চলতি মৌসুমে তিন দফা শৈত্যপ্রবাহ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ঋতুচক্রে এখন হেমন্ত। সাঁঝ-প্রভাতে জনপদগুলো ঢেকে নিচ্ছে কুয়াশার চাদরে। ঘাসের ডগায়, বৃক্ষ পল্লবে মুক্তোর মতো শিশিরের বিন্দু টলমল করছে। ভোরের সোনা রোদ তাপ ছড়াতে না ছড়াতেই দিন ফুরিয়ে যাচ্ছে। রাত হচ্ছে দীর্ঘ। ইতিমধ্যে দেশের উত্তর জনপদে জেঁকে বসেছে শীত।

পঞ্চগড়, দিনাজপুর, নওগাঁ, রংপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, সৈয়দপুর, লালমনিরহাটসহ উত্তরের জেলাগুলোতে শীতের দাপটে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষ। কনকনে শীতের দাপট, কুয়াশায় জনজীবন হয়ে পড়েছে বিপর্যস্ত। গতকাল নওগাঁয় তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। যা এই মৌসুমে সর্বনিম্ন।

বাড়তে শুরু করেছে শীতের প্রকোপ। যতই দিন যাচ্ছে ততই নওগাঁর তাপমাত্রা কমছে। গত দুই দিন নওগাঁর তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রিতে অবস্থান করলেও শনিবার (৭ ডিসেম্বর) সেই তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। যা এই মৌসুমে সর্বনিম্ন। সকাল ৬টায় দিনাজপুরে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি বছরে এটি জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। গত কয়েক দিন ধরে সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হচ্ছে হিমেল বাতাস। আর তার সঙ্গে যোগ দেয় ঘন কুয়াশা। রাজধানী ঢাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর তাদের পূর্বাভাসে বলেছে, এ বছরের শীত মৌসুমে তিনটি হাড় কাঁপানো তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে দেশের ওপর দিয়ে। এতে তাপমাত্রা নেমে আসতে পারে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মো. ছাদেকুল আলম জানিয়েছেন, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে মোট ১৩টি শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে। এর মধ্যে ৮ থেকে ১০টি মৃদু (০৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) থেকে মাঝারি (০৬-০৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

তবে উত্তরপশ্চিমাঞ্চল, উত্তরপূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে দুই থেকে তিনটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহে (০৪-০৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস) রূপ নিতে পারে। এদিকে চলতি ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ১২টি শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়বে দেশ। এ সময়ের শেষ দিকে শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ও হতে পারে।

এদিকে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. মনোয়ার হোসেন জানান, দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তত্সংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। যার বর্ধিতাংশ উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এমন অবস্থায় আগামী কয়েক দিনে রাত ও দিনের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। এছাড়া আগামী তিন দিন অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। আর এই সময়ের মধ্যে শেষরাত থেকে ভোর পর্যন্ত দেশের উত্তরাঞ্চলের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্য জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। আজ রবিবার ও কাল সোমবার সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। এছাড়া বর্ধিত পাঁচ দিনের আবহাওয়ার অবস্থা পর্যালোচনায় রাত ও দিনের তাপমাত্রা কমতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।




সাগরে লঘুচাপ, তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে দেশের আবহাওয়ায় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। আগামী কয়েকদিনে দেশের দিন ও রাতের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শনিবার (৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রকাশিত ৭২ ঘণ্টার আবহাওয়া পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মো. মনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত বার্তায় বলা হয়েছে, দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের বর্ধিতাংশ উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। এছাড়া, উপ-মহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বিহার এবং আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে।

আগামী তিনদিন দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে এবং আংশিক মেঘলা আকাশ দেখা দিতে পারে। দেশের উত্তরাঞ্চলে মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। অন্যদিকে দেশের অন্যান্য স্থানে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে।

পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। তবে দিনের তাপমাত্রা একই থাকবে। তবে আগামীকাল (৮ ডিসেম্বর) থেকে পরদিন (৯ ডিসেম্বর) পর্যন্ত রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও দিনের তাপমাত্রা কমতে পারে।

বর্ধিত ৫ দিনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ধেয়ে আসছে ১২ শৈত্যপ্রবাহ, হতে পারে শিলাবৃষ্টিও!

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: অপেক্ষাকৃত দেরিতে হলেও চলতি মৌসুমে গ্রামাঞ্চলে শীতের দেখা মিলেছে। যদিও তীব্র শীত হানা দেয়নি। তবে আবহাওয়া অফিস বলছে, শীতের শুরুটা যেমনই হোক ডিসেম্বর মাস থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১২টি শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়বে দেশ। এরমধ্যে চারটি শৈত্যপ্রবাহ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। আর এ সময়ের শেষ দিকে এক থেকে দুই শিলাবৃষ্টিসহ ঝড়ও হতে পারে।

বুধবার (০৪ ডিসেম্বর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত তিন মাস মেয়াদী আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানা গেছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়, এই তিন মাসে সামগ্রিকভাবে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেতে পারে তবে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকতে পারে।

এছাড়া দেশে তিন থেকে আটটি মৃদু (০৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) থেকে মাঝারি (০৬ থেকে ০৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ধরনের শৈত্য প্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তবে এর মধ্যে উত্তরপশ্চিমাঞ্চল, উত্তরপূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে তিনটি থেকে চারটি তীব্র শৈত্য প্রবাহে (০৪ থেকে ০৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস) রূপ নিতে পারে।

এই সময়ে শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের উত্তর, উত্তরপশ্চিমাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল ও নদ-নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা/ মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। তবে কখনও কখনও উত্তরাঞ্চল, উত্তরপশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরপূর্বাঞ্চলে কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এবং শীতের অনুভূতি বৃদ্ধি পেতে পারে।

একইসঙ্গে ফেব্রুয়ারি মাসের শেষার্ধে দেশের কোথাও কোথাও এক থেকে দুই দিন শিলাবৃষ্টিসহ বজ্রঝড় হতে পারে।




শীত ও কুয়াশা নিয়ে যে সতর্কবার্তা দিল আবহাওয়া অফিস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশার পড়তে পারে। এর কারণে দৃষ্টিসীমা ৭০০ মিটার বা কোথাও কোথাও এর চেয়ে কম হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক সতর্কবার্তায় সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ভোর ৫টা থেকে ২-৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা ৭০০ মিটার বা কোথাও কোথাও এর চেয়ে কম হতে পারে। তাই এসব এলাকার নৌযানগুলোকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। তবে কোনো সতর্কসংকেত দেখাতে হবে না।

অপর এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সন্ধ্যা পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুয়েক জায়গায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা খুলনা, বরিশাল, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুয়েক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় দেশের অন্যান্য জায়গায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

এ সময় শেষ রাত থেকে ভোর পর্যন্ত সারা দেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।




বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, বাড়বে শীত ও কুয়াশা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: পূর্বাভাস অনুযায়ী দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। যা সময়ের সঙ্গে আরও ঘনীভূত হতে পারে। একই সঙ্গে আজ রবিবার থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। ফলে শীত বাড়বে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। শেষ রাত থেকে ভোর পর্যন্ত দেশের উত্তরাঞ্চলের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। এর প্রভাবে সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়ও অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। শেষ রাত থেকে ভোর পর্যন্ত সারাদেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।

এ সময় সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, আগামীকাল সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়ও সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। আর শেষরাত থেকে ভোর পর্যন্ত সারাদেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। এ ছাড়া সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে এ সময়ের পর দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে।




বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের পূর্বাভাস, তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। একই সঙ্গে সারা দেশে শেষরাত থেকে ভোর পর্যন্ত কুয়াশার পরিমাণ বাড়তে পারে। এর প্রভাবে আগামী ৭২ ঘণ্টায় রাত ও দিনের তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পেতে পারে।

শুক্রবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় প্রকাশিত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। শনিবার সন্ধ্যা থেকে শুরু করে পরবর্তী কয়েকদিন সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে, তবে কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমবে এবং দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে। একই পরিস্থিতি রবিবার পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে, তবে ওইদিন তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা কক্সবাজার ও কুতুবদিয়ায় রেকর্ড করা হয়। অন্যদিকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায় ১৪.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময়ে দেশের কোথাও বৃষ্টিপাত হয়নি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কলাপাড়ায় জলবায়ু অর্থায়ন ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে সাইকেল র‍্যালি

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জলবায়ু পরিবর্তন এবং ক্ষতিপূরণের জন্য এক ব্যতিক্রমী সাইকেল র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৫ নভেম্বর শুক্রবার, উপজেলার আন্দারমানিক নদীর তীরবর্তী হেলিপ্যাড মাঠ থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয় এই র‍্যালি।

এই র‍্যালির আয়োজন করে “ধরিত্রী রক্ষায় আমরা”, “ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ”, এবং “আমরা কলাপাড়াবাসী”। এর মাধ্যমে তারা নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারের জন্য অর্থায়ন বাড়ানোর পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার বন্ধ এবং জলবায়ু ন্যায্যতার জন্য দাবি জানান।

র‍্যালির উদ্বোধন করেন কলাপাড়া প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব এস এম মোশারফ হোসেন মিন্টু। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ওয়াটারকিপার্সের কলাপাড়া সমন্বয়ক মেজবাহ উদ্দিন মাননু, কলাপাড়া প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সদস্য অমল মুখার্জী, “আমরা কলাপাড়াবাসী” এর সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম, এবং প্রান্তজনের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর সাইফুল্লাহ মাহমুদ।

সংগঠকরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পৃথিবীকে রক্ষার জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তারা নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার ও জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের পরিবর্তে আরো সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব উপায় গ্রহণের আহ্বান জানান।

স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, এমন ধরনের উদ্যোগ কলাপাড়ার জনগণের মধ্যে জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধি করবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সংগ্রামে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালীর দুলালী বেগমের বক্তব্য: জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহায়তার দাবি

আজারবাইজানের বাকুতে চলমান কপ-২৯ জলবায়ু সম্মেলনে পটুয়াখালীর কলাপাড়া এলাকার জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ কমিউনিটির প্রতিনিধি দুলালী বেগম জলবায়ু অর্থায়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের জন্য জরুরি সহায়তার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন। গত সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিশ্বের সামনে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব এবং এর মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানান।

দুলালী বেগম তার বক্তব্যে বলেন, “আমরা প্রতিনিয়ত জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করছি। আমাদের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষদের জীবনযাত্রা বিপন্ন হয়ে পড়েছে। যদি এই সংকটের সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়া হয়, তবে আগামী দিনে আমাদের জন্য তা ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনতে পারে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, জলবায়ু সংকটের কারণে উপকূলীয় কৃষি এবং মাছের চাষে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে, যা স্থানীয় মানুষের জীবিকার অন্যতম উৎস।

দুলালী বেগম এই সম্মেলনে বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পক্ষে কথা বলেন এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমাদের দেশের উপকূলীয় এলাকার মানুষদের জন্য এখনই টেকসই ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার। জলবায়ু অর্থায়ন আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ, যা শুধু অর্থনৈতিক নয়, মানবিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।”

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অ্যাকশন এইড ইন্টারন্যাশনালের গ্লোবাল লিডারেসা অ্যান্ডারসন, অ্যাকশন এইড সোমালিল্যান্ড-এর কান্ট্রি প্রোগ্রাম ম্যানেজার নুরা মোহাম্মদ, এবং অ্যাকশন এইড অস্ট্রেলিয়ার এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মিশেল হিগেলিন। তারা একমত হন যে, জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় আরও সক্রিয় এবং সঠিক অর্থায়ন প্রক্রিয়া প্রয়োজন।

এলাকাবাসী ও অন্যান্য অংশীদারদের মতামত অনুযায়ী, এই ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে এবং প্রয়োজনীয় সমাধানগুলির দিকে বিশ্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



শীত নামবে নভেম্বরের মাঝামাঝি, ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে শৈত্যপ্রবাহ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: চলতি মাসের মাঝামাঝিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীত অনুভূত হতে পারে আর ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে কয়েক দফা শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।বুধবার (৬ নভেম্বর) আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে দেশে ৮-১০টি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। আর দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে দুই থেকে তিনটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বইতে পারে।

আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক জানান, ডিসেম্বর এবং জানুয়ারি মাসে শৈত্যপ্রবাহ চলতে পারে। তবে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বইবে ডিসেম্বরের শেষ ও জানুয়ারি মাসের শুরুতে।

শীত কবে আসবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনই সকালের দিকে উত্তরবঙ্গের লোকজন শীতের অনুভূতি পাওয়ার কথা বলছে। তবে এ মাসের ১৫ তারিখের পর শীতের অনুভূতি তৈরি হবে দেশের উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-পঞ্চিমাঞ্চলে।

এই আবহাওয়াবিদ আরও বলেন, নভেম্বর মাসে অহরহ লঘুচাপ তৈরি হয়। এ মাসে ঘূর্ণিঝড় হতে পারে। ডিসেম্বরেও লঘুচাপ হতে পারে, তবে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভবনা কম।

আবহাওয়া অফিস বলছে, আগামী তিন মাসে দেশে ‘স্বাভাবিক’ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে আছে। এর মধ্যে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে পারে।

আর শেষ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল ও নদী অববাহিকায় মাঝারি বা ঘন কুয়াশা এবং অন্যান্য এলাকায় হালকা বা মাঝারি ধরণের কুয়াশা পড়তে পারে।




রাঙ্গাবালীতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সাড়া শক্তিশালী করতে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে দিনব্যাপী একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে গত বুধবার এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল জরুরি সাড়া দেওয়ার প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৌশলগত প্রস্তুতি বৃদ্ধি করা।

কর্মশালায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, এনজিও কর্মী, এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। এতে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওডি) অনুযায়ী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দিলীপ কুমার সাহা। তিনি দুর্যোগ ঝুঁকি কমানোর এবং জরুরি সাড়া দেওয়ার কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তার বক্তব্যে দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতির গুরুত্ব এবং সঠিক সময়ে সাড়া দেওয়ার পদ্ধতি তুলে ধরা হয়।

কর্মশালায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হাসান সভাপতিত্ব করেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা অজিত কুমার, উপজেলা প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান, আইসিটি কর্মকর্তা মাসুদ হাসান, এবং রাঙ্গাবালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি কামরুল হাসানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

এছাড়া, এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার মাধ্যমে উপস্থিত সকল ব্যক্তির মধ্যে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা বৃদ্ধি করা হয়, যা পরবর্তীতে রাঙ্গাবালী উপজেলাকে আরও নিরাপদ এবং দুর্যোগ সহিষ্ণু করে তুলবে।