আসছে শৈত্যপ্রবাহ, সাথে বজ্র ও শিলাবৃষ্টির আভাস

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: দেশের তাপমাত্রা বিরাজ করছে ১০ ডিগ্রির ঘরে। তবে এই  ফেব্রুয়ারিতে আবারও ৮ ডিগ্রির ঘরে নামতে যাচ্ছে তাপমাত্রা।  সঙ্গে  হানা দিতে পারে বজ্র ও শিলাবৃষ্টিও।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ফেব্রুয়ারি মাসের দীর্ঘমেয়াদী আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

তবে  নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে দেশের উত্তর, পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি মৃদু (০৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

পাশাপাশি এ মাসের প্রথমার্ধে দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে।

এবং এ  মাসের শেষের দিকে অন্তত ২ দিন দেশের কোথাও কোথাও বজ্রসহ বৃষ্টি অথবা শিলাবৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।  এছাড়া এ মাসে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

 




ছেলেকে না পেয়ে বাবাকে গ্রেপ্তার, গৌরনদীতে দোকান বন্ধ রেখে ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদ

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের সাদ্দাম বাজার এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ছেলেকে না পেয়ে তার বাবাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে—এমন অভিযোগ তুলে প্রতিবাদে বাজারের অন্তত ১৫টি দোকান বন্ধ রাখেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে। ব্যবসায়ীদের দাবি, ছাত্রলীগ সমর্থিত শামীম হাওলাদারকে আটক করতে পুলিশ বাজারে অভিযান চালায়। তবে তাকে না পেয়ে তার বাবা ৭০ বছর বয়সী শাজাহান হাওলাদার খোকনকে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রেপ্তার করে গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তার হওয়া শাজাহান হাওলাদার খোকন সাদ্দাম বাজার কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি তিনি চার্চ অব বাংলাদেশ সাধু ফিলিপ গির্জার নৈশপ্রহরী হিসেবেও কর্মরত রয়েছেন।

সাদ্দাম বাজারের সাধারণ সম্পাদক মো. হাফিজুর রহমান বলেন,
“শাজাহান হাওলাদার খোকন কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। শুধু তার ছেলে ছাত্রলীগ সমর্থিত—এই কারণে পুলিশ তাকে খুঁজতে এসে বাবাকে ধরে নিয়ে গেছে। আমাদের জানামতে, তার কিংবা তার ছেলের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। একজন নিরীহ ব্যবসায়ীকে এভাবে গ্রেপ্তার করায় আমরা ক্ষুব্ধ।”

তিনি আরও জানান, শাজাহান হাওলাদার খোকন বার্থী ইউনিয়নের ধুরিয়াইল গ্রামের শাহেব আলী হাওলাদারের ছেলে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এ ধরনের ঘটনায় বাজারে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাই তারা দোকান বন্ধ রেখে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিখ হাসান রাসেল বলেন,
“শাজাহান হাওলাদার খোকনকে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছে। দোকান বন্ধ রেখে প্রতিবাদ করা ব্যবসায়ীদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত।”

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয়রা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও বিষয়টির নিরপেক্ষ নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




হাড় কাঁপানো শীতে স্তব্ধ দেশ

বাংলা পৌষ মাসের মাঝামাঝিতে এসে শীত যেন তার চরম রূপ দেখাতে শুরু করেছে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলসহ দেশের প্রায় সব এলাকায় হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলছে না অনেক জায়গায়। কনকনে ঠান্ডায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে, সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন খেটে খাওয়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজশাহীতে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। ভোর ৬টার দিকে এই তাপমাত্রা রেকর্ড হলে অঞ্চলটির ওপর দিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। একদিনের ব্যবধানে সেখানে তাপমাত্রা প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে গেছে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল প্রায় ১০০ শতাংশ, আর ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা নেমে আসে মাত্র ৬০০ মিটারে।

এর আগে সোমবার রাজশাহীতে দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ১৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। একই সময়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি মাসের শুরুতে রাজশাহী, নওগাঁর বদলগাছী ও পাবনার ঈশ্বরদীতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছিল।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসজুড়ে দেশে একাধিক শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে তাপমাত্রা আরও কমে কোথাও কোথাও ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামার আশঙ্কাও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও গ্রামীণ এলাকায় সকাল-বিকাল ঘন কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাসে মানুষের চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে।

শহর ও গ্রামাঞ্চলে মানুষ যে যেভাবে পারছে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। কোথাও খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা যাচ্ছে, আবার কেউ কেউ শীতবস্ত্রের অভাবে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক ও খোলা আকাশের নিচে থাকা মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ।

তীব্র শীতের প্রভাবে বেড়েছে শীতজনিত রোগের প্রকোপও। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বড় একটি অংশ শিশু ও বয়স্ক মানুষ। রাজধানীর শিশু হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই সময়ে নিউমোনিয়া ও ব্রঙ্কিওলাইটিসে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, এই ঠান্ডার সময়ে শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি যত্ন নেওয়া জরুরি। গরম কাপড় ব্যবহার, ঠান্ডা বাতাস এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে শীতের তীব্রতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। একই সময়ে রংপুরের সৈয়দপুরেও তাপমাত্রা নেমেছিল ২ দশমিক ৯ ডিগ্রিতে, যা ছিল একটি বিরল নজির।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার পাশাপাশি শীত মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আজ রাজশাহীতে সর্বনিম্ন ৭ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : হাড়কাপানো শীতে কাপছে সারা দেশ। খেটে খাওয়া মানুষের জীবন বির্পযস্ত এই হাড়কাপানো শীতে আর এরই মাঝে  সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড হয়েছে আজ মঙ্গলবার।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এর আগে গত ৩১ ডিসেম্বর মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল গোপালগঞ্জে, ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আজ সেই তাপমাত্রা কমে হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সেই তাপমাত্রা আজ রেকর্ড হয়েছে দেশের উত্তরের জেলা রাজশাহীতে। আজ এই রাজশাহীসহ ১০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কমে গেলেও রাজধানীর তাপমাত্রা কিন্তু আজ বেড়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের  একজন  দ্বায়িত্বশীল  আবহাওয়াবিদ বলেন , আজ রাজশাহীতে যে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, তা এ শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন। আগামী তিন থেকে চার দিন তাপমাত্রা ওঠানামা করতে পারে। তবে চলতি মাসের ১০ বা ১১ তারিখের দিক থেকে তাপমাত্রা বাড়তে পারে।

যখন কোনো এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে, তখন তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলে।

তাপমাত্রা ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে বলা হয় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। তাপমাত্রা ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলে গণ্য করা হয়।

আর তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে গেলে তাকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর চলতি মাসের শুরুতে দেওয়া দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলেছিল, এ মাসে অন্তত পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে একটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে।

 




মঙ্গলবার থেকে, তাপমাত্রা নামতে পারে ৪ ডিগ্রিতে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:পৌষের হাড় কাঁপানো শীতে কাঁপছে জনজীবন। কুয়াশায় আচ্ছন্ন দেশে কোথাও সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। শীতল হয়ে আছে মাটি। উত্তরের হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত জনজীবন। গত তিন দিন ধরেই চলছে শৈত্যপ্রবাহ। গতকালও সাতটি জেলায় শৈত্যপ্রবাহ ঘিরে নেয়। বৈরী আবহাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ। এর মাঝেই শীত নিয়ে আবারও দুঃসংবাদ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও ৬ জানুয়ারি সকাল থেকে দেশে শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও তীব্র শৈত্যপ্রবাহও দেখা দিতে পারে।

বিশেষ করে আজ শনিবার রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোর ওপরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যাওয়ার আশঙ্কা করা যাচ্ছে। জানুয়ারি মাসে দেশের তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলতি মৌসুমে মোট পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে দুই-তিনটি শৈত্যপ্রবাহ হবে মৃদু থেকে মাঝারি তাপমাত্রার (৮-১০ ডিগ্রি থেকে ৬-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) এবং এক-দুইটি শৈত্য প্রবাহ হবে মাঝারি থেকে তীব্র (৬-৮ ডিগ্রি থেকে ৪-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস)। যশোরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবারও যশোরে দেশের সর্বনিম্ন ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। সব মিলিয়ে এই মৌসুমে চার দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এই জেলায় রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে টানা এই শীতের দাপটে শহর-গ্রামে জীবন যাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও প্রান্তিক মানুষ দুর্বিষহ অবস্থায় জীবন যাপন করছেন। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে পথঘাট, যার প্রভাব পড়ছে বিমান থেকে শুরু করে সড়ক ও নৌ-যোগাযোগেও। গতকাল সকালে ঘন কুয়াশার কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৯টি ফ্লাইট ডাইভার্ট করা হয়েছে। ঢাকার ৯ ফ্লাইট চলে যায় চট্টগ্রাম-কলকাতা-ব্যাংককে। সড়কে বহু যান বাহন দুর্ঘটনাকবলিত হয়।

 




শীতের তীব্রতা কমলে ও ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে রাজধানী

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকাগুলো ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে।  কুয়াশার  চাদর গায়ে মেখে সকাল হয়েছে আজ (২ জানুয়ারি) ,কুয়াশার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে সামান্য দূরত্বেও দৃশ্যমানতা অনেকটা কমে যায়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, আজ সকালে ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা গতকালের তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার যেখানে ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আজ শুক্রবার তা কিছুটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।আবহাওয়ার প্রতিবেদনে এই পরিস্থিতির বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আজ সকাল ৭টার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে যে, সকাল ৬টায় রাজধানী ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ১৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ।

আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে যে, ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় দুপুর পর্যন্ত আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। তবে এই সময়ে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার ফলে যান চলাচলেও কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে হিমেল বাতাস বয়ে যেতে পারে। তবে কুয়াশা থাকলেও আজ দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ২৩ মিনিটে এবং আগামীকাল শনিবার সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ৪২ মিনিটে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের এই তথ্যাবলি থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, কনকনে শীতের মাঝে কুয়াশার দাপট থাকলেও তাপমাত্রার পারদ সামান্য ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার আভাস রয়েছে।




ঝিরঝির বৃষ্টির মত ঝরছে কুয়াশা, আজও থাকবে শীতের দাপট

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ:  শীতের তীব্রতায় নাকাল দেশ ও জনপদ,মরার উপর খড়ার ঘাঁ হয়ে  সকাল থেকে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা বৃষ্টির মত ঝরছে কুয়াশা, সেই সঙ্গে শৈতপ্রবাহে  নগর জীবনে নেমে এসেছে দূর্ভোগ ।

আজও আকাশ অস্থায়ীভাবে মেঘলা থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

একইসঙ্গে দিনের তাপমাত্রা সাধারণত অপরিবর্তিত থাকতে পারেও বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। তবে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে শীতের অনুভূতি অব্যাহত থাকতে পারে। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় উত্তর বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬-১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যেতে পারে।

এদিকে, সকাল ৬টায় ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার তাপমাত্রা ছিলো ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আদ্রর্তা ছিল ৯৩ শতাংশ।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ সূর্য অস্ত যাবে সন্ধ্যা ৫টা ২২ মিনিটে।

 




যশোরে তীব্র শীত, টেকনাফে গরম: দেশের তাপমাত্রার উল্টো চিত্র

ঢাকা: দেশের শীতের তীব্রতা বাড়ায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে হাড়কাঁপানো ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এ সময়ের জন্য দেশের সর্বনিম্ন।

এর বিপরীতে, চট্টগ্রামের টেকনাফে রেকর্ড করা হয়েছে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা দেশজুড়ে তাপমাত্রার উল্টো চিত্র তুলে ধরেছে।

অবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বর্তমানে উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে রয়েছে।

পরবর্তী আবহাওয়ার পূর্বাভাস:

  • ২৭ ডিসেম্বর: সারাদেশে আংশিক মেঘলা এবং শুষ্ক আবহাওয়া। মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা কোথাও কোথাও, বিশেষ করে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, নৌ পরিবহন ও সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
  • ২৮ ডিসেম্বর: আবহাওয়া আংশিক মেঘলা, শুষ্ক থাকবে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশা পড়তে পারে। রাত ও দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
  • ২৯ ডিসেম্বর: আংশিক মেঘলা, শুষ্ক আবহাওয়া, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা। রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
  • ৩০ ডিসেম্বর: নদী অববাহিকার জায়গায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা, অন্যান্য স্থানে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা।
  • ৩১ ডিসেম্বর: আংশিক মেঘলা এবং শুষ্ক আবহাওয়া। নদী অববাহিকার জায়গায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যান্য স্থানে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই পাঁচ দিনের সময়ে দেশের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা হাড়কাপানো শীতে কাপছে দেশ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : প্রবাদ আছে মাঘের শীত বাঘের গায়ে ও লাগে তবে এবার মাঘ মাস  নয় পৌষের তীব্র শীতেই কাপিয়ে দিচেছ দেশ ।  দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে জনজীবন রীতিমতো বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।

বর্তমানে দেশের সাতটি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এসব জেলার মধ্যে রয়েছে চুয়াডাঙ্গা, যশোর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নীলফামারী। শুক্রবার চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে সর্বশেষ আজ শনিবার সকালে যশোরে সর্বনিম্ন ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, হালকা থেকে ঘন কুয়াশার প্রকোপ আরও অন্তত পাঁচ দিন অব্যাহত থাকবে। এর ফলে নৌ, সড়ক ও বিমান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। একই সঙ্গে জানুয়ারির শুরু থেকে শীতের তীব্রতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়েছে, ২৬ ডিসেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত মধ্যরাত থেকে সকাল সময়জুড়ে সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। কোনো কোনো এলাকায় এই কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। পাশাপাশি সাত জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু শৈত্যপ্রবাহ কিছু এলাকায় অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, কুয়াশার এই প্রবণতা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে এবং জানুয়ারির শুরুতে শীতের তীব্রতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, দেশের অভ্যন্তরের জলাধার, বিল ও হাওর থেকে উৎপন্ন কুয়াশা, বিকিরণজনিত কুয়াশা, পাহাড়ি এলাকায় সৃষ্ট কুয়াশা এবং ভারতের উত্তর–পশ্চিম দিক থেকে বায়ুতাড়িত কুয়াশা প্রবেশ করায় সামগ্রিকভাবে কুয়াশার ঘনত্ব বেড়েছে। এই কুয়াশা মধ্যরাত থেকে দুপুর পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলে অবস্থান করায় সূর্যের আলো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, ফলে ঠান্ডার অনুভূতিও আরও তীব্র হয়ে উঠছে।




বরিশালে তীব্র শীত, মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় স্থবির জনজীবন

বরিশালে হঠাৎ করেই জেঁকে বসেছে কনকনে শীত। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) জেলায় চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা জনজীবনে চরম ভোগান্তি ডেকে এনেছে। তীব্র শীতের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর ও নিম্নআয়ের শ্রমজীবীরা।

বরিশাল আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই দিনে বিকেলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন বুধবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা আরও কমে গেছে।

আবহাওয়া পর্যবেক্ষক মাসুদ রানা রুবেল জানান, ডিসেম্বরের শেষভাগ ও জানুয়ারির শুরুতে তাপমাত্রা সাধারণত কম থাকে। আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও কিছুটা হ্রাস পেতে পারে। তবে আপাতত জেলায় কোনো শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অফিসের বেলুন মেকার মো. রাফি।

এদিকে তীব্র শীতের প্রভাবে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতাল (শেবাচিম)-এ ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, শিশু ওয়ার্ডে মাত্র ৪১টি শয্যা থাকলেও বর্তমানে সেখানে প্রায় ৩০০ জন শিশু রোগী ভর্তি রয়েছে। ফলে শয্যার তুলনায় প্রায় সাত গুণ বেশি রোগী নিয়ে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।

শুধু শিশুরাই নয়, বয়স্কদের মধ্যেও সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্টসহ ঠান্ডাজনিত নানা রোগের প্রকোপ বাড়ছে। সকালে কুয়াশার কারণে সূর্যের দেখা পেতে দেরি হচ্ছে, আর বেলা বাড়লেও কনকনে ঠান্ডা কমছে না।

শীতের কারণে রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল কমে যাওয়ায় আয়-রোজগারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কাশিপুর এলাকার অটোরিকশাচালক কবির হোসেন বলেন, ‘ঠান্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে আসে। যাত্রীও নেই। এভাবে কয়েক দিন চললে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাবে।’

সচেতন মহল মনে করছে, তীব্র শীত মোকাবেলায় দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে নিম্নআয়ের মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫