ইরানে ইসরায়েলের হামলা নিয়ে যা বলল রাশিয়া

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েলি হামলার পর রাশিয়া বলেছে, ইরান ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের ‘‘বিস্ফোরক সম্প্রসারণ’’ ঘটতে পারে। এই সংঘাত নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলেও সতর্ক করে দিয়েছে মস্কো। একই সঙ্গে সংঘাতের অবসানে উভয়পক্ষকে সংযমের আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া।

শনিবার ভোরের দিকে ইরানের রাজধানী তেহরান-সহ তিনটি প্রদেশে একযোগে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। এই হামলার পর ইসরায়েল তেহরানকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছে, ইরান যদি আবারও প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়, তাহলে সেজন্য তাদের চড়া মাশুল দিতে হবে। পাশাপাশি ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সংঘাতের বিস্তার না ঘটাতে ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, তিনি ওই অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার বিস্ফোরক বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘‘আমরা সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শন, সহিংসতার অবসান এবং ঘটনার বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে মোড় নেওয়ায় বাধা দেওয়ার আহ্বান জানাই।’’

মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, ‘‘ইরানকে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপে উস্কানি দেওয়া বন্ধ এবং উত্তেজনার অনিয়ন্ত্রিত সম্প্রসারণ থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।’’

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গত সপ্তাহে বিশ্বের উদীয়মান পাঁচ দেশের জোট ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলনে বলেছেন, আঞ্চলিক দুটি হেভিওয়েট পক্ষের মাঝে সৃষ্ট উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

রাশিয়ার এই নেতা বলেছেন, ‘‘ইসরায়েল এবং ইরানের মাঝে সংঘর্ষের মাত্রা তীব্র আকার ধারণ করেছে। পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়ায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।’’

তেহরানের সাথে মস্কোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং ওই অঞ্চলে বৃহত্তর সংঘাতের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাশিয়া। মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার ব্যাপক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রয়েছে।

সূত্র: এএফপি।




কলাপাড়ায় খেপুপাড়া রাডার স্টেশন দীর্ঘদিন ধরে অচল, ঝুঁকির মুখে উপকূলবাসী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অবস্থিত খেপুপাড়া রাডার স্টেশনটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে অচল হয়ে রয়েছে, যা উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জন্য দুর্যোগকালীন প্রস্তুতি গ্রহণে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। ১৯৬৯ সালে জাপানি সংস্থা জাইকার সহযোগিতায় নির্মিত এই রাডার স্টেশনটি ২০০৮ সালে আধুনিকায়ন করা হয়। তবে ২০১৮ সালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এটি বন্ধ হয়ে যায় এবং ২০২১ সালে মেরামত সত্ত্বেও পুনরায় রেডিয়েশন সমস্যা দেখা দিয়েছে।

রাডার স্টেশনের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর জব্বার শরীফ জানান, “ফ্রিকোয়েন্সি ইমেজ শাখার যন্ত্রাংশ মেরামত করা হলেও রেডিয়েশন সমস্যার কারণে ঘূর্ণিঝড়ের গতি ও তীব্রতা নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। সমস্যার সমাধানের জন্য জাইকাকে নিয়মিত জানানো হচ্ছে।”

মহিপুর মৎস্য বন্দর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি দিদার উদ্দিন মাসুম বলেন, “জেলেরা ঝুঁকি নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে যায়। সঠিক সময়ের পূর্বাভাস পেলে তারা নিরাপদে ফিরে আসতে পারত। আমরা দ্রুত রাডার স্টেশনটির মেরামতের দাবি জানাচ্ছি।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় রেমাল ও দানায় খেপুপাড়া রাডার স্টেশনের প্রয়োজনীয়তা প্রকট হয়ে উঠেছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছি, এবং রাডার কর্তৃপক্ষ পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।”

উপকূলীয় জনগণকে বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হয়, তাই রাডার স্টেশনটির কার্যকরী হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি রাডারটি সচল হয়, তাহলে দুর্যোগকালীন প্রস্তুতি নিতে এবং ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সহায়তা করবে।




পটুয়াখালীতে সকালে সূর্যের দেখা, জনমনে স্বস্তি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: টানা তিনদিনের ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’ ও বৃষ্টির প্রভাব কাটিয়ে শুক্রবার সকালে পটুয়াখালীতে সূর্যের দেখা মিলেছে। সকাল ৭টা ২০ মিনিটে পূর্ব আকাশে সূর্যের উজ্জ্বল কিরণ চারপাশ আলোকিত করে দেয়, যা স্থানীয় জনজীবনে স্বস্তির বার্তা বয়ে এনেছে।

ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’-এর প্রভাবে পটুয়াখালীসহ উপকূলীয় এলাকায় টানা কয়েকদিনের বৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তবে আজকের এই সোনালি রোদ যেন সব দুর্ভোগ মুছে দিয়েছে। কৃষকদের জন্য এটি আশীর্বাদস্বরূপ, কারণ দীর্ঘ সময় ধরে জমিতে কাজ না করতে পারায় ফসলের ক্ষতির শঙ্কা ছিল।

দুমকির আঙ্গারিয়া উপজেলার কৃষক শহিন হাং (৪৯) বলেন, “তিন দিন ধরে কাজ করতে পারিনি। ফসলের অবস্থা দেখে খুব চিন্তিত ছিলাম। তবে আজকের সূর্যের আলো আমাদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। শ্রমিকরাও কাজে নেমে গেছে, আশা করি ফসলের ক্ষতি আর হবে না।”

গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম (৫৩) বলেন, “আজকের রোদে আমার জমির ফসল নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। বন্যায় ধানের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা ছিল, কিন্তু আজকের রোদে সেই চিন্তা দূর হয়েছে। আমরা দ্রুত ফসলের যত্ন নেওয়া শুরু করেছি।”

কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী গ্রামের দিনমজুর হালিম আলী বলেন, “আজ সকালে সূর্য দেখে কাজে বের হতে পেরেছি। বন্যার কারণে গত কয়েকদিন কোনো কাজ করতে পারিনি। এই রোদ আমাদের কাজে ফিরিয়ে এনেছে, আমরা আবারও ফসলের মাঠে ফিরেছি।”

পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা রাহাত হোসেন জানান, “আজ সকাল ৭টায় রেকর্ডকৃত তাপমাত্রা ছিল ২৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘণ্টায় ৭১.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে আজকের দিনের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে আবহাওয়া ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কৃষির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে।”

গত কয়েকদিনের ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’ এবং বৃষ্টির প্রভাবে পটুয়াখালীর কৃষিতে যে ক্ষতির আশঙ্কা করা হয়েছিল, আজকের রোদে তা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। কৃষকরা পুনরায় তাদের ক্ষেতে ফিরে কাজ শুরু করেছেন। বিশেষ করে ধানের ক্ষেতে পানির কারণে যে সমস্যা হচ্ছিল, তা রোদে শুকানোর ফলে মিটে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পটুয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় আজকের সূর্যোদয় কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর এমন রোদ কৃষি ও অর্থনীতির জন্য আশীর্বাদ। আবহাওয়ার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।




পটুয়াখালীতে ৭২ মিলিমিটার বৃষ্টির রেকর্ড, বিপাকে নিম্নআয়ের মানুষ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ঘূর্ণিঝড় দানার প্রভাবে পটুয়াখালীতে ভারী বৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন স্থানে ৭২.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই বৃষ্টিপাত হয়। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৫-২০ কিলোমিটার।

বৃষ্টির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে এবং জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চরাঞ্চল ও নদীর তীরবর্তী মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। সাগরের উত্তাল অবস্থার কারণে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মুহাম্মদ আরেফিন জানিয়েছেন, দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য প্রশাসন সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। মির্জাগঞ্জে ঘরের নিচে চাপা পড়ার ফলে তিনজন আহত হয়েছেন, তাদের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিকিৎসা ও ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

জেলায় ৪৩৩টি স্বেচ্ছাসেবক টিম কাজ করছে এবং সৈকতে ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।




মির্জাগঞ্জে ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’র আঘাতে ৭টি ঘর বিধ্বস্ত, আহত ৩ জন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’র প্রভাবে ৭টি ঘর সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত হয়েছে এবং এতে ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার দেউলী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। প্রবল ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়ে ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। আহতরা বর্তমানে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

স্থানীয় ইউপি সচিব মো. মুনসুর হেলাল এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে মো. সেলিম হাওলাদার, মো. আলমগীর সিকদার এবং মো. করিম মিয়ার ঘর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ প্রবল বৃষ্টির সাথে ঝড়ো বাতাস শুরু হলে ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ে এবং মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে এবং এটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর ফলে পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। মির্জাগঞ্জসহ উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত এবং দমকা হাওয়ার কারণে জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং উপজেলা জুড়ে ৬০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।”




পায়রা বন্দর থেকে ৫৯৫ কিমি দূরে ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’ পায়রা বন্দর থেকে ৫৯৫ কিলোমিটার দূরে রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর। এর প্রভাবে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে।

বুধবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের আবহওয়াবিদ মোহাম্মদ আব্দুর রহমান খান ঘূর্ণিঝড়ের ৫ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

আবহাওয়া অফিস জানায়, পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’ আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং একই এলাকায় ঘনীভূত হচ্ছে। আজ দুপুর ১২টায় এটি চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ৬৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্র বন্দর থেকে ৬০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৬৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৫৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছিল। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিমি, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৮৮ কিমি পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।

এছাড়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।




ঘূর্ণিঝড় ডানা মোকাবিলায় পটুয়াখালীতে প্রস্তুত ৮২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ ‘ডানা’ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন জরুরি প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। বুধবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ সায়েদুল ইসলাম সজল, সিভিল সার্জন ডা. কবির হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) যাদব সরকার, উপ-পরিচালক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মোহাম্মদ নজরুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিন জানান, জেলার জন্য ৮২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যা ৪ লাখ ১৪ হাজার ৫০০ জন মানুষের এবং ১ লাখ ১ হাজার ৮৭৫টি গবাদি পশুর ধারণক্ষমতা সম্পন্ন। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) অধীনে ৮ হাজার ৭৬০ জন স্বেচ্ছাসেবকও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তার জন্য ৮০০ মেট্রিক টন চাল, ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার মজুদ রাখা হয়েছে। শিশু খাদ্যের জন্য ৫ লাখ টাকা এবং গবাদি পশুর খাদ্যের জন্য আরও ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া, জরুরি ব্যবহারের জন্য নগদ মজুদ রাখা হয়েছে ১৩ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা।

পায়রা বন্দর থেকে ঘূর্ণিঝড় ‘ডানা’ বর্তমানে ৬৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। বাতাসের একটানা গতিবেগ ৬০ কিলোমিটার, যা দমকা হাওয়ায় ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় ২ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলাবাসীর প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।




পায়রা বন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন আন্দামান সাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) সকালে নিম্নচাপটি পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৭৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছিল। আবহাওয়া অফিস আশঙ্কা করছে যে, নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে সাগর কিছুটা উত্তাল রয়েছে। সোমবারের তুলনায় আজ পানির উচ্চতা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার শঙ্কায় পায়রাসহ দেশের সব সমুদ্র বন্দরে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সব মাছধরার ট্রলারগুলোকে নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে।

মহিপুর মৎস্য আড়ৎ মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি মো. দিদার উদ্দিন আহম্মেদ মাসুম জানান, নদ-নদী ও সাগরে ১১ অক্টোবর থেকে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে, যা এখনও চলমান। তাই সব ট্রলার মহিপুর শিববাড়িয়া নদীতে আশ্রয় নিয়েছে।

কলাপাড়া আবহাওয়া অধিদপ্তরের ইলেকট্রনিক প্রকৌশলী ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার শরীফ জানান, আজ বুধবার (২৩ অক্টোবর) সকাল থেকে ভারি বর্ষণ, বাতাস এবং সাগর নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই সবাইকে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে থাকতে বলা হয়েছে।




সাগরে নিম্নচাপ, সমুদ্রবন্দরে সতর্ক সংকেত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন উত্তর আন্দামান সাগরে অবস্থানরত লঘুচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ঘণীভূত হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) ভোর ৬টায় নিম্নচাপটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৮৫ কিলোমিটার, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭০০ কিলোমিটার, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮২০ কিলোমিটার এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল।

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, নিম্নচাপটি আরও ঘণীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এর নাম হবে ‘ডানা’।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আজ সারাদেশে তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও আগামীকাল তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি কমতে পারে।




সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি, আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘ডানা’

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। আর এবারের ঘূর্ণিঝড়ের নাম হবে ‘ডানা’। ‘ডানা’ নামটি কাতারের দেওয়া। এ অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় রূপ নিলে এর নাম হবে ‘ডানা’। তারপর গতিপ্রকৃতি দেখে কখন কোথায় আঘাত হানতে পারে-সে পূর্বাভাস দেবে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) সকাল থেকে রাজধানীর আকাশ ছিলো মেঘলা। সাগরে লঘু চাপের কারণে বরিশাল ও যশোরে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে। ফলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক বলেন, সোমবার কিংবা মঙ্গলবারের দিকে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পরে সেটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত মনে হচ্ছে এটি ভারতের উড়িষ্যা বা পশ্চিমবঙ্গের দিকে আঘাত হানতে পারে। তবে গতিপথ পরিবর্তন করে বাংলাদেশেও আঘাত হানতে পারে।

শুক্রবার দেওয়া ৭২ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি, বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

রবিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি, বজ্রপাতসহ বৃষ্টি হতে পারে।