বরিশালে জ্বর ও ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ

বরিশাল অফিস : বরিশালের বিভিন্ন স্থানে বেড়েছে জ্বর ও ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ। একই ঘরে আক্রান্ত হচ্ছেন একাধিক সদস্য। চিকিৎসকরা বলছেন, দিন ও রাতের তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এখন ভাইরাসজনিত জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। এই জ্বর হাঁচি-কাশির মাধ্যমে একজন থেকে অন্যজনে ছড়াচ্ছে। সাধারণত তিন থেকে সাতদিন জ্বর, সর্দি ও কাশির তীব্রতা থাকছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি।

অসুস্থ হওয়ার অন্যতম উপসর্গ জ্বর। সাধারণ জ্বর হলে দু-তিনদিনের মধ্যে এমনিতেই সেরে যায়। কিন্তু জ্বর তিনদিনের বেশি থাকলে চিকিৎসাসেবা নেওয়াটা জরুরি বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

সরেজমিনে নগরির মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, এই হাসপাতালগুলোর জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগে রোগীদের ভিড়। সবচেয়ে বেশি ভিড় মেডিসিন বিভাগে। হাসপাতালের তথ্যে জানা যায়, অন্য সাধারণ সময়ের তুলনায় রোগী বেড়েছে ২৫ শতাংশ। তাদের বেশিরভাগই জ্বর-ঠান্ডাজনিত রোগী।

একই পরিবারের ১১ বছরের শিশু রুকাইয়া ও পাঁচ বছরের শিশু রুশাইদা। দুজনেরই তিনদিন ধরে জ্বর, সঙ্গে সর্দিও লেগে আছে। সাধারণ প্যারাসিটামলজাতীয় ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছিল তাদের। এক পর্যায়ে সর্দি থেকে কানে সমস্যা দেখা দেয় রুকাইয়। এরপর তাকে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন। রুকাইয়া মা শামসুন নাহার বলেন, ‘সাধারণ সর্দি-জ্বর মনে করেছিলাম। কিন্তু হঠাৎ ওর কানে ব্যথা শুরু হয়। ডাক্তারের কাছে নিয়ে এসেছি। বলছেন, কানের পর্দায় সমস্যা হয়েছে। ড্রপ দিয়েছেন। এখন দেখি…।’

বরিশালের একাধিক ফার্মেসিতে (ওষুধের দোকান) খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শীতকালীন সময়ে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে মোনাস, ফেক্সো বা এজাতীয় অন্য ওষুধ। তবে ঠান্ডা একটু কমে যাওয়ার পর থেকে প্যারাসিটামলজাতীয় ওষুধ নাপা, এইস ও সর্দির ওষুধ বিক্রি অনেক বেড়েছে।

সদর রোডের একজন বিক্রয় প্রতিনিধি জানান, শীতকালীন সময়ের তুলনায় এখন জ্বর ও ঠান্ডাজনিত রোগের ওষুধ বিক্রি বেড়েছে। সাধারণত শীতকালে রোগের প্রকোপ একটু কম থাকে। শীত কমার সঙ্গে সঙ্গে জ্বর-সর্দির মতো অসুখ বেড়ে যায়।

হাসপাতালের চিকিৎসক জানান , সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রায় ৯০ জন রোগী দেখেছি। গত সপ্তাহ থেকে রোগী বাড়ছে। বেশিরভাগই জ্বর, ঠান্ডা-কাশি, ডায়রিয়া, অ্যাজমা, হাঁপানি, নিউমোনিয়া, ব্রংকিওলাইটিস ও শ্বাসকষ্টের রোগী। অনেকের চর্মরোগের সমস্যাও অনেক বেড়েছে। ২-৩ শতাংশ করোনা রোগীও পাওয়া যাচ্ছে।বেশিরভাগ শিশুর শুরুতেই তীব্র জ্বর আসছে। ১০৪-১০৫ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠছে। সাধারণ জ্বর তিনদিন পর এমনিতেই সেরে যায়। কিন্তু সর্দি-কাশি বা অন্য উপসর্গ থাকছে অনেকের, তাই জ্বর দ্রুত কমছে না। হাসপাতালে এখন এ ধরনের রোগীর সংখ্যাই বেশি।

তিনি বলেন, দিন ও রাতের তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এখন ভাইরাসজনিত জ্বর হচ্ছে। এই জ্বর হাঁচি-কাশির মাধ্যমে একজন থেকে অন্যজনে ছড়াচ্ছে। তিনদিনের বেশি জ্বর থাকলে অবহেলা করা উচিত নয়। পরীক্ষা করানো উচিত। যেহেতু এখন আবার নতুন করে করোনা হাতছানি দিচ্ছে। এছাড়া ডেঙ্গুও পুরোপুরি যায়নি। বিশেষত, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও ক্রনিক রোগীদের বিষয়ে আরও সচেতন হওয়া উচিত। জ্বরের সঙ্গে ঘাড় বা শরীরে ব্যথা, উচ্চ তাপমাত্রা, বমি করা বা খাবার খেতে না পারা, তিনদিনের বেশি জ্বর থাকা, শুধু রাতে জ্বর আসা, শরীরে র‌্যাশ বের হওয়া, চোখ শুকিয়ে যাওয়া ও খিঁচুনি হওয়া ইত্যাদি লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।




বরিশালে গায়ে হলুদে কনেকে চুমু, ভেঙে গেল বিয়ে

বরিশাল অফিস : বরিশালের আগৈলঝাড়ায় গায়ে হলুদে কনেকে চুমু দেওয়ায় বিয়ে ভেঙে যায় কনের। তবে চুমু দেওয়ার অভিযোগে যুবককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।

গতকাল রোববার এ ঘটনায় করা মামলায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত শনিবার রাতে উপজেলার বাগধা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার জিহাদ হাওলাদার (২৪) উজিরপুর উপজেলার সাতলা গ্রামের ছত্তার হাওলাদারের ছেলে।

আগৈলঝাড়া থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাগধা ইউনিয়নে স্কুলে পড়াশোনার সময় ভুক্তভোগী এবং পার্শ্ববর্তী উজিরপুর উপজেলার সাতলা গ্রামের বাসিন্দা জিহাদ হাওলাদারের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন তাঁদের সম্পর্ক ছিল। তবে পরে জিহাদ হাওলাদার অন্যত্র বিয়ে করেন। সম্প্রতি ওই তরুণীর বিয়ে ঠিক হয়। গত শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাড়িতে গায়েহলুদ ছিল। বরপক্ষের লোকজনও এসেছিলেন।

অনুষ্ঠান চলাকালে হঠাৎ জিহাদ হাওলাদার সেখানে উপস্থিত হন। তিনি নিমন্ত্রিত ছিলেন না বলে জানা গেছে। জাহিদ লোকজনের সামনেই কনেকে চুমু দেন। উপস্থিত লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে জিহাদকে গণধোলাই দিয়ে রাতেই আগৈলঝাড়া থানা-পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। পরে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করলে পুলিশ জিহাদকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

এদিকে এ ঘটনার পরে বরের বাবা বিয়ে ভেঙে দিয়েছেন বলে মেয়ের পরিবারকে জানিয়ে দেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গায়েহলুদের আসরে কনেকে চুমু দেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত ছেলে জিহাদকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছি। আমরা বরের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’




বরিশালে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবসে অলোচনা সভা

বরিশাল অফিস :: স্মার্ট পরিসংখ্যান উন্নয়নের সোপান এই স্লোগান নিয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় পরিসংখ্যান অফিসের আয়োজনে মঙ্গলবার ( ২৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২ টায় সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস ২০২৪ উপলক্ষ্যে র‌্যালি ও অলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে ।

বরিশাল জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন,বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শওকত আলী।

বিশেষ অতিথি ছিলেন, বরিশাল পরিসংখ্যান বিভাগ বিশ্ববিদ্যালয় চেয়ারম্যান মোঃ সাইফ উদ্দীন রাশেদ, বরিশাল জেলা পরিসংখ্যান অফিসের যুগ্মউপপরিচালক মোঃ শহীদুল ইসলামসহ পরিসংখ্যান অফিসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শুরুতে সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গন থেকে বণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত এক আলোচনা শেষে প্রধান অতিথি পরিসংখ্যান দিবসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে আলোচনা করেন।

 




বরিশাল বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতাদের সম্মাননা প্রদান

বরিশাল অফিস :: শেখ হাসিনার বারতা নারী-পুরুষ সমতা এই স্লোগান নিয়ে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সহযোগিতায়, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর আয়োজনে ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মঙ্গলবার(২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশাল বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতাদের সম্মাননা প্রদান ২০২২অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে,বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শওকত আলী সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন,মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কেয়া খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর পরিচালক জাকিয়া আফরোজ,বরিশাল অতিরিক্ত রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ শহিদুল্লাহ,

বরিশাল জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলামসহ মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারি, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির সদস্যরা এবং সংবর্ধিত নারী জয়ীতারা এবং তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শুরুতে অতিথিরা অনুষ্ঠানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে আলোচনা করেন। পরে ৫টি ক্যাটাগরিতে বরিশাল বিভাগের পাঁচ জন শ্রেষ্ঠ জয়িতাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।

বিভাগীয় পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ জয়িতা হলেন, পাঁচটি ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত ও সংবর্ধিত জয়িতারা হলেন-সফল জননী ক্যাটাগরিতে মোসাঃ বিলকিচ বেগম (বরগুনা), অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী ক্যাটাগরিতে নাজমুন নাহার রীনা (বরিশাল), সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী ক্যাটাগরিতে মোসাঃ সালমা বেগম (ঝালকাঠি), নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করেছে যে নারী ক্যাটাগরিতে মোসাঃ জাহানারা বেগম (বরগুনা), শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী ক্যাটাগরিতে প্রফেসর শাহ সাজেদা (বরিশাল)।


৫ জন শ্রেষ্ঠ জয়িতাদের প্রত্যেকের হাতে ক্রেস্ট, নগদ ১০ হাজার টাকা এবং সনদপত্র তুলে দেন অতিথিরা। এছাড়াও জেলা পর্যায়ের নির্বাচিত ২৫ জন শ্রেষ্ঠ জয়িতা নারীকে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে প্রত্যেকের হাতে ক্রেস্ট, নগদ ২ হাজার টাকা এবং সনদপত্র তুলে দেন অতিথিরা।

 




বরিশালে জুয়াড়িদের হামলায় আহত ২ পুলিশ

বরিশাল অফিস :: পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনী দিনে বরিশালের হিজলা উপজেলায় জুয়াড়িদের হামলায় আহত হয়েছেন দুই পুলিশ সদস্য।

মঙ্গলবার বেলা ১টার দিকে উপজেলার পুরাতন হিজলা মাছঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন হিজলা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দীপংকর রায়।

আহতরা হলেন- হিজলা থানার এএসআই মো. আব্বাস ও কনস্টেবল মো. আব্দুর রহমান।

পরিদর্শক দীপংকর ওয়ারেন্ট তামিলের উদ্দেশ্যে এএসআই আব্বাসের নেতৃত্বে তিন সদস্যর পুলিশ দল পুরাতন হিজলা মাছঘাট এলাকায় গিয়েছিলেন।

সেখানে গিয়ে একটি জুয়ার আসর দেখতে পেয়ে অভিযান করলে জুয়াড়িরা হামলা করে। এতে দুইজন আহত হন।

এর মধ্যে এএসআই আব্বাসের মাথায় জখম হওয়ায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। কনস্টেবল রহমানকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী মো. সাব্বির বলেন, পুরাতন হিজলা মাছঘাট এলাকায় নিয়মিত জুয়ার আসর বসান স্থানীয় কয়েকজন। সেখানে তাস দিয়ে প্রতিদিন ৩-৫ লাখ টাকার জুয়া খেলা হয়।

সাব্বির জানান, “বিষয়টি পুলিশকে জানালে তারা এসে কয়েকজন জুয়াড়িকে আটক করে। তখন অন্য জুয়াড়িরা হামলা করে আটকদের ছিনিয়ে নিয়েছে। হামলার খবর পেয়ে অন্য পুলিশ সদস্যরা এসে আহতদের উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান পরিদর্শক দীপংকর রায়।




৩৪ থেকে ৭০ পয়সা বাড়ছে বিদ্যুতের দাম, মার্চ থেকে কার্যকর : প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি সর্বনিম্ন ৩৪ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৭০ পয়সা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর গেজেট মঙ্গলবারই জারি হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান।

নসরুল হামিদ জানান, বিদ্যুতের নতুন দাম মার্চ মাস থেকে কার্যকর হবে। গ্যাসের দামও বাড়ছে। তবে বাসাবাড়ির গ্রাহক ও শিল্পপর্যায়ে এখন দাম বাড়বে না। শুধু যে গ্যাস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় সেই গ্যাসের দাম বাড়তে পারে।




ইসরায়েলি দখলদারিত্বকে অবৈধ ঘোষণার আহ্বান তুরস্ক-আরব দেশগুলোর




জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস আজ




গলাচিপায় যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে মারধর

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): জেলার গলাচিপায় এক সন্তানের জননীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে স্বামীর বিরুদ্ধে।

হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় কাতরাচ্ছে ওই গৃহবধূ ও তার সন্তান।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গলাচিপা সদর ইউনিয়নের পক্ষিয়া লঞ্চঘাট ছয় নম্বর ওয়ার্ড মোসলেম গাজীর মেয়ে ফাতেমা বেগম (২২) নামের এক গৃহবধূকে মারধর করে তার স্বামী হোচেন হাওলাদার।

হোচেন হাওলাদার হচ্ছেন গোলখালী ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ডের সুহরী গ্রামের রফিক হাওলাদারের ছেলে।

আহত ফাতেমা বেগম জানান, যৌতুকের জন্য প্রায়ই আমার স্বামী আমাকে মারধর করতো। রবিবার রাতে যৌতুকের জন্য পুনরায় আমাকে আমার বাবার কাছ থেকে টাকা এনে দিতে বললে আমি রাজী না হওয়ায় আমার স্বামী আমাকে সারা শরীরে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে।
আমার বাবা গরিব মানুষ। রিক্সা চালিয়ে কোন রকম দিন আনে দিন খায়। আমার বাবা আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। তারপর আবার বাবার কাছে কীভাবে টাকা চাইবো। আমার স্বামীকে এ কথা বুঝিয়ে বললেও তিনি কোন কথা না শুনে আমাকে মারতে থাকেন। আমি এর বিচার চাই। যাতে আর কোন স্বামী স্ত্রীর কাছে যৌতুক দাবি না করে। আমার স্বামীর ঔরসে দুই বছরের একটি ছেলে সন্তান আছে। ছেলের নাম আব্দুল্লাহ। এলাকাবাসী আমাকে উদ্ধার করে গলাচিপা হাসপাতালে ভর্তি করে।

হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার মেজবাহউদ্দিন বলেন, ফাতেমা বেগম আমার চিকিৎসাধীনে ৩য় তলায় ১১ নং বেডে ভর্তি আছে। তার শরীরের বিভিন্ন অংশে ফুলাজখম ও কালো কালো দাগ আছে ও মাথায় চোট লেগেছে।

এ বিষয়ে ফাতেমার বাবা রিক্সাচালক মোছলেম গাজী জানান, আমি গরিব অসহায় মানুষ। যখন যেটা পারি আমি আমার মেয়ে ও মেয়ের জামাইকে দেয়ার চেষ্টা করি। আমার কাছে বেশী দাবী করলে আমি কীভাবে দেবো। আর এর জন্য হোচেন আমার মেয়েকে পিটিয়ে আহত করেছে। আমি মেয়ের অসুস্থতার কথা শুনে হাসপাতালে এসে দেখি মেয়ের দিকে তাকানো যায় না। নাতিটা শুধু কান্না করে। আমি ঔষধপত্র ও চিকিৎসা খরচ চালিয়ে যাচ্ছি কিন্তু এখন পর্যন্ত আমার মেয়ের জামাই হাসপাতালে দেখতেও আসে নাই। আমি সকলের কাছে এর বিচার চাই।

এ বিষয়ে ফাতেমার মা রিনা বেগম জানান, আমার মেয়েকে যৌতুকের জন্য প্রায়ই মারধর করে। আমি মেয়ের সুখের জন্য মেয়ের জামাইকে গরু দিয়েছি, গাড়ির জন্য টাকা দিয়েছি। তারপরও জামাই মন ভরাতে পারি নাই। মেয়ের জামাই এখনও যৌতুকের জন্য আমার মেয়েকে মারধর করতে থাকে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত হোচেন হাওলাদারের জানান একটু কথা কাটাকাটি হয়েছে। এছাড়া কিছু হয়নি বলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে গোলখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন হাওলাদার বলেন, বিষয়টি শুনেছি। দু্ইপক্ষকে ডেকে মীমাংসার ব্যবস্থা করবো।

গলাচিপা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন টুটু বলেন, আমার ইউনিয়নে কোন মানুষের উপর নির্যাতন হবে এটা হতে দেয়া যাবে না। মোছলেম গরিব মানুষ ওর সাথে এরকম হবে বিষয়টি মেনে নেয়া যায় না। আমি মোছলেমকে এ বিষয়ে সহযোগিতা করব।

গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফেরদাউস আলম খান বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




গাজায় যুদ্ধবিরতি আসবে আগামী সপ্তাহে : বাইডেন