বাংলা পৌষ মাসের মাঝামাঝিতে এসে শীত যেন তার চরম রূপ দেখাতে শুরু করেছে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলসহ দেশের প্রায় সব এলাকায় হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলছে না অনেক জায়গায়। কনকনে ঠান্ডায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে, সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন খেটে খাওয়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজশাহীতে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। ভোর ৬টার দিকে এই তাপমাত্রা রেকর্ড হলে অঞ্চলটির ওপর দিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। একদিনের ব্যবধানে সেখানে তাপমাত্রা প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে গেছে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল প্রায় ১০০ শতাংশ, আর ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা নেমে আসে মাত্র ৬০০ মিটারে।
এর আগে সোমবার রাজশাহীতে দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ১৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। একই সময়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি মাসের শুরুতে রাজশাহী, নওগাঁর বদলগাছী ও পাবনার ঈশ্বরদীতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছিল।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসজুড়ে দেশে একাধিক শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে তাপমাত্রা আরও কমে কোথাও কোথাও ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামার আশঙ্কাও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও গ্রামীণ এলাকায় সকাল-বিকাল ঘন কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাসে মানুষের চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে।
শহর ও গ্রামাঞ্চলে মানুষ যে যেভাবে পারছে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। কোথাও খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা যাচ্ছে, আবার কেউ কেউ শীতবস্ত্রের অভাবে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক ও খোলা আকাশের নিচে থাকা মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ।
তীব্র শীতের প্রভাবে বেড়েছে শীতজনিত রোগের প্রকোপও। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বড় একটি অংশ শিশু ও বয়স্ক মানুষ। রাজধানীর শিশু হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই সময়ে নিউমোনিয়া ও ব্রঙ্কিওলাইটিসে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, এই ঠান্ডার সময়ে শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি যত্ন নেওয়া জরুরি। গরম কাপড় ব্যবহার, ঠান্ডা বাতাস এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে শীতের তীব্রতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। একই সময়ে রংপুরের সৈয়দপুরেও তাপমাত্রা নেমেছিল ২ দশমিক ৯ ডিগ্রিতে, যা ছিল একটি বিরল নজির।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার পাশাপাশি শীত মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম