ার সবশেষ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের সবচেয়ে উত্তপ্ত এলাকা ছিল খুলনাঞ্চল। এ বিভাগের কোথাও আজ তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সে. এর নিচে নামেনি। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গায় ছিল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে এর বিপরীত চিত্র দেখা গেছে সিলেট বিভাগে। এ অঞ্চলে তাপমাত্রা অনেকটাই সহনীয় ছিল। এর মধ্যে শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২০ ডিগ্রি সে.।

 

আবহাওয়া অফিস বলছে, আগামীকালও সারা দেশে তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে। আবহওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির স্বাক্ষরিত এক আবহাওয়া বার্তায় বলা হয়, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, পাবনা ও রাজশাহী জেলার ওপর দিয়ে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ এবং খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের অবশিষ্টাংশ এবং ঢাকা বিভাগের ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। ময়মনসিংহ জেলাসহ বরিশাল, রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।

আজ (মঙ্গলবার) সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে অস্বস্তিভাব বিরাজমান থাকতে পারে।

ঢাকা বিভাগ

ঢাকা : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

টাঙ্গাইল : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ফরিদপুর : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

মাদারীপুর : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গোপালগঞ্জ : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৮.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

নিকলি : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা … ডিগ্রি সেলসিয়াস।

চট্টগ্রাম বিভাগ

 

চট্টগ্রাম : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সন্দ্বীপ : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সীতাকুণ্ড : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

রাঙামাটি : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

কুমিল্লা : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

চাঁদপুর : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

মাইজদীকোর্ট : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ফেনী : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

হাতিয়া: সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

কক্সবাজার : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

কুতুবদিয়া : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

টেকনাফ : সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৩৫.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

 

বান্দরবান : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

 

সিলেট বিভাগ

সিলেট : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৪.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

শ্রীমঙ্গল : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা … ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ময়মনসিংহ বিভাগ

ময়মনসিংহ : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

নেত্রকোণা : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

রাজশাহী বিভাগ

রাজশাহী : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ঈশ্বরদী : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বগুড়া : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বদলগাছি : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তাড়াশ : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

রংপুর বিভাগ

রংপুর : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৩.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

দিনাজপুর : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সৈয়দপুর : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তেঁতুলিয়া : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ডিমলা : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

রাজারহাট : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

খুলনা বিভাগ

খুলনা : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

মোংলা : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সাতক্ষীরা : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

যশোর : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

 

চুয়াডাঙা : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

কুমারখালী : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বরিশাল বিভাগ

বরিশাল : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৮.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

পটুয়াখালী : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

খেপুপাড়া : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৩৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ভোলা : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

 

সূত্র: আবহাওয়া অধিদপ্তর




কেমন থাকবে আজকের দিনের আবহাওয়া

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  দেশে চলমান তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এছাড়া সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।




আরো ৭২ ঘণ্টার হিট অ্যালার্ট জারি




২৪ দিন দাবদাহ, ইতিহাসে সর্বোচ্চ

চন্দ্রদ্বীপ  ডেস্ক:  চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ওঠে যশোরে। এই মৌসুমে তাপপ্রবাহ সইতে হলো ২৪ দিন; এর আগে কোনো বছরই এতো সময় দাবদাহ দেখেনি বাংলাদেশ। এরই মধ্যে চলমান তাপপ্রবাহ আরও সপ্তাহখানেক চলার আভাস দিচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা।

এবার দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাপপ্রবাহ শুরু হয় ৩১ মার্চ। মাঝে ৯ ও ১০ এপ্রিল দেশের কোথাও তাপপ্রবাহ ছিল না।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে রেকর্ড ২৪ দিন দাবদাহ হয়েছে জানিয়ে আবহাওয়াবিদ শাহনাজ সুলতানা  বলেন, “প্রতি এপ্রিল মাসেই আমাদের তাপপ্রবাহটা আসে। কিন্তু এ বছরের স্থায়িত্বটা একটু বেশি।”

শাহনাজ জানান, এর আগে সবচেয়ে বেশি দিনের তাপপ্রবাহের রেকর্ড হয়েছিল ২০১৯ সালে। ওই বছর ২৩ দিন দাবদাহ ভুগতে হয় মানুষকে। আর গত বছর তাপপ্রবাহ চলে ১৮ দিন।

আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক  বলেন, “৩১ মার্চে দুয়েক জায়গায় তাপপ্রবাহ ছিল। এখনও চলছে, এটা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।”

বৃহস্পতিবার ৪১ জেলার উপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে। এদিন ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ৩৯ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস অবস্থায় দুই দফায় টানা ছয় দিনের সতর্কবার্তার পর এদিন নতুন করে আরও তিন দিনের সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার বুলেটিনে বলা হয়েছে, চুয়াডাঙ্গা ও যশোর জেলার উপর দিয়ে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এর বাইরে টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, দিনাজপুরসহ খুলনা বিভাগের অন্যান্য জেলার উপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া ঢাকা, মাদারীপুর, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, বগুড়া, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, পঞ্চগড়, ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজার, রাঙামাটি, চাঁদপুর, ফেনী, বান্দরবান ও নোয়াখালী জেলাসহ বরিশাল বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

চলমান এ তাপপ্রবাহ মে মাসের ৪/৫ তারিখ পর্যন্ত চলতে পারে বলে  জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক আজিজুর রহমান।

চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২০ এপ্রিল; সেদিন যশোরে তাপমাত্রা উঠেছিল ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

বাতাসে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম হলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ ধরা হয়। ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রির কম তাপমাত্রাকে বলা হয় মাঝারি এবং ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রির কম তাপমাত্রাকে তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়। আর তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রির উপরে উঠলে তাকে বলা হয় অতি তীব্র তাপপ্রবাহ।

পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলা বৃষ্টি হতে পারে।




তাপদাহ থেকে বাঁচতে বেতাগীতে ছাত্রলীগের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

তাপদাহ থেকে বাঁচতে বেতাগী উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বৃষরোপন কর্মসূচির আয়োজন করেন। আজ বুধবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে বেতাগী সরকারি কলেজ মাঠ, সাব-রেজিস্টার মাঠে বনজ, ফলদ এবং ওষুধি বৃক্ষের চারাসহ শতাধিক বৃক্ষের চারা রোপন করেন। এসময় উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল আমিন হাওলাদার, ছাত্রলীগ নেতা আসাদুজ্জামান খান আসাদ, ইমন, আবুল হোসেন, আসিকসহ উপজেলা ছাত্রলীগের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

গ্রীষ্মের তাপদাহের সময় কেন এই বৃক্ষ রোপন এমন প্রশ্নের জবাবে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল আমিন হাওলাদার বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি। যথারীতি পানি দেওয়া, বেড়া দেওয়া এবং আগাছা নিড়ানীসহ সকল ধরণের পরিচর্যা করবে উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মীরা। উপজেলা বসুন্ধরা শুভসংঘের সভাপতি কামাল হোসেন খান বলেন,’ ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দের এই মহতি কাজকে স্বাগত ও অভিনন্দন জানাই। ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত থাকবে এই শুভ কামনা।

facebook sharing button
twitter sharing button
pinterest sharing button
whatsapp sharing button
messenger sharing button



তীব্র তাপদহে বিপর্যস্ত উপকূলের জনজীবন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: তীব্র তাপদহে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর জনজীবন। গতি কবল জেলার কলাপাড়ায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০.২ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া ও কর্মজীবি মানুষ। একটু স্বস্তির আশায় অনেকেই আশ্রয় নিচ্ছেন গাছতলায়। ছুটছেন নদী তীরে। বেড়েছে ডাব, আখের রস, শরবত ও কাঁচা তালের চাহিদা।

প্রচন্ড খড়তাপে লোকসানে পড়েছেন বোরো ধান চাষী ও সবজি চাষীরা। আবাদির জমির অভ্যান্তরীন ছোটখাল-ডোবা-পুকুর শুকিয়ে মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। ফলে মৌসুমী সবজি চাষীদের খেতে দেখা পানি সংকট। পানির অভাবে আর রোড়ের তীব্রতায় গাছ মরে যাচ্ছে। এতে লোকসানের শংকায় পড়েছেন সবজি চাষীরা।

এদিকে সবজি খেতের এমন বেহাল দশায় বাজারে আমদানী কমেছে সবজির। ফলে বাজারে বেড়ে গেছে সবজির দাম।

কলাপড়ার নীলগজ্ঞের কৃষক জাকির বলেন, তীব্র রোদের তেজ থেকে আবাদি জমির ফসল রক্ষা করা এখন দরকার। এর উপড় দেখা দিয়েছে তীব্র পানির সংকট। নিরূপায় কৃষক। পুড়ে যাচ্ছে গাছ। ফলন কমে গেছে।

তীব্র তাপদহকে দু:সহনীয় করে তুলেছে বিদ্যুতের সীমাহীন লোডশেডিং। দিনে-রাতে বারবার বিদ্যুতের আসা-যাওয়া ও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সকল বয়সী মানুষকে।

পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় উল্ল্যেখযোগ্য সংখ্যক পর্যটক উপস্থিত থাকলেও তীব্রতাপদহে এসব পর্যটক হয়ে পড়েছেন হোটেল বন্দী। দর্শনীয় স্থানগুলোর কার্যত পর্যটক শূন্য।

মাদারীপুর থেকে পরিবার নিয়ে কুয়াকাটায় আসা পর্যটক সাবের আহমেদ জানান, তীব্র গরমে সী-বীচ বেশ উপ্তত্ত হয়ে আছে। জুতা পায়েও বীচে হাটা কস্টদায়ক। স্বন্ধ্যার পড়েও একই অবস্থা। তাই পরিবার নিয়ে হোটেলে অবস্থান করছি।

আরো পড়ুন : বৃষ্টির কামনায় পটুয়াখালী ইসতিসকার নামাজ আদায়

হোটেল ফেন্ডস পার্ক ইনের ব্যবস্থাপক আল-আমিন বলেন, মোটামুটি ভাল পর্যটের উপস্থিতি রয়েছে। কিন্তু এসব পর্যটক হোটেল থেকে বের হয়ে দ্রুতই হোটেলে ফিরে আসছেন। গরমে তারা বাহিরে টিকতে পারছেননা।

জেলার সকল হাসপাতাল গুলোতে বেড়েছে ডায়রিয়াসহ গরম জনিত রোগীর সংখ্যা। গত (বুধবার) ২৪ ঘন্টায় জেলার ৮ উপজেলায় ১১০ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত এক সপ্তাহে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ৭৭৯ জন রোগী। কলাপাড়ায় জেলার বাউফল ও কলাপাড়া হাসপাতালে স্যালইনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। (২১ এপ্রিল) জেলার কলাপাড়া উপজেলায় সত্তার ফারাজী নামে একজন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে আসার পথে তার মৃত্যু হয়। মৃত সত্তার ফরাজী উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের চর বালিয়াতলী গ্রামের বাসিন্দা।

কলাপাড়া হাসপাতালের চিকিৎসক তানজিলা হাসির তৃষা জানান, সত্তার ফরাজীকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি ডায়রিয়া আক্রান্ত ছিলেন এবং তার কিডনি ড্যামেজ ছিলো। ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় এই চিকিৎসক সকলকে তেল জাতীয় খাবার পরিহার, প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাহির না হওয়া, বেশি বেশি পানি পান করা এবং পানি জাতীয় খাবার গ্রহনের পরামর্শ দিয়েছেন। পটুয়াখালীর বাউফলে হিটস্ট্রোকে মোহাম্মদ শাহ-আলম (৫০) খান নামের এক পুলিশ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে।

২২শে এপ্রিল রাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তিনি পুলিশের ঢাকা গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) পুলিশ কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন। মৃত শহআলম বাউফল পৌর শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন। শনিবার তিনি ছুটিতে গ্রামের বাড়ি বাউফলে আসেন। রাত নয়টার দিকে হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে অসুস্থ অবস্থায় তাকে বাউফল হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বরিশাল সেবাচিম হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

আবহাওয়া আফিস সূত্র জানিয়ে, আপতত বৃস্টির কোন সম্ভাবনা নেই। এই তাপদাহ আরো কিছদিন অব্যাহত থাকবে।




হিট অ্যালার্ট নিয়ে দুঃসংবাদ দিলো আবহাওয়া অফিস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  সারাদেশে হিট অ্যালার্ট জারি করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। যা আগামী তিনদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।



থর মরুভূমির প্রভাব দেশে, ১০ দিনে বৃষ্টির সুখবর নেই

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : দেশের আবহাওয়ায় বিরাজ করছে মরুভূমির তাপ। বৃষ্টির বাতাস সরে গেছে চীনের দিকে।

ফলে একদিকে যেমন তাপমাত্রা কমছে না। অন্যদিকে বৃষ্টির প্রক্রিয়াও শুরু হচ্ছে না।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে আবহাওয়ার তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও স্থায়ী স্বস্তি পাওয়ার কোনো আভাস নেই।

তাদের মতে, বর্তমানে চরম ভাবাপন্ন ওয়েদার বিরাজ করছে সিস্টেমে। সেটা আরও ১০ দিন থাকবে।

আগামী সাতদিনে বজ্রমেঘ সৃষ্টি হওয়ার প্রবণতা কম। মে মাসের তিন তারিখ পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনাও কম।

তাদের মতে, বর্তমানে চরম ভাবাপন্ন ওয়েদার বিরাজ করছে সিস্টেমে। সেটা আরও ১০ দিন থাকবে।আগামী সাতদিনে বজ্রমেঘ সৃষ্টি হওয়ার প্রবণতা কম। মে মাসের তিন তারিখ পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনাও কম।

স্বস্তির বৃষ্টি কবে
মে মাসের প্রথম সপ্তাহে বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে পুরো মাসে ভারী বৃষ্টিপাতের আভাস নেই। এ সময় ঢাকাসহ দেশের মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলে কালবৈশাখী ও বজ্রঝড়ের আভাস রয়েছে। টানা বা স্থায়ী বৃষ্টিপাতের কোনো সম্ভাবনা না থাকলেও তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, তাদের গাণিতিক মডেলগুলো অনুযায়ী, তাপমাত্রা এত বাড়বে না। ৪০ কিংবা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশেই থাকবে। মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মাঝামাঝি পর্যন্ত এটা বলা যায়। এরপর আসলে সঠিকভাবে বলা যায় না। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে বৃষ্টিপাত হতে পারে দেশের মধ্যাঞ্চল, উত্তরাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলে। তবে ঢাকায় তেমন হবে না। এখন জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাতাসে বেড়েছে। এতে তাপমাত্রা অতিতীব্র না হলেও গরম অনুভূতি বাড়বে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ। তিনি বলেন, স্বল্প সময়ের জন্য স্বস্তিদায়ক বৃষ্টি মে মাসে পাওয়া যাবে।

গড় তাপমাত্রা বেশি, কথাটা সঠিক নয়
আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলছেন, মে মাস হচ্ছে উষ্ণতম মাস। আমাদের দেশে ১৯৭২ সালে রাজশাহীতে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেটা মে মাসেই। মে মাসে ৩ থেকে ৪টি তাপপ্রবাহ থাকে। এক্ষেত্রে টানা বৃষ্টি বা ভারী বৃষ্টিপাতেরে কোনো সম্ভাবনা নেই।

অনেকেই বলছেন তাপমাত্রা বেশি বা গড় তাপমাত্রা বেশি এই কথাটা মোটেই ঠিক নয়। গড় তাপমাত্রাও বাড়েনি। এপ্রিলের ২৩ তারিখ পর্যন্ত গড় তাপমাত্রা ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কাজেই বাড়ল কোথায়। তাপমাত্রা এখন স্বাভাবিকের চেয়ে ২ থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি আছে। চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়ায় তাপমাত্রা ২ থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকে। তাপমাত্রার গড় হিসেব করা হয় ৩০ বছরে। কাজেই ৩০ বছরের গড় তো বাড়েনি। এছাড়া গড় কখনও সঠিক পরিসংখ্যান দেয়ও না।

২০১৪ সালের পর থেকে গরম অনুভূত হচ্ছে বেশি
বর্তমানে এপ্রিল মে মাসের তাপপ্রবাহ সাতদিন, ১৫ দিন, ২৩ দিন এমনভাবে স্থায়ী হয়। বিশেষ করে ২০১৪ সালের পর থেকে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহের সময়কাল বা স্থায়িত্ব বেড়ে গেছে। এজন্য তাপমাত্রাটা অসহনীয় হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ। প্যানিক তৈরি হচ্ছে। অনেক গণমাধ্যমও এভাবে প্রতিবেদন তৈরি করছে। ফলে মানুষের মধ্যে ভীতি তৈরি হচ্ছে। কিন্তু তাপমাত্রা আগের তুলনায় অস্বাভাবিক নয়।

বৃষ্টিপাত না হাওয়ার তিন কারণ
বাতাসের জলীয়বাষ্পের পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় কম থাকার কারণে বজ্রমেঘ তৈরি হচ্ছে না। ফলে বৃষ্টি নামছে না। জলীয় বাষ্প আসে সাগর থেকে, সেটা হচ্ছে না। এর পেছনে আবার কারণ হচ্ছে এল নিনোর প্রভাব। পেরুর কাছে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো সক্রিয় থাকার কারণে বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্প কম আসছে বলেছেন আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক।

তাপমাত্রা বেশি থাকলে বৃষ্টি হয় না। কারণ বাতাসে যে জলীয় বাষ্প থাকে তা বেশি তাপমাত্রার কারণে ঘনীভূত হতে পারে না। ফলে বজ্রমেঘ তৈরি হয় না। এছাড়া বিহার, মধ্যপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে আবহাওয়ার একটা বিরাগ আধিপত্য রয়েছে দেশের বাতাসে। সেখানে অতিতীব্র তাপপ্রবাহের কারণে দেশের বাতাসের তাপমাত্রা বেড়ে গেছে। আর সেখানকার তাপমাত্রা বাড়ার কারণ হলো ভারতের রাজস্থানের থর মরুভূমি। পৃথিবীর সবচেয়ে উষ্ণতম মরুভূমি এটা। থর মরুভূমির তপ্ত বাতাসই বিহার, মধ্যপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশের আসছে বলে জানান আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক।

তিনি বলেন, দেশে বৃষ্টিপাত হয় পশ্চিমা লঘুচাপের কারণে। সেটা ভূমধ্যসাগরে তৈরি হয়ে উজবেকিস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ভারত হয়ে দেশের সিস্টেমে প্রবেশ করে। এক্ষেত্রে ওইসব দেশের তাপমাত্রা কমলে বাংলাদেশের তাপমাত্রাও কমে। এপ্রিলে ভূমধ্যসাগরে আগের মতো পশ্চিমা লঘুচাপ সৃষ্টি হচ্ছে না, যেটা এ সময়ে বাংলাদেশের দিকে আসে।

অন্যদিকে ভূমধ্যসাগরে সৃষ্টি হওয়া পশ্চিমা লঘুচাপ যেটা সৃষ্টি হচ্ছে সেটা পূর্বদিক হয়ে চীনের দিকে সরে গেছে। সেখানে কিন্তু অতিবৃষ্টি হচ্ছে। ফলে পাকিস্তান থেকে থাইল্যান্ড পর্যন্ত সব দেশেই বৃষ্টিপাত কম হচ্ছে এবং তাপমাত্রা বেড়েছে বলে জানান আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ।

তিনি বলেন, বায়ুমণ্ডলের ওপরের দিকের বাতাস উত্তর দিকে মাঝে মধ্যে সরে গেলে এমন হয়। এদিকে তখন পশ্চিমা লঘুচাপ আসতে দেরি হয়। এর পেছনে জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবকেও দায়ী করছেন তিনি।

এপ্রিলের শুরু থেকেই চলছে তাপপ্রবাহ। তিন তিনটি হিট অ্যালার্টও দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এখনও একটি হিট অ্যালার্ট চলছে। অতিতীব্র তাপপ্রবাহ কেটে গেলেও দেশের অধিকাংশ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র তাপপ্রবাহ। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ ঘোষণা করছে সরকার। জনজীবন যখন কাহিল তখন খুব একটা সুখবর নেই দেশবাসীর জন্য।

চলতি মৌসুমে গত ২০ এপ্রিল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন চুয়াডাঙ্গায় ৪২ দশমিক ৩ ডিগ্রি, মোংলায় ৪১ দশমিক ৭ ডিগ্রি, ঈশ্বরদীতে ৪১ দশমিক ৬ ডিগ্রি, খুলনায় ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানেও মৃদু থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। এখনও যা বিদ্যমান আছে।

২০২৩ সালের ১৭ এপ্রিল আগের নয় বছরের মধ্যে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ঈশ্বরদীতে ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর ২০১৪ সালের মে মাসে চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তিনি বলেন, বায়ুমণ্ডলের ওপরের দিকের বাতাস উত্তর দিকে মাঝে মধ্যে সরে গেলে এমন হয়। এদিকে তখন পশ্চিমা লঘুচাপ আসতে দেরি হয়। এর পেছনে জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবকেও দায়ী করছেন তিনি।

এপ্রিলের শুরু থেকেই চলছে তাপপ্রবাহ। তিন তিনটি হিট অ্যালার্টও দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এখনও একটি হিট অ্যালার্ট চলছে। অতিতীব্র তাপপ্রবাহ কেটে গেলেও দেশের অধিকাংশ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র তাপপ্রবাহ। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ ঘোষণা করছে সরকার। জনজীবন যখন কাহিল তখন খুব একটা সুখবর নেই দেশবাসীর জন্য।

২০২৩ সালের ১৬ এপ্রিল আগের ৫৮ বছরের মধ্যে ঢাকার তাপমাত্রা ছিল সর্বোচ্চ ৪০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় ১৯৬৫ সালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এর আগে ১৯৬০ সালে ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৪২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ১৯৭২ সালের ১৮ মে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই রেকর্ড এখনও ভাঙেনি।