পটুয়াখালীতে বসেছে ‘ইফতার খানা’

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে অসহায় নিম্ন আয়ের রোজাদারদের জন্য ‘ইফতার খানা’ আয়োজন করেছে পটুয়াখালীবাসী নামে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

শহরের বিত্তবানদের সহযোগিতা নিয়ে পুরো রমজান মাস জুড়ে এই কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে জানান সংগঠনের সদস্যরা।

মঙ্গলবার (১২ মার্চ) প্রথম রমজানে বিকেল ৫টার সময় পটুয়াখালী সার্কিট হাউস সংলগ্ন ঝাউবন এলাকায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত থেকে ইফতার বিতরণ শুরু করেন। এই ইফতার খানায় যে কেউ চাইলেই ইফতার দিতে পারবেন। আবার সেই ইফতার বিতরণ করবে সংগঠনের সদস্যরা।

জানা যায়, ছোলা, মুড়ি, পিয়াজু, আলুর চপ, জুস, পানি, কলা, খেজুর, জিলাপি দিয়ে প্রতিদিন ৫০ জন রোজাদারকে ইফতার করানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন। সে হিসেবে ১ম রোজায় এ আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিত্তবানদের সহযোগিতা পেলে এই সংখ্যা আরো বৃদ্ধি করা হবে বলে জানান সংগঠনের সদস্যরা।

রিকশাচালক নজরুল ইসলাম বলেন, এখান দিয়ে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ দেখি রাস্তার পাশে ইফতার সাজিয়ে রাখা হয়েছে। আমাদেরকে ডাকা হচ্ছে ইফতার করার জন্য। আমি রিকশা পাশে রেখে ইফতার করতে বসলাম। খুব ভালো লেগেছে এই আয়োজন দেখে।

দিনমজুর ইব্রাহিম বলেন,  হোটেল থেকে কিনে ইফতার খেতে হলে আমাকে কমপক্ষে হলেও ৫০ থেকে ৬০ টাকা খরচ হতো। কিন্তু এখানে ইফতার করতে  আমার টাকা খরচ হয়নি। আলহামদুলিল্লাহ যাদের সহযোগিতায় ইফতার করতে পেরেছি আল্লাহ তাদের কবুল করুক। পুরো রমজান মাস জুড়ে এই ইফতার কার্যক্রম চলমান থাকলে আমাদের মত মানুষদের অনেক উপকার হবে।

পটুয়াখালীবাসী সংগঠনের সদস্য বাতেন হাওলাদার বলেন, বিত্তবানদের সহযোগিতা নিয়ে আমরা এই রমজান মাসে ইফতার খানার আয়োজন করেছি। এখানে দিনমজুর রিক্সাওয়ালা পথচারী ও ছিন্নমূল মানুষরা ইফতার করছে। তাদের ইফতার করাতে পেরে আমাদের খুব ভালো লাগছে। সবার সহযোগিতা পেলে পুরো রমজান মাস জুড়ে আমাদের এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।

উল্লেখ্য, পটুয়াখালীবাসী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রমজানের আগে থেকেই রমজানের বাজার নামে নিম্ন আয়ের মানুষদের মাঝে ভর্তুকি দিয়ে পণ্য বিক্রয় করেছে। এছাড়াও দেশের যে কোন ক্লান্তিলগ্নে এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি মানবতার সেবক হিসেবে কাজ করে থাকে।

 




গলাচিপা ও রাঙ্গাবালীতে এক রাতে ৯টি গরু চুরি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর গলাচিপা ও রাঙ্গাবালীতে এক রাতে ৯টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। ভিন্ন ভিন্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

গলাচিপা উপজেলার দক্ষিন চরখালী গ্রামে অরুন পালের ৪টি আর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরবেস্টিন গ্রামে রহিম প্যাদার ৫টি গরু সোমবার দিবাগত রাতে সংঘবদ্ধ চোরের দল এ ঘটনা ঘটায়।

জানা গেছে, গলাচিপার দক্ষিন চরখাখালী গ্রামের অরুন পালের ৪টি বলদ গরু সোমবার রাতে গোয়াল ঘরে বাধলে সংঘবদ্ধ চোরের দল গভীর রাতে হানা দিয়ে তার গোয়াল ঘর থেকে গরুগুলো নিয়ে যায় এ ব্যাপারে গলাচিপা সদর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো: শাহজাহান মিয়া এ ঘটনাটি নিশ্চিত করেছে।

অপর দিকে পার্শ্ববর্তী উপজেলা রাঙ্গাবালীর চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরবেষ্টিন গ্রামের রহিম প্যাদর ৫টি গরু (গাভী – বলদ)সোমবার দিবাগত রাতে গরুগুলো গোয়াল ঘরে বাধলে সংঘবদ্ধ চোরের দল গভীর রাতে হানা দিয়ে তার গোয়াল ঘর থেকে গরুগুলো নিয়ে যায় এ ব্যাপারে চরমোন্তাজ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো: জালাল মিয়া এ প্রতিবেদককে জানান।

এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী থানার চরমোন্তাজ ফারির ইনচার্জ মো: নাজমুল হাসান জানান, তিনি এ ব্যাপারে অবগত নন, তবে কেউ গরু চুরির ঘটনায় অভিযোগ দিলে তা খতিয়ে দেখা হবে।

 




রাঙ্গাবালী ও সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা ও রাঙ্গাবালী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে জেলা কমিটি।

মঙ্গলবার পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. তানভীর হাসান আরিফের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, জেলা শাখার জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক রাঙ্গাবালী উপজেলা ও রাঙ্গাবালী সরকারি কলেজ শাখার কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো।

তবে ওই বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি বিলুপ্ত করার কোন কারণ উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার কারণ না জানিয়ে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. তানভীর হাসান আরিফ বলেন, ‘এটা সংগঠনের জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা করেছি।’ নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হ্যা অবশ্যই।’

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২২ মার্চ এক বছরের জন্য আরিফ হোসেনকে সভাপতি এবং রিয়াদ মৃধাকে সাধারণ সম্পাদক করে রাঙ্গাবালী উপজেলা শাখার কমিটি ঘোষণা করেছিল এই জেলা কমিটি। একইদিন পৃথক চিঠিতে সাকিবুল হাসান সৌরভকে সভাপতি এবং ইরফান রাজ জিদানকে সাধারণ সম্পাদক করে রাঙ্গাবালী সরকারি কলেজ শাখার কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই কমিটির মেয়াদ ১২ দিন থাকতেই দুইটি শাখার কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

 




জলদস্যুর কবলে জাহাজ : কেমন আছেন ২৩ বাংলাদেশি?

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : ভারত মহাসাগরে জলদস্যুর কবলে পড়েছে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (১২ মার্চ) দুপুরে শিল্পগ্রুপ কেএসআরএমের মালিকানাধীন এসআর শিপিংয়ের জাহাজটি জিম্মি করে সোমালিয়ান দস্যুরা। এরপর এদিন বিকেলে জাহাজটি সোমালিয়ার দিকে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাহাজে মোট ২৩ জন নাবিক রয়েছেন। তারা হলেন- জাহাজের মাস্টার মোহাম্মদ আবদুর রশিদ, চিফ অফিসার আতিক উল্লাহ খান, সেকেন্ড অফিসার মোজাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, থার্ড অফিসার এন মোহাম্মদ তারেকুল ইসলাম, ডেক ক্যাডেট সাব্বির হোসাইন, চিফ ইঞ্জিনিয়ার এ এস এম সাইদুজ্জামান, সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার মো. তৌফিকুল ইসলাম, থার্ড ইঞ্জিনিয়ার মো. রোকন উদ্দিন, ফোর্থ ইঞ্জিনিয়ার তানভীর আহমেদ, ইঞ্জিনিয়ার ক্যাডেট আইয়ুব খান, ইলেকট্রিশিয়ান ইব্রাহীম খলিল উল্লাহ, ক্রু মো. আনোয়ারুল হক, মো. আসিফুর রহমান, মো. সাজ্জাদ হোসেন, জয় মাহমুদ, মো. নাজমুল হক, আইনুল হক, মোহাম্মদ শামসুদ্দিন, মো. আলী হোসেন, মোশাররফ হোসেন শাকিল, মো. শরিফুল ইসলাম, মো. নুর উদ্দিন ও মো. সালেহ আহমদ।

মঙ্গলবার বিকেল থেকে তাদের কারো সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। এর আগে নাবিকরা তাদের পরিবারের কাছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে একাধিক ক্ষুদে বার্তা পাঠান। যেখানে তারা দস্যুর কবলে পড়ার খবর দিয়ে দোয়া কামনা করেন।

জাহাজের মালিক কেএসআরএম গ্রুপের কর্মকর্তারা বলেন, জাহাজে থাকা নাবিকরা ভালো আছেন। তাদের উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।

জাহাজে থাকা একজন বলেন, আমাদের জন্য দোয়া করিও। সোমালিয়ার জলদস্যুরা অ্যাটাক করেছে। অলরেডি আমরা অ্যারেস্টেড। আমাদের এক জায়গায় বন্দি করে রাখছে। মনে হচ্ছে নিয়ে যাবে। ওরা বোট উঠিয় ফেলছে অলরেডি।

জাহাজের ভিডিও বানিয়ে জনপ্রিয় নাবিক মারুফ ভিডিও বার্তায় বলেন, অন্তত ৫০ জন জলদস্যু এমভি আবদুল্লাহ জাহাজের নাবিকদের জিম্মি করে। তার ভাষ্য সোমালিয়ানরা হয়ত মুক্তিপণের জন্য এটি করেছে। সাধারণত মুসলিম নাবিকদের সোমালিয়ান দস্যুরা বেশি ক্ষতি করে না।

এসআর শিপিংয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মেহেরুল করিম বলেন, জাহাজটি মোজাম্বিক থেকে কয়লা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার পথে ভারত মহাসাগরে জলদস্যুদের কবলে পড়ে। নাবিকরা নিরাপদে আছেন। সব ধরনের প্রোটোকল অনুসরণ করে নাবিকদের উদ্ধারে কাজ করছি।

জাহাজের অবস্থান শনাক্তকারী ওয়েবসাইট মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, ১৮৯ দশমিক ৯৩ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩২ দশমিক ২৬ মিটার প্রস্থের জাহাজটি বাল্ক কেরিয়ার। এটি আফ্রিকার মোজাম্বিকের মাপুটো বন্দর থেকে ছেড়ে আসে। ১৯ মার্চ মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামরিয়াহ বন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল।

এর আগে ২০১০ সালের ডিসেম্বরে আরব সাগরে সোমালি জলদস্যুদের কবলে পড়েছিল বাংলাদেশি জাহাজ জাহান মণি। ওই সময় জাহাজের ২৫ নাবিক এবং প্রধান প্রকৌশলীর স্ত্রীকে জিম্মি করা হয়। নানাভাবে চেষ্টার পর ১০০ দিনের চেষ্টায় জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্তি পান তারা।




পালিত মহিষের শিংয়ের আঘাতে মালিকের মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি; পটুয়াখালীর গলাচিপায় পালিত মহিষের শিংয়ের আঘাতে মনির হোসেন (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের নলুয়াবাগী গ্রামের এ ঘটনা ঘটে।

মৃত মনির হোসেন গোলখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নলুয়াবাগী গ্রামের স্কানদার চকিদারের ছেলে।

মহিষের আঘাতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন, গোলখালী ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান নাসির উদ্দীন হাওলাদার।

জানা গেছে, পার্শ্ববতী কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের নমরহাট থেকে সোমবার একটি মহিষ ক্রয় করেন। মহিষটিকে মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশে ঘাস খাওয়াতে নিতে যান। তখন হঠাৎ মহিষটি শিং দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে। স্থানীয়রা তাৎক্ষনিকভাবে তাকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী উপজেলা গাজীর বন্দরে নিয়ে যায়। সেখান থেকে বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার পথে শাখারিয়া নামক স্থানে তার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে গোলখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন জানান, মনির খুব ভালো লোক ছিলো। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 




বরিশালে চুরি হওয়া গরু ২০ দিন পরে স্ব ইচ্ছায় ফিরলো নিজ গৃহে

বরিশাল অফিস :: বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার ৪ নং দুধাল ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড সুন্দরকাঠী গ্রামের বজলু তালুকদারের গৃহ পালিত একটি বাচ্চা সহ গাভী গত ১৯ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে চুরি হয়ে যায়।

চুরি হওয়া গরুটি ২ মার্চ শুক্রবার পাদ্রিশিবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাট চৈতার বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে আসে চোর। অধিক লাভের আশায় ৭০ হাজার টাকার গরু ৫১ হাজার ৫০০ টাকায় ক্রয় করেন ৪ নং দুধাল ইউনিয়নের পিলখানা গ্রামের গরুর ব্যাপারী নুর হোসেন (দিপু)।

বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) উপজেলার ৪ নং দুধল ইউনিয়নের ছাদের হাওলাদারের সাপ্তাহিক হাটে গরুটি নুর হোসেন (দিপু) বিক্রি করার উদ্দেশ্যে নিয়ে আসলে প্রকৃত মূল্য ৭০ হাজার টাকায় গরুটি ক্রয় করেন গরুর মূল মালিক বজলু তালুকদারের প্রতিবেশী মোফাজ্জল হাওলাদার। গরুটি নিয়ে আসার পরে স্থানীয় ও গরুর মালিক বজলু তালুকদার গরুটি তার বলে চিহ্নিত করলে, এলাকায় শুরু হয় চাঞ্চল্য।

এরপরেই গরুর মুল মালিক বজলু তালুকদার গরু দাবি করে বাকেরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের সূত্র ধরে বাকেরগঞ্জ থানার এস আই মজিবুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে গরু উদ্ধার করেন এবং তদন্তের স্বার্থে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ক্রেতার বাড়ি থেকে গরুটির রশি ছেড়ে দেন।

এরপরে ক্রেতার বাড়ি থেকে সরাসরি এভাবেই গিয়ে গরুর মূল মালিক বজলু তালুকদারের গোয়াল ঘরে গরুর নিজগৃহে প্রবেশ করে। ক্রেতা মোফাজ্জল হাওলাদার ও স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানায়, এই গরুটি বজলু তালুকদারের গরুই।

বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ জানায়, এভাবে একটা অভিযোগ পেয়েছি চুরি হওয়া গরু উদ্ধার করা হয়েছে। তবে গরু দুইটি স্থানীয় চৌকিদারের জিম্মায় রয়েছে। গরু চুরির বিষয় তদন্ত চলছে তদন্ত শেষে এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 




ভোলায় ৫ কেজি গাঁজাসহ ৩ পুলিশ সদস্য আটক

বরিশাল অফিস :: ভোলায় ৫ কেজি গাঁজাসহ ৩ পুলিশ সদস্যকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

১২ মার্চ, মঙ্গলবার দুপুরের দিকে তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এর আগে সোমবার (১১ মার্চ) দুপুরের দিকে তাদেরকে আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন, পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি বরিশাল সদর থানার রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ২৫ নং ওয়ার্ডে মৃত রহিম খানের ছেলে। তিনি ভোলা সদর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বে ছিলেন।

পুলিশ কনস্টেবল মো. ওয়াসিম। তিনি বরিশালের উজিরপুর থানা এলাকার গুটিয়া ইউনিয়নের পাথনিয়া কাঠি গ্রামের মৃত হারুন মোল্লার ছেলে। তিনি পটুয়াখালী জেলার বাউফল থানায় কর্মরত।

কনস্টেবল আবু রাহাত। তিনি বরিশালের বাবুগঞ্জ থানা এলাকার কেদারপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভুতেরদিয়া গ্রামের মৃত শামসুল হক হাওলাদারের ছেলে।

ভোলা সদর পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, সোমবার দুপুরে দিকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত ৩ পুলিশের কাছে ডিবি পুলিশ ৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে মর্মে তিনি শুনেছেন। তবে উদ্ধার হওয়া মাদকের সঠিক পরিমাণ পুলিশের কোনো কর্মকর্তা নিশ্চিত করছেন না। যার কারণে মাদকের পরিমাণ নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

ভোলা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ মো. এনায়েত হোসেন বলেন, এ বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকতাদের সাথে আলাপ করব। তারা বিষয়টি নিয়ে বলবেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মামুন অর রশীদ বলেন, আমরা প্রতিনিয়তই কোনো না কোনো অপরাধীকে মাদকসহ আটক করি। পুলিশ সদস্য বলে না, অপরাধ যে করে সে অপরাধী। যারা মাদক ব্যবসায়ী বা কারবারী তাদের ব্যাপারে আমাদের জিরো টলারেন্স। আমাদের পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ও তার নির্দেশে মাদকের ব্যাপারে কোন ছাড় নেই।




দলিল লেখক সাব-রেজিস্টার দ্বন্দে বিপাকে জমি ক্রেতা বিক্রেতারা

বরিশাল অফিস :: বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খন্ডকালীণ সাব-রেজিষ্টার ও দলিল লেখকদের দ্বন্দে জমির দলিল আদান-প্রদান বন্ধ রয়েছে। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন জমি ক্রেতা-বিক্রেতারা।

মঙ্গলবার দুপুরে একাধিক দলিল লেখকরা অভিযোগ করে বলেন, বরিশাল জেলার হিজলা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের সাব রেজিস্টার সঞ্জয় বরাল গত ৬ মার্চ গৌরনদী সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে খন্ডকালীণ সাব-রেজিষ্টার হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের দিনই নবীন-প্রবীন সকল দলিল লেখকদের সঙ্গে ঔদ্ব্যত্বপূর্ণ আচরন শুরু করেছেন। এমনকি দলিল লেখকদের শোকজ, সাইজ ও বহিস্কার করার হুমকি দিচ্ছেন।

ফলে বাধ্য হয়ে সাব-রেজিস্টার সঞ্জয় বরালের অপসারণের দাবিতে ৩০ জন দলিল লেখক ১০ মার্চ থেকে অনির্দিষ্ট কালের জন্য কলম বিরতি ও অফিসের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করে আসছে। গৌরনদী দলিল লেখক সমিতির সভাপতি নাসির উদ্দিন মিয়া বলেন, সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচী চলবে।

খন্ডকালীণ সাব-রেজিস্টার সঞ্জয় বরাল দলিল লেখকদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যোগদানের পর দলিল লেখকদের বলেছি সরকারি নিয়ম-নীতি অমান্য করে আমি কোন দলিল রেজিষ্ট্রি করব না। এতেই দলিল লেখকরা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। মূলত দলিল লেখকরা বুঝতে পেরেছে আমাকে দিয়ে তারা কোন অন্যায় কাজ করাতে পারবেনা। তাই তারা আমার বিরদ্ধে মাঠে নেমেছে।

দলিল লেখকদের অনিয়মকে সমর্থন দিলে কোন সমস্যা হতোনা। গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবু আবদুল্লাহ খান জানান, দলিল লেখকদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগের একটি কপি পেয়েছি। এবিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।




রমজানে ২ টাকা লাভে পণ্য বিক্রি করছেন দুমকির টিপু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পবিত্র রমজানে দেশে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়িয়েছে অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা। কিন্তু পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার ব্যবসায়ী মো. টিপু ফরাজি মাত্র ২ টাকা লাভে পণ্য বিক্রি করছেন। এতে উপকৃত হচ্ছেন ওই এলাকার মানুষ।

তিনি গত বছরও রমজানে মাত্র ২ টাকা লাভে পণ্য বিক্রি করেছিলেন।

প্রতিবছরের মতো এবারও রমজান মাসে ২ টাকা লাভে পণ্য সামগ্রী, বিক্রি শুরু করলেও একটু ভিন্ন ধরনের আয়োজন করেছেন তিনি। যেমন প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে বেশিরভাগ সময় মুদি দোকানগুলোতে বাকি নিয়ে যায়। তাই এ বছর রমজানে টিপু ফরাজির দোকান থেকে নগদ টাকায় যারা বাজার করবেন, তাদের কাছ থেকে প্রতি কেজিতে ২ টাকা লাভ করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলায় পাঙ্গাসিয়া ইউনিয়নের হাজির হাট বাজারে মো. টিপু ফরাজির দোকানে যেসব পণ্য বিক্রি করছেন। তার মধ্যে আছে মুড়ি, ছোলা (বুট), খেজুর, খেসারির ডাল, বেসন, সয়াবিন তেল, চিড়া ইত্যাদি। এসব পণ্য কেজিতে মাত্র ২ টাকা লাভে বিক্রি করবেন তিনি। এতে খুবই খুশি স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুর রহমান বলেন, ‘আমরা এখান থেকে যে টাকায় জিনিস কিনি তা বাইরে অন্য দোকানে দাম ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি নেয়। তাই এলাকার সাধারণ মানুষ এই দোকান থেকে মালামাল ক্রয় করে।

 




কুমিল্লায় মাছবাহী ট্রাক উল্টে ৪ জনের মৃত্যু

বরিশাল অফিস :: ভোলা থেকে রাজধানীতে মাছ নিয়ে যাওয়ার সময় কুমিল্লায় ট্রাক উল্টে চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও তিনজন। আজ মঙ্গলবার ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বারেশ্বর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন–ভোলার মনপুরা উপজেলার ৪ নম্বর দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. মনির হোসেন (২৬), একই এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মো. সুমন (৩০), আক্তার হোসেন (৩২) এবং সাতক্ষীরার সদর এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম (২৩)।

ভোলার মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম কামাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সোমবার রাতে ভোলার মনপুরা থেকে ঢাকায় মাছ নিয়ে যাওয়া সময় আজ (মঙ্গলবার) ভোরে কুমিল্লার চান্দিনা বারেশ্বর এলাকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাককে ধাক্কা দিয়ে মাছবাহী ট্রাকটি উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলে ট্রাকের নিচে পড়ে মনপুরার তিন জনসহ চারজন নিহত হন। এ সময় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মনপুরা থেকে নিহতদের স্বজন কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। লাশ নিয়ে আসা হলে তথ্য উদ্‌ঘাটন করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’